২২ জিলহজ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ আগস্ট , ২০২০
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * মুক্তি পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া   * প্রধানমন্ত্রীর দশ নির্দেশনা   * সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ   * টিসিবি এবং ভোক্তা অধিদফতরের সকলের ছুটি বাতিল   * প্রয়োজনে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শ   * করোনায় বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়াল!   * ঢাকা স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন!   * করোনা প্রতিরোধে চীন থেকে বিশেষজ্ঞ আনার পরিকল্পনা সরকারের   * দেশের সকল নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা!   * দেশে করোনায় ২য় ‍একজনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা ২৪!  

   অর্থনীতি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ডঃ যোশোদা জীবন দেবনাথের বিজিনেস সামিট এ‍্যাওয়ার্ড গ্রহন


গতকাল হোটেল ওয়েস্টিনে ‍আয়জিত, আন্তর্জাতিক বিজনেস ডেলিগেশন সামিট (আইবিডি) -২০২০ অনুষ্ঠানে মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও কাতার এবং লিবিয়ার রাষ্টদুত, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের ডিরেক্টর, ব্যাংকিং লিজিং অ্যান্ড সিক ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) চেয়ারম্যান, ডঃ যোশোদা জীবন দেবনাথের হাতে বিজিনেস সামিট এ‍্যাওয়ার্ড তুলে দেন।


মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বে ব্যবসার দ্বার উন্মোচন করতে রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে ‍আয়োজন করা হয় ‍এ অনুষ্ঠান। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত নানা আয়োজনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এ সামিট।


‍উক্ত অনুষ্ঠানে ‍আরো ‍উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, আইবিডি ডিরেক্টর ভিন্নেট নাম্বিয়ার, আইবিডির প্রধান মুখপাত্র ও মধ্যপ্রাচ্য দুতাবাস কনসালটেন্ট সুশান সাও, আইবিডির অ্যাম্বাসেডর হেলেনা জাহাঙ্গীর, গোলাম মওলা জাহাঙ্গীরসহ দেশের বিশিষ্ট ব‍্যবসায়িগণ।

ডঃ যোশোদা জীবন দেবনাথের বিজিনেস সামিট এ‍্যাওয়ার্ড গ্রহন
                                  


গতকাল হোটেল ওয়েস্টিনে ‍আয়জিত, আন্তর্জাতিক বিজনেস ডেলিগেশন সামিট (আইবিডি) -২০২০ অনুষ্ঠানে মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও কাতার এবং লিবিয়ার রাষ্টদুত, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের ডিরেক্টর, ব্যাংকিং লিজিং অ্যান্ড সিক ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) চেয়ারম্যান, ডঃ যোশোদা জীবন দেবনাথের হাতে বিজিনেস সামিট এ‍্যাওয়ার্ড তুলে দেন।


মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বে ব্যবসার দ্বার উন্মোচন করতে রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে ‍আয়োজন করা হয় ‍এ অনুষ্ঠান। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত নানা আয়োজনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এ সামিট।


‍উক্ত অনুষ্ঠানে ‍আরো ‍উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, আইবিডি ডিরেক্টর ভিন্নেট নাম্বিয়ার, আইবিডির প্রধান মুখপাত্র ও মধ্যপ্রাচ্য দুতাবাস কনসালটেন্ট সুশান সাও, আইবিডির অ্যাম্বাসেডর হেলেনা জাহাঙ্গীর, গোলাম মওলা জাহাঙ্গীরসহ দেশের বিশিষ্ট ব‍্যবসায়িগণ।

তফসিলি ব্যাংকরূপে যাত্রা শুরু করল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ

তফসিলি ব্যাংক হিসেবে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডকে তালিকাভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন গতকাল জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তফসিলি ব্যাংকরূপে যাত্রা শুরু করল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। এ প্রসঙ্গে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের অন্যতম পরিচালক ও উদ্যোক্তা টেকনো মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. যশোদা জীবন দেবনাথ সিআইপি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে উন্নত ও আধুনিক সেবা নিয়ে গ্রাহকের কাছে আসছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড।

তথ্য-প্রযুক্তি ও তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক এবং মেধাবীদের সমন্বয়ে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড গড়ে তোলা হবে। আগ্রাসী মনোভাবের বদলে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে যাব। জানা গেছে, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডসহ সরকারি-বেসরকারি মিলে দেশে তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াল ৬০টিতে। এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংককে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক সম্মতিপত্র (এলওআই বা লেটার অব ইনটেন্ট) দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সব শর্ত পূরণ করায় ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের জন্য চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়।

বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১ হাজার কোটি টাকা দিল গ্রামীনফোন
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ

বিটিআরসি নিরীক্ষা দাবির পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা দিয়েছে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার পর বিটিআরসির চেয়ারম্যানের কাছে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তারা এ টাকার চেক হস্তান্তর করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিটিআরসি নিরীক্ষা দাবির পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা সোমবারের মধ্যে দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

গত ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনার মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তিন মাসের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ আদেশ রিভিউ চেয়ে আবেদন করে গ্রামীণফোন।

আসছে ২শ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট ‍এবং স্বর্ণ ও রূপার স্মারক মুদ্রা
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২শ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট নিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ছাড়া হবে ১শ টাকা মূল্যমানের স্বর্ণ ও রূপার স্মারক মুদ্রা। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজারে প্রচলিত ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার মতই ২শ টাকার নোট ছাড়া হবে। মার্চ মাসে স্মারক ও প্রচলিত-দুই ধরনের ২শ টাকার নোট ছাড়া হবে। তবে ২০২১ সাল থেকে কেবলমাত্র নিয়মিত নোট থাকবে। ২শ টাকার নোটের উপর, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ নোট কথাটি লেখা থাকবে। তবে ২০২১ সাল থেকে যে নোটগুলো ছাড়া হবে তাতে আর তা লেখা থাকবে না।

তিনি আরও জানান, ১০০ টাকা মূল্যমানের এক হাজার ৫০টি স্বর্ণ মুদ্রা এবং একই মূল্যমানের ৫ হাজার রৌপ্য মুদ্রা ছাড়া হবে। বিশেষ ঘটনাকে স্মরণীয় রাখতে এর আগে ৬ ধরনের স্মারক নোট তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‍এরই ধারাবাহিকতায় এই বছরে যুক্ত হচ্ছে ২শ টাকার নোট।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম নোট ছাপা হয়। ১৯৭২ সালের ২ জুন প্রথম বাজারে ছাড়া হয় ১০ টাকার নোট। এরপর ধীরে ধীরে বাজারে আসে ১, ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকার নোট। - খবর বাসস

৩৮৯ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ৭৮ প্রতিষ্ঠান
                                  

অনলাইন ডেস্কঃ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এবং নথিপত্র পরীক্ষা করে ৭৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বড়ো অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির সন্ধান মিলেছে। ফাঁকি হওয়া ভ্যাটের পরিমাণ ৩৮৯ কোটি টাকা। ফাঁকির এ তালিকায় স্বল্প পরিচিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা কোম্পানি, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তালিকায় রয়েছে বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত এবং অফডকের প্রতিষ্ঠানও।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ এসব ফাঁকি উদ্ঘাটন করে। ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষায়িত বিভাগ ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে এসব ফাঁকির সন্ধান মিলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান ছাড়াও বিশেষায়িত নিরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমেও বেশ কিছু ফাঁকি ধরতে সমর্থ হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ। এরই মধ্যে ফাঁকি স্বীকার করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩৫ কোটি টাকা পরিশোধও করেছে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য আলী আহমেদ বলেন, ফাঁকির ঘটনা বেশ ব্যাপক। রাজস্ব প্রশাসনকে এ বিষয়টি শক্তভাবে দেখা দরকার। সেই সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রমও জোরদার করা দরকার বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এনবিআরের প্রশাসনিক দুর্বলতা, জনবলের ঘাটতি, অদক্ষতা ও ক্ষেত্রবিশেষে দুর্নীতির কারণে অনেক ফাঁকি ধরা যায় না। এক্ষেত্রে ফাঁকির ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার।

শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোর পাশাপাশি বিশেষায়িত একাধিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে। এর মধ্যে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ছাড়াও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগ দেশব্যাপী রাজস্ব ফাঁকি ধরতে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে আকস্মিক অভিযান ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র জব্দ করে বিশেষায়িত নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব প্রক্রিয়ায়ই বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি বের হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নিরীক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমেই উদ্ঘাটন হয়েছে সবচেয়ে বেশি ভ্যাট ফাঁকি। আলোচ্য সময়ে ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে ২২৫ কোটি টাকার ফাঁকি বের হয়েছে। এর মধ্যে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের ছয় কোটি টাকা ফাঁকি উদ্ঘাটনের বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। আর আকস্মিক অভিযানে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১৫৯ কোটি টাকা ফাঁকি উদ্ঘাটনের বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের সবমিলিয়ে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি বের হয়েছে ৪৭১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয়েছে ৩১ কোটি টাকা।

ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামীতে ফাঁকি উদ্ঘাটনে আরো গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন উত্স থেকে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য বের করার ক্ষেত্রে নতুন করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে জোর দেওয়ার পাশাপাশি খাতভিত্তিক রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোকে নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে অধিক রাজস্ব ফাঁকির খাতগুলোকে চিহ্নিত করে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মুস্তফা কামাল বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী
                                  
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ওয়ার্ল্ড বা বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা দ্য ব্যাংকার। পত্রিকা মুস্তফা কামালকে নিয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ঈর্ষাণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (৮ শতাংশের ওপরে) কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির জরিপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশটি বর্তমানে ৪১তম বিশ্ব অর্থনীতির দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বলছে, দেশটি ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরপর গত বছরের ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। এতে নতুনদের জায়গা দিতে বাদ দেয়া হয় কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রীকে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার পরিবর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট মুস্তফা কামাল এ পর্যন্ত চারবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য পদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলার (দক্ষিণ) আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সচিব পদে আসীন। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
জারা জামান টেকনোলজির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
                                  

ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রযুক্তিপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জারা জামান টেকনোলজি লিমিটেডের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। এতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল ব্যাংকিং ইক্যুইপমেন্ট অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ও ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) আমদানির আড়ালে প্রচুর অর্থ পাচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে উদ্যোক্তা খবির উদ্দিন এমন অভিযোগ করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চীনের জিআরজি ইক্যুইপমেন্ট (এইচ কে) কোং লিমিটেডের ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রযুক্তিপণ্য আমদানি করে দেশীয় ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে। অভিযোগের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঋণপত্র বা এলসি (লটার অব ক্রেডিট) নম্বর ১৯০১০০২৩ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে দুটি চালানে এইচসিক্স/এইটএনএল/সিইএনএল মডেলের ১৫টি সিআরএম এবং এইচটুটুভি/এইচটুটুভিএল মডেলের ৩৫টি এটিএম মেশিন আমদানি করে জারা জামান টেকনোলজি। এতে তথ্য গোপন করে সব আমদানি পণ্যের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দেখানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল ইনভয়েসে প্রতিটি এটিএমের মূল্য পরিশোধ দেখানো হয়েছে ১ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার বা ৯২ হাজার ৯৫০ টাকা। আর সিআরএমের মূল্য পরিশোধ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বা ২ লাখ ১১ হাজার ২৫০ টাকা। কিন্তু জারা জামান টেকনোলজি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের আগে যোগাযোগের রেফারেন্স লেটারে উল্লেখিত ইনভয়েস অনুযায়ী প্রতিটি এটিএমের মূল্য ৩ হাজার ৫৭০ মার্কিন ডলার বা ৩ লাখ ১ হাজার ৬৬৫ এবং প্রতিটি সিআরএমের মূল্য ১২ হাজার ৫৫০ মার্কিন ডলার বা ১০ লাখ ৬০ হাজার ৪৭৫ টাকা। ওই হিসাবে কমার্শিয়াল ইনভয়েসে প্রতিটি এটিএমের মূল্য কম দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৭১৫ এবং প্রতিটি সিআরএমের দাম ৮ লাখ ৪৯ হাজার ২২৫ টাকা কম দেখানো হয়েছে। এই হিসাবে ১৫টি সিআরএম ও ৩৫টি এটিএম আমদানির বিপরীতে মোট পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। তা টাকার অঙ্কে ৩ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯০০। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির এলসি অনুযায়ী উল্লেখিত মূল্য হিসাবে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ৭৬ হাজার মার্কিন ডলার। তা টাকার অঙ্কে মাত্র ৬৪ লাখ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, আমদানিকৃত মাত্র দুটি চালানে মূল্যের বাকি প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার অবৈধ উপায়ে পরিশোধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তা টাকার অঙ্কে প্রায় ২ কোটি ৩৬ লাখেরও বেশি। ফলে এলসির শুধু দুটি চালানের কাস্টমস নীতিমালা অনুযায়ী জারা জামান টেকনোলজি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে ৭৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এতে প্রতিষ্ঠানটি শুল্ক দিয়েছে মাত্র ২২ লাখ টাকা।প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ মৃধার দেয়া তথ্য মতে, ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চারশ’র বেশি সিআরএম আমদানি ও সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ পর্যন্ত ৯০০ এটিএম আমদানি করেছে জারা জামান টেকনোলজি লিমিটেড। তা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছে। ওই হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৯০০ এটিএম ও ৪০০ সিআরএম আমদানিতে তথ্য গোপন করে প্রায় ৫২ কোটি ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সমপরিমাণ টাকা অবৈধ উপায়ে পরিশোধের মাধ্যমে পাচারের অভিযোগ উঠেছে জারা জামান টেকনোলজির বিরুদ্ধে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা অভিযোগের তথ্য পর্যলোচনা করে দেখা গেছে, জারা জামান টেকনোলজি লিমিটেড এলসি বা আমদানি ঋণপত্রে এসব পণ্যের (লেটার অব ক্রেডিট) আন্ডার ইনভয়েসিং বা প্রকৃত ক্রয়মূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে দেশের প্রচুর রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত ক্রয়মূল্য অবৈধ উপায়ে পরিশোধ করারও অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেলের বিপরীতে অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে এটিএম ও সিআরএম রপ্তানিকারক দেশ চীনে প্রচুর অর্থ পাচার করার অভিযোগ জমা পড়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তা দেশে প্রচলিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনে ২৭-এর উপধারা ২ অনুযায়ী মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পাচারকৃত অর্থের দ্বিগুণ জরিমানাসহ সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদ-ের বিধান রয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জারা জামান টেকনোলজি লিমিটেডের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমমূল্য দেখিয়ে বা আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে এটিএম ও সিআরএম আমদানি করার অভিযোগ রয়েছে। দাখিলকৃত অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ব্যবসা পরিচিতি নম্বর) বা বিন নম্বর ০০০০৪৪৩৭২ ও ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন কিংবা টিআইএন নম্বর ১৫২৭৫৬৫২৫৩৭৬ অনুযায়ী এটিএম আমদানিকারী ও সরবরাহকারী। কোম্পানিটি এটিএম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান চীনের জিআরজি ব্যাংকিং ইক্যুইপমেন্ট (এইচ কে) কোম্পানি লিমিটেডের বাংলাদেশের স্থায়ী পরিবেশক। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ব্যাংকিং খাতে এটিএম, সিডিএম, সিআরএম, আইডিএম, সিএসএম, এসটিএম ও আইডিএমসহ ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। এ বিষয়ে জারা জামান টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ মৃধা বলেন, আমরা চীন থেকে শুধু এটিএম এবং সিআরএমের হার্ডওয়্যার আমদানি করি। আর দেশে সফটওয়্যার তৈরি করি। ফলে কমার্শিয়াল ইনভয়েস ও প্রফর্মা ইনভয়েসে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের দামের পার্থক্য থাকতে পারে। এ বিষয়ে শুল্ক, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এটিএম আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং শুল্ক ফাঁকির একটি অভিযোগ নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি। এ ব্যাপারে শুল্ক, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তথ্য-প্রমাণে অভিযুক্ত হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা শুল্ক ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, তথ্য গোপন করে আমদানির মাধ্যমে যারা অর্থ পাচার করছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনার ফলেই এ রকম প্রতিনিয়ত ঘটছে। এ জন্য দায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও। তারা সঠিকভাবে তদারক করছেন না বলেই শুল্ক ফাঁকিসহ অর্থ পাচার হচ্ছে। যথাযথ মনিটরিংয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। দায়িত্ব পালনে আরও তৎপর ও সজাগ হতে হবে। এর পাশাপাশি যাদের অন্যায় ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে অন্যায় হতেই থাকবে।

চীন থেকে আরো জাহাজ আনছে নৌ মন্ত্রণালয়
                                  

চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরশেন (সিএমসি) থেকে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জন্য আরও ছয়টি জাহাজ আনা হবে। এর আগে সিএমসি থেকে বিএসসির জন্য ছয়টি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
শুক্রবার চীনের বেইজিংয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সিএমসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাঙ্গ হুবাইও`র বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চীন সফররত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বেইজিংয়ে সিএমসি অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানান সিএমসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাঙ্গ হুবাইও। সেখানে তারা বৈঠক করেন
বৈঠকে ঢাকার চারপাশের সার্কুলার নৌপথ, সার্কুলার সড়ক, মেরিন একাডেমিতে বিশ্বমানের নাবিক গড়ে তুলতে চীনের সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া চীন থেকে বিএসসির জন্য আরো ৬টি জাহাজ সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এসময় বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর ইয়াহ ইয়া সৈয়দ এবং চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

বিএসসিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ১,৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে ছয়টি জাহাজ সংগ্রহের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে চীন আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এক হাজার কোটি টাকা, বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকারের।
এ পর্যন্ত পাঁচটি জাহাজ বিএসসির বহরে যুক্ত হয়েছে। জাহাজ ‘এম টি বাংলার অগ্রগতি’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রতিমন্ত্রী ২১ মার্চ রাতে চীন যান। বিএসসির বহরে ছয়টি জাহাজ যুক্ত করার জন্য আড়াই কোটি মার্কিন ডলার একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংগৃহীত জাহাজগুলো হলো, এমভি বাংলার জয়যাত্রা, এমভি বাংলার সমৃদ্ধি, এমভি বাংলার অর্জন, এমভি বাংলার অগ্রযাত্রা এবং এম.ভি বাংলার অগ্রদূত।

সুদ কমার পরও বাড়ছে ব্যাংকের আমানত
                                  

ব্যাংকিং খাতের আমানত প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতে আমানতে ৬ শতাংশ ও ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করে দেওয়ার পরে আশঙ্কা করা হয়েছিল আমানত কমে যাবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে। একইসঙ্গে ঋণও বেড়েছে।
জানুয়ারি শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ব্যাংকগুলোতে এখন আমানতের পরিমাণ ৯ লাখ ১৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মেয়াদি আমানত আট লাখ ২১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। আর তলবী আমানত ৯৭ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে জানুয়ারি শেষে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। ঋণের মধ্যে রয়েছে ঋণ ও অগ্রিম, কল মানি, রেপো, ইমপোর্ট ও ইনল্যান্ড বিল, ট্রেজারি বিল, বন্ড, শেয়ার ও সিকিউরিটিজ প্রভৃতি।
ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংকের আমানত বাড়বে, কমবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সরকার ও ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) উদ্যোগে সুদহার নির্ধারণ করার পর আশঙ্কা করা হয়েছিল আমানত অনেক কমে যাবে। তবে তেমনটা হয়নি। বিএবির সিদ্ধান্ত মেনে গত জুলাই থেকে আমানতে ৬ শতাংশ ও ঋণে ৯ শতাংশ সুদের ঘোষণা দেয় ব্যাংকগুলো। এ সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের সুদহারও ৬ শতাংশ ঠিক করে দেওয়া হয়। তবে সব ব্যাংক তা মানেনি। এরপরই আমানত নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।
তারা বলছেন, সুদহার নির্ধারণ করে দেওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছিল। এর বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক আমানত, সাধারণ মানুষের আমানত না। সুদহার পরিবর্তনের কারণে ওই তহবিল এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে গেছে। ফলে এ খাত থেকে আমানত খুব বেশি সরেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএবির সিদ্ধান্ত মানতে গিয়ে আমানতের সুদহার কমিয়েছে অনেক ব্যাংক। ক্ষেত্র বিশেষে, আড়াই থেকে তিন শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে কেউ কেউ। অন্যদিকে কোনো কোনো ব্যাংক আবার বেশি সুদেই আমানত সংগ্রহ করছে। তার প্রমাণ দেখা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো প্রতিবেদন থেকেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে যেসব নীতিনির্ধারণী কলাকৌশলের মাধ্যমে মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ হতো, চাপ দিয়ে তা পরিবর্তন করে নিয়েছেন ব্যাংক পরিচালকেরা। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে ভূমিকা রাখত, এখন তা রাখতে পারছে না। এছাড়া সরকারি সংস্থার তহবিলের অর্ধেক বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ দেওয়ায় আমানত নিয়ে যে টানাটানি শুরু হয়েছিল এখনো তা করছে কোনো কোনো ব্যাংক।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আর্থিক খাতের প্রসার ও পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। কারণ, গ্রামীণ জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবার আওতাভুক্ত করতেই নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে অর্ধেক শাখা গ্রামে/পল্লী এলাকায় স্থাপনের জন্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অভাবনীয় পুনর্জাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রামের মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যাংকে আমানত রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি হয়ে গেছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ হওয়া ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। আগের বছর অর্থাত্ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। যা ছিল ওই বছরের বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মূলধন ঘাটতি বাড়ে। ডিসেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে ১০টি ব্যাংক। ২০১৮ সাল শেষে এসব ব্যাংকের ২৬ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এক বছর আগে আট ব্যাংকে ১৯ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি ছিল।

বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যায় বিদেশিরা
                                  

বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে চাকরি ও বিভিন্ন ব্যবসা করে প্রতি বছর প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা তাদের নিজ দেশে নিয়ে যায়। পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৬টি দেশের নাগরিকরা এক বছরে বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স হিসেবে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গেছেন ২০১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ এই অর্থের সবচেয়ে বেশি গেছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামে। বাংলাদেশে বর্তমানে কমবেশি প্রায় ১০ লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। আর আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে বৈধ পথের বাইরে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে রেমিট্যান্স যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার হার ও পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। কারণ প্রতিদিন গড়ে বাংলাদেশে আসা আট হাজার বিদেশি নাগরিকের প্রায় অর্ধেকই দীর্ঘ মেয়াদে অর্থ উপার্জনের সঙ্গে জড়িত হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষস্থানীয় পদগুলো চলে যাচ্ছে বিদেশিদের দখলে, তেমনি বাংলাদেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে সীমানার বাইরে।

বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স প্রবাহের দেশ ভিত্তিক পরিসংখ্যান নিয়ে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ২০১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চীনে গেছে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৪৭ হাজার ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইন্দোনেশিয়ায় ২ কোটি ৭৫ হাজার ডলার, তৃতীয় সর্বোচ্চ মালয়েশিয়ায় ১ কোটি ৯৬ হাজার ডলার, চতুর্থ সর্বোচ্চ ভারতে ১ কোটি ১৪ হাজার ডলার ও পঞ্চম সর্বোচ্চ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে ৯৩ হাজার মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ভিয়েতনামে ৮৩ হাজার ডলার, নেপালে ৬১ হাজার, থাইল্যান্ডে ৫৭ হাজার, জাপানে ৫০ হাজার, নরওয়েতে ৪১ হাজার, যুক্তরাজ্যে ২৯ হাজার, মিয়ানমারে ২৮ হাজার, ব্রাজিলে ২০ হাজার, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডায় ৮ হাজার, লাওসে ৬ হাজার এবং কম্বোডিয়ায় ৪ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশ থেকে পাঠিয়েছেন সেসব দেশের নাগরিকরা। এই পরিসংখ্যান বৈধ পথে পাঠানো অর্থের। তবে বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাস্তবে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি। জানা যায়, বাংলাদেশ ঠিক কত জন বিদেশি অর্থ উপার্জনে নিয়োজিত আছেন এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বিদেশি নাগরিকদের কাজের অনুমতি দেওয়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর কাছে নিবন্ধিত বিদেশিদের সংখ্যা ১৫ হাজারের মতো। অন্যদিকে গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশে কাজ করা বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৮৬ জনের মধ্যে ভারতীয় ৩৫ হাজার ৩৮৬ জন, চীনের ১৩ হাজার ২৬৮ জন, জাপানের ৪ হাজার ৯৩ জন, কোরিয়ার ৪ হাজার ৯৩ জন, মালয়েশিয়ার ৩ হাজার ৩৯৫ জন ও শ্রীলঙ্কার ৩ হাজার ৭৭ জন। বাকিরা অন্যান্য দেশের। তবে সূত্রের খবর, প্রতি বছর ৭ থেকে ১০ লাখ বিদেশি বাংলাদেশে আসেন। এর প্রায় অর্ধেক কাজ বা ব্যবসা করেন। এভাবে বিভিন্ন খাতে কর্মরত বিদেশিদের অনেকেই পর্যটক হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারা কোথাও নিবন্ধিত নন। জানা যায়, দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী অভাব থাকায় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর বাইরে দেশীয় অনেক কোম্পানি এখন বিদেশিদের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশে গার্মেন্ট কম্পোজিট টেক্সটাইল মিল, ওভেন ও নিটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি, সোয়েটার ফ্যাক্টরি, বায়িং হাউস, মার্চেন্ডাইজিং, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন হাউস, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানি, মোবাইল ফোন কোম্পানি, এয়ারলাইন্স, ফার্নিচার কোম্পানি, পোলট্রি খাদ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, চামড়াজাত প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি, মিডিয়া রিসার্চ প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞাপনি সংস্থাসহ বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে প্রায় ১০ লাখ বিদেশি কাজ করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়। এর পরই রয়েছে শ্রীলঙ্কা, চীন, কোরিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনসহ আফ্রিকা, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। একটি কোম্পানিতে ৫ বাংলাদেশি কর্মকর্তার মোট বেতনের চেয়েও বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন একেকজন বিদেশি কর্মকর্তা। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় বায়িং হাউজ খুলে গার্মেন্টস ব্যবসা করছেন চীনা, ভারতীয় ও বিদেশিরা। শুধু তাই নয় নামে-বেনামে স্থানীয় অনেক গার্মেন্ট কারখানার মালিক বিদেশি নাগরিকরা। এর বাইরে আরও নানান ধরনের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন তারা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেনের মতে, একদিকে দেশের ভিতরে বেকার এবং শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা যেখানে প্রকট সেখানে দেশ থেকে অর্থ চলে যেতে দেখতে হচ্ছে। তবে দেশের ভিতরে যারা গ্র্যাজুয়েট হচ্ছেন, তারাও উপযুক্ত মান সম্পন্ন নন। তাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একদিকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করাদের এক-তৃতীয়াংশকে বেকার দেখতে পাচ্ছি, অন্যদিকে দেশের ভিতরেই বিদেশিদের কাজ করতে দেখছি এবং তারা দেশ থেকে অর্থ নিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে এমপ্লয়াররা প্রফেশনাল লোক খুঁজছেন, দেশের ভিতরে পাচ্ছে না। অন্যদিকে বিদেশি প্রফেশনালরা আমাদের এখানে কাজ করছেন, আমাদের জায়গাগুলো তাদের দিয়ে দিতে হচ্ছে, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
                                  

আগামী চারদিন দেশের সব ব্যাংকের এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস), ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত টাকার রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পে-মেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদের সই করা একটি প্রজ্ঞাপন সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচনের ছুটির সময় সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ, এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পাহারাদারসহ ও অন্যান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়েতে কার্ডভিত্তিক লেনদেনের ক্ষেত্রে টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ওয়ান টাইপ পাস ওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থা চালু রাখা এবং সব ধরনের লেনদেনে গ্রাহককে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানোসহ সার্বক্ষণিক সেবাদানের জন্য হেল্পলাইন চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

 

একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরবিচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব ধরনের লেনদেন করার সময় গ্রাহকদের সর্তকতা অবলম্বনের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণমাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

বছরের শেষ ৪ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক
                                  

সাপ্তাহিক ছুটি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাধারণ ছুটি এবং ব্যাংক হলিডে মিলিয়ে ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর টানা চারদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে শেয়ারবাজারও বন্ধ থাকবে এই চারদিন। আর আজ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে সাধারণ ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকছে। ফলে এবার বছর শেষের আগেই ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ করতে হবে। তাই আগামী বৃহস্পতিবার ২৭ ডিসেম্বর বছরের হিসাব শেষ (ব্যাংক ক্লোজিং) করতে হবে। এ দিন স্বাভাবিক লেনদেনও চলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন’ এর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ উপলক্ষে সারা দেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে। আর ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। এ ছাড়া, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে। ফলে ছুটি শেষে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি ব্যাংক খুলবে।

সাধারণত, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো বার্ষিক আর্থিক হিসাব শেষ করে। এদিনে বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক হিসাব বিবরণী বা ব্যালান্স শিট প্রস্তুত করা হয়। হিসাব মিলাতে ব্যস্ত কর্মকর্তারা কোনো ধরনের লেনদেন করেন না। আর শেয়ারবাজারের লেনদেন যেহেতু ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত ফলে এদিন শেয়ারবাজারের লেনদেনও বন্ধ রাখা হয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এবার তফসিলি ব্যাংকগুলোর হিসাব ক্লোজিংয়ের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর হবে ব্যাংক ক্লোজিং। তবে ব্যাংক হলিডে ঠিক থাকছে।

কু-ঋণ বন্ধ হলে খেলাপি ঋণ ১ শতাংশে নামবে: আহমেদ আকবর সোবহান
                                  

দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পগ্রুপ বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেছেন, আমাদের খেলাপি ঋণ ও ক‍ু-ঋণ পদ্ধতি বন্ধ করা গেলে দেশের অনেক মঙ্গল হবে। দেশের ব্যবসায়ীরা অনেক উদ্বুদ্ধ হবেন। কু-ঋণ বন্ধ করা গেলে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ১ শতাংশে নেমে আসবে। বেশ কিছুদিন আগে সুদের হার ছিল ১৫-১৬ শতাংশ। এখন হয়তো সেটা ৯-১০-১১ শতাংশে নেমে এসেছে।

বুধবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংক লিমিটেডের (এসবিএসি) মহিলা শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকারদের উদ্দেশে আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, আমি আপনাদের একটি-ই অনুরোধ করবো, যাকে ঋণ দেবেন তার সর্ম্পকে খোঁজ খবর নেবেন। কারণ আজকে খেলাপি ঋণের দায় ভালো ঋণ গ্রহীতাদের ওপর এসে পড়ছে।

 

এসবিএসি ব্যাংকের এই শাখার নামকরণ মহিলা শাখা করায় অত্যন্ত আনন্দিত হওয়ার কথা জানিয়ে আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশে লাখ লাখ পুরুষ উদ্যোক্তা রয়েছে। আমি আশা করবো অনুরূপভাবে সাউথ বাংলা ব্যাংকের এ শাখা নারী উদ্যোক্তা তৈরির একটি উদাহারণ হয়ে থাকবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, যত বেশি সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা তৈরি হবে, দেশ ততো এগিয়ে যাবে। আমরা সবাই দেশের জন্য কাজ করছি। আজ দেশে ৬০টি ব্যাংক হওয়ার কারণে অর্থনীতির অনেক উন্নতি হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে ব্যাংকিং সেক্টর।

‘বিগত দিনের তুলনায় নারীরা অনেক এগিয়েছেন। পড়লেখা, চাকরি, বিশেষ করে ব্যাংকের চাকরিতে নারীরা এখন অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিদেশে অধিকাংশ ব্যাংকের সিইও নারী। আমি আশা করবো এদেশেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে’।

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ট্রাস্ট ব্যাংকের একজন নারী উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ধ্যান, ধারণা, চিন্তা চেতনায় আমি ইমপ্রেসড। সাউথ বাংলা ব্যাংকও এক সময় নারীদের অনেক বড় দায়িত্ব দেবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসবিএসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন উপস্থিত সবাইকে সাউথ বাংলা ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসা করার আহ্বান জানান।

এ সময় বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, এসবিএসি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসবিএসি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা জালাল উদ্দিন, সভাপতির বক্তব্য রাখেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বসুন্ধরা মহিলা শাখার ব্যবস্থাপক শাহনাজ পারভীন।

২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা চতুর্থ প্রজন্মের সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের ৭৪তম এ শাখাটিই একমাত্র মহিলা শাখা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করলো।

চার বছরে করদাতা বেড়েছে তিনগুণের বেশি
                                  

গত কয়েক বছরে দেশে আয়কর বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে করদাতাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন প্রাঙ্গণে আয়কর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, ২০১৪ সালে দেশে করদাতার সংখ্যা (কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারী) ছিল ১২ লাখ। আর বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখে। অর্থাত্ চার বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি।

অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার বলেন, এ বছর করদাতা ৩৮ লাখ হয়েছে। ২০১৪ সালে এর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ। প্রকৃত কর আদায় ১০ বছরে পাঁচগুণ বেড়েছে । আমাদের লক্ষ্য করদাতা ১ কোটিতে উন্নীত করা। করদাতাদের মধ্যে আয়কর প্রদান নিয়ে আগে নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও গত কয়েক বছরে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় করদাতাদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। ভীতি দূর হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ও নাট্যাঙ্গনের শিল্পীরা বক্তব্য রাখেন।

দেশে ই-টিআইএনধারীদের সবাই কর দেন না। মূলত যারা রিটার্ন জমা দেন— তাদেরকেই করদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সংখ্যা বর্তমানে ২০ লাখের মতো। অবশ্য রিটার্নধারীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি শুন্য রিটার্ন দাখিল করায়, তাদের কোনো কর দিতে হয় না। আর ই-টিআইএনধারীদের অবশ্য সম্ভাব্য করদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ সময় এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, কর আদায়ের পরিমাণ যদি বর্তমানের চাইতে দশ গুণ বাড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে আমরা উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাব। নানা সংস্কারের মাধ্যমে করবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এনবিআর কাজ করছে। এ সময় জানানো হয়, রিটার্ন দাখিল গত দুই বছর ধরে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ছে। প্রকৃত করদাতা এখন ১৫ লাখ। এই সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত হলে দেশের আরও বেশি উন্নয়ন হবে। জিডিপিতে রাজস্বের অবদান ১২ শতাংশে নিয়ে যেতে পারলে অর্থনীতি মজবুত হবে।

আয়কর প্রদানে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর দিবসটি পালন করে থাকে এনবিআর। এবার দিবসটির শ্লোগান ‘উন্নয়ন ও উত্তরণ, আয়করের অর্জন’। আর প্রতিপাদ্য ‘আয়কর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’।

অতীতে আয়কর দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বর্ণাঢ্য র্যালি হলেও এবার নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবার র্যালি হয়নি ভবন প্রাঙ্গণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল এনবিআর।

আলোচনায় অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র তারকা গুলশান আরা আক্তার চম্পা বলেন, ‘কর দেওয়া এখন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষ, যাদের কর দিতে হবে— তাদের কর দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’ চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, কর দেয়া অভ্যাসের ব্যাপার, তাই সবাইকে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ সময় এনবিআর সদস্য জিয়া উদ্দিন মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

এদিকে স্বাভাবিক নিয়মে আয়কর দিবসে জরিমানা ছাড়াই কর প্রদানের শেষ দিন হলেও ছুটির দিন হওয়ায় পরবর্তী অফিস খোলার দিন অর্থাত্ আগামীকাল রবিবারও জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন দিতে পারবেন করদাতারা। অবশ্য গতকাল এবং আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় রাখুন
                                  

স্বল্পমেয়াদে সরকারের রাজস্ব বিবেচনা না করে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান দুর্বলতা কাটিয়ে মানসম্মত গ্যাস সরবরাহের দাবি তাদের। এ লক্ষ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান অব্যবস্থাপনাও কাটিয়ে উঠার পরামর্শ তাদের। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘এলএনজি’র দর : শিল্প ও বাণিজ্যে এর প্রভাব’ শীর্ষক ওই আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম খান।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ইতিমধ্যে গ্যাসের দর কয়েক দফা বেড়েছে। ফলে উদ্যোক্তারা চাপের মধ্যে আছেন। এ পরিস্থিতিতে এলএনজি’র দর যদি সঠিকভাবে নির্ধারিত না হয়, তাহলে বিনিয়োগে সক্ষমতার পাশাপাশি শিল্পোত্পাদন ও বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে। বর্তমানে এমনিতেই ব্যবসায়ের ব্যয় বেশি। এ পরিস্থিতিতে যদি ফের সরাসরি ব্যয় বাড়ে তাহলে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জাতীয়ভাবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে কূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো বাড়ানো এবং একই সাথে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো আবশ্যক বলে মত দেন তিনি।

গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গ্যাস চুরি ও গণশুনানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভুলতা, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে চোরাই লাইন আছে। তিতাস জানে। এলএনজি এসেও চোরাই লাইনে গেলে উদ্যোক্তাদের উপর চাপ বাড়বে। বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) গণশুনানিতে আমাদের কথা শুনলেও কিছুই মানে না।

এ সময় আবুল কালাম আজাদ গ্যাস চুরির কথা স্বীকার করে বলেন, গ্যাস চুরি হচ্ছে। এই চুরি ঠেকাতে হবে। এ সময় তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে বলেন, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে দক্ষ (এফিশিয়েন্ট) জ্বালানি দর ঠিক করা প্রয়োজন। অবশ্য জ্বালানির দর গত কয়েক বছর বাড়লেও একই সময়ে আন্তর্জাতিক দরও বিবেচনায় নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে গত কয়েক বছরে আর্থসামাজিক অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।

মূল প্রবন্ধে সাবেক বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ফজলুল কবীর খান গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। বিইআরসি’র সদস্য রহমান মুরশিদ এলএনজি’র নির্ধারত মূল্য আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলবে তা খতিয়ে দেখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় শিল্পোদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ৩ হাজার ৪শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ২ হাজার ৭শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকট মোকাবিলায় সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির উদ্যোগ নেয়। তবে এর দর কত হবে তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জোর আলোচনা চলছিল। বিদ্যমান গ্যাসের দরের চাইতে এলএনজি’র দর চারগুণ বেশি হবে বলে বলা হয়। যদিও সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি আমদানির উপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও এলএনজি’র দাম দ্বিগুণ হবে।

ব্যাংকাররাই ঋণ খেলাপি হওয়ার সুযোগ করে দেন: অর্থমন্ত্রী
                                  

ব্যাংকাররাই ঋণ খেলাপি হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের বারবার পুনঃতফসিল হয়ে থাকে। কতবার ঋণ খেলাপিরা এ সুযোগ পেয়ে থাকেন তা আমার জানা নেই। আর এ সুযোগ দিয়ে থাকেন ব্যাংকাররা।

``এভাবেই ব্যাংকাররা চেষ্টা করেন যাতে উদ্যোক্তারা ঋণ খেলপি হতে পারেন। ব্যাংকাররাই এ অবস্থা তৈরি করেছেন। যাতে দ্রুত সে ঋণ খেলাপি হয়ে যায়।``

রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপী রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক পরিচালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

খেলাপি ঋণের অনবরত পুনঃতফসিল হওয়ায় ঋণ খেলাপি বেড়ে যাচ্ছে জানিয়েছে মুহিত বলেন, এখন এর একটু লাগাম টানা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে অবসায়ন বা একীভূতকরণ হলো সবচেয়ে ভালো সমাধান। কিন্তু সেটি হয় না। কারণ ব্যাংকাররাই চায় উদ্যোক্তারা তাদের বাধ্য থাকুক। আমার কাছে মনে হয় ব্যাংকারদের এটা একটা অস্ত্র। যেটা ব্যবহার করেন এবং করতে চান। এই লক্ষ্যটা অত্যন্ত খারাপ। 

ব্যাংকারদের এ লক্ষ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তাকে শুরুতে সাহায্য করবেন। কিন্তু ব্যাংকাররা সেটা করেন না। এক্ষেত্রে আপনাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

প্রাইভেট ব্যাংকে সে রকম ঋণ খেলাপি না থাকলেও এ খাতে আরেক রকম ফাঁকিবাজি রয়েছে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাইভেটখাতের এক ব্যাংকের পরিচালক সমঝোতার মাধ্যমে অন্য ব্যাংক থেকে লোন নেন। তিনি তার নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ নেন না। এটা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টকর। তবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। আমাদের উপায় বের করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটা হয়নি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন।


   Page 1 of 8
     অর্থনীতি
ডঃ যোশোদা জীবন দেবনাথের বিজিনেস সামিট এ‍্যাওয়ার্ড গ্রহন
.............................................................................................
তফসিলি ব্যাংকরূপে যাত্রা শুরু করল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
.............................................................................................
বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১ হাজার কোটি টাকা দিল গ্রামীনফোন
.............................................................................................
আসছে ২শ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট ‍এবং স্বর্ণ ও রূপার স্মারক মুদ্রা
.............................................................................................
৩৮৯ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ৭৮ প্রতিষ্ঠান
.............................................................................................
মুস্তফা কামাল বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
জারা জামান টেকনোলজির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
.............................................................................................
চীন থেকে আরো জাহাজ আনছে নৌ মন্ত্রণালয়
.............................................................................................
সুদ কমার পরও বাড়ছে ব্যাংকের আমানত
.............................................................................................
বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যায় বিদেশিরা
.............................................................................................
বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
.............................................................................................
বছরের শেষ ৪ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক
.............................................................................................
কু-ঋণ বন্ধ হলে খেলাপি ঋণ ১ শতাংশে নামবে: আহমেদ আকবর সোবহান
.............................................................................................
চার বছরে করদাতা বেড়েছে তিনগুণের বেশি
.............................................................................................
জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় রাখুন
.............................................................................................
ব্যাংকাররাই ঋণ খেলাপি হওয়ার সুযোগ করে দেন: অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
আয়কর মেলা ১৩ থেকে ১৯ নভেম্বর
.............................................................................................
বছরে ১২ হাজার কোটি টাকার উত্পাদনশীলতা ক্ষতি
.............................................................................................
বিশ্বে ইন্টারনেট ভিত্তিক শ্রমশক্তির ১৫ শতাংশ বাংলাদেশের
.............................................................................................
বিশ্ব বাণিজ্যে গতি কমবে: ডব্লিউটিওর পূর্বাভাস
.............................................................................................
ঋণে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চাচ্ছে নির্মাতা কোম্পানি
.............................................................................................
সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হার কার্যকর করছে না অনেক ব্যাংক
.............................................................................................
বাংলাদেশের এপেক্স ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়: ফোর্বস
.............................................................................................
পোশাক শিল্পের বেতন পার্থক্য এখনও উদ্বেগজনক: সিপিডি
.............................................................................................
চাষের মাছে নীরব বিপ্লব স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ
.............................................................................................
শিল্প এলাকায় শনিবার ব্যাংক খোলা
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো বেশি তুলা আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ
.............................................................................................
কাজে আসেনি ১৭৪ কোটি টাকা
.............................................................................................
`বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের স্বর্ণ হেরফের হয়নি`
.............................................................................................
বাজারদর: পেঁয়াজ-কাঁচামরিচসহ মুরগীর দাম বাড়তি
.............................................................................................
`অর্থনৈতিক সাফল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে দুর্নীতিই বড় চ্যালেঞ্জ`
.............................................................................................
ভল্টের স্বর্ণে কোনো ধরনের হেরফের হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
.............................................................................................
ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে
.............................................................................................
রপ্তানিতে ভাল ভূমিকা রাখছে হ্যান্ডিক্রাফট
.............................................................................................
সংশোধিত লক্ষ্যও অর্জন করতে পারেনি এনবিআর
.............................................................................................
এডিপি বাস্তবায়ন ৯৩.৭১ শতাংশ
.............................................................................................
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের বৈঠক
.............................................................................................
বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ ১৬শ মিলিয়ন ডলার
.............................................................................................
কমলো স্বর্ণের দাম
.............................................................................................
ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
.............................................................................................
প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে: অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
মানহানির দুই মামলায় খালেদার জামিনের বিষয়ে আদেশ ৩১ মে
.............................................................................................
ব্যাংক হিসাব না থাকায় পৌনে ৬ কোটি লোক লেনদেন করেন নগদে
.............................................................................................
মজুতদাররা পণ্যের দাম দিগুণ করেছে: দিলীপ বড়ুয়া
.............................................................................................
রমজানের আগেই দাম বাড়ছে নিত্যপণ্যের
.............................................................................................
মানের প্রশ্নে পিছিয়ে পড়ছে হালকা প্রকৌশল শিল্প
.............................................................................................
রোজার মাসে পণ্যের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রীর
.............................................................................................
গ্রাহককে ১ টাকা ঠকাতে সহযোগী মোবাইল অপারেটররা
.............................................................................................
চিত্রনায়ক ফারুক’কে নোভা ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানীর আজীবন সম্মাননা প্রদান
.............................................................................................
যেকোন মূল্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট বসানো হবে: অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD