ঢাকা,সোমবার,১১ মাঘ ১৪২৭,২৫,জানুয়ারী,২০২১
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ভারতীয় ক্রিকেটারদের লিফটেও উঠতে দিতো না অস্ট্রেলিয়া!   * রোনালদোর পর মেসিরও ‘না’   * গাপটিলের ক্যাচ দেখে চোখ ছানাবড়া সবার   * কক্সবাজারে ডিউরেবল প্লাস্টিকের পরিবেশক সম্মেলন শুরু   * আল-আরাফাহ ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন   * অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি   * বিদ্যুৎ সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ-ভারত স্টিয়ারিং কমিটির সভা   * পরীক্ষা ছাড়া এইচএসসির ফল প্রকাশে আইন পাস   * যত বাধাই আসুক পিছু হটবে না ডিএনসিসি : মেয়র আতিক   * মাদকসেবীদের জীবনের পরিণতি হয় ভয়াবহ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী  

   বাংলাদেশ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৭৮

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৬৮৭ জনে। বুধবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১৮১টি ল্যাবে ১৫ হাজার ৫৪৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩৩ লাখ দুই হাজার ৪২৯টি নমুনা। এ সময়ে আক্রান্ত হিসেবে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৯৭৮ জন। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৮ জনে।

করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৭৮
                                  

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৬৮৭ জনে। বুধবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১৮১টি ল্যাবে ১৫ হাজার ৫৪৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩৩ লাখ দুই হাজার ৪২৯টি নমুনা। এ সময়ে আক্রান্ত হিসেবে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৯৭৮ জন। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৮ জনে।

প্রত্যাশা নতুন বছরে
                                  

বিষাদময় যাত্রা শেষে বিদায় নিচ্ছে ২০২০। অন্য যে কোনো বছরের চেয়ে আলাদা এ বছরের শেষ সূর্য ডুবছে আজ বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯জনিত রোগে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার গভীর বেদনা নিয়ে। একদিকে এই ভয়ংকর অতিমারির টিকা আবিস্কার ও তা প্রয়োগের গভীর স্বস্তি, অন্যদিকে ভাইরাসের নতুন ধরনের বিস্তারের শঙ্কা জমে আছে ২০২০-এর এই বিদায়ী সূর্যজুড়ে।
সারাবিশ্বের আট কোটির বেশি মানুষের শরীরে এখনও এই মহামারির বিষ জমে আছে। এই বিষাক্ত হাওয়ার ভেতরেই শুরু হবে নতুন বছর ২০২১।
২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান থেকে খবর এসেছিল, করোনাভাইরাসের নতুন একটি ধরন গ্রাস করতে আসছে পৃথিবীকে। তারপর যত দিন গেছে, সেই আতঙ্ক আরও প্রবল হয়েছে। মহামারি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়েছে চীনের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা হয়ে এশিয়ার প্রায় সব দেশে। বছরের দ্বিতীয় মাসেই কভিড-১৯ মহামারিতে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় ইউরোপের ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে বিশ্বের প্রায় সব দেশে। ঘরবন্দি হতে বাধ্য হয় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার চরম শিখরে থাকা একবিংশ শতাব্দীর মানুষ।
এমন অভূতপূর্ব অবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিল না বিশ্ববাসী। `লকডাউন` শব্দটি আগে ব্যবহূত হয়েছে কালেভদ্রে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে। এবার মানবসভ্যতার অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে লড়তে সেই `লকডাউন` শব্দটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে চর্চিত শব্দে পরিণত হলো। মার্চ মাস পর্যন্ত চীন, পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে লকডাউনের খবর আসছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশেও মার্চের শেষ থেকে কভিড-১৯-এর প্রকোপ বাড়তে থাকে। প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। এ অবস্থায় এখানেও `লকডাউন` ঘোষণা করা হয়। তবে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে কভিড-১৯ ইউরোপ, আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি। তারপরও সাত হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন করোনাভাইরাসের ছোবলে।
শুধু জীবনযাপন নয়, বিশ্বব্যবস্থা বা ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে ২০২০ সাল। গত এক দশক থেকে চীনের উত্থানের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র এশিয়ার দিকে চলে আসছিল। কিন্তু কভিড-১৯-এর মারাত্মক বিস্তারের পর এর টিকা আবিস্কার ও এর বিতরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান সেই ভরকেন্দ্রকে আবারও ফিরিয়ে নিতে চলেছে পাশ্চাত্যের দিকে।
করোনাভাইরাসের প্রকোপজনিত অবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অফিস, স্কুলসহ দৈনন্দিন কাজে অনলাইন মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। যেখানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসেও দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ এক হাজার জিবিপিএসের কম ছিল, সেখানে মে-জুন মাসেই তা এক হাজার পাঁচশ জিবিপিএসে পৌঁছে যায়। ডিসেম্বর মাসে এসে এই ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার একশ জিবিপিএস। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশের মজবুত অবকাঠামো থাকায় বর্ধিত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ চাহিদা মেটাতে কোনো সমস্যা হয়নি; বরং লকডাউনে নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ই-কমার্স। স্মার্টফোন, ল্যাপটপের মতো ডিভাইসের বিক্রিও বেড়ে যায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
মহামারির এ সময় বছরজুড়েই প্রত্যাশা ছিল ভ্যাকসিনের। বিশ্বের বড় বড় দেশ থেকে ভ্যাকসিন আবিস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়। এমনকি বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকও দেশেই ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা দেয়। ফলে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন উদ্ভাবনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশও যুক্ত হয়। তবে বছর শেষে ভ্যাকসিনটির হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হতে পারেনি অবশ্যপালনীয় কয়েকটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায়।
এই অতিমারির মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য আশা বয়ে আনে বছরের শেষ মাসে দেশের সুদীর্ঘ পদ্মা সেতুর সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান বসানোর সংবাদ। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে ছয় হাজার ১৫০ মিটারের পুরো সেতু। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এ সেতু দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও উজ্জ্বল করে তুলেছে। আগামী বছরের জুনে এ সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। করোনার মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল স্বাভাবিক। বছরের শেষ ভাগে বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানায়, রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে ২০২০ সালে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান হবে অষ্টম। এ প্রতিবেদনমতে, এ বছর বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বাড়ছে ৮ শতাংশ। কৃষকদের একাগ্র ভূমিকার ফলে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন ছিল এ বছর আগের মতোই স্বাভাবিক, যা স্বস্তি বয়ে এনেছে অর্থনীতিতে।

 ২০২০-এর মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুজিববর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসতে পারেননি। তবে বছরের শেষে গত ১৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ভার্চুয়াল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। এর ফলে দু`দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আবারও নতুন মাত্রা পায়। এ বৈঠকের আগে সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় দুই দেশের মধ্যে।

বছরের শেষে গত ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হয়। ভাসানচরে পৌঁছে সেখানে বসবাসের উন্নত ও আধুনিক ব্যবস্থা দেখে মুগ্ধ হন তারা। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। তবে এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ জাতিসংঘের নেতিবাচক ভূমিকা ও বিবৃতি সবাইকে বিস্মিত করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি।
বছরের শেষে এসে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে এবং ভাঙার ঘোষণা দিয়ে চরম ঔদ্ধত্য দেখালে দেশজুড়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনগুলোর উদ্দেশ্যমূলক তৎপরতার বিষয়টি তখন আবারও সামনে আসে। এর মধ্যেই কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্র। দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের মধ্যেই কুষ্টিয়ায় ফের ব্রিটিশ ঔপনিবেশবিরোধী বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙা হয়। এসব ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। বছরজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত ছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কভিড-১৯ কিট বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে। মহামারিজনিত কারণে রাজনীতি বৃত্তাবদ্ধ হয়ে পড়ে অনলাইন মাধ্যমে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বিভিন্ন বাম দলের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ছিলেন অনলাইন ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
২০২১ সাল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর। ২০২০ সালের শেষে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে `মুজিববর্ষ` উদযাপনের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন বছর তাই আশার আলোও জ্বালছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ভ্যাকসিন আসার ফলে মহামারির ছোবল মিইয়ে পড়বে, রক্ষা পাবে মানবসভ্যতা, সুপ্রতিষ্ঠিত হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। নতুন সূর্যের কাছে এমনই প্রত্যাশা মানুষের।

২৪ ঘণ্টায় ২৪ মৃত্যু
                                  

 দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭ হাজার ৪৫২ জন।

এছাড়া শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৯ জন।  এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৪৮ জন হয়েছে। রোববার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার সকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৫১ হাজার ৯৬১ জন। 

করোনায় প্রাণ গেলো আরও ১৭ জনের, শনাক্ত ১৩১৮
                                  

দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেলো আরও ১৭ জনের। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৯ জনে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৩১৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে করোনা শনাক্ত হলো মোট ৫ লাখ ৩ হাজার ৫০১ জনের। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

করোনায় মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত ২১৯৮
                                  

দেশে করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ হাজার ৮৭৪ জনে। সোমবার (৭ ডিসেম্বর)  বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গণমাধ‌্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ১৯৮ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ‌্যা দাঁড়ালো ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪৩ জন।  

করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৩১৬
                                  

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৪৮ জনে। এছাড়া, নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৩১৬ জনের শরীরে। যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৯ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার পাঠানো করোনা সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের সরকারি ও বেসরকারি ১১৮টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০৭টি। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ২৮ লাখ ২০ হাজার ৯৮১টি। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর মোট পরীক্ষায় এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

নতুন যে ৩৫ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৩ এবং নারী ১২ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মোট মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এদিকে, করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৯ জনে। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বজায় রাখতে বাংলাদেশের আহ্বান
                                  

জাতিসংঘে আবারো `শান্তির সংস্কৃতি` বজায় রাখার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ মর্মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বাংলাদেশ উত্থাপিত `শান্তির সংস্কৃতি` রেজুলেশনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়েছে।  স্থানীয় সময় বুধবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের পক্ষে রেজুলেশনটি সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথমবারের সরকারের সময় ১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রেজুলেশনটি প্রথমবারের মতো গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি ফোরামের আয়োজন করে আসছে। এবছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়ালভাবে “শান্তির সংস্কৃতি: কোভিড-১৯ এর সময়ে পৃথিবীকে আবার ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা” শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের ফোরামটি অনুষ্ঠিত হয়। 

সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলেশনটি গ্রহণ শান্তির সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর বিশ্বাস ও আস্থার বহি:প্রকাশ। রেজুলেশনটিকে উদারভাবে সমর্থন করার জন্য রাষ্ট্রদূত ফাতিমা সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে ধন্যবাদ জানান।  তিনি বলেন, রেজুলেশনটির সার্বজনীনতার কারণেই আজ জাতিসংঘের প্রধান প্রধান কার্যাবলীতে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ একটি প্রভাব সৃষ্টিকারী ধারণায় পরিণত হতে পেরেছে। 

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, “দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এটি একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত।  যা বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘ সনদের দায়বদ্ধতার পরিপূরক হিসেবেও ভূমিকা রেখে চলেছে”।

শান্তির সংস্কৃতিকে বাংলাদেশের জনকেন্দ্রিক জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। শান্তির সংস্কৃতি উন্নয়নে অপরিহার্য বিষয়সমূহ যেমন শান্তি, সহিষ্ণুতা, উদারতা, অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক সম্মান ইত্যাদি যাতে তরুন সমাজ ধারণ করতে পারে সেজন্য শান্তির শিক্ষা ও বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার শিক্ষার মাধ্যমে শান্তির সংস্কৃতি ও অহিংসার ধারণাটি এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। 

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ গৃহীত আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি, সহিংস উগ্রবাদ দমন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাসহ বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচির উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, আমরা যেহেতু কোভিড-১৯ অতিমারির বিরুদ্ধে এবং পৃথিবীকে পূর্বের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, তাই আসুন- আমরা আমাদের জনগণের জন্য, বিশ্বের জন্য এবং উন্নত পৃথিবী বিনির্মাণের বাধা অপসারণের জন্য শান্তির সংস্কৃতি সম্পর্কিত ঘোষণা ও কর্মসূচির প্রতি পূন:প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই। এবছর ১১০টি জাতিসংঘ সদস্যরাষ্ট্র বাংলাদেশের এই রেজুলেশনটিকে কো-স্পন্সর করে।  এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি/প্রতিনিধিগণ এটি গ্রহণের সময় বক্তব্য প্রদান করেন। 

বাংলাদেশ উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশন জাতিসংঘে গৃহীত
                                  

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বাংলাদেশ উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষে রেজুলেশনটি সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। খবর বাসসের

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি কোভিড-১৯ অতিমারি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহ কাটিয়ে উঠতে ‘শান্তির সংস্কৃতি’-এর মহান বার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার জন্য জাতিসংঘ সদস্যরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,‘ অতিমারি ও তার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ‘শান্তির সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথমবারের সরকারের সময় ১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রেজুলেশনটি প্রথমবারের মতো গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি ফোরামের আয়োজন করে আসছে।

এ বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়ালভাবে ‘শান্তির সংস্কৃতি: কোভিড-১৯ এর সময়ে পৃথিবীকে আবার ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের ফোরামটি অনুষ্ঠিত হয়। কোভিড-১৯ সৃষ্ট অনাকাঙিক্ষত সঙ্কট মোকাবিলার ক্ষেত্রেও যে শান্তির সংস্কৃতির প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে উচ্চ পর্যায়ের ওই ফোরাম তারই স্বীকৃতি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলেশনটি গ্রহণ শান্তির সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর বিশ্বাস ও আস্থার বহি:প্রকাশ। রেজুলেশনটিকে উদারভাবে সমর্থন করার জন্য রাষ্ট্রদূত ফাতিমা সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন- রেজুলেশনটির সার্বজনীনতার কারণেই আজ জাতিসংঘের প্রধান প্রধান কার্যাবলীতে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ একটি প্রভাব সৃষ্টিকারী ধারণায় পরিণত হতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এটি একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত যা বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘ সনদের দায়বদ্ধতার পরিপূরক হিসেবেও ভূমিকা রেখে চলেছে।’

 

শান্তির সংস্কৃতিকে বাংলাদেশের জনকেন্দ্রিক জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। শিক্ষা, টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানবাধিকার সুরক্ষা, পুরুষ ও নারীর সমতা, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, সহনশীলতা ও সংহতি বজায় রাখা, তথ্য ও জ্ঞানের অবাধ প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা -এই আটটি ক্ষেত্রে বাস্তব ভিত্তিক নীতি কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রতিশ্রতিবদ্ধ বলে জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

শান্তির সংস্কৃতি উন্নয়নে অপরিহার্য বিষয়সমূহ যেমন শান্তি, সহিষ্ণুতা, উদারতা, অন্তর্ভুক্তি ও পারষ্পরিক সম্মান ইত্যাদি যাতে তরুণ সমাজ ধারণ করতে পারে সেজন্য শান্তির শিক্ষা ও বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার শিক্ষার মাধ্যমে শান্তির সংস্কৃতি ও অহিংসার ধারণাটি এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ গৃহীত আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি, সহিংস উগ্রবাদ দমন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাসহ বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচির উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু কোভিড-১৯ অতিমারির বিরুদ্ধে এবং পৃথিবীকে পূর্বের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি; তাই আসুন, আমরা আমাদের জনগণ, বিশ্বর এবং উন্নত পৃথিবী বিনির্মাণের বাধা অপসারণের জন্য শান্তির সংস্কৃতি সম্পর্কিত ঘোষণা ও কর্মসূচির প্রতি পুন:প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই।’

এ বছর ১১০টি জাতিসংঘ সদস্যরাষ্ট্র বাংলাদেশের এই রেজুলেশনটিকে কো-স্পন্সর করে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এটি গ্রহণের সময় বক্তব্য প্রদান করেন।

করোনায় প্রাণ গেলো আরও ৩৮ জনের, শনাক্ত ২১৯৮
                                  

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭১৩ জনে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ১৯৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে করোনা শনাক্ত হলো মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৩ জনের।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৬২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৬ জন। মারা যাওয়া ৩৮ জনের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। এর মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৭ জন, বাড়িতে ১ জন। বিভিন্ন বিভাগে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩০ জন, চট্টগ্রামে ৪ জন, রাজশাহীতে ১ জন, খুলনায় ১ জন ও রংপুরে ২ রয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যা: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
                                  

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আতিক উল্ল্যাহ চৌধুরী হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবি করেছে এলাকাবাসী। 

বুধবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রাঙ্গণে কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের জনগণের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মো. মিজানুর রহমান সিজান জানান, আতিক উল্ল্যাহ ছিলেন একজন জন প্রিয় নেতা। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের তিনি সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। আতিকের জনপ্রিয়তার বেশি থাকায় প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে হত্যা করে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আতিক উল্ল্যাহ চৌধুরী। ১১ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর এলাকার একটি হাসপাতালের পাশ থেকে তার আগুনে পোড়া বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার সঙ্গে থাকা কাগজ ও এটিএম কার্ড দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন আতিক উল্ল্যাহর ছেলে সাইদুর রহমান ফারুক চৌধুরী।

ওই ঘটনায় আতিক উল্যাহর ছেলে কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ফারুক চৌধুরী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।  পুলিশ তদন্ত করে ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন- গুলজার হোসেন, শম্পা, আশিক, শিহাব আহম্মেদ ওরফে শিবু, আহসানুল কবির ইমন, তাজুল ইসলাম তানু, জাহাঙ্গীর খাঁ ওরফে জাহাঙ্গীর এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে আমিন ওরফে টুন্ডা আমিন।

আসামিদের মধ্যে শম্পা, জাহাঙ্গীর ও আহসানুল কবীর কারাগারে আছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালত জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।  অন‌্যরা পলাতক। 

আগামী সপ্তাহ থেকে ফাইজারের টিকা ব্যবহার করবে যুক্তরাজ্য
                                  

ফাইজার ও বায়োএনটেকের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটি এ টিকা ব্যবহার করবে।  

ব্রিটিশ রেগুলেটরি কমিটি বলেছে, ফাইজারের এ টিকা করোনা বিরুদ্ধে লড়তে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। খবর বিবিসির অগ্রাধিকার ভিক্তিতে কিছু শ্রেণির মানুষের মধ্যে এ টিকা কয়েকদিনের মধ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। 

যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ফাইজারের টিকার ৪০ মিলিয়ন ডোজের আদেশ দিয়ে রেখেছে। 
ডাচ-বাংলা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ
                                  

ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডে ‘ট্রেইনি অফিসার টু এক্সিকিউটিভ অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সিলেট রিজিওনে এই পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে কতোজন নিয়োগ দেওয়া হবে তা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি। 

স্নাতক পাস শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং আইটি`তে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। প্রার্থীর বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। আগ্রহীরা এই ওয়েবসাইটে (app.dutchbanglabank.com) এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ৩০ ডিসেম্বর।

দু`টি এয়ারলাইন্স মানবপাচারে জড়িত: সিআইডি
                                  

বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানবপাচারে দু`টি এয়ারলাইন্সের কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তুলে ধরেন।

লিবিয়ায় মানবপাচার মামলার ছয় পলাতক আসামির সন্ধান চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় মাহবুবুর রহমান বলেন, `মানবপাচারের তদন্তে নেমে এর সঙ্গে দুটি এয়ারলাইন্সের কর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।`

এয়ারলাইন্স দুটির নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, `এ দুটি বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি নয়। তদন্তে দেখা যায়, দুটি এয়ারলাইন্সই সিঙ্গেল টিকেটে লোক পাঠিয়েছে, যা অন্যায়। সেমিনারে, চিকিৎসা নিতে; এমনকি ভ্রমণে গেলেও কখনো সিঙ্গেল টিকিটে যাওয়ার কথা নয়। ওই দুটি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তদন্তেও বিষয়টি উঠে এসেছে।`

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশনের কোনো দায় ছিল কি-না জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান বলেন, `ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের যাওয়া ও আসার দুটি টিকিট দেখানো হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রিটার্ন টিকিট সঠিক নয়। এটা ওই এয়ারলাইন্সের লোকজনও জানে।`

 

গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদাহ শহরে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে একটি মানবপাচারকারী চক্র। ওই ঘটনায় চার আফ্রিকান অভিবাসীও নিহত হন। অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার জন্য লিবিয়ায় দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন ৩৮ বাংলাদেশি। লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশে পাচারকারীরা মিজদাহ শহরে ওই দলটিকে জিম্মি করে এবং আরও টাকা দাবি করে। এটা নিয়ে নির্যাতন শুরু করলে মূল পাচারকারীকে হত্যা করে আফ্রিকার কয়েক অভিবাসী। এরপর তার পরিবার ও বাকি পাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৩০ জনকে হত্যা করে। এ সময় আরও ১১ জন আহত হন।

ওই ঘটনার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৬টি মামলা হয়। মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে দেড় শতাধিক লোককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

ওই দুই এয়ারলাইন্সের কয়েকজন কর্মকর্তাকে সিআইডি অফিসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, `২০১৯ সালের মে মাসের পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৮ জন ভিকটিমকে উচ্চবেতনের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। ইতালি ও স্পেনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের নেওয়া হয় লিবিয়ার বেনগাজিতে। ত্রিপলীর মিজদায় বাংলাদেশি মানবচারকারীদের সহায়তায় লিবিয়ার মাফিয়া গ্রুপ তাদের অমানবিক নির্যাতন শুরু করে এবং মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।`

লিবিয়ার ওই ঘটনায় দায়র হওয়া ২৬টি মামলার মধ্যে ২৫টির তদন্ত করছে সিআইডি। এসব মামলায় ২৯৯ জন আসামির ১৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুর রহমান বলেন, `এ পর্যন্ত তদন্তে ঘুরেফিরে ইন্টারপোলে দেওয়া ছয়জনের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে তানজিমুল ইতালিতে অবস্থান করছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। বাকিদের অবস্থান জানতে পারিনি বলেই ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছি।`

তানজিমুল ছাড়া অপর পাঁচ জন হলেন- ইকবাল জাফর, স্বপন, শাহাদাত হোসেন, নজরুল ইসলাম মোল্লা ও মিন্টু মিয়া। তাদের মধ্যে নজরুলের বাড়ি মাদারীপুরে, শাহাদাতের ঠিকানা ঢাকায়। বাকি চারজনই কিশোরগঞ্জের।

করোনায় আরও ৩১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩
                                  

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৭৫ জনে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ২৯৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে করোনা শনাক্ত হলো মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ২২৫ জনের।

এতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫১৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২২৪ জন। মারা যাওয়া ৩১ জনের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারী। সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।

বিভিন্ন বিভাগে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ঢাকায় ২৩ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, সিলেটে ১ জন ও ময়মনসিংহে ১ জন রয়েছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ জন ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬০ বছরের ওপরে ১৯ জন রয়েছেন। 

করোনার প্রাথমিক লক্ষণ নাকে
                                  

করোনা মহামারি পুরো বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। করোনার ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ সম্পর্কে জানা যাচ্ছে এবং প্রতিরোধে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসাবিদরা। ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত সময়ে প্রতিষেধকেরও খবর এসেছে। জ্বর, হাঁচি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, স্বাদ ও গন্ধ না পাওয়াকে করোনার সাধারণ লক্ষণ ধরা হয়। তবে নতুন গবেষণায় জানা গেছে- এ রোগের আগাম লক্ষণ প্রথমে নাকে পাওয়া যায়। স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় অংশগ্রহণ করা করোনা রোগীদের কেউ প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে নাকে অতিমাত্রায় শুস্কতা অনুভব করেছেন, কেউ আবার বিচিত্র অনুভূতির সাক্ষী হয়েছেন। তবে মাত্র তিন শতাংশ মানুষ পাওয়া গেছে যারা তাদের নাকে একই অনুভূতি পাওয়ার পরও করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন নামে এক প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, যেসব করোনা রোগীর উপসর্গ গুরুতর ছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল তাদের নাকে অদ্ভুত অনুভূতি ও হাঁচি-কাশির মতো অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি স্নায়বিক কিছু লক্ষণ ছিল। এর মধ্যে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো- দীর্ঘ সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম, সন্দেহপ্রবণ হওয়া, কোনো কাজে মনোযোগী হতে ব্যর্থ হওয়া ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে এই লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।

 

অনেক করোনাজয়ীর দেহে মারাত্মক প্রভাব থেকে যায়। এর মধ্যে বিশেষত ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা। এমনকি এই সমস্যা সুস্থ হওয়ার পর কয়েক মাস ধরে দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফুসি বলেন, করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তির দেহেই হৃদরোগ ধরা পড়ছে।

নারী নির্যাতনকারীদের দলে আশ্রয় দেবেন না
                                  

মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধন হলেও নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি; বরং আইন কার্যকরের পর ৪০ দিনে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে তিন গুণ। সহিংসতা বন্ধে নারীকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাে র মূলধারায় আনতে হবে। নারীকে দিতে হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার। নারী নিপীড়ক-ধর্ষককে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। কোনো দলে যেন নারী নির্যাতনকারীর জায়গা না হয়। তারা যেন ভোটে অংশ নিতে না পারে। দলে আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য ও সদিচ্ছা। গতকাল সোমবার `নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা` শীর্ষক অনলাইন গোলটেবিলে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও সমকালের যৌথ আয়োজনে ইউএসএইড এবং ইউকেএইডের অর্থায়নে এই গোলটেবিলের আয়োজন করা হয়। সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা ইয়াসমিন আতিকা, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর নীনা গোস্বামী, কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইউসুফ, শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক বিনয় কুমার সাহা ও বাগেরহাট সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন।

স্বাগত বক্তব্যে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি লেজলি রিচার্ডস বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিচার সবচেয়ে কম হয়। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা উন্নয়ন ও শান্তির প্রতিও হুমকি। করোনা মহাকারিকালে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার কোটি ৩০ লাখ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। নারী নির্যাতন বন্ধে ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ ঘোষিত ১৬ দিনের প্রচার কর্মসূচি চলছে। এ সময়ে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নারীর প্রতি সহিংসতায় ইতি টানতে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে।

আলোচনার শুরুতে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক লিপিকা বিশ্বাস। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার। কিন্তু ধর্ষণের মতো সন্ত্রাসে দেখা যায়, অপরাধী ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় আশ্রয় খোঁজে। রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান থাকবে, ধর্ষক ও নারী নিপীড়ক যেন দলে জায়গা না পায়।

 

মুস্তাফিজ শফি বলেন, নারী নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে। নারী নির্যাতন মামলায় আদালত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করলে তাদের যেন কোনো রাজনৈতিক দল কমিটিতে স্থান না দেয়, নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়। তিনি বলেন, শুধু কর্মসূচি ভিত্তিক কথাবার্তা নয়, সব সময় সবখানেই নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। নারীবান্ধব সমাজ ও রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে হবে।

আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগে নারীর প্রতি সহিংসতার জায়গা নেই। নারীর উন্নয়নের নীতিতে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে নারী রাজনীতি ও অর্থনীতির মূলধারায় বেশি সম্পৃক্ত।

নারীর প্রতি সহিংসতায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে সম্পৃক্তদের সংশ্নিষ্ট থাকার কথা নয়; কিন্তু তারপরও অপরাধী অপরাধীই। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধন হয়েছে।

আফজাল হোসেন বলেন, বিএনপি-জামায়াত মুখে যতই নারীর অধিকারের কথা বলুক, সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দিলে নিপীড়ন বন্ধ হবে না। নারী নির্যাতন বন্ধে রাজনৈতিক ঐক্য হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে। নইলে সহিংসতা বন্ধ হবে না।

বিএনপি নেতা ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা এখন মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেছে। গণমাধ্যমে যেসব খবর আসছে, তাও প্রকৃত চিত্র নয়। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিএনপিকে ভোট দেওয়ায় একজন নারীকে ধর্ষণ করা হয়। সমাজে তৈরি হওয়া ক্ষোভ-বিক্ষোভকে সামাল দিতে ধর্ষণের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। তাতে ফল হয়নি। আইন পাসের পর ৪০ দিনে ধর্ষণ তিন গুণ বেড়েছে। বিএনপি আগেই বলেছিল, মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে লাভ হবে না। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড অপরাধীর মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে পারেনি। দেশে সুশাসন, গণতন্ত্র, অবাধ রাজনৈতিক চর্চা, ধর্ম ও সংস্কৃতির চর্চা না থাকলে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়বেই। ধর্ষক ও নারী নিপীড়কদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে নেওয়া যাবে না। যারা ধর্ষককে প্রশ্রয় দেয়, মধ্যস্থতা করে তাদেরও দলে রাখা যাবে না। নির্বাচন কমিশন এ ধরনের আইন করলে বিএনপি তাতে সমর্থন দেবে।

জাতীয় পার্টির নেতা গোলাম মোহাম্মদ রাজু বলেন, রাজনীতি রাজনীতিকদের হাতে নেই। চলে গেছে ধনী ও ব্যবসায়ীদের হাতে। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে না ফিরলে অপকর্মকারীদের রাজনৈতিক দলে স্থান দেওয়া বন্ধ হবে না।

মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক বলেন, শুধু রাজনৈতিক কর্মী নয়, স্কুলের শিক্ষক থেকে মসজিদের ইমামও নারী নিপীড়নের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের কারও নাম আসার সঙ্গে সঙ্গে অপকর্মকারীদের বহিস্কার করা হচ্ছে। নারীকেও অধিকারের প্রশ্নে সচেতন হতে হবে। নারীরা এখন সর্বত্র অর্ধেক। কিন্তু গ্রামেগঞ্জে নারীরা সচেতন হয়নি। সেখানেও কাজ হচ্ছে, তবে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। নিপীড়ন, ধর্ষণ বন্ধে নারীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মহিলা দলের নেত্রী ফরহানা ইসলাম আতিকা বলেন, নারী নিপীড়ন বন্ধে সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নারীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা শুধু মুখে মুখে রয়েছে। নারীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যেখানেই হোক, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় নেই নারীরা।

পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সবচেয়ে বেশি নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার। এর পরেই রয়েছে ধর্ষণের মামলা। পুলিশ নারী নির্যাতনের মামলায় সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়। স্থানীয় প্রতিনিধিরা ভালোভাবে জানেন কে নারী নিপীড়নকারী, কে স্ত্রীকে মারধর করে, কে নারীকে উত্ত্যক্ত করে। তাদের কাছে যদি নারী যায়, তাহলে সমাজের প্রতিনিধিরা ভিকটিমকে উল্টো ভয় দেখাতে থাকে। একটি মেয়ে যদি স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়, তাহলে কিন্তু তার আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। তাই আইনের আশ্রয় নিতে পারে না।

তৃণমূলের রাজনীতির অভিজ্ঞতায় রিজিয়া পারভীন বলেন, আইন ও বিধিমালা রয়েছে। সমস্যা হলো ব্যাপক জনসচেতনতা নেই। যত আইনই থাকুক, পুরুষ যতদিন সচেতন না হবে ততদিন নির্যাতন বন্ধ হবে না। নারীকেও ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আইন সম্পর্কে জানতে হবে। অধিকার আদায়ের পথ জানতে হবে। বিনয় কুমার সাহা বলেন, করোনাকালে কর্মহীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ার তথ্য সঠিক। তবে সহিংসতা রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপি নারীর প্রতি সহিংসতাকারীদের দলে স্থান দেয় না।


   Page 1 of 38
     বাংলাদেশ
করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৭৮
.............................................................................................
প্রত্যাশা নতুন বছরে
.............................................................................................
২৪ ঘণ্টায় ২৪ মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় প্রাণ গেলো আরও ১৭ জনের, শনাক্ত ১৩১৮
.............................................................................................
করোনায় মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত ২১৯৮
.............................................................................................
করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৩১৬
.............................................................................................
জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বজায় রাখতে বাংলাদেশের আহ্বান
.............................................................................................
বাংলাদেশ উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশন জাতিসংঘে গৃহীত
.............................................................................................
করোনায় প্রাণ গেলো আরও ৩৮ জনের, শনাক্ত ২১৯৮
.............................................................................................
মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যা: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
.............................................................................................
আগামী সপ্তাহ থেকে ফাইজারের টিকা ব্যবহার করবে যুক্তরাজ্য
.............................................................................................
ডাচ-বাংলা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ
.............................................................................................
দু`টি এয়ারলাইন্স মানবপাচারে জড়িত: সিআইডি
.............................................................................................
করোনায় আরও ৩১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩
.............................................................................................
করোনার প্রাথমিক লক্ষণ নাকে
.............................................................................................
নারী নির্যাতনকারীদের দলে আশ্রয় দেবেন না
.............................................................................................
আমৃত্যু উল্লেখ না থাকলে যাবজ্জীবন অর্থ ৩০ বছর কারাদণ্ড: আপিল বিভাগ
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৫২৫
.............................................................................................
‘সরকার দ্রব্যমূল‌্যের ঊর্ধ্বগতি পরোয়া করে না’
.............................................................................................
রোববার বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
.............................................................................................
করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৮
.............................................................................................
ম্যারাডোনার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
.............................................................................................
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
এবার পুড়লো কালশীর বস্তি
.............................................................................................
ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের
.............................................................................................
পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিশ
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শুরু হচ্ছে আজ
.............................................................................................
গোল্ডেন মনির, প্রবাসী সাংবাদিক, ব্লগারসহ ১৬ জনের ব্যাংক হিসাব তলব
.............................................................................................
শীত বাড়তে পারে রোববার থেকে
.............................................................................................
ধামরাইয়ে ২ বাসের সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০
.............................................................................................
জাবি শিক্ষক কবি হিমেল বরকত আর নেই
.............................................................................................
`গোল্ডেন মনিরের` উত্থান যেভাবে
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু
.............................................................................................
দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর পৌনে ৬ কিলোমিটার
.............................................................................................
দেশে করোনায় মৃত্যু আরো ২৮, শনাক্ত ১৮৪৭
.............................................................................................
বেড়েছে মৌসুমি ভিক্ষুক, বেশির ভাগই নারী
.............................................................................................
নারী পোশাকশ্রমিকদের হয়রানির ঝুঁকি বাড়িয়েছে করোনা
.............................................................................................
জঙ্গি আস্তানায় অভিযান সমাপ্ত
.............................................................................................
ওয়ারীতে গাড়ির চাপায় নিহত স্কুলছাত্র
.............................................................................................
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি,মাদকমুক্ত ও আধুনিক মডেল ওয়ার্ড গড়তে চাই-মোঃ জসিম উদ্দীন।
.............................................................................................
এমপি লিটন হত্যা মামলায় সাবেক এমপিসহ ৭ জনের ফাঁসির আদেশ
.............................................................................................
খিলগাঁওয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
.............................................................................................
ইন্টারনেটকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের আহ্বান পোপের
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরবে লাল গালিচা সংবর্ধনা
.............................................................................................
কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকিটের সার্ভাররুমে দুদকের হানা
.............................................................................................
ফের আকাশে ডানা মেলার পথে `বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এইট`
.............................................................................................
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্রবেশপত্র পাওয়া যাবে রবিবার
.............................................................................................
ঈদকে কেন্দ্র করে চলছে লঞ্চ মেরামতের কাজ
.............................................................................................
নুসরাত হত্যায় বোরকার টাকা দেন কাউন্সিলর
.............................................................................................
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি: যেভাবে অনলাইনে আবেদন করা যাবে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD