|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * তরুণ রাজনীতিবিদ ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ড. সাজ্জাদ হায়দারের জন্মদিন আজ   * টেংরাগিরি ও ফাতরার বন রক্ষীদের অরক্ষিত জীবন, নেই নৌযান ও সরঞ্জাম।   * ওয়েল্ডিং এর কাজ করার সময় ভবন থেকে পড়ে মিস্ত্রি আহত, হাসপাতালে মৃত্যু   * চকরিয়ায় মাছ ধরার জেলে সেজে ইয়াবার সর্ববৃহৎ চালান পুলিশের জালে জব্দ   * চাঁদপুরে ম্যাফের পক্ষ থেকে লিফলেট পানি ও স্যালাইন বিতরণ   * নওগাঁয় অবৈধ ৬ ইটভাটার ৯ লাখ টাকা জরিমানা   * তীব্র তাপদাহে পুড়ছে নওগাঁ ; বিপর্যস্ত অসহায় মানুষ   * জিটিভির কিউট নিবেদিত জনপ্রিয় গেম শো`তে "আজকের অনন্যা" বিজয়ীনি হলেন রাকাপপি।   * ফরিদপুরের চরভদ্রাসনেবিএনপি নেতার ইফতার সামগ্রী বিতরন   * সিরাজি খান রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  

   বাংলাদেশ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আমি নওশের আলী সাদ একজন টু`পয়েন্ট টেইলার্স এন্ড ফেব্রিক্স  এর ব্যবসায়ী। এটি ডেমরা আমুলিয়া অবস্তিত।২৬শে এপ্রিল ২০২৩ইং তারিখে দৈনিক বাংলার নবকন্ঠ, খবর প্রতিদিন ও ২৭শে এপ্রিল দৈনিক দেশ বাংলায় আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট  খবর প্রকাশ করেছে।এরা আমার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেনি।
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
                                  
আমি নওশের আলী সাদ একজন টু`পয়েন্ট টেইলার্স এন্ড ফেব্রিক্স  এর ব্যবসায়ী। এটি ডেমরা আমুলিয়া অবস্তিত।২৬শে এপ্রিল ২০২৩ইং তারিখে দৈনিক বাংলার নবকন্ঠ, খবর প্রতিদিন ও ২৭শে এপ্রিল দৈনিক দেশ বাংলায় আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট  খবর প্রকাশ করেছে।এরা আমার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেনি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
                                  
রিজার্ভ এর চুরি হয়নি তা পায়রা বন্দরে কাজে লাগানো হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী 
 
 মোঃ খোকন হাওলাদার,  পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ঃ 
 
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গনভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এসময় কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের পায়রার প্রথম টার্মিনাল প্রান্তে বক্তব্য রাখেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল ও পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান মো.সোহায়েল। এসময় পটুয়াখালী-২ আসনের সাংসদ আসম ফিরোজ, পটুয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ অধ্যক্ষ মজিব্বুর রহমান মহিব ও পটুয়াখালী-০৩ আসনের সাংসদ এসএম শাহাজাদা, সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান, নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজ, পৌরর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ,  উপজেলা চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা,  বরিশাল বিভাগের ডিআইজি মোঃ আখতারুজ্জামান ও কমিশনার সাইফুল ইসলাম সহ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার বিপিএম পিপিএম মোঃ সাইদুল ইসলাম  সহ বিদেশি কূটনীতিক  বৃন্দ ও পায়রা বন্দরের কর্মকর্তা - কর্মচারী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী যে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন সেগুলো হলো, রাবনাবাদ চ্যানেল ঠিক রাখার জন্য দেশের বৃহত্তম ড্রেজিং, প্রথম টার্মিনাল প্রকল্প ও ৮ টি জলযান। এছাড়া আন্ধারমানিক নদের উপর ১ দশমিক ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের সেতু ও ছয় লেনবিশিষ্ট সড়কের নির্মাণকাজের ভিত্তিফলক উন্মোচন করা হয়।
কুশিয়ারা সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় ২৫ লাখ মানুষ
                                  

কুশিয়ারার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্বপ্নের রানীগঞ্জ কুশিয়ারা সেতু। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সেতুটির নির্মাণকাজ। সেতুটিকে নিয়ে এখন আর স্বপ্ন নয়, বরং ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষায় আছেন সুনামগঞ্জের ২৫ লাখ মানুষ।
এ প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের ১৭টি সেতুর উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে সব থেকে বড় ও অন্যতম সেতু হলো সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ কুশিয়ারা সেতু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে জাঁকজমক করতে নেওয়া হচ্ছে নানা প্রস্তুতি।
আগামী ২৯ অক্টোবর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সিলেট বিভাগের সবচেয়ে দীর্ঘ এই সেতু। আড়াই কিলোমিটারের এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা। এ সেতু দিয়ে যানচলাচল করলে রাজধানীর সঙ্গে সুনামগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ২ ঘণ্টা কমবে। এতে দুর্ভোগ কমবে সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদ ঢাকার সঙ্গে সুনামগঞ্জের মানুষের যোগাযোগের সময় কমিয়ে আনার জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট হতে জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করেন। কিন্তু মহাসড়ক নির্মাণ করলেও ওই সময়ে কুশিয়ারা নদীর উপর রানীগঞ্জ সেতু নির্মাণ ও ফেরি কার্যক্রম শুরু সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় গেলে থমকে যায়, এসব উন্নয়ন কাজ।বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যু হলে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
এমএ মান্নান সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রয়াত নেতা আবদুস সামাদ আজাদের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন। জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ তথা সুনামগঞ্জের মানুষকে আশার আলো দেখাতে থাকেন। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর স্বপ্নের রানীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
অ্যাপ্রোচ সড়কসহ সেতুটির দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার হলেও মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৭০২.৩২ মিটার ও প্রস্থ ১০.২৫ মিটার। মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ কোটি টাকা। বাকি ব্যয় ধরা হয়েছে অ্যাপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজা, কালভার্ট ও স্থানীয় ইটাখলা নদীর উপর আরেকটি ছোট সেতু নির্মাণে।
শুধু তাই নয় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে জগন্নাথপুর তথা সুনামগঞ্জের দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে আরও ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডাবর-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণ ও ড্রেনেজসহ ২২ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ হয় এবং ডাবর থেকে জগন্নাথপুর অংশে পুরাতন ৮টি সেতু ভেঙে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ৮টি সেতু নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে ছাতক উপজেলার আরও ৯টি সেতুর কাজ এরই মধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর সুনামগঞ্জে মোট ১৭টি সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা জানায়, এই সেতু চালু হলে ঢাকার সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমে আসবে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ অর্থনীতিক দিক দিয়েও আরও চাঙা হবে।
জগন্নাথপুরের বাসিন্দা রনি মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, সুনামগঞ্জ জেলাবাসীকে সিলেট হয়ে রাজধানীতে যেতে হতো। এখন সেই যন্ত্রণা কমবে। শুধুমাত্র ৫২ কিলোমিটার দূরত্ব কমা নয়, যানজট ঠেলে রাজধানীতে যেতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগতো। এই ভোগান্তিও শেষ হবে ২৯ অক্টোবর।
জগন্নাথপুরের বাসিন্দা হায়দার আলী জাগো নিউজকে বলেন, এই সেতু উদ্বোধনের পর সুনামগঞ্জের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। মানুষ কম সময়ে ঢাকা যেতে পারবে। পাশাপাশি এই এলাকায় উৎপাদন হওয়া ধান, সবজিসহ বিভিন্ন কিছু ঢাকায় কম সময়ে পাঠানো যাবে।ৃ
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং জানান, আগামী ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাণীগঞ্জ কুশিয়ারা সেতুসহ সুনামগঞ্জে মোট ১৭ টি সেতুর উদ্বোধন করবেন। রাণীগঞ্জ কুশিয়ারা সেতু উদ্বোধনের পর সুনামগঞ্জ অর্থনীতিক দিক দিয়ে আরও চাঙা হবে।

এক সেতুতে ভোগান্তি কমলো লাখো মানুষের
                                  

তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু
একটি সেতুর জন্য অনেক কষ্ট করেছি। বিশেষ করে রোগী নিয়ে যাতায়াত করার সময় অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এখন আর সেই দুর্ভোগ থাকবে না। সহজেই নদী পার হতে পারবো। সেতুটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমান। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। জীবীকার তাগিদে তাকে প্রতিদিনই নদী পার হতে ভোগান্তিতে পড়তে হতো। নারায়ণগঞ্জের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু তথা নাসিম ওসমান সেতু হওয়াতে তিনি অনেক খুশি।
সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর দুপাড়ের ৪ লাখ বাসিন্দা আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন।
রাজমিস্ত্রি বজলুর রহমান বলেন, নদী পারাপার হতে গিয়ে কত মানুষ মারা গেছে। ট্রলার দিয়ে গাদাগাদি করে নদী পার হতে হতো। প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হই। শঙ্কায় থাকি পানিতে ডুবে মারা যায় কি-না। এখন থেকে আর কোনো শঙ্কা থাকবে না।’
একইভাবে মদনগঞ্জ এলাকার আরেক বাসিন্দা আলী নুর বলেন, ‘প্রতিদিন দীর্ঘ ভোগান্তি নিয়ে নদী পার হতে হতো। এখন থেকে আমাদের আর কোনো ভোগান্তি থাকবে না। বিশেষ করে অসুস্থ কাউকে নিয়ে নদী পার হতে হলে ভোগান্তির যেন কোনো শেষ থাকতো না। এখন সহজেই নদী পার হওয়া যাবে।’
ইউনুস নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘প্রতিদিন বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে সবজি বিক্রি করি। আর এ সবজি নিয়ে যাওয়ার সময়ে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দিগুণ ভাড়া গুণতে হয়। যার কারণে তেমন লাভবান হওয়া যেত না। এখন ভাড়ার পরিমাণটা কমে যাবে। একই সঙ্গে আমাদের লাভের পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ১২৩৪ দশমিক ৫০ মিটার দীর্ঘ ছয় লেন বিশিষ্ট সেতুতে স্থানীয় ধীরগতির যান চলাচলের জন্য দুটি লেন রাখা হয়েছে। সেতুর দুপাশের রেলিং ঘেঁষে রয়েছে ফুটপাত। হেঁটেও পাড়ি দেওয়া যাবে এ সেতু। অবকাঠামো নির্মাণ শেষে সেতু খুলে দিতে এখন চলছে অ্যাপ্রোচ সড়ক ও খুঁটিনাটি কাজ। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৬০৮.৫৬ কোটি টাকা। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দ্রুত শহরে পৌঁছাতে পারবেন এ সেতুর মাধ্যমে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহন সেতুটি ব্যবহার করে দ্রুত সময়ে যেতে পারবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ফলে চাপ কমে আসবে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এবং আদমজী সড়কের ওপর। শুধু তাই নয়, এই ব্রিজের কারণে নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে মুন্সিগঞ্জের সাথে বাণিজ্য আরও সহজ হয়ে উঠবে।

ফের বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে গোলা নিক্ষেপ
                                  

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নতুন করে আরও দুটি গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় গোলা দুটি পড়ে। এর আগে গত সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবারও মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম আজ দুটি গোলা বাংলদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান এবং দুটি ফাইটিং হেলিকপ্টার টহল দেয়। যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় ৮-১০টি গোলা ছোড়া হয় আর হেলিকপ্টার থেকেও ৩০-৩৫টি গুলি করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের সীমানা পিলার ৪০-এর ১২০ মিটার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা এসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্ত পিলার ৩৪-৩৫ এর মাঝামাঝি মিয়ানমার অংশের একটি ক্যাম্প থেকে চার রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গুলি করা হয়। এখনো (শনিবার দুপুর) মিয়ানমারের মুরিঙ্গাঝিরি ক্যাম্প ও তুমব্রু রাইট ক্যাম্প থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, তমব্রু সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোববার দুটি এবং বৃহস্পতিবার একটি মর্টারশেল এসে পড়েছে। আজ আবার গোলা এসে পড়ল। এতে সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, নাইক্ষ্যৎছ‌ড়ির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় আছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা দুটি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তমব্রু উত্তর মসজিদের কাছে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।

বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শুরু
                                  

এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশের আয়োজনে ‘বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শুরু হয়েছে। শনিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশন ও বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে।
এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবুর সঞ্চালনায় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ ও নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
এছাড়াও আরও উপস্থিত আছেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, এডিটর্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক  বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

চট্টগ্রামে ডায়রিয়া রোগীদের শরীরে কলেরার জীবাণু
                                  

চট্টগ্রামে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী। আক্রান্তদের অনেকের শরীরে মিলেছে কলেরার জীবাণু। চিকিৎসকদের ধারণা, চট্টগ্রাম ওয়াসার পানিতে থাকতে পারে কলেরার জীবাণু। তবে রোগের উৎপত্তির বিষয়ে নিশ্চিত হতে গবেষণা শুরু করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি থেকে এ রোগ ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে এসেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি দল। সাত সদস্যের এ দল শনিবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে ওয়াসাসহ বিভিন্ন খাবার পানির নমুনা সংগ্রহ করবেন।
বিআইটিআইডি হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই হাসপাতালে ৪০ জন ডায়রিয়া রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া গত পাঁচ দিনে (সোমবার থেকে শুক্রবার ৮টা পর্যন্ত) হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৩৪ জন। এর মধ্যে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছেন ৪০ জন। বুধবার ভর্তি হয়েছেন ৬৯ জন। মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছেন ৫৫ জন ও সোমবার ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন।
বিআইটিআইডি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে ২০ থেকে ২২ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন। আমরা দেখছি তারা শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নন, অনেকে কলেরার জীবাণু বহন করছেন। সোমবার ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় সাত জনের কলেরা শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার ১৮ জনের নমুনায় ১০ জনের কলেরা শনাক্ত হয়। বুধবার ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এখনও তাদের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।’
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বাংলা ‘হঠাৎ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। বিআইটিআইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশিরভাগ ডায়রিয়া রোগী চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দা। এর মধ্যে বেশি রোগী রয়েছেন নগরীর ফ্রি-পোর্ট, ইপিজেড, পতেঙ্গা, হালিশহর ও উত্তর আগ্রাবাদ এলাকার। আক্রান্তদের অনেকের শরীরে কলেরার জীবাণু পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আক্রান্তরা বলেছেন, তারা ওয়াসার পানি পান করেন। ওয়াসার পানি থেকে এ রোগ ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি টিম চট্টগ্রামে এসেছে। শনিবার থেকে তিন দিন পানির নমুনা সংগ্রহ করবে ওই টিম। ওয়াসার পানির নমুনা পরীক্ষার পর এর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া বাংলা  ‘আইইডিসিআর’র সাত সদস্যের টিম শুক্রবার চট্টগ্রাম এসেছেন। তারা প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। শনিবার থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করবেন। সাত সদস্যের টিমে আছেন ডা. মো. ওমর ফারুক, ডা. সোনাম বড়ুয়া, ডা. ইমামুল মুনতাসির, ডা. সাদিয়া আফরীন, ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আজিজুর রহমান ও মো. আমিরুল ইসলাম।
টিমের সদস্য ডা. সোনাম বড়ুয়া বাংলা  ‘শুক্রবার আমরা চট্টগ্রাম এসেছি। শনিবার থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করবো। এরপর আইইডিসিআর’র ল্যাবে পরীক্ষা করার পর ডায়রিয়ার কারণ জানা যাবে। নমুনা সংগ্রহ করতে কতদিন সময় লাগে তা এখন বলা যাচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর আমার ঢাকায় ফিরে যাবো। পরে ফল জানাবো।’
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বাংলা  ‘ডায়রিয়া আক্রান্তের জন্য ওয়াসার পানি দায়ী নয়। অন্য কোনও কারণে আক্রান্ত হতে পারে তারা। নগরীর কিছু এলাকার লোকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জেনে আমরা ওয়াসার সব পাইপলাইন ঠিক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখেছি। আমাদের পাইপলাইনের কিংবা পানির কোনও সমস্যা নেই। পানির মান ঠিক আছে। আমরা পানি পরীক্ষা করে দেখেছি। পানিতে কোনও জীবাণু পাওয়া যায়নি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা টিউবওয়েলের কিংবা ড্রামভর্তি পানি কিনে পান করেন। বলা যায়, আক্রান্তদের অধিকাংশই ওয়াসার পানির সংযোগের নেটওয়ার্কের বাইরের বাসিন্দা।’

১৪৮ কৃত্রিম চোখে নজরদারি
                                  

 জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের বসার আসনের সামনেই বড় মনিটর। দাপ্তরিক কাজ সারতে সারতে সেদিকে চোখ রাখছিলেন তিনি।
এক স্ক্রিনেই ভেসে উঠছিল ৩০–৪০টা দপ্তরের দৃশ্য। সন্দেহ হলে ভলিউম বড় করে শুনেও নেওয়া যায়। দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে এমন অত্যাধুনিক সব সিসিটিভি ক্যামেরা। যে ক্যামেরাগুলোতে অডিও ভিডিও দুটিই রেকর্ড হয়। যার ফুটেজও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন।  
দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সেখানে অডিওসহ রেকর্ড করা হয়। ঘুষ, দালাল, দুর্নীতিমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আওতাধীন সকল অফিসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নেজারত শাখা, আইসিটি শাখা, পেনশন ও কল্যাণ শাখা, আগ্নেয়াস্ত্র শাখা, প্রবাসী কল্যাণ শাখা, এস এ শাখা, ফরমস ও স্টেশনারি শাখা, গোপনীয় শাখা, ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা, জে এম শাখা শাখা, ভিপি শাখা, জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা, জেলা ই-সেবা কেন্দ্র, ট্রেজারী শাখা, তথ্য ও অভিযোগ শাখা, ভূমি অধিগ্রহণ (১), ভূমি অধিগ্রহণ (২) ও ভূমি অধিগ্রহণ (৩) শাখা, রেভিনিউ মুন্সিখানা (আর এম), লাইব্রেরি ও শিক্ষা শাখায় স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এছাড়াও ভূমি অফিসে যেন দালাল চক্র সক্রিয় হতে না পারে সেজন্য প্রতিটি টেবিলে স্থাপন করা হয়েছে ইন্টারকম টেলিফোন। পাশাপাশি ভূমি অফিসের সামনের ঝাউবাগান পরিষ্কার করে সেখানে সেবাপ্রার্থীদের অপেক্ষার জায়গা করা হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, একজন সেবাপ্রার্থী হেল্পডেস্কে কথা বলছেন। ওই সেবা প্রার্থী ভূমি অফিসের নাজিরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে হেল্পডেস্কের দায়িত্বে থাকা মো. মহিউদ্দিন ইন্টারকমে নাজিরের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি সেবাপ্রার্থীর নাম এন্ট্রি করে তাকে নাজিরের রুম দেখিয়ে দেন।
হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রায়হান বাংলানিউজকে বলেন, এখন আর উপজেলা ভূমি অফিসকে কেউ দুর্নীতির আখড়া বলতে পারবে না। সেবা প্রত্যাশী ছাড়া অন্য কেউ ভূমি অফিসে ঢুকতে পারবে না। ফলে এ অফিসে দালালরা আর সক্রিয় হয়ে উঠতে পারবে না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের আওতাধীন সকল অফিসসমূহ দুর্নীতিমুক্ত রাখতে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ১৯৩ জন দুর্নীতিবাজ ওমেদার ও অস্থায়ী কর্মচারীকে ভূমি অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাদের তালিকা ভূমি অফিসগুলোতে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০৮টি সরকারি অফিস যথাক্রমে ভূমি অফিস, তহশিল অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে ৭১৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ভূমি অফিস ও নগরের  কাট্টলী, চান্দগাঁও, সদর, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ ও বাকলিয়া সার্কেলসহ ৬টি ভূমি অফিস ৯৬টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। উপজেলা ও নগরে মোট ২১টি ভূমি অফিসের আওতাধীন ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে ৭৬টি। সেখানেও লাগানো হয়েছে অত্যাধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।
নগরের কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান যোগদানের পর থেকে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের আওতাধীন সকল অফিস দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় নিয়ে এসেছেন। নগরের প্রতিটি ভূমি অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আম রপ্তানিমুখী না হলে বাড়বে সংকট
                                  

ধানের জেলা নওগাঁ এখন আমের নতুন রাজধানী। এখানকার তিন ফসলি ধানি জমিতে গড়ে উঠছে বাণিজ্যিক আমবাগান। লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে আমের চাষ। কেবল নওগাঁ নয়, বাণিজ্যিক আমবাগান ছড়িয়েছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোরেও।
কৃষি দপ্তরের হিসাবে, এক যুগের ব্যবধানে আমবাগান এবং ফলন দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে রাজশাহী অঞ্চলে। কিন্তু সেই অর্থে বাড়েনি বাজার। ফলে ভরা মৌসুমে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষি-বাগান মালিকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম এখন রপ্তানিমুখী করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে বাড়তি সুবিধা দেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষিরসাপাতি এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবঞ্জের ফজলির জিআই স্বীকৃতি। আম রপ্তানিমুখি না করা গেলে অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে এমন শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১১-১২ মৌসুমে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট আমবাগান ছিল ৪২ হাজার ৪১৭ হেক্টর। চলতি মৌসুমে এই চার জেলায় আমবাগান দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৮৯৪ হেক্টরে। সেই হিসেবে গত এক যুগে এই অঞ্চলে আমবাগান বেড়েছে ৪৮ হাজার ৪৭৭ হেক্টর।
অন্যদিকে ২০১১-১২ মৌসুমে এই চার জেলায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ টন আম উৎপাদন হয়েছে। চলতি মৌসুমে আম উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯১৩ টন। এই চার জেলায় গত এক যুগে আম উৎপাদন বেড়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪০ টন।
আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের হিসেবে, ২০১১-১২ মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৩ হাজার ২৮০, রাজশাহীতে ৮ হাজার ৯৮৬ , নওগাঁয় ৭ হাজার ৮০১ এবং নাটোরে ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। আর চলতি মৌসুমে আমবাগান দাঁড়িয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ১৬৫, নওগাঁয় ২৯ হাজার ৪৭৫, রাজশাহীতে ১৮ হাজার ৫১৬ এবং নাটোরে ৫ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিকাংশ আমবাগান শতবর্ষী। এখানে সনাতন আমের জাতের আবাদ বেশি হয়। কিন্তু নওগাঁর আমবাগানগুলো নতুন ও উচ্চফলনশীল জাতের। পুরো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই এসব বাগান তৈরি করা হয়েছে। ফলে নওগাঁয় গড় ফলন বেশি হচ্ছে। এ কারণে বাড়তি মুনাফা পাচ্ছেন নওগাঁর কৃষক। আমের রাজ্যে তাই নওগাঁর উত্থান দ্রুতই।
আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের হসোবে, চলতি মৌসুমে নওগাঁ থেকে ৭৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ২৫ এবং রাজশাহী থেকে ২১ টন আম রপ্তানি হয়েছে। যা মোট উৎপাদিত আমের সামান্য একটি অংশ।
সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে সেইভাবে আম রপ্তানি করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর চুক্তিভিত্তিক আমচাষি শফিকুল হক ছানা। ২০১৫ সাল থেকে আম রপ্তানি করে আসছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এই চাষি।
শফিকুল হক ছানা বলেন, আমাদের আম সুস্বাদু। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই আমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু রপ্তানির উদ্দেশ্যে এখান থেকে আম ঢাকায় কোয়ারেন্টাইনে নিতে হয়। সেখান থেকে প্যাকিং হাউসে নিতে হয় আরেক জায়গায়। এরপর আম যায় বিমানবন্দরে। এটি একটি লম্বা প্রক্রিয়া। এতে খরচ বেড়ে যায়। আমও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় আমরা টিকতে পারছি না।
কৃষকের কাছাকাছি সমন্বিত প্যাকিং হাউস গড়ে ওঠা দরকার বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পর সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে আম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় বাণিজ্যিক আমবাগানে উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদন হচ্ছে। এই আম পুরোপুরি রপ্তানি করা সম্ভব।
এখন প্রয়োজন সমন্বিত প্যাকিং হাউস। যেসব এলাকায় আম উৎপাদন হয়, সেখানে সমন্বিত প্যাকিং হাউস গড়ে ‍ওঠা দরকার। যাতে সরাসরি কৃষক নিজেদের উৎপাদিত আম সেখানে নিয়ে যেতে পারেন।
আম উৎপাদন এলাকায় সমন্বিত প্যাকিং হাউসের পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইন সুবিধা থাকাও জরুরি বলে জানিয়েছেন রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির সভাপতি আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের দিকে বাগন থেকে প্যাকেটজাত হয়ে আম সোজা ঢাকায় বিমানবন্দর যেত। সেখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে আম। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে বিড়ম্বনা শুরু।
বাগান থেকে ঢাকায় কোয়ারেন্টাইন স্টেশন-প্যাকিং হাউসে নিতে গিয়ে অনেক আম নাড়াচাড়ায় নষ্ট হয়ে যায়। আবার পরিবহন ব্যয় বাড়ে। সবমিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয় আমাদের।
তিনি যোগ করেন, দেশের আমের জোন রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সরাসরি বাগান থেকে আম রপ্তানির উদ্দেশ্যে কোয়ারেন্টইন সুবিধাসহ সমন্বিত প্যাকিং হাউস নির্মাণ করা দরকার। তাহলে এই অঞ্চলের আমচাষিরা এখান থেকেই রপ্তানি সুবিধা পাবেন।
জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই রাজশাহীতে এসেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি স্থানীয় আম রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মন্ত্রী রাজশাহীতে সমন্বিত ওয়ারহাউস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। এর আগে গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে এসে এই অঞ্চলে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রতিশ্রিুতি দিয়ে যান মন্ত্রী।
তবে তার আগেেই রাজশাহী অঞ্চলে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায় এবং রাজশাহীর পবায় আলাদা প্ল্যান্ট স্থাপনের কথা। এর মধ্যে রাজশাহীর পবায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি স্থাপন করবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্য মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এখন প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি।
    বিএমডিএর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, তারা যে প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি ঘণ্টায় ৩ হাজার কেজি ধরে দৈনিক প্রায় ৫০ টন আম প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। মৌসুমের প্রায় ৫ হাজার টন আম প্রক্রিয়াজাত করা যাবে এখানে। যার রপ্তানি মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার ওপরে। কেবল আম প্রক্রিয়াজাত করেই প্ল্যান্ট থেকে মৌসুমে আয় হবে অন্তত কোটি টাকা। আম ছাড়াও রপ্তানির উদ্দেশ্যে শাক-সবজিও প্রক্রিয়াজাত করা যাবে এই প্ল্যান্টে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞ এই অঞ্চলের অর্থনীতির গতি পাল্টে দেবে।
সূত্রটি আরও জানাচ্ছে,  রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে রাজশাহী বিমানবন্দর সংলগ্ন তকিপুর মৌজায় এই প্ল্যান্ট স্থাপনের কথা। এজন্য ৬০ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে। রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো সুবিধা চালু হলে এখান থেকে সহজেই রপ্তানি করা যাবে আমসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য।
এই প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করছেন বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটি একটি সমন্বিত প্ল্যান্ট। একইসঙ্গে এটি আধুনিক ও সয়ংক্রিয়। আম সংগ্রহের পর প্রথম ধাপে পরিপক্বতা যাচাই করা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন করা হবে বোটা। পরের ধাপে আকার অনুযায়ী বাছাই। এরপর ধৌতকরণ। এর পরের ধাপে গরম পানির ধারায় রোগ-জীবাণুমুক্তকরণ করার পর ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট করা য়। এই ধাপেরই কোয়ারেন্টাইন জীবাণুমুক্তকরণ হবে। লেবেলিং বা মোড়ানোর পর চলে যাবে প্যাকেটজাতকরণে। প্রি-কুলিংয়ের পর আম যাবে অস্থায়ী গুদামে। সেখান থেকেই রপ্তানির উদ্দেশে বেরিয়ে যাবে আম।   
এটি সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের সদ্য সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আছে। আপাতত আমরা হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করে আম বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে থাকি।
    কিন্তু ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা আমের প্রচুর চাহিদা জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। রাজশাহীতে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হলে এসব দেশে আম রপ্তানির সুযোগ মিলবে। কৃষকরা আমের ভালো দাম পাবেন।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষিরসাপাতি এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। উত্তম ব্যবস্থাপনায় চাষ করা গেলে ফজলি-ক্ষিরসাপাতি রপ্তানিতে কৃষক বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন। হাতের কাছে রপ্তানি সুবিধা পেলে লাভবান হতে পারেন চাষি ও রপ্তানিকারকরা।  
ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন বিষয়ে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, রাজশাহী বিএমডিএর আওতাধীন এলাকা হওয়ায় বিএমডিএকে এই অঞ্চলে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন কৃষিমন্ত্রী। পরে বিএমডিএ এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প দাখিল করে।
এই প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে বিশেষ সুবিধা পাবেন এখানকার আমচাষি এবং রপ্তানিকারকরা। পাশাপাশি এই প্রকল্পের সফলতা দেখে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও এগিয়ে আসবেন অনেকে।  
এই অঞ্চলে আম উৎপাদন ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খানের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, খরাপ্রবণ রাজশাহী অঞ্চলে সেচের পানির ঘাটতি আছে। কজেই পানি সাশ্রয়ী আমবাগানে ঝুঁকছেন চাষিরা। এই কারণে প্রতি বছরই বাড়ছে আমবাগান এবং আম উৎপাদন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরে আমের বিপণন প্রক্রিয়া আধুনিক করা দরকার। তাছাড়া দেশের বাইরেও বাজার খোঁজা জরুরি। সরকারের এখানে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। রপ্তানি প্রক্রিয়াটা আরও সহজ করা যেতে পারে।

ডিজেলের দামে কুষ্টিয়ায় চালের বাজারে আগুন
                                  

ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির মারাত্মক প্রভাব পড়েছে কুষ্টিয়ার চালের বাজারে। চালের দাম যেন আকাশ ছুঁতে চলেছে। কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ৪ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে। চালের এই দাম বৃদ্ধির লাগাম যেন কিছুতেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন সামনে চালের দাম আরো বৃদ্ধি পাবে।
দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধির কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। শুধু চাল নয়, কুষ্টিয়ার বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাঁচামরিচ, সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্যের দাম। এর মধ্যে ২৭০ টাকা খাঁচি (৩০ পিচ) ডিমের দাম বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকা। বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও।
চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে গিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী ও একাধিক মিলারের সঙ্গে কথা হয়। তাদের দাবি মূলত তিনটি কারণে চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমত সরকার ডিজেলের মূল্য এক লাফে লিটার প্রতি ৩৪ টাকা বৃদ্ধি করায় পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। যে কারণে ব্যবসায়ীদের চালের দাম বাড়াতে হচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন বাজারে ধানের দাম চড়া, সেই সঙ্গে সংকটও রয়েছে। ধান পাওয়া গেলেও দাম বেশি। ধানের দাম চড়া হওয়ায় চালের দামেও প্রভাব পড়ছে। তৃতীয় কারণ সরকার চাল আমদানির সুযোগ দিলেও সেখানে ২৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অতিরিক্ত এই ভ্যাট আরোপের কারণে ব্যবসায়ীরা কেউ চাল আমদানি করতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না।
কুষ্টিয়ার খাজানগরের গোল্ডেন অটো রাইচ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুজ্জামান জিকু বলেন, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ট্রাক প্রতি পরিবহন খরচ ধান ও চাল উভয় ক্ষেত্রেই কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বেড়েছে। এছাড়াও লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, চালের দামের লাগাম যদি এখনই টেনে না ধরা যায় তাহলে সামনে আমাদের হয়তো আরো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।
তিনি চালের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারকে দুটি পরামর্শ দিয়েছেন। বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে মজুতকৃত প্রায় ১৫শ লাখ মেট্রিক টন চাল এই মুহূর্তে বাজারে ছেড়ে দেওয়া এবং চাল আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। এছাড়াও কঠোর বাজার মনিটরিং করার দাবি জানান চালকল মালিক সমিতির এই নেতা।
কুষ্টিয়ার খাজানগরকে বলা হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম। আর বিশেষ করে চিকন বা সরু (মিনিকেট) চালের জন্য প্রসিদ্ধ এবং সর্ববৃহৎ মোকাম এটি। ছোট বড় মিলিয়ে এখানে প্রায় ২শ থেকে ২৫০ ট্রাক লোড হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বাজারে চাল সরবরাহ করে থাকে। যে কারণে কুষ্টিয়ায় ধান-চালের দাম বৃদ্ধির প্রভাব গিয়ে পড়ে গোটা দেশের ওপর।
ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির দুদিন পর থেকেই কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ৪ থেকে ৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৪ টাকা, কাজললতা আর আঠাশ চাল কেজি প্রতি ৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে কুষ্টিয়ার বাজারে অটোমিলের মিনিকেট চাল ৭০ টাকা, সাধারণ মিনিকেট ৬৮ টাকা, কাজললতা ৬০ টাকা, সাধারণ কাজললতা ৫৮ টাকা, অটোমিলের বাসমতি চাল ৮২ টাকা, সাধারণ বাসমতি ৭৮ টাকা, আঠাশ চাল ৫৫ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহামুদ জানান, প্রকৃতপক্ষে ভারত, বাংলাদেশ কোথাও মিনিকেট নামে কোনো ভেরিয়েন্ট নেই। তবে বর্তমানে বিরিধান ৬৩, বিরি ৮১ সহ চিকন যে সমস্ত ধানের জাত রয়েছে আমাদের দেশের কৃষকরা সেই ধানগুলো মিনিকেট ধান হিসেবে আবাদ করছেন এবং এই ধানগুলোই বাজারে মিনিকেট ধান হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। কুষ্টিয়ার বাজারে মিনিকেট ধান বর্তমানে ১৭৫০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কুষ্টিয়ায় জেলাতেও বোরো মৌসুমে সামান্য কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে মিনিকেট ধানের আবাদ হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশে চিকন বা মিনিকেট ধানের যে আবাদ হয় তা সারা দেশের মিনিকেট চালের প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ২৫ ভাগের মতো।


   Page 1 of 1
     বাংলাদেশ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
.............................................................................................
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
কুশিয়ারা সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় ২৫ লাখ মানুষ
.............................................................................................
এক সেতুতে ভোগান্তি কমলো লাখো মানুষের
.............................................................................................
ফের বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে গোলা নিক্ষেপ
.............................................................................................
বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শুরু
.............................................................................................
চট্টগ্রামে ডায়রিয়া রোগীদের শরীরে কলেরার জীবাণু
.............................................................................................
১৪৮ কৃত্রিম চোখে নজরদারি
.............................................................................................
আম রপ্তানিমুখী না হলে বাড়বে সংকট
.............................................................................................
ডিজেলের দামে কুষ্টিয়ায় চালের বাজারে আগুন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রকাশক: রিনা বেগম
প্রধান সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান
প্রকাশক কতৃক ৫১/৫১ এ পুরানা পল্টন থেকে প্রকাশিত । সোনালী প্রিন্টিং প্রেস ২/১/এ ইডেন ভবন ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৫১/৫১ এ পুরানা পল্টন (৪র্থ তলা) , ঢাকা - ১০০০।
ফোন: ০২২২৩৩৮০৮৭২ , মোবাইল: ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale