|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র   * যানজট নিরসনে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ ডিএনসিসির   * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী   * শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে দারিদ্র্য বড় বাধা: প্রধানমন্ত্রী   * জ্বালানি তেল-সারের মূল্য বাড়ায় কমতে পারে ধানের উৎপাদন   * মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ   * বিশ্বে দুর্ভিক্ষের মুখে সাড়ে ৩৪ কোটিরও বেশি মানুষ : জাতিসংঘ   * শিক্ষায় বেড়েছে সংখ্যা, মান বাড়েনি ৫০ বছরেও   * বিশ্ববাজারে অর্ধেকে নেমেছে পাম তেলের দাম, কমছে না দেশে   * নজরদারিতে আসছে মাছ ধরার নৌযান, ডিভাইস জানাবে জেলেদের অবস্থান  

   বাংলাদেশ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ফের বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে গোলা নিক্ষেপ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নতুন করে আরও দুটি গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় গোলা দুটি পড়ে। এর আগে গত সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবারও মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম আজ দুটি গোলা বাংলদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান এবং দুটি ফাইটিং হেলিকপ্টার টহল দেয়। যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় ৮-১০টি গোলা ছোড়া হয় আর হেলিকপ্টার থেকেও ৩০-৩৫টি গুলি করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের সীমানা পিলার ৪০-এর ১২০ মিটার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা এসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্ত পিলার ৩৪-৩৫ এর মাঝামাঝি মিয়ানমার অংশের একটি ক্যাম্প থেকে চার রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গুলি করা হয়। এখনো (শনিবার দুপুর) মিয়ানমারের মুরিঙ্গাঝিরি ক্যাম্প ও তুমব্রু রাইট ক্যাম্প থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, তমব্রু সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোববার দুটি এবং বৃহস্পতিবার একটি মর্টারশেল এসে পড়েছে। আজ আবার গোলা এসে পড়ল। এতে সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, নাইক্ষ্যৎছ‌ড়ির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় আছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা দুটি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তমব্রু উত্তর মসজিদের কাছে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।

ফের বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে গোলা নিক্ষেপ
                                  

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নতুন করে আরও দুটি গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় গোলা দুটি পড়ে। এর আগে গত সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবারও মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল এসে পড়ে বাংলাদেশে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তারিকুল ইসলাম আজ দুটি গোলা বাংলদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের কাছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমান এবং দুটি ফাইটিং হেলিকপ্টার টহল দেয়। যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় ৮-১০টি গোলা ছোড়া হয় আর হেলিকপ্টার থেকেও ৩০-৩৫টি গুলি করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের সীমানা পিলার ৪০-এর ১২০ মিটার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা এসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্ত পিলার ৩৪-৩৫ এর মাঝামাঝি মিয়ানমার অংশের একটি ক্যাম্প থেকে চার রাউন্ড ভারী অস্ত্রের গুলি করা হয়। এখনো (শনিবার দুপুর) মিয়ানমারের মুরিঙ্গাঝিরি ক্যাম্প ও তুমব্রু রাইট ক্যাম্প থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, তমব্রু সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোববার দুটি এবং বৃহস্পতিবার একটি মর্টারশেল এসে পড়েছে। আজ আবার গোলা এসে পড়ল। এতে সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, নাইক্ষ্যৎছ‌ড়ির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় আছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা দুটি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তমব্রু উত্তর মসজিদের কাছে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।

বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শুরু
                                  

এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশের আয়োজনে ‘বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শুরু হয়েছে। শনিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশন ও বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে।
এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবুর সঞ্চালনায় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ ও নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
এছাড়াও আরও উপস্থিত আছেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, এডিটর্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক  বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

চট্টগ্রামে ডায়রিয়া রোগীদের শরীরে কলেরার জীবাণু
                                  

চট্টগ্রামে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী। আক্রান্তদের অনেকের শরীরে মিলেছে কলেরার জীবাণু। চিকিৎসকদের ধারণা, চট্টগ্রাম ওয়াসার পানিতে থাকতে পারে কলেরার জীবাণু। তবে রোগের উৎপত্তির বিষয়ে নিশ্চিত হতে গবেষণা শুরু করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি থেকে এ রোগ ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে এসেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি দল। সাত সদস্যের এ দল শনিবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে ওয়াসাসহ বিভিন্ন খাবার পানির নমুনা সংগ্রহ করবেন।
বিআইটিআইডি হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই হাসপাতালে ৪০ জন ডায়রিয়া রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া গত পাঁচ দিনে (সোমবার থেকে শুক্রবার ৮টা পর্যন্ত) হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৩৪ জন। এর মধ্যে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছেন ৪০ জন। বুধবার ভর্তি হয়েছেন ৬৯ জন। মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছেন ৫৫ জন ও সোমবার ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন।
বিআইটিআইডি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে ২০ থেকে ২২ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন। আমরা দেখছি তারা শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নন, অনেকে কলেরার জীবাণু বহন করছেন। সোমবার ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় সাত জনের কলেরা শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার ১৮ জনের নমুনায় ১০ জনের কলেরা শনাক্ত হয়। বুধবার ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এখনও তাদের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।’
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বাংলা ‘হঠাৎ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। বিআইটিআইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশিরভাগ ডায়রিয়া রোগী চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দা। এর মধ্যে বেশি রোগী রয়েছেন নগরীর ফ্রি-পোর্ট, ইপিজেড, পতেঙ্গা, হালিশহর ও উত্তর আগ্রাবাদ এলাকার। আক্রান্তদের অনেকের শরীরে কলেরার জীবাণু পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আক্রান্তরা বলেছেন, তারা ওয়াসার পানি পান করেন। ওয়াসার পানি থেকে এ রোগ ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি টিম চট্টগ্রামে এসেছে। শনিবার থেকে তিন দিন পানির নমুনা সংগ্রহ করবে ওই টিম। ওয়াসার পানির নমুনা পরীক্ষার পর এর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া বাংলা  ‘আইইডিসিআর’র সাত সদস্যের টিম শুক্রবার চট্টগ্রাম এসেছেন। তারা প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। শনিবার থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করবেন। সাত সদস্যের টিমে আছেন ডা. মো. ওমর ফারুক, ডা. সোনাম বড়ুয়া, ডা. ইমামুল মুনতাসির, ডা. সাদিয়া আফরীন, ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আজিজুর রহমান ও মো. আমিরুল ইসলাম।
টিমের সদস্য ডা. সোনাম বড়ুয়া বাংলা  ‘শুক্রবার আমরা চট্টগ্রাম এসেছি। শনিবার থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করবো। এরপর আইইডিসিআর’র ল্যাবে পরীক্ষা করার পর ডায়রিয়ার কারণ জানা যাবে। নমুনা সংগ্রহ করতে কতদিন সময় লাগে তা এখন বলা যাচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর আমার ঢাকায় ফিরে যাবো। পরে ফল জানাবো।’
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বাংলা  ‘ডায়রিয়া আক্রান্তের জন্য ওয়াসার পানি দায়ী নয়। অন্য কোনও কারণে আক্রান্ত হতে পারে তারা। নগরীর কিছু এলাকার লোকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জেনে আমরা ওয়াসার সব পাইপলাইন ঠিক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখেছি। আমাদের পাইপলাইনের কিংবা পানির কোনও সমস্যা নেই। পানির মান ঠিক আছে। আমরা পানি পরীক্ষা করে দেখেছি। পানিতে কোনও জীবাণু পাওয়া যায়নি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা টিউবওয়েলের কিংবা ড্রামভর্তি পানি কিনে পান করেন। বলা যায়, আক্রান্তদের অধিকাংশই ওয়াসার পানির সংযোগের নেটওয়ার্কের বাইরের বাসিন্দা।’

১৪৮ কৃত্রিম চোখে নজরদারি
                                  

 জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের বসার আসনের সামনেই বড় মনিটর। দাপ্তরিক কাজ সারতে সারতে সেদিকে চোখ রাখছিলেন তিনি।
এক স্ক্রিনেই ভেসে উঠছিল ৩০–৪০টা দপ্তরের দৃশ্য। সন্দেহ হলে ভলিউম বড় করে শুনেও নেওয়া যায়। দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে এমন অত্যাধুনিক সব সিসিটিভি ক্যামেরা। যে ক্যামেরাগুলোতে অডিও ভিডিও দুটিই রেকর্ড হয়। যার ফুটেজও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন।  
দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সেখানে অডিওসহ রেকর্ড করা হয়। ঘুষ, দালাল, দুর্নীতিমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আওতাধীন সকল অফিসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নেজারত শাখা, আইসিটি শাখা, পেনশন ও কল্যাণ শাখা, আগ্নেয়াস্ত্র শাখা, প্রবাসী কল্যাণ শাখা, এস এ শাখা, ফরমস ও স্টেশনারি শাখা, গোপনীয় শাখা, ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা, জে এম শাখা শাখা, ভিপি শাখা, জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা, জেলা ই-সেবা কেন্দ্র, ট্রেজারী শাখা, তথ্য ও অভিযোগ শাখা, ভূমি অধিগ্রহণ (১), ভূমি অধিগ্রহণ (২) ও ভূমি অধিগ্রহণ (৩) শাখা, রেভিনিউ মুন্সিখানা (আর এম), লাইব্রেরি ও শিক্ষা শাখায় স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এছাড়াও ভূমি অফিসে যেন দালাল চক্র সক্রিয় হতে না পারে সেজন্য প্রতিটি টেবিলে স্থাপন করা হয়েছে ইন্টারকম টেলিফোন। পাশাপাশি ভূমি অফিসের সামনের ঝাউবাগান পরিষ্কার করে সেখানে সেবাপ্রার্থীদের অপেক্ষার জায়গা করা হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, একজন সেবাপ্রার্থী হেল্পডেস্কে কথা বলছেন। ওই সেবা প্রার্থী ভূমি অফিসের নাজিরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে হেল্পডেস্কের দায়িত্বে থাকা মো. মহিউদ্দিন ইন্টারকমে নাজিরের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি সেবাপ্রার্থীর নাম এন্ট্রি করে তাকে নাজিরের রুম দেখিয়ে দেন।
হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রায়হান বাংলানিউজকে বলেন, এখন আর উপজেলা ভূমি অফিসকে কেউ দুর্নীতির আখড়া বলতে পারবে না। সেবা প্রত্যাশী ছাড়া অন্য কেউ ভূমি অফিসে ঢুকতে পারবে না। ফলে এ অফিসে দালালরা আর সক্রিয় হয়ে উঠতে পারবে না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের আওতাধীন সকল অফিসসমূহ দুর্নীতিমুক্ত রাখতে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ১৯৩ জন দুর্নীতিবাজ ওমেদার ও অস্থায়ী কর্মচারীকে ভূমি অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাদের তালিকা ভূমি অফিসগুলোতে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০৮টি সরকারি অফিস যথাক্রমে ভূমি অফিস, তহশিল অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে ৭১৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ভূমি অফিস ও নগরের  কাট্টলী, চান্দগাঁও, সদর, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ ও বাকলিয়া সার্কেলসহ ৬টি ভূমি অফিস ৯৬টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। উপজেলা ও নগরে মোট ২১টি ভূমি অফিসের আওতাধীন ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে ৭৬টি। সেখানেও লাগানো হয়েছে অত্যাধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।
নগরের কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান যোগদানের পর থেকে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের আওতাধীন সকল অফিস দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় নিয়ে এসেছেন। নগরের প্রতিটি ভূমি অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

আম রপ্তানিমুখী না হলে বাড়বে সংকট
                                  

ধানের জেলা নওগাঁ এখন আমের নতুন রাজধানী। এখানকার তিন ফসলি ধানি জমিতে গড়ে উঠছে বাণিজ্যিক আমবাগান। লাভজনক হওয়ায় বাড়ছে আমের চাষ। কেবল নওগাঁ নয়, বাণিজ্যিক আমবাগান ছড়িয়েছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোরেও।
কৃষি দপ্তরের হিসাবে, এক যুগের ব্যবধানে আমবাগান এবং ফলন দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে রাজশাহী অঞ্চলে। কিন্তু সেই অর্থে বাড়েনি বাজার। ফলে ভরা মৌসুমে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষি-বাগান মালিকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম এখন রপ্তানিমুখী করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে বাড়তি সুবিধা দেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষিরসাপাতি এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবঞ্জের ফজলির জিআই স্বীকৃতি। আম রপ্তানিমুখি না করা গেলে অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে এমন শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১১-১২ মৌসুমে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট আমবাগান ছিল ৪২ হাজার ৪১৭ হেক্টর। চলতি মৌসুমে এই চার জেলায় আমবাগান দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৮৯৪ হেক্টরে। সেই হিসেবে গত এক যুগে এই অঞ্চলে আমবাগান বেড়েছে ৪৮ হাজার ৪৭৭ হেক্টর।
অন্যদিকে ২০১১-১২ মৌসুমে এই চার জেলায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ টন আম উৎপাদন হয়েছে। চলতি মৌসুমে আম উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯১৩ টন। এই চার জেলায় গত এক যুগে আম উৎপাদন বেড়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪০ টন।
আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের হিসেবে, ২০১১-১২ মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৩ হাজার ২৮০, রাজশাহীতে ৮ হাজার ৯৮৬ , নওগাঁয় ৭ হাজার ৮০১ এবং নাটোরে ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। আর চলতি মৌসুমে আমবাগান দাঁড়িয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ১৬৫, নওগাঁয় ২৯ হাজার ৪৭৫, রাজশাহীতে ১৮ হাজার ৫১৬ এবং নাটোরে ৫ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অধিকাংশ আমবাগান শতবর্ষী। এখানে সনাতন আমের জাতের আবাদ বেশি হয়। কিন্তু নওগাঁর আমবাগানগুলো নতুন ও উচ্চফলনশীল জাতের। পুরো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই এসব বাগান তৈরি করা হয়েছে। ফলে নওগাঁয় গড় ফলন বেশি হচ্ছে। এ কারণে বাড়তি মুনাফা পাচ্ছেন নওগাঁর কৃষক। আমের রাজ্যে তাই নওগাঁর উত্থান দ্রুতই।
আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের হসোবে, চলতি মৌসুমে নওগাঁ থেকে ৭৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ২৫ এবং রাজশাহী থেকে ২১ টন আম রপ্তানি হয়েছে। যা মোট উৎপাদিত আমের সামান্য একটি অংশ।
সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে সেইভাবে আম রপ্তানি করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর চুক্তিভিত্তিক আমচাষি শফিকুল হক ছানা। ২০১৫ সাল থেকে আম রপ্তানি করে আসছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এই চাষি।
শফিকুল হক ছানা বলেন, আমাদের আম সুস্বাদু। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই আমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু রপ্তানির উদ্দেশ্যে এখান থেকে আম ঢাকায় কোয়ারেন্টাইনে নিতে হয়। সেখান থেকে প্যাকিং হাউসে নিতে হয় আরেক জায়গায়। এরপর আম যায় বিমানবন্দরে। এটি একটি লম্বা প্রক্রিয়া। এতে খরচ বেড়ে যায়। আমও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় আমরা টিকতে পারছি না।
কৃষকের কাছাকাছি সমন্বিত প্যাকিং হাউস গড়ে ওঠা দরকার বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পর সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে আম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় বাণিজ্যিক আমবাগানে উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদন হচ্ছে। এই আম পুরোপুরি রপ্তানি করা সম্ভব।
এখন প্রয়োজন সমন্বিত প্যাকিং হাউস। যেসব এলাকায় আম উৎপাদন হয়, সেখানে সমন্বিত প্যাকিং হাউস গড়ে ‍ওঠা দরকার। যাতে সরাসরি কৃষক নিজেদের উৎপাদিত আম সেখানে নিয়ে যেতে পারেন।
আম উৎপাদন এলাকায় সমন্বিত প্যাকিং হাউসের পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইন সুবিধা থাকাও জরুরি বলে জানিয়েছেন রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির সভাপতি আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের দিকে বাগন থেকে প্যাকেটজাত হয়ে আম সোজা ঢাকায় বিমানবন্দর যেত। সেখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে আম। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে বিড়ম্বনা শুরু।
বাগান থেকে ঢাকায় কোয়ারেন্টাইন স্টেশন-প্যাকিং হাউসে নিতে গিয়ে অনেক আম নাড়াচাড়ায় নষ্ট হয়ে যায়। আবার পরিবহন ব্যয় বাড়ে। সবমিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয় আমাদের।
তিনি যোগ করেন, দেশের আমের জোন রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সরাসরি বাগান থেকে আম রপ্তানির উদ্দেশ্যে কোয়ারেন্টইন সুবিধাসহ সমন্বিত প্যাকিং হাউস নির্মাণ করা দরকার। তাহলে এই অঞ্চলের আমচাষিরা এখান থেকেই রপ্তানি সুবিধা পাবেন।
জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই রাজশাহীতে এসেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি স্থানীয় আম রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মন্ত্রী রাজশাহীতে সমন্বিত ওয়ারহাউস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। এর আগে গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে এসে এই অঞ্চলে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের প্রতিশ্রিুতি দিয়ে যান মন্ত্রী।
তবে তার আগেেই রাজশাহী অঞ্চলে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায় এবং রাজশাহীর পবায় আলাদা প্ল্যান্ট স্থাপনের কথা। এর মধ্যে রাজশাহীর পবায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি স্থাপন করবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্য মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এখন প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি।
    বিএমডিএর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, তারা যে প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি ঘণ্টায় ৩ হাজার কেজি ধরে দৈনিক প্রায় ৫০ টন আম প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। মৌসুমের প্রায় ৫ হাজার টন আম প্রক্রিয়াজাত করা যাবে এখানে। যার রপ্তানি মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার ওপরে। কেবল আম প্রক্রিয়াজাত করেই প্ল্যান্ট থেকে মৌসুমে আয় হবে অন্তত কোটি টাকা। আম ছাড়াও রপ্তানির উদ্দেশ্যে শাক-সবজিও প্রক্রিয়াজাত করা যাবে এই প্ল্যান্টে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞ এই অঞ্চলের অর্থনীতির গতি পাল্টে দেবে।
সূত্রটি আরও জানাচ্ছে,  রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে রাজশাহী বিমানবন্দর সংলগ্ন তকিপুর মৌজায় এই প্ল্যান্ট স্থাপনের কথা। এজন্য ৬০ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে। রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো সুবিধা চালু হলে এখান থেকে সহজেই রপ্তানি করা যাবে আমসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য।
এই প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করছেন বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটি একটি সমন্বিত প্ল্যান্ট। একইসঙ্গে এটি আধুনিক ও সয়ংক্রিয়। আম সংগ্রহের পর প্রথম ধাপে পরিপক্বতা যাচাই করা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন করা হবে বোটা। পরের ধাপে আকার অনুযায়ী বাছাই। এরপর ধৌতকরণ। এর পরের ধাপে গরম পানির ধারায় রোগ-জীবাণুমুক্তকরণ করার পর ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট করা য়। এই ধাপেরই কোয়ারেন্টাইন জীবাণুমুক্তকরণ হবে। লেবেলিং বা মোড়ানোর পর চলে যাবে প্যাকেটজাতকরণে। প্রি-কুলিংয়ের পর আম যাবে অস্থায়ী গুদামে। সেখান থেকেই রপ্তানির উদ্দেশে বেরিয়ে যাবে আম।   
এটি সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের সদ্য সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আছে। আপাতত আমরা হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করে আম বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে থাকি।
    কিন্তু ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা আমের প্রচুর চাহিদা জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। রাজশাহীতে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হলে এসব দেশে আম রপ্তানির সুযোগ মিলবে। কৃষকরা আমের ভালো দাম পাবেন।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষিরসাপাতি এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। উত্তম ব্যবস্থাপনায় চাষ করা গেলে ফজলি-ক্ষিরসাপাতি রপ্তানিতে কৃষক বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন। হাতের কাছে রপ্তানি সুবিধা পেলে লাভবান হতে পারেন চাষি ও রপ্তানিকারকরা।  
ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন বিষয়ে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, রাজশাহী বিএমডিএর আওতাধীন এলাকা হওয়ায় বিএমডিএকে এই অঞ্চলে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন কৃষিমন্ত্রী। পরে বিএমডিএ এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প দাখিল করে।
এই প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে বিশেষ সুবিধা পাবেন এখানকার আমচাষি এবং রপ্তানিকারকরা। পাশাপাশি এই প্রকল্পের সফলতা দেখে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও এগিয়ে আসবেন অনেকে।  
এই অঞ্চলে আম উৎপাদন ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খানের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, খরাপ্রবণ রাজশাহী অঞ্চলে সেচের পানির ঘাটতি আছে। কজেই পানি সাশ্রয়ী আমবাগানে ঝুঁকছেন চাষিরা। এই কারণে প্রতি বছরই বাড়ছে আমবাগান এবং আম উৎপাদন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরে আমের বিপণন প্রক্রিয়া আধুনিক করা দরকার। তাছাড়া দেশের বাইরেও বাজার খোঁজা জরুরি। সরকারের এখানে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। রপ্তানি প্রক্রিয়াটা আরও সহজ করা যেতে পারে।

অষ্টম দিনের মতো চলছে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি
                                  

দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পূর্ণদিবস কর্মবিরতির আজ (২০ আগস্ট) অষ্টম দিন। ১৩ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের সব চাবাগানে পূর্ণদিবস কর্মবিরতির মাধ্যমে ধর্মঘট করছেন শ্রমিকরা।
জানা গেছে, এর আগের চার দিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করে মালিক পক্ষের সাড়া না পাওয়ায় পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়। এই কয়দিন ধরে চা শ্রমিকরা বাগানে বাগানে মিছিল-মিটিং-সমাবেশ ছাড়াও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।
চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, জুনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের বৈঠক হয়। সেখানে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন শ্রমিক নেতারা। কিন্তু মালিক পক্ষ ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩৪ টাকা মজুরির প্রস্তাব দেয়। যে কারণে শ্রমিক নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর আরও এক মাস পার হলেও মালিক পক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এর প্রতিবাদে ৯-১২ আগস্ট টানা চার দিন প্রতি দিন দুই ঘণ্টা করে ধর্মঘট পালন করা হয়। তারপরও মালিকপক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কথা বলায় ১৩ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের সব চাবাগানে শুরু হয় শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি।
চাবাগান অধ্যুষিত হবিগঞ্জ জেলার ২৪টি বাগানে শ্রমিকরা কর্মবিরতির পাশাপাশি বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করছেন। ১৩ আগস্ট (শনিবার) চুনারুঘাটে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সড়ক অবরোধ করেছিলেন চা শ্রমিকরা। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে চুনারুঘাটে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের চান্দপুর এলাকায় অবরোধে বসেন তারা। পরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ চা শ্রমিক দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার হেঁটে চুনারুঘাট শহরে সড়ক অবরোধ করতে আসেন। আসার পর পুলিশ ব্যারিকেড দিলেও তা ভেঙে সড়ক অবরোধ করা হয়।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন রাজপথে কর্মসূচি না দিলেও ১৮ আগস্ট মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। মাধবপুর উপজেলার সুরমা ও তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের হাজার হাজার শ্রমিক অবরোধ করেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। দুপুর ২টা থেকে পৌনে ১ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরে প্রশাসনের কথায় মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
তবে চা শ্রমিক ইউনিয়ন ১৬ আগস্ট শায়েস্তাগঞ্জ গোলচত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছিল। কিন্তু মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তা স্থগিত করা হয়।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘মালিক-শ্রমিকের মধ্যে চুক্তির ১৯ মাস পার হলেও তারা মজুরি বাড়ায়নি। দৈনিক মজুরি ১২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে সীমিত কর্মবিরতি পালনের পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় দেশের সব চাবাগানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।’

ডিজেলের দামে কুষ্টিয়ায় চালের বাজারে আগুন
                                  

ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির মারাত্মক প্রভাব পড়েছে কুষ্টিয়ার চালের বাজারে। চালের দাম যেন আকাশ ছুঁতে চলেছে। কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ৪ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে। চালের এই দাম বৃদ্ধির লাগাম যেন কিছুতেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন সামনে চালের দাম আরো বৃদ্ধি পাবে।
দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধির কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। শুধু চাল নয়, কুষ্টিয়ার বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাঁচামরিচ, সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্যের দাম। এর মধ্যে ২৭০ টাকা খাঁচি (৩০ পিচ) ডিমের দাম বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকা। বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দামও।
চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে গিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী ও একাধিক মিলারের সঙ্গে কথা হয়। তাদের দাবি মূলত তিনটি কারণে চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমত সরকার ডিজেলের মূল্য এক লাফে লিটার প্রতি ৩৪ টাকা বৃদ্ধি করায় পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। যে কারণে ব্যবসায়ীদের চালের দাম বাড়াতে হচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন বাজারে ধানের দাম চড়া, সেই সঙ্গে সংকটও রয়েছে। ধান পাওয়া গেলেও দাম বেশি। ধানের দাম চড়া হওয়ায় চালের দামেও প্রভাব পড়ছে। তৃতীয় কারণ সরকার চাল আমদানির সুযোগ দিলেও সেখানে ২৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অতিরিক্ত এই ভ্যাট আরোপের কারণে ব্যবসায়ীরা কেউ চাল আমদানি করতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না।
কুষ্টিয়ার খাজানগরের গোল্ডেন অটো রাইচ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুজ্জামান জিকু বলেন, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ট্রাক প্রতি পরিবহন খরচ ধান ও চাল উভয় ক্ষেত্রেই কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বেড়েছে। এছাড়াও লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, চালের দামের লাগাম যদি এখনই টেনে না ধরা যায় তাহলে সামনে আমাদের হয়তো আরো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।
তিনি চালের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারকে দুটি পরামর্শ দিয়েছেন। বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে মজুতকৃত প্রায় ১৫শ লাখ মেট্রিক টন চাল এই মুহূর্তে বাজারে ছেড়ে দেওয়া এবং চাল আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। এছাড়াও কঠোর বাজার মনিটরিং করার দাবি জানান চালকল মালিক সমিতির এই নেতা।
কুষ্টিয়ার খাজানগরকে বলা হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম। আর বিশেষ করে চিকন বা সরু (মিনিকেট) চালের জন্য প্রসিদ্ধ এবং সর্ববৃহৎ মোকাম এটি। ছোট বড় মিলিয়ে এখানে প্রায় ২শ থেকে ২৫০ ট্রাক লোড হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বাজারে চাল সরবরাহ করে থাকে। যে কারণে কুষ্টিয়ায় ধান-চালের দাম বৃদ্ধির প্রভাব গিয়ে পড়ে গোটা দেশের ওপর।
ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির দুদিন পর থেকেই কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ৪ থেকে ৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৪ টাকা, কাজললতা আর আঠাশ চাল কেজি প্রতি ৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে কুষ্টিয়ার বাজারে অটোমিলের মিনিকেট চাল ৭০ টাকা, সাধারণ মিনিকেট ৬৮ টাকা, কাজললতা ৬০ টাকা, সাধারণ কাজললতা ৫৮ টাকা, অটোমিলের বাসমতি চাল ৮২ টাকা, সাধারণ বাসমতি ৭৮ টাকা, আঠাশ চাল ৫৫ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহামুদ জানান, প্রকৃতপক্ষে ভারত, বাংলাদেশ কোথাও মিনিকেট নামে কোনো ভেরিয়েন্ট নেই। তবে বর্তমানে বিরিধান ৬৩, বিরি ৮১ সহ চিকন যে সমস্ত ধানের জাত রয়েছে আমাদের দেশের কৃষকরা সেই ধানগুলো মিনিকেট ধান হিসেবে আবাদ করছেন এবং এই ধানগুলোই বাজারে মিনিকেট ধান হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। কুষ্টিয়ার বাজারে মিনিকেট ধান বর্তমানে ১৭৫০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কুষ্টিয়ায় জেলাতেও বোরো মৌসুমে সামান্য কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে মিনিকেট ধানের আবাদ হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশে চিকন বা মিনিকেট ধানের যে আবাদ হয় তা সারা দেশের মিনিকেট চালের প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ২৫ ভাগের মতো।

বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ১০
                                  

বরিশালের উজিরপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে বাসের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জন হয়েছে। এ সময় আহত আরও ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রোববার (২৯ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সানুহার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আর্শাদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে শনিবার রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে যমুনা লাইন পরিবহনের একটি বাস। উজিরপুরের সানুহার এলাকা অতিক্রমকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে বাসের ভেতর থেকে আট যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে। আহত ১৮-২০ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসি আলী আর্শাদ আরও বলেন, সকাল সোয়া ৯টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের পাশের ডোবা থেকে আরও এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আরেক বাসযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। হতাহতদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

সাংবাদিকতায় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকার উদাত্ত আহবান
                                  
নবীনগরের কথার এক বছর পূর্তি
 
 
বিশেষ প্রতিনিধি:
 
বর্তমান সময়ে চলা `প্রশ্নবিদ্ধ` সাংবাদিকতায় সাংবাদিকদেরকে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে থাকার জন্য উদাত্ত আহবান জানানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা থেকে নবীনগরের কথা নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের উদ্যোগে চালু হওয়া ভার্চ্যুয়াল টকশোর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তারা জোরালোভাবে এ আহবান জানান।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই ভার্চ্যুয়াল টকশোতে অংশ নেন এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য হাসান জাবেদ, বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টালের সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক সুভাষ সাহা, নবীনগর অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম নোয়াফের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধর্ম্মনগরের শব্দসৈনিক ও কণ্ঠযোদ্ধা, বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী নির্ঝর পাল ও বিবি নিউজের (অনলাইন) নিউজ এডিটর ও নিউজ প্রেজেন্টার প্রদীপ আচার্য। 
অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন নবীনগরের কথার সম্পাদক, দৈনিক বাংলা ৭১ এর বিশেষ প্রতিনিধি গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু।
`চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির` শীর্ষক প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলা ওই প্রাণবন্ত ভার্চ্যুয়াল টকশোতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক হিসেবে বাঁচতে চাইলে, একজন সাংবাদিককে বাঁচার মতো করেই বাঁচা উচিৎ। কারণ সাংবাদিকতায় পিপিলিকার মতো বেঁচে থেকে কোন লাভ নেই। সাংবাদিকদের উচিৎ হবে সকল ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়ে যাওয়া। ন্যায়ের পক্ষে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ আর মিথ্যার বিরুদ্ধে অন্যায়কারীর মুখোশ উন্মোচন করাই হবে একজন প্রকৃত সাংবাদিকের কাজ।`
বক্তারা সারাদেশে নামে বেনামে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন গড়ে উঠার সমালোচনা করে বলেন, সাংবাদিক সংগঠন করলেও, সাংবাদিকদের `লেজুরবৃত্তি` করা কখনও উচিৎ নয়। আবার কারও অধীনে `গোলাম` হয়ে থেকে সাংবাদিকতায় `চামচামি` করাও শোভন নয়। তাহলে সাংবাদিকদের `স্বকীয়তা` থাকেনা।
বক্তারা এ সময় সারাদেশে গড়ে ওঠা অখ্যাত সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কড়া সমালোচনা করে আরও বলেন, মূলত নানা সুযোগ সুবিধা নেয়ার জন্যই সাংবাদিকতার নামে `এই ক্লাব ঐ ক্লাব কিংবা `অমুক ইউনিয়ন, তমুক ইউনিয়ন` গড়ে তোলা হচ্ছে। কারণ এসব নামধারী সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি, সেক্রেটারী হতে পারলে প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে নানান সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্য এবং বদলী বাণিজ্যও করা যায়।
এনটিভির হাসান জাবেদ আরও বলেন, একজন সাংবাদিক যদি কোন অন্যায় কিংবা মন্দ কাজ না করেন, তাহলে যত প্রভাবশালীই হোক কাউকে ভয় করার কোন কারণ নেই একজন সাংবাদিকের।
প্রসংগত, `মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, নবীনগরের প্রতিচ্ছবি` এ মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি নবীনগরের কথার নিয়মিত ভার্চ্যুয়াল টকশো চালু হয়।
ইতিমধ্যে যার ১১৫ টি পর্ব শেষ হয়।
যতই ঝুঁকি আসুক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
                                  

সকলকে দুর্যোগের ঝুঁকি বিষয়ে সতর্কতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতই ঝুঁকি আসুক দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের, কাজেই যত ঝুঁকি আসুক দেশের উন্নয়ন আমাদেরকে অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। দারিদ্রের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু কন্যা জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবানা’র উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘যত দুর্যোগই আসুক বাঙালিকে, বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবেনা-এটাই হচ্ছে আমাদের কথা।’শেখ হাসিনা আজ সকালে ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র (সিপিপি) ৫০ বছর পদার্পন ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২১ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত মুল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের অপরপ্রান্তে মুক্তিযোদ্ধা মাঠ কক্সবাজার প্রান্তও সংযুক্ত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাড়াবিশে^ আজকে দুর্যোগ ঝুঁকি মোকবেলায় একটি আদর্শ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমাদের এই সম্মান যাতে বজায় থাকে সেজন্য ভবিষ্যতে সে বিষয়েও সকলকে সচেতন থাকতে হবে এবং এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি এ সময় ’৯১ সালের ঘুর্ণিঝড়ের পর আওয়ামী লীগের সংসদে এই নিয়ে কথা তোলার প্রেক্ষিতে সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উক্তি ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মারা যায় নাই’ উল্লেখ করে বলেন, এই কথা জীবনে যেন আর শুনতে না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং মানুষকে সচেতন করতে হবে। মদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.মো এনামুর রহমান এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চারটি ইউনিটেরও উদ্বোধন করেন। এগুলো হচ্ছে- দ্রুত সাড়াদান ইউনিট, পানি থেকে উদ্ধার ইউনিট, অতি জোয়ার মনিটরিং ও সাড়াদান ইউনিট এবং খেলায় খেলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ইউনিট (স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক)। এছাড়া, ‘দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি এবং দুর্যোগ প্রশমন বিষয়ক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টা সম্পর্কিত ভিডিও চিত্র ‘দুর্যোগ প্রশমনের ৫০ বছর বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক ভিডিও চিত্র ও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। সিপিপি’র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৩ জন সংগঠক এবং ৬ জন স্বেচ্ছাসেবক নারী-পুরুষকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ডা.এনামুর রহমান অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, তিনবাহিনী প্রধানগণসহ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিক ও মিশন প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সিপিপি’র স্বেচ্ছাসেবকদের দলে নারী স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভূক্ত করায় এই কর্মসূচি অতীতের থেকে আরো বেশি কার্যকর হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকি থেকে যাতে আমরা মুক্ত হতে পারি সেই ব্যবস্থা আমরা সবসময় নেব। জাতির পিতার পদাংক অণুসরণ করে মানুষকে দুর্যোগ নিরাপত্তা প্রদানসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণেও তাঁর সরকার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে যে এগিয়ে যাবে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রেখেই আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়ে গেলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের পাশে আছে। দুর্যোগে আর কেউ না থাকুক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সবসময় পাশে রয়েছে। তিনি এই সময় করেনাকালিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং তাঁর সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করে বলেন, মৃতের দাফন-কাফন থেকে শুরু করে তাঁদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজটা আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যেমন করেছি তেমনি দলের পক্ষ থেকেও করেছি । তবে, আর কাউকেই এভাবে এগিয়ে আসতে আমি দেখি নাই।  জাতির পিতা ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই দুর্যোগ ঝুঁঁকিহ্রাসে ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’ গ্রহণ করেন, যা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় সেই সময় ১৭২টি উঁচু মাটির কিল্লা তৈরি করেন যা পরবর্তীকালে জনগণ ‘মুজিব কিল্লা’ নামকরণ করেন।  তিনি বলেন, আমরা পূর্বের মুজিব কিল্লাসমূহ সংস্কারসহ নতুন করে আরও ৩৭৮টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল গঠন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করেছে এবং এই আইনের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠন করেছে যা দুর্যোগ মোকাবিলা, ঝুঁকি হ্রাসকরণ ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি, সরকার ২০২১-২০২৫ সাল মেয়াদের জন্য জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।  তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুহারা মানুষের দুর্দশার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে সরকার ২০১৫ সালে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করে এবং জাতীয় রিজিলিয়েন্স পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ও এসডিজি’র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ তাঁর সরকার শুরু করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বন্যা আমাদের আসবেই কাজেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার বা বন্যার সঙ্গে বসবাস করার অভ্যাস আমাদেরকে করতে হবে। বন্যায় মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সম্পদ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেভাবেই আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় আমাদের জলাধার থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ২০২২ সালের মধ্যে ৫১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং গ্রীষ্মকালে সেচের পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার নির্মাণ, ৪ হাজার ৮৮৩ কিলোমিটার খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, সংস্কারসহ নানাবিধ প্রকল্প গ্রহণ করেছি।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ঝুঁঁকিহ্রাসে আমাদের সময়ে সারাদেশে ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ৩২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ৬৪ জেলায় ৬৬টি জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ভূমিকম্প ও নগর এলাকায় রাসায়নিক দুর্যোগসহ অগ্নিœকা- ঝুঁকিহ্রাস ও সাড়াদান কার্যক্রমে নতুন করে আমরা আরও ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর আগে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে ফায়ার সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সহযোগী সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে যথাক্রমে ৬৯ কোটি এবং ২৩৪ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় করেছি।
ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সকে আরো শক্তিশালীকরণে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যেসব বহুতল ভবন হচ্ছে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা যেন সেসব ভবনে মজুদ থাকে। বহুতল ভবন নির্মাণের সময় যেমন তা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি আবার কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে মানুষকে উদ্ধারের সরঞ্জামাদি ও ফায়ার সার্র্ভিসের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরকার সংগ্রহ করছে। তিনি দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে ব্যক্তিগত স্থাপনা তৈরীর সময়ও সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনি ঘর-বাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাই করেন না কেন সেটা করার সময় আপনাকে অগ্নিকান্ড, ঝড়,বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকির কথা মাথায় রাখতে হবে এবং বিল্ডিং কোড মেনেই ভবন তৈরী করতে হবে। বন্যায় অসহায় মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরের জন্য নৌবাহিনীর সহায়তায় ৬০টি মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট তৈরি ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান তিনি। তাঁর সরকারের উদ্যোগে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ফলে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে এবং কমিউনিটি রেডিও ও মিডিয়ার মাধ্যমে দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে আগাম পূর্বাভাষ প্রদানও অব্যাহত রয়েছে। সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না আসলে এসব আর কেউ করতো বলে মনে হয়না। কারণ অন্যদের মানুষের সম্পর্কে কোন দায়বদ্ধতা নেই। আর আওয়ামী লীগের রাজনীতিই হচ্ছে মানুষের জন্য। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা করেও তাঁর সরকারের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালে বিএনপি’র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় গ্লোবাল এডাপটেশন সেন্টারের কার্যালয় স্থাপন করেছি। এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা-দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি এবং এটা প্রত্যেকর কাছে খুব সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি, আমি বিভিন্ন ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসনের বিষয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যেন সহায়তা পায় তা জোড়ালো ভাবে তুলে ধরেছি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের দুর্যোগ প্রশমন কার্যালয় (ইউএনডিআরআর) এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্বাচন করেছে- ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি একসাথে’। আর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে এ বছর জাতীয়ভাবে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মুজিববর্ষের প্রতিশ্রুতি, জোরদার করি দুর্যোগ প্রস্তুতি।’

গণপরিবহনে মাস্ক পরায় অনীহা, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
                                  

 

 

গত ১১ আগস্ট থেকে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। স্বাভাবিক সময়ের ভাড়ায় ফিরে এসেছে গণপরিবহন। তবে পরিবহন চললেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ‘দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না’ এ মর্মে নির্দেশনা দিয়েছিল।বিআরটিএর সে নির্দেশনা এখন শুধু কাগজে-কলমে। প্রায় প্রতিটি পরিবহনেই নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। ভাড়া কম না নিলেও দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া বন্ধ হয়নি।

অন্যদিকে গণপরিবহনে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। বাসগুলোতে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া হচ্ছে। আবার অধিকাংশ যাত্রী মাস্ক পরলেও বেশিরভাগই মাস্ক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি মানছেন না। তারা থুতনিতে রাখছেন মাস্ক, কেউ কেউ নাক বাদ দিয়ে শুধু মুখ ঢেকে রেখেছেন। যাত্রীদের একটি অংশ আবার মাস্কবিহীন চলাচল করছেন।

 

সোমবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, মালিবাগ, রামপুরা, বাসাবো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেক জায়গায় দেখা যায়, বাসচালক মাস্ক ব্যবহার করলেও তার সহকারীর মাস্ক নেই। যাত্রীদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করলেও সেগুলো রেখেছেন শুধু থুতনিতে।

তুরাগ পরিবহনের হেলপার সুমন বলেন, ‘মাস্ক পরলে যাত্রীরা কথা শুনতে পান না। আমরা সারাক্ষণ কথা বলি, তাই মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না।’

 

রাইদা পরিবহনের হেলপার শফিক মাস্ক ছাড়াই যাত্রী সেবায় নিয়োজিত। তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরা ভালো তবে এতে অসুবিধাও আছে। আমার কথা যাত্রীরা শুনতে পান না। তাছাড়া অনেক যাত্রীও আর মাস্ক পরছেন না।’

 

তবে যাত্রীদের একটা বড় অংশই মাস্ক ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে কথা হয় নূর-এ মক্কা পরিবহনের যাত্রী সুলাইমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতি এখননো ভালো অবস্থায় আসেনি। এ অবস্থায় আমরা সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’

মাস্ক ব্যবহারে অনীহা এমন যাত্রীদের সংখ্যাও কম না। তাদের একজন জয়নাল আবেদিন। রাইদা পরিবহনযোগে কমলাপুর যাবেন। তিনি বলেন, ‘এখন পরিবেশ ভালো দেখেই সরকার সব চালু করেছে। তবে মাস্ক পরলে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। দম বন্ধ হয়ে মারা যাবার মতো অবস্থা তৈরি হয়। তবে ওইটা পরতে পারলে ভালো।’

অপরদিকে রাস্তায় চলাচলরত পথচারীদের বেশিরভাগই মাস্ক ছাড়া দেখা গেছে। একই অবস্থা তৈরি হয়েছে পাড়া-মহল্লায় বসা অস্থায়ী ছোট ছোট বাজারগুলোতেও। সেখানেও নেই স্বাস্থ্যবিধি, মাস্ক ছাড়াই নিত্যপণ্য কেনাকাটা করছেন সবাই।

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২০১ জনের মৃত্যু
                                  

মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ হাজার ৫৯৩ জনে। তাদের মধ্যে ১১৯ জন পুরুষ ও ৮২ জন নারী। মোট মৃত ২০১ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ২৩ জন, বাসায় ১২ জন ও হাসপাতালে মৃত অবস্থায় একজনকে আনা হয়। এই সময়ে এই ভাইরাসের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৬২ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ জনে। বুধবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ৬০৫টি ল্যাবরেটরিতে ৩৭ হাজার ১৪৭টি নমুনা সংগ্রহ ও ৩৫ হাজার ৬৩৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৬৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৩২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৪ দশমিক শূন্য ৩১ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন পাঁচ হাজার ৯৮৭ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা আট লাখ ৫০ হাজার ৫০২ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৮৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২০১ জনের মধ্যে বয়সের হিসেবে দশোর্ধ্ব একজন, বিশোর্ধ্ব চারজন, ত্রিশোর্ধ্ব ৯ জন, চল্লিশোর্ধ্ব ২৫ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৪৭ জন ও ষাটোর্ধ্ব ১১৫ জন রয়েছেন। বিভাগওয়ারী হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ৫৮ জন, চট্টগ্রামে ২১ জন, রাজশাহীতে ১৮ জন, খুলনায় ৬৬ জন, বরিশালে সাতজন, সিলেটে ৯ জন, রংপুরে ১৪ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে আটজনের মৃত্যু হয়। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
                                  

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৩ এবং নারী ১১ জন। এর মধ্যে ৩ জন বাসায় এবং বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ হাজার ৫৮৩ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৪৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত লাখ ৯৮ হাজার ৮৩০ জনে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৪১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ ও ১৪ হাজার ২৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৫টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হন ১ হাজার ৩৯৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮, চট্টগ্রামে ১২, রাজশাহীতে ৩, খুলনায় ৬, বরিশালে ১, সিলেটে ২ এবং রংপুরে ২ মারা গেছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৩৪ জনের মধ্যে বিশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুইজন, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন এবং ষাটোর্ধ্ব ২১ জন রয়েছেন। রোববার (৩০ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ২২ জনের মৃত্যু শনাক্ত ১২৯২ জন ।
                                  

মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ২২ জন। আর এ সময়ে নতুন করে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে আরো ১ হাজার ২৯২ জনের শরীরে। এ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ হাজার ৪৮০ জনে। আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫৮ জন। করোনাভাইরাস নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরো ১ হাজার ২৯১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৫৭ জন। এর আগে বুধবার দেশে আরো ১ হাজার ৪৯৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান ১৭ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৭ টি উপজেলা
                                  

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মোঃ এনামুর রহমান বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ভারতের উপকূল অতিক্রম শুরু করার প্রভাব থেকে বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ মুক্ত । তবে ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় ৯ জেলার ২৭ উপজেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আজ বুধবার ( ২৬ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সার্বিক ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ।

 আজ সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি এখনও অতিক্রম করছে, আশা করি বিকেল পর্যন্ত এটি উড়িষ্যা অতিক্রম করবে । এতে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২৭টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, শরণখোলা, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, মঠবাড়ীয়া, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, ভোলা সদর, হাতিয়া, রামগতি ও কমলনগর।প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকদের অনকূলে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ বরাদ্দ দেয়া আছে। এছাড়াও আজ ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় ৯টি জেলার ২৭টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দিতে ১৬ হজার ৫০০ শুকনা ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় জেলা, উপজেলাসমূহে ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য আদান-প্রদানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে । দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি (জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র) ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদানে সার্বক্ষণিক কাজ করেছে ।এনামুর রহমান বলেন, ‘উপকুলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আনসার ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। ঝড় আঘাত হানলে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত ছিল । মানবিক সহায়তার যথেষ্ট সংস্থান আগে থেকেই করা ছিল। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার জন্য যথেষ্ট মাস্ক এবং স্বাস্থ্য উপকরণ নিশ্চিত করা হয়েছিল।

পটুয়াখালী: জোয়ারের পানি বেড়েছে তবে বিপদসীমার নিচে আছে। গতকাল সন্ধ্যায় ১৭২টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৪ হাজার লোক আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। আজ সকালে তারা ফিরে গেছে। এসব লোকজন জোয়ারের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে আসে এবং ভাটার সময় নিজ নিজ বাড়ীতে চলে যায়। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা: বর্তমানে আবহাওয়া স্বাভাবিক। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট বেশি রয়েছে। কোন কোন জায়গায় বেড়ি বাঁধ উপচিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। জেলায় এক হাজার ২৯২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। গত রাতে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ২৮০ জন লোক আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। বর্তমানে তারা নিজ নিজ বাড়ীতে চলে গেছে।

বরগুনা: বর্তমানে আকাশ মেঘলা রয়েছে এবং জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বেশী বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়ীবাঁধের কয়েক জায়গায় কিছু অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।। আশ্রয়কেন্দ্রে ৫২০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছিল, পরে তারা নিজ বাড়ীতে ফিরে গেছেন। সামান্য ঝোড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ঝালকাঠি: জেলায় মোট ৪৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। ৪৯৭ জন লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। জোয়ারের পানির উচ্চতা বিপদসীমার উপরে রয়েছে। কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

পিরোজপুর: মঠবাড়ীয়া উপজেলার মাঝের চর বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় ১০/১২টি মাছের ঘের এবং কয়েক একর সবজি বাগান পানির নিচে চলে গেছে। মাঝের চর আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা থেকে শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিক অবস্থা থেকে ৩ ফুট উপরে উঠেছে। ২৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

বরিশাল: আবহাওয়া স্বাভাবিক। এক হাজার ৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। কোন লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেনি। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি রয়েছে। কোন ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।

ভোলা: জেলার ঝোড়ো হাওয়া হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া স্বাভাবিক। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২/৩ ফুট উপরে উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে নেমে গেছে। দুর্গম চরে প্রায় ২৫০টি কাঁচা ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জোয়ারের পানিতে ৯০০ গরু/মহিষ ভেসে গেছে। ৬৯১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছিল, তবে বর্তমানে এসব লোকজন নিজ নিজ বাড়ী ঘরে ফিরে যাচ্ছে।

বাগেরহাট: জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা উপজেলার ২০/২১টি গ্রামে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। এতে ২ হাজার ৭০০ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা হিসেবে শুকনা খাবার (চিড়া, গুড় ও খাবার স্যালাইন) সরবরাহের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সকাল থেকে রোদ ছিল। বর্তমানে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক।

চাঁদপুর: জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারী রাখছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিছু ছিন্নমূল মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলাওয়ারী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পানি উচ্চতা স্বাভাবিক। সামান্য ঝোড়ো হাওয়া বইছে।

লক্ষ্মীপুর: জেলার রামগতি, কমলগঞ্জ উপজেলার নিচু এলাকায় সামান্য জোয়ারের পানি উঠেছে। কিছু রাস্তাঘাট, ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে কোন লোক আশ্রয় গ্রহণ করেনি। সামান্য ঝড়/বৃষ্টি রয়েছে।

খুলনা: জেলায় মোট এক হাজার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে কোন লোক আশ্রয় গ্রহণ করেনি। ঝোড়ো হাওয়া আছে। জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক আছে।

ফেনী: আবহাওয়া স্বাভাবিক, কোন সমস্যা নাই। জোয়ার পানি স্বাভাবিক। ঝোড়ো হাওয়া নাই। গতকাল ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবে একজন মারা গেছে। ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, কিন্তু কোন লোক আশ্রয় গ্রহণ করেনি।

চট্টগ্রাম: জোয়ারের পানি বাড়ছে। বর্তমানে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবহিত হচ্ছে। জেলার মোট ৮৩৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কোন লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়নি। ক্ষয়ক্ষতির কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী: ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর কারণে জেলায় মোট ৩৯০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এ সব আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৩০০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছিল। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ফুট উপরে উঠেছিল। জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চলের বাড়ী ঘরে পানি উঠেছে। কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

দেশে করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৪৯৭ জন
                                  

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১০ জন ও নারী সাতজন। ১৭ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১১ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৬ জন মারা যান। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ হাজার ৪৫৮ জনে। এই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৯৭ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হলো সাত লাখ ৯৩ হাজার ৬৯৩ জন। বুধবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ৪৮৬টি ল্যাবরেটরিতে ১৬ হাজার ৩৪২টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৬ হাজার ৪৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৩৫৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ৯ দশমিক ১১ শতাংশ। এ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর সংখ্যা সাত লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৬ জন। সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় ত্রিশোর্ধ একজন, চল্লিশোর্ধ একজন, পঞ্চাশোর্ধ চারজন ও ষাটোর্ধ্ব ১১ জন মারা যান। বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুসারে ঢাকা বিভাগে পাঁচজন, চট্টগ্রামে আটজন, বরিশালে একজন, খুলনায় একজন, সিলেটে একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন মারা যান। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।


   Page 1 of 40
     বাংলাদেশ
ফের বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে গোলা নিক্ষেপ
.............................................................................................
বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শুরু
.............................................................................................
চট্টগ্রামে ডায়রিয়া রোগীদের শরীরে কলেরার জীবাণু
.............................................................................................
১৪৮ কৃত্রিম চোখে নজরদারি
.............................................................................................
আম রপ্তানিমুখী না হলে বাড়বে সংকট
.............................................................................................
অষ্টম দিনের মতো চলছে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি
.............................................................................................
ডিজেলের দামে কুষ্টিয়ায় চালের বাজারে আগুন
.............................................................................................
বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ১০
.............................................................................................
সাংবাদিকতায় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকার উদাত্ত আহবান
.............................................................................................
যতই ঝুঁকি আসুক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
গণপরিবহনে মাস্ক পরায় অনীহা, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
.............................................................................................
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২০১ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
.............................................................................................
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ২২ জনের মৃত্যু শনাক্ত ১২৯২ জন ।
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৭ টি উপজেলা
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৪৯৭ জন
.............................................................................................
দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় দেশে আরও ২৫ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
পোলার্ড বা রাসেল নই, আমি মুশফিক
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সম্ভাব্য গতিপথ
.............................................................................................
২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ২৮, শনাক্ত ১৩৫৪
.............................................................................................
দেশে করোনা শনাক্তের রেকর্ড, আরও ৪৫ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
একদিনে ৩৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৯০৮
.............................................................................................
আরও ৩৪ মৃত্যু, টানা তৃতীয়দিনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শনাক্ত
.............................................................................................
ফের শনাক্ত সাড়ে ৩ হাজারের ওপরে, মৃত্যু ২৫
.............................................................................................
সাড়ে আট মাস পর করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত
.............................................................................................
আড়াই মাস পর করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় মৃত্যু ১৮ জনের, শনাক্ত ১১৫৯
.............................................................................................
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো করোনা শনাক্ত আরো বেশি
.............................................................................................
দেশে করোনা ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৮
.............................................................................................
করোনাতে মৃত্যু ১৩, শনাক্ত ৪৮৫
.............................................................................................
করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫২৮
.............................................................................................
করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৭৮
.............................................................................................
প্রত্যাশা নতুন বছরে
.............................................................................................
২৪ ঘণ্টায় ২৪ মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় প্রাণ গেলো আরও ১৭ জনের, শনাক্ত ১৩১৮
.............................................................................................
করোনায় মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত ২১৯৮
.............................................................................................
করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৩১৬
.............................................................................................
জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বজায় রাখতে বাংলাদেশের আহ্বান
.............................................................................................
বাংলাদেশ উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশন জাতিসংঘে গৃহীত
.............................................................................................
করোনায় প্রাণ গেলো আরও ৩৮ জনের, শনাক্ত ২১৯৮
.............................................................................................
মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যা: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
.............................................................................................
আগামী সপ্তাহ থেকে ফাইজারের টিকা ব্যবহার করবে যুক্তরাজ্য
.............................................................................................
ডাচ-বাংলা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ
.............................................................................................
দু`টি এয়ারলাইন্স মানবপাচারে জড়িত: সিআইডি
.............................................................................................
করোনায় আরও ৩১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩
.............................................................................................
করোনার প্রাথমিক লক্ষণ নাকে
.............................................................................................
নারী নির্যাতনকারীদের দলে আশ্রয় দেবেন না
.............................................................................................
আমৃত্যু উল্লেখ না থাকলে যাবজ্জীবন অর্থ ৩০ বছর কারাদণ্ড: আপিল বিভাগ
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৫২৫
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale