ঢাকা,বৃহস্পতিবার,৬ কার্তিক ১৪২৮,২১,অক্টোবর,২০২১
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * কোনো বিভাগ দেবো না, কু- নাম দিয়ে : প্রধানমন্ত্রী   * কমছে পেঁয়াজের দাম   * বদরুন্নেসার সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা   * ব্যর্থতা ঢাকতে সাম্প্রদায়িকতার দানব জাগিয়ে তুলেছে সরকার: রিজভী   * পুরোনো রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা : কাদের   * দেশে অন্ধত্ব কমেছে ৩৫ শতাংশ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী   * শিগগির ট্রেনের টিকিট সম্পূর্ণ অনলাইন করা হবে   * আটক ৩, বিমানবন্দরে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ   * রাতে আসছে সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ টিকা   * জিআই সনদ পাচ্ছে ফজলি আম ও বাগদা চিংড়ি  

   বাংলাদেশ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যতই ঝুঁকি আসুক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

সকলকে দুর্যোগের ঝুঁকি বিষয়ে সতর্কতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতই ঝুঁকি আসুক দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের, কাজেই যত ঝুঁকি আসুক দেশের উন্নয়ন আমাদেরকে অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। দারিদ্রের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু কন্যা জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবানা’র উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘যত দুর্যোগই আসুক বাঙালিকে, বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবেনা-এটাই হচ্ছে আমাদের কথা।’শেখ হাসিনা আজ সকালে ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র (সিপিপি) ৫০ বছর পদার্পন ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২১ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত মুল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের অপরপ্রান্তে মুক্তিযোদ্ধা মাঠ কক্সবাজার প্রান্তও সংযুক্ত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাড়াবিশে^ আজকে দুর্যোগ ঝুঁকি মোকবেলায় একটি আদর্শ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমাদের এই সম্মান যাতে বজায় থাকে সেজন্য ভবিষ্যতে সে বিষয়েও সকলকে সচেতন থাকতে হবে এবং এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি এ সময় ’৯১ সালের ঘুর্ণিঝড়ের পর আওয়ামী লীগের সংসদে এই নিয়ে কথা তোলার প্রেক্ষিতে সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উক্তি ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মারা যায় নাই’ উল্লেখ করে বলেন, এই কথা জীবনে যেন আর শুনতে না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং মানুষকে সচেতন করতে হবে। মদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.মো এনামুর রহমান এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চারটি ইউনিটেরও উদ্বোধন করেন। এগুলো হচ্ছে- দ্রুত সাড়াদান ইউনিট, পানি থেকে উদ্ধার ইউনিট, অতি জোয়ার মনিটরিং ও সাড়াদান ইউনিট এবং খেলায় খেলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ইউনিট (স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক)। এছাড়া, ‘দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি এবং দুর্যোগ প্রশমন বিষয়ক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টা সম্পর্কিত ভিডিও চিত্র ‘দুর্যোগ প্রশমনের ৫০ বছর বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক ভিডিও চিত্র ও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। সিপিপি’র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৩ জন সংগঠক এবং ৬ জন স্বেচ্ছাসেবক নারী-পুরুষকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ডা.এনামুর রহমান অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, তিনবাহিনী প্রধানগণসহ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিক ও মিশন প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সিপিপি’র স্বেচ্ছাসেবকদের দলে নারী স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভূক্ত করায় এই কর্মসূচি অতীতের থেকে আরো বেশি কার্যকর হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকি থেকে যাতে আমরা মুক্ত হতে পারি সেই ব্যবস্থা আমরা সবসময় নেব। জাতির পিতার পদাংক অণুসরণ করে মানুষকে দুর্যোগ নিরাপত্তা প্রদানসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণেও তাঁর সরকার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে যে এগিয়ে যাবে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রেখেই আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়ে গেলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের পাশে আছে। দুর্যোগে আর কেউ না থাকুক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সবসময় পাশে রয়েছে। তিনি এই সময় করেনাকালিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং তাঁর সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করে বলেন, মৃতের দাফন-কাফন থেকে শুরু করে তাঁদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজটা আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যেমন করেছি তেমনি দলের পক্ষ থেকেও করেছি । তবে, আর কাউকেই এভাবে এগিয়ে আসতে আমি দেখি নাই।  জাতির পিতা ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই দুর্যোগ ঝুঁঁকিহ্রাসে ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’ গ্রহণ করেন, যা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় সেই সময় ১৭২টি উঁচু মাটির কিল্লা তৈরি করেন যা পরবর্তীকালে জনগণ ‘মুজিব কিল্লা’ নামকরণ করেন।  তিনি বলেন, আমরা পূর্বের মুজিব কিল্লাসমূহ সংস্কারসহ নতুন করে আরও ৩৭৮টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল গঠন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করেছে এবং এই আইনের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠন করেছে যা দুর্যোগ মোকাবিলা, ঝুঁকি হ্রাসকরণ ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি, সরকার ২০২১-২০২৫ সাল মেয়াদের জন্য জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।  তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুহারা মানুষের দুর্দশার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে সরকার ২০১৫ সালে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করে এবং জাতীয় রিজিলিয়েন্স পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ও এসডিজি’র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ তাঁর সরকার শুরু করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বন্যা আমাদের আসবেই কাজেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার বা বন্যার সঙ্গে বসবাস করার অভ্যাস আমাদেরকে করতে হবে। বন্যায় মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সম্পদ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেভাবেই আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় আমাদের জলাধার থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ২০২২ সালের মধ্যে ৫১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং গ্রীষ্মকালে সেচের পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার নির্মাণ, ৪ হাজার ৮৮৩ কিলোমিটার খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, সংস্কারসহ নানাবিধ প্রকল্প গ্রহণ করেছি।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ঝুঁঁকিহ্রাসে আমাদের সময়ে সারাদেশে ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ৩২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ৬৪ জেলায় ৬৬টি জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ভূমিকম্প ও নগর এলাকায় রাসায়নিক দুর্যোগসহ অগ্নিœকা- ঝুঁকিহ্রাস ও সাড়াদান কার্যক্রমে নতুন করে আমরা আরও ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর আগে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে ফায়ার সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সহযোগী সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে যথাক্রমে ৬৯ কোটি এবং ২৩৪ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় করেছি।
ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সকে আরো শক্তিশালীকরণে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যেসব বহুতল ভবন হচ্ছে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা যেন সেসব ভবনে মজুদ থাকে। বহুতল ভবন নির্মাণের সময় যেমন তা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি আবার কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে মানুষকে উদ্ধারের সরঞ্জামাদি ও ফায়ার সার্র্ভিসের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরকার সংগ্রহ করছে। তিনি দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে ব্যক্তিগত স্থাপনা তৈরীর সময়ও সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনি ঘর-বাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাই করেন না কেন সেটা করার সময় আপনাকে অগ্নিকান্ড, ঝড়,বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকির কথা মাথায় রাখতে হবে এবং বিল্ডিং কোড মেনেই ভবন তৈরী করতে হবে। বন্যায় অসহায় মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরের জন্য নৌবাহিনীর সহায়তায় ৬০টি মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট তৈরি ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান তিনি। তাঁর সরকারের উদ্যোগে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ফলে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে এবং কমিউনিটি রেডিও ও মিডিয়ার মাধ্যমে দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে আগাম পূর্বাভাষ প্রদানও অব্যাহত রয়েছে। সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না আসলে এসব আর কেউ করতো বলে মনে হয়না। কারণ অন্যদের মানুষের সম্পর্কে কোন দায়বদ্ধতা নেই। আর আওয়ামী লীগের রাজনীতিই হচ্ছে মানুষের জন্য। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা করেও তাঁর সরকারের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালে বিএনপি’র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় গ্লোবাল এডাপটেশন সেন্টারের কার্যালয় স্থাপন করেছি। এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা-দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি এবং এটা প্রত্যেকর কাছে খুব সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি, আমি বিভিন্ন ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসনের বিষয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যেন সহায়তা পায় তা জোড়ালো ভাবে তুলে ধরেছি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের দুর্যোগ প্রশমন কার্যালয় (ইউএনডিআরআর) এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্বাচন করেছে- ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি একসাথে’। আর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে এ বছর জাতীয়ভাবে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মুজিববর্ষের প্রতিশ্রুতি, জোরদার করি দুর্যোগ প্রস্তুতি।’

যতই ঝুঁকি আসুক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
                                  

সকলকে দুর্যোগের ঝুঁকি বিষয়ে সতর্কতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতই ঝুঁকি আসুক দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের, কাজেই যত ঝুঁকি আসুক দেশের উন্নয়ন আমাদেরকে অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। দারিদ্রের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু কন্যা জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবানা’র উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘যত দুর্যোগই আসুক বাঙালিকে, বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবেনা-এটাই হচ্ছে আমাদের কথা।’শেখ হাসিনা আজ সকালে ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’র (সিপিপি) ৫০ বছর পদার্পন ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২১ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত মুল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের অপরপ্রান্তে মুক্তিযোদ্ধা মাঠ কক্সবাজার প্রান্তও সংযুক্ত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাড়াবিশে^ আজকে দুর্যোগ ঝুঁকি মোকবেলায় একটি আদর্শ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমাদের এই সম্মান যাতে বজায় থাকে সেজন্য ভবিষ্যতে সে বিষয়েও সকলকে সচেতন থাকতে হবে এবং এই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি এ সময় ’৯১ সালের ঘুর্ণিঝড়ের পর আওয়ামী লীগের সংসদে এই নিয়ে কথা তোলার প্রেক্ষিতে সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উক্তি ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মারা যায় নাই’ উল্লেখ করে বলেন, এই কথা জীবনে যেন আর শুনতে না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং মানুষকে সচেতন করতে হবে। মদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.মো এনামুর রহমান এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চারটি ইউনিটেরও উদ্বোধন করেন। এগুলো হচ্ছে- দ্রুত সাড়াদান ইউনিট, পানি থেকে উদ্ধার ইউনিট, অতি জোয়ার মনিটরিং ও সাড়াদান ইউনিট এবং খেলায় খেলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ইউনিট (স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক)। এছাড়া, ‘দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি এবং দুর্যোগ প্রশমন বিষয়ক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টা সম্পর্কিত ভিডিও চিত্র ‘দুর্যোগ প্রশমনের ৫০ বছর বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক ভিডিও চিত্র ও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। সিপিপি’র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৩ জন সংগঠক এবং ৬ জন স্বেচ্ছাসেবক নারী-পুরুষকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ডা.এনামুর রহমান অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, তিনবাহিনী প্রধানগণসহ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিক ও মিশন প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সিপিপি’র স্বেচ্ছাসেবকদের দলে নারী স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভূক্ত করায় এই কর্মসূচি অতীতের থেকে আরো বেশি কার্যকর হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকি থেকে যাতে আমরা মুক্ত হতে পারি সেই ব্যবস্থা আমরা সবসময় নেব। জাতির পিতার পদাংক অণুসরণ করে মানুষকে দুর্যোগ নিরাপত্তা প্রদানসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণেও তাঁর সরকার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে যে এগিয়ে যাবে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রেখেই আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়ে গেলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের পাশে আছে। দুর্যোগে আর কেউ না থাকুক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সবসময় পাশে রয়েছে। তিনি এই সময় করেনাকালিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং তাঁর সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করে বলেন, মৃতের দাফন-কাফন থেকে শুরু করে তাঁদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজটা আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যেমন করেছি তেমনি দলের পক্ষ থেকেও করেছি । তবে, আর কাউকেই এভাবে এগিয়ে আসতে আমি দেখি নাই।  জাতির পিতা ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই দুর্যোগ ঝুঁঁকিহ্রাসে ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’ গ্রহণ করেন, যা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় সেই সময় ১৭২টি উঁচু মাটির কিল্লা তৈরি করেন যা পরবর্তীকালে জনগণ ‘মুজিব কিল্লা’ নামকরণ করেন।  তিনি বলেন, আমরা পূর্বের মুজিব কিল্লাসমূহ সংস্কারসহ নতুন করে আরও ৩৭৮টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল গঠন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করেছে এবং এই আইনের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠন করেছে যা দুর্যোগ মোকাবিলা, ঝুঁকি হ্রাসকরণ ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি, সরকার ২০২১-২০২৫ সাল মেয়াদের জন্য জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।  তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুহারা মানুষের দুর্দশার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে সরকার ২০১৫ সালে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করে এবং জাতীয় রিজিলিয়েন্স পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ও এসডিজি’র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ তাঁর সরকার শুরু করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বন্যা আমাদের আসবেই কাজেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার বা বন্যার সঙ্গে বসবাস করার অভ্যাস আমাদেরকে করতে হবে। বন্যায় মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সম্পদ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেভাবেই আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় আমাদের জলাধার থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ২০২২ সালের মধ্যে ৫১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং গ্রীষ্মকালে সেচের পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার নির্মাণ, ৪ হাজার ৮৮৩ কিলোমিটার খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, সংস্কারসহ নানাবিধ প্রকল্প গ্রহণ করেছি।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ঝুঁঁকিহ্রাসে আমাদের সময়ে সারাদেশে ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ৩২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ৬৪ জেলায় ৬৬টি জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ভূমিকম্প ও নগর এলাকায় রাসায়নিক দুর্যোগসহ অগ্নিœকা- ঝুঁকিহ্রাস ও সাড়াদান কার্যক্রমে নতুন করে আমরা আরও ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর আগে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে ফায়ার সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সহযোগী সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে যথাক্রমে ৬৯ কোটি এবং ২৩৪ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় করেছি।
ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সকে আরো শক্তিশালীকরণে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যেসব বহুতল ভবন হচ্ছে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা যেন সেসব ভবনে মজুদ থাকে। বহুতল ভবন নির্মাণের সময় যেমন তা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি আবার কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে মানুষকে উদ্ধারের সরঞ্জামাদি ও ফায়ার সার্র্ভিসের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরকার সংগ্রহ করছে। তিনি দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে ব্যক্তিগত স্থাপনা তৈরীর সময়ও সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনি ঘর-বাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাই করেন না কেন সেটা করার সময় আপনাকে অগ্নিকান্ড, ঝড়,বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ঝুঁকির কথা মাথায় রাখতে হবে এবং বিল্ডিং কোড মেনেই ভবন তৈরী করতে হবে। বন্যায় অসহায় মানুষ ও গৃহপালিত পশুপাখি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরের জন্য নৌবাহিনীর সহায়তায় ৬০টি মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট তৈরি ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান তিনি। তাঁর সরকারের উদ্যোগে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ফলে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে এবং কমিউনিটি রেডিও ও মিডিয়ার মাধ্যমে দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে আগাম পূর্বাভাষ প্রদানও অব্যাহত রয়েছে। সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না আসলে এসব আর কেউ করতো বলে মনে হয়না। কারণ অন্যদের মানুষের সম্পর্কে কোন দায়বদ্ধতা নেই। আর আওয়ামী লীগের রাজনীতিই হচ্ছে মানুষের জন্য। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা করেও তাঁর সরকারের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালে বিএনপি’র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় গ্লোবাল এডাপটেশন সেন্টারের কার্যালয় স্থাপন করেছি। এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা-দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি এবং এটা প্রত্যেকর কাছে খুব সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি, আমি বিভিন্ন ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসনের বিষয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যেন সহায়তা পায় তা জোড়ালো ভাবে তুলে ধরেছি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের দুর্যোগ প্রশমন কার্যালয় (ইউএনডিআরআর) এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্বাচন করেছে- ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি একসাথে’। আর আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে এ বছর জাতীয়ভাবে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মুজিববর্ষের প্রতিশ্রুতি, জোরদার করি দুর্যোগ প্রস্তুতি।’

গণপরিবহনে মাস্ক পরায় অনীহা, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
                                  

 

 

গত ১১ আগস্ট থেকে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। স্বাভাবিক সময়ের ভাড়ায় ফিরে এসেছে গণপরিবহন। তবে পরিবহন চললেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ‘দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না’ এ মর্মে নির্দেশনা দিয়েছিল।বিআরটিএর সে নির্দেশনা এখন শুধু কাগজে-কলমে। প্রায় প্রতিটি পরিবহনেই নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। ভাড়া কম না নিলেও দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া বন্ধ হয়নি।

অন্যদিকে গণপরিবহনে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। বাসগুলোতে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া হচ্ছে। আবার অধিকাংশ যাত্রী মাস্ক পরলেও বেশিরভাগই মাস্ক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি মানছেন না। তারা থুতনিতে রাখছেন মাস্ক, কেউ কেউ নাক বাদ দিয়ে শুধু মুখ ঢেকে রেখেছেন। যাত্রীদের একটি অংশ আবার মাস্কবিহীন চলাচল করছেন।

 

সোমবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, মালিবাগ, রামপুরা, বাসাবো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেক জায়গায় দেখা যায়, বাসচালক মাস্ক ব্যবহার করলেও তার সহকারীর মাস্ক নেই। যাত্রীদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করলেও সেগুলো রেখেছেন শুধু থুতনিতে।

তুরাগ পরিবহনের হেলপার সুমন বলেন, ‘মাস্ক পরলে যাত্রীরা কথা শুনতে পান না। আমরা সারাক্ষণ কথা বলি, তাই মাস্ক দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না।’

 

রাইদা পরিবহনের হেলপার শফিক মাস্ক ছাড়াই যাত্রী সেবায় নিয়োজিত। তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরা ভালো তবে এতে অসুবিধাও আছে। আমার কথা যাত্রীরা শুনতে পান না। তাছাড়া অনেক যাত্রীও আর মাস্ক পরছেন না।’

 

তবে যাত্রীদের একটা বড় অংশই মাস্ক ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে কথা হয় নূর-এ মক্কা পরিবহনের যাত্রী সুলাইমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতি এখননো ভালো অবস্থায় আসেনি। এ অবস্থায় আমরা সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’

মাস্ক ব্যবহারে অনীহা এমন যাত্রীদের সংখ্যাও কম না। তাদের একজন জয়নাল আবেদিন। রাইদা পরিবহনযোগে কমলাপুর যাবেন। তিনি বলেন, ‘এখন পরিবেশ ভালো দেখেই সরকার সব চালু করেছে। তবে মাস্ক পরলে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। দম বন্ধ হয়ে মারা যাবার মতো অবস্থা তৈরি হয়। তবে ওইটা পরতে পারলে ভালো।’

অপরদিকে রাস্তায় চলাচলরত পথচারীদের বেশিরভাগই মাস্ক ছাড়া দেখা গেছে। একই অবস্থা তৈরি হয়েছে পাড়া-মহল্লায় বসা অস্থায়ী ছোট ছোট বাজারগুলোতেও। সেখানেও নেই স্বাস্থ্যবিধি, মাস্ক ছাড়াই নিত্যপণ্য কেনাকাটা করছেন সবাই।

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২০১ জনের মৃত্যু
                                  

মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ হাজার ৫৯৩ জনে। তাদের মধ্যে ১১৯ জন পুরুষ ও ৮২ জন নারী। মোট মৃত ২০১ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬৫ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ২৩ জন, বাসায় ১২ জন ও হাসপাতালে মৃত অবস্থায় একজনকে আনা হয়। এই সময়ে এই ভাইরাসের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৬২ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ জনে। বুধবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ৬০৫টি ল্যাবরেটরিতে ৩৭ হাজার ১৪৭টি নমুনা সংগ্রহ ও ৩৫ হাজার ৬৩৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৬৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৩২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৪ দশমিক শূন্য ৩১ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন পাঁচ হাজার ৯৮৭ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা আট লাখ ৫০ হাজার ৫০২ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৮৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২০১ জনের মধ্যে বয়সের হিসেবে দশোর্ধ্ব একজন, বিশোর্ধ্ব চারজন, ত্রিশোর্ধ্ব ৯ জন, চল্লিশোর্ধ্ব ২৫ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৪৭ জন ও ষাটোর্ধ্ব ১১৫ জন রয়েছেন। বিভাগওয়ারী হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে ৫৮ জন, চট্টগ্রামে ২১ জন, রাজশাহীতে ১৮ জন, খুলনায় ৬৬ জন, বরিশালে সাতজন, সিলেটে ৯ জন, রংপুরে ১৪ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে আটজনের মৃত্যু হয়। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
                                  

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৩ এবং নারী ১১ জন। এর মধ্যে ৩ জন বাসায় এবং বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ হাজার ৫৮৩ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৪৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাত লাখ ৯৮ হাজার ৮৩০ জনে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৪১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ ও ১৪ হাজার ২৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৫টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হন ১ হাজার ৩৯৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮, চট্টগ্রামে ১২, রাজশাহীতে ৩, খুলনায় ৬, বরিশালে ১, সিলেটে ২ এবং রংপুরে ২ মারা গেছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৩৪ জনের মধ্যে বিশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুইজন, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন এবং ষাটোর্ধ্ব ২১ জন রয়েছেন। রোববার (৩০ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ২২ জনের মৃত্যু শনাক্ত ১২৯২ জন ।
                                  

মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ২২ জন। আর এ সময়ে নতুন করে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে আরো ১ হাজার ২৯২ জনের শরীরে। এ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ হাজার ৪৮০ জনে। আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫৮ জন। করোনাভাইরাস নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরো ১ হাজার ২৯১ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৫৭ জন। এর আগে বুধবার দেশে আরো ১ হাজার ৪৯৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান ১৭ জন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৭ টি উপজেলা
                                  

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মোঃ এনামুর রহমান বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ভারতের উপকূল অতিক্রম শুরু করার প্রভাব থেকে বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ মুক্ত । তবে ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় ৯ জেলার ২৭ উপজেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আজ বুধবার ( ২৬ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সার্বিক ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ।

 আজ সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি এখনও অতিক্রম করছে, আশা করি বিকেল পর্যন্ত এটি উড়িষ্যা অতিক্রম করবে । এতে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২৭টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, শরণখোলা, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, মঠবাড়ীয়া, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, ভোলা সদর, হাতিয়া, রামগতি ও কমলনগর।প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকদের অনকূলে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ বরাদ্দ দেয়া আছে। এছাড়াও আজ ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় ৯টি জেলার ২৭টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দিতে ১৬ হজার ৫০০ শুকনা ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় জেলা, উপজেলাসমূহে ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য আদান-প্রদানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে । দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এনডিআরসিসি (জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র) ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদানে সার্বক্ষণিক কাজ করেছে ।এনামুর রহমান বলেন, ‘উপকুলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আনসার ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। ঝড় আঘাত হানলে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত ছিল । মানবিক সহায়তার যথেষ্ট সংস্থান আগে থেকেই করা ছিল। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার জন্য যথেষ্ট মাস্ক এবং স্বাস্থ্য উপকরণ নিশ্চিত করা হয়েছিল।

পটুয়াখালী: জোয়ারের পানি বেড়েছে তবে বিপদসীমার নিচে আছে। গতকাল সন্ধ্যায় ১৭২টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৪ হাজার লোক আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। আজ সকালে তারা ফিরে গেছে। এসব লোকজন জোয়ারের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে আসে এবং ভাটার সময় নিজ নিজ বাড়ীতে চলে যায়। সামান্য ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা: বর্তমানে আবহাওয়া স্বাভাবিক। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট বেশি রয়েছে। কোন কোন জায়গায় বেড়ি বাঁধ উপচিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। জেলায় এক হাজার ২৯২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। গত রাতে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ২৮০ জন লোক আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। বর্তমানে তারা নিজ নিজ বাড়ীতে চলে গেছে।

বরগুনা: বর্তমানে আকাশ মেঘলা রয়েছে এবং জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বেশী বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়ীবাঁধের কয়েক জায়গায় কিছু অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।। আশ্রয়কেন্দ্রে ৫২০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছিল, পরে তারা নিজ বাড়ীতে ফিরে গেছেন। সামান্য ঝোড়ো বৃষ্টি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ঝালকাঠি: জেলায় মোট ৪৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। ৪৯৭ জন লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। জোয়ারের পানির উচ্চতা বিপদসীমার উপরে রয়েছে। কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

পিরোজপুর: মঠবাড়ীয়া উপজেলার মাঝের চর বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় ১০/১২টি মাছের ঘের এবং কয়েক একর সবজি বাগান পানির নিচে চলে গেছে। মাঝের চর আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা থেকে শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিক অবস্থা থেকে ৩ ফুট উপরে উঠেছে। ২৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

বরিশাল: আবহাওয়া স্বাভাবিক। এক হাজার ৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। কোন লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেনি। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি রয়েছে। কোন ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।

ভোলা: জেলার ঝোড়ো হাওয়া হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া স্বাভাবিক। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২/৩ ফুট উপরে উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে নেমে গেছে। দুর্গম চরে প্রায় ২৫০টি কাঁচা ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জোয়ারের পানিতে ৯০০ গরু/মহিষ ভেসে গেছে। ৬৯১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছিল, তবে বর্তমানে এসব লোকজন নিজ নিজ বাড়ী ঘরে ফিরে যাচ্ছে।

বাগেরহাট: জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা উপজেলার ২০/২১টি গ্রামে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। এতে ২ হাজার ৭০০ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা হিসেবে শুকনা খাবার (চিড়া, গুড় ও খাবার স্যালাইন) সরবরাহের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সকাল থেকে রোদ ছিল। বর্তমানে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক।

চাঁদপুর: জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারী রাখছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিছু ছিন্নমূল মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলাওয়ারী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পানি উচ্চতা স্বাভাবিক। সামান্য ঝোড়ো হাওয়া বইছে।

লক্ষ্মীপুর: জেলার রামগতি, কমলগঞ্জ উপজেলার নিচু এলাকায় সামান্য জোয়ারের পানি উঠেছে। কিছু রাস্তাঘাট, ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে কোন লোক আশ্রয় গ্রহণ করেনি। সামান্য ঝড়/বৃষ্টি রয়েছে।

খুলনা: জেলায় মোট এক হাজার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে কোন লোক আশ্রয় গ্রহণ করেনি। ঝোড়ো হাওয়া আছে। জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক আছে।

ফেনী: আবহাওয়া স্বাভাবিক, কোন সমস্যা নাই। জোয়ার পানি স্বাভাবিক। ঝোড়ো হাওয়া নাই। গতকাল ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবে একজন মারা গেছে। ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, কিন্তু কোন লোক আশ্রয় গ্রহণ করেনি।

চট্টগ্রাম: জোয়ারের পানি বাড়ছে। বর্তমানে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবহিত হচ্ছে। জেলার মোট ৮৩৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কোন লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়নি। ক্ষয়ক্ষতির কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী: ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর কারণে জেলায় মোট ৩৯০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এ সব আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৩০০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছিল। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ফুট উপরে উঠেছিল। জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চলের বাড়ী ঘরে পানি উঠেছে। কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

দেশে করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৪৯৭ জন
                                  

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১০ জন ও নারী সাতজন। ১৭ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১১ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৬ জন মারা যান। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ হাজার ৪৫৮ জনে। এই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৯৭ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হলো সাত লাখ ৯৩ হাজার ৬৯৩ জন। বুধবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ৪৮৬টি ল্যাবরেটরিতে ১৬ হাজার ৩৪২টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৬ হাজার ৪৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৩৫৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ৯ দশমিক ১১ শতাংশ। এ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৫৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর সংখ্যা সাত লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৬ জন। সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় ত্রিশোর্ধ একজন, চল্লিশোর্ধ একজন, পঞ্চাশোর্ধ চারজন ও ষাটোর্ধ্ব ১১ জন মারা যান। বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুসারে ঢাকা বিভাগে পাঁচজন, চট্টগ্রামে আটজন, বরিশালে একজন, খুলনায় একজন, সিলেটে একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন মারা যান। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু
                                  

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিন দিন আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার নাম পরিচয় জানানো হয়নি। বারডেম হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত অপর একজন রোগী এখনো বারডেম হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শনাক্ত হওয়া আরেকজন রোগী অন্যত্র চলে গেছেন। অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন জানান, ভর্তি থাকা রোগীর অবস্থা শঙ্কাজনক নয়। তাকে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। ওষুধের দাম অনেক বেশি। তাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার কর্মকর্তাদের সাথে ওষুধের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিন দিন আগে ৬৫ বছর বয়সী একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বারডেমে। এই রোগীর অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিস ছিল। তার কিডনির সমস্যাও ছিল। তিনি কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছিলেন। চিকিৎসার সময় বোঝা যায়নি যে, তিনি মিউকোরমাইকোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর পর এটা জানা গেছে। অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে বারডেম হাসপাতালের একটি কেবিনে ৫৫ বছর বয়সী ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হওয়া রোগীটির চিকিৎসা চলছে। রোগীর বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। প্রায় এক মাস আগে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি যান। কিন্তু আবার জ্বর দেখা দিলে তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বারডেমে নেয়া হয়। অধ্যাপক এম দেলোয়ার হোসেন জানান, এই রোগী চার-পাঁচ বছর ধরে ডায়বেটিসে ভুগছেন। এরপর তিনি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। জ্বর ও কাশি কমে না যাওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে যক্ষ্মার ওষুধও দিয়েছেন। এখন দেখা যাচ্ছে, তিনি মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত। অণুজীববিজ্ঞানী বলছেন, মিউকোরমাইকোসিস নতুন কোনো ছত্রাক নয়। এই ছত্রাক পরিবেশেই আছে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের এই ছত্রাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কারা আক্রান্ত হতে পারেন এমন প্রশ্নে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিস থাকে তাদের ঝুঁকি বেশি। আবার স্টেরয়েড গ্রহণ করা কোনো কোনো ব্যক্তিও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। ভারতে মিউকরমাইকোসিস বা ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন এই ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হয়েছে।

করোনায় দেশে আরও ২৫ জনের মৃত্যু
                                  

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৪১ জন। এর আগে রবিবার (২৩ মে) দেশে করোনায় ২৮ জন মারা যান এবং ১ হাজার ৩৫৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া ২২ মে দেশে করোনায় ৩৮ জন মারা যান এবং ১ হাজার ২৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এর আগের দিন ২১ মে দেশে করোনায় ২৬ জন মারা যান। আর নতুন করে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৫০৪ জন। সে তুলনায় আজ করোনায় মৃত্যু আরও কমেছে। সোমবার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যেখানে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জনের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৪০১ জনের। এছাড়া দেশে এ পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ৮৩৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৩১ জন। ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৩৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৩টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী। এদের ২৩ জন হাসপাতালে মারা গেছেন আর ২ জন বাসায় মারা গেছেন । বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৩ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন মারা গেছেন।

পোলার্ড বা রাসেল নই, আমি মুশফিক
                                  

দল যখন ভীষণ চাপে তখন মাঠে নেমেছিলেন মুশফিক। দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে দুটি দিক থেকে। এক, উইকেট রাখতে হয়েছে অক্ষত, দুই, রানের চাকা সচল রাখা। দুটিতে সমন্বয় করেছেন ভালোমতো। খেলেছেন ৮৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। বল খরচ করেছেন ৮৭টি। একটু ধীর গতির ইনিংস বলতে পারেন অনেকে। মুশফিক মনে করেন তিনি বিগ হিটার নন, দ্রুত রান তোলার পথ তাকেই আবিষ্কার করতে হয়। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৩ রানের জয়ের পর ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আমি বিশালদেহী কেউ নই, সহজে বাউন্ডারি মারতে পারি না। আমি পোলার্ড বা রাসেল নই। নিজের শক্তির জায়গায় থাকার চেষ্টা করি। কন্ডিশনও আমাকে সুযোগ দেয়নি খুব বেশি বাউন্ডারি মারার। তাই সময় নিয়েছি, আস্তে আস্তে রান বাড়িয়েছি। একটা প্রান্ত নিরাপদ রাখতেও হতো আমাকে। সেটা করেছি। রিয়াদ ভাইও সঙ্গ দিয়েছেন। আফিফ ও সাইফের ফিনিশিং টাচ ছিল দুর্দান্ত। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েই তিনি ব্যাট করার চেষ্টা করেছেন। মিরপুরের উইকেট ব্যাট করা খুব সহজ ছিল না বলেও জানান তিনি, ‘ব্যাটিংয়ের জন্য এই উইকেট খুব সহজ নয়। শুরুতে লিটন ও সাকিবকে হারিয়ে আমরা একটু চাপে ছিলাম। তবে তামিম ওই সময় খুব ভালো ব্যাট করেছে, যে কারণে আমি সময় নিয়ে এগিয়ে যেতে পেরেছি। রিয়াদ ভাইও খুব ভালো ব্যাট করেছেন। সব মিলিয়ে এটা ভালো ম্যাচ ছিল, কারণ লম্বা সময় পর আমরা ঘরের মাঠে ওয়ানডে ম্যাচ খেলছি। কন্ডিশনও ছিল প্রতিকূলে। প্রচণ্ড গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন ছিল ব্যাটসম্যানদের। তার মতে, ‘সত্যি বলতে, এটা ক্রিকেটের জন্য আদর্শ কন্ডিশন নয়। শুধু গরমই নয়, ভেতর থেকে অনেক কিছুই শুষে নেয় এটা। প্রচণ্ড আর্দ্রতা, অনেক ঘাম ঝরে। প্রতিটি বলে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। তবে আমাদের ক্রিকেটারদের কৃতিত্ব, তারা খুব ভালো সামলেছে। বিশেষ করে বোলাররা। মিরাজ অসাধারণ ছিল, মোস্তাফিজ ও সাকিবও সঙ্গ দিয়েছে তাকে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সম্ভাব্য গতিপথ
                                  

আবহাওয়া অধিদফতর জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ বর্তমান গতিপথ না বদলালে বাংলাদেশে আঘাত হানবে না। তবে এর প্রভাবে সুন্দরবন এলাকায় মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হতে পারে। গভীর নিম্নচাপ থেকে সোমবার ভোরে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর পূর্বে ঠিক করা তালিকা অনুযায়ী এটির নাম হয় ইয়াস। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপের তালিকা অনুযায়ী এই নামটি প্রস্তাব করেছিল ওমান। এর অর্থ ‘হতাশা’। আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, আরো শক্তি সঞ্চয় না করলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে এটাকে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ই বলা চলে এবং এটি মারাত্মক আকার ধরার সম্ভাবনাও নাই। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের বর্তমান গতিপথ উড়িষ্যা ও কলকাতার মাঝামাঝি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মাঝে মাঝেই গতিপথ পরিবর্তন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বর্তমানে উড়িষ্যার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিতে এগিয়ে যেতে পারে। শনিবার উত্তর আন্দামান সাগর এবং আশেপাশের এলাকায় ওই লঘুচাপের তৈরি হয়। পরে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং আরো শক্তি সঞ্চয় করে সোমবার সকাল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় ইয়াস। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ০২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। একই সাথে তাদেরকে গভীর সাগরে না যাওয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। বাংলাদেশে আম্পানে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক হিসাবে সাড়ে এগারোশ কোটি টাকা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি হিসাবে অন্তত ৭২ জন আর বাংলাদেশে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ২৮, শনাক্ত ১৩৫৪
                                  

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৭৬ জনে। এছাড়াও একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৩৫৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮০ জনে। আজ রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে করোনা শনাক্তের রেকর্ড, আরও ৪৫ জনের মৃত্যু
                                  

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ মাসের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ নিয়ে দেশে পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ৫ হাজার ১৮১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা দেশে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯৫ জন। দেশে ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ১৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সোমবার দুপুরে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৩৮ হাজার ১৮ জন হয়েছে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনার বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই ৩১ মে থেকে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে বেশ কয়েক ধাপ বাড়ানোর পর আগামী ২২ মে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। 

একদিনে ৩৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৯০৮
                                  

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ ও নারী ১৪ জন। এ নিয়ে দেশে এ মহামারিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯০৪ জনে। একই সময়ে করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৯০৮ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৪ জনে। রোববার (২৮ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ৪২৫টি নমুনা সংগ্রহ ও ২২ হাজার ১৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩০টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। একই সময়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ১১৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪১ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব ছয়জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন এবং ষাটোর্ধ্ব ২১ জন। বিভাগওয়ারী হিসাবে দেখা গেছে, করোনায় মৃত ৩৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রামে দুজন, রাজশাহীতে দুজন, খুলনায় একজন এবং বরিশাল বিভাগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও ৩৪ মৃত্যু, টানা তৃতীয়দিনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শনাক্ত
                                  

দেশে টানা তৃতীয়দিনের মতো সাড়ে তিনহাজারেরও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন তিন হাজার ৫৮৭ জন রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল আট হাজার ৭৯৭ জনে। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ফের শনাক্ত সাড়ে ৩ হাজারের ওপরে, মৃত্যু ২৫
                                  

করোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৭০২টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন তিন হাজার ৫৬৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে তিন হাজার ৫৫৪ জন ও দুই হাজার ৮০৯ জন। গতকাল ১৮ জনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ২৫। বুধবার (২৪ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।


   Page 1 of 39
     বাংলাদেশ
যতই ঝুঁকি আসুক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
গণপরিবহনে মাস্ক পরায় অনীহা, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
.............................................................................................
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২০১ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৪৪
.............................................................................................
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ২২ জনের মৃত্যু শনাক্ত ১২৯২ জন ।
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৭ টি উপজেলা
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৪৯৭ জন
.............................................................................................
দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় দেশে আরও ২৫ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
পোলার্ড বা রাসেল নই, আমি মুশফিক
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সম্ভাব্য গতিপথ
.............................................................................................
২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ২৮, শনাক্ত ১৩৫৪
.............................................................................................
দেশে করোনা শনাক্তের রেকর্ড, আরও ৪৫ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
একদিনে ৩৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৯০৮
.............................................................................................
আরও ৩৪ মৃত্যু, টানা তৃতীয়দিনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শনাক্ত
.............................................................................................
ফের শনাক্ত সাড়ে ৩ হাজারের ওপরে, মৃত্যু ২৫
.............................................................................................
সাড়ে আট মাস পর করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত
.............................................................................................
আড়াই মাস পর করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় মৃত্যু ১৮ জনের, শনাক্ত ১১৫৯
.............................................................................................
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো করোনা শনাক্ত আরো বেশি
.............................................................................................
দেশে করোনা ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৮
.............................................................................................
করোনাতে মৃত্যু ১৩, শনাক্ত ৪৮৫
.............................................................................................
করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫২৮
.............................................................................................
করোনায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৭৮
.............................................................................................
প্রত্যাশা নতুন বছরে
.............................................................................................
২৪ ঘণ্টায় ২৪ মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় প্রাণ গেলো আরও ১৭ জনের, শনাক্ত ১৩১৮
.............................................................................................
করোনায় মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত ২১৯৮
.............................................................................................
করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৩১৬
.............................................................................................
জাতিসংঘে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বজায় রাখতে বাংলাদেশের আহ্বান
.............................................................................................
বাংলাদেশ উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশন জাতিসংঘে গৃহীত
.............................................................................................
করোনায় প্রাণ গেলো আরও ৩৮ জনের, শনাক্ত ২১৯৮
.............................................................................................
মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যা: আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
.............................................................................................
আগামী সপ্তাহ থেকে ফাইজারের টিকা ব্যবহার করবে যুক্তরাজ্য
.............................................................................................
ডাচ-বাংলা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ
.............................................................................................
দু`টি এয়ারলাইন্স মানবপাচারে জড়িত: সিআইডি
.............................................................................................
করোনায় আরও ৩১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৯৩
.............................................................................................
করোনার প্রাথমিক লক্ষণ নাকে
.............................................................................................
নারী নির্যাতনকারীদের দলে আশ্রয় দেবেন না
.............................................................................................
আমৃত্যু উল্লেখ না থাকলে যাবজ্জীবন অর্থ ৩০ বছর কারাদণ্ড: আপিল বিভাগ
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, শনাক্ত ২৫২৫
.............................................................................................
‘সরকার দ্রব্যমূল‌্যের ঊর্ধ্বগতি পরোয়া করে না’
.............................................................................................
রোববার বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
.............................................................................................
করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৮
.............................................................................................
ম্যারাডোনার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
.............................................................................................
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
এবার পুড়লো কালশীর বস্তি
.............................................................................................
ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের
.............................................................................................
পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিশ
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শুরু হচ্ছে আজ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD