|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : *  কাগজ সংকটে বন্ধ ছাপানো, শিক্ষার্থীদের বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা   *  ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প : ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা বহু   *  পুলিশের মুখে স্প্রে করে আসামি ছিনতাই: মামলার তদন্তে সিটিটিসি   * বিদ্যুতের দাম বাড়ছেই, ঘোষণা দুপুরে   * গ্যাস সংকটে বড় ক্ষতির মুখে সিরামিক খাত   *  অর্ধশত শিল্প ও অবকাঠামো উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   *   ঢাবির ৫৩তম সমাবর্তন আজ   * গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণায় মুখর ঢাকা কলেজ   * ৮০ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন দুদকের শরীফ   * প্রবাসীদের এনআইডি বিতরণ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-ইসি ‘রেষারেষি’  

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
 কাগজ সংকটে বন্ধ ছাপানো, শিক্ষার্থীদের বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আমদানি খরচ বাড়ায় কাগজের মিলগুলোতে কাঁচামাল সংকট। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে উৎপাদন। অগ্রিম অর্ডারের টাকাও ফেরত দিচ্ছেন তারা। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রেস মালিকরা। তারা কাগজ সংকটে কার্যাদেশ পেয়েও বই ছাপাতে পারছেন না। বেশি পিছিয়ে প্রাথমিকের বই ছাপানো। তবে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলছেন, প্রেস মালিকরা বুঝেশুনেই দরপত্র দিয়ে কাজ নিয়েছেন। যেভাবেই হোক তারা বই দেবেন। সঠিক সময়ে বই দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুদ্রণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, আগামী বছরের জন্য এনসিটিবি এবার মোট ৩৩ কোটি ২৮ লাখ বই ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তার মধ্যে ১০ লাখ প্রাথমিকের বই রয়েছে। বাকিগুলো মাধ্যমিক পর্যায়ের (কারিগরি ও মাদরাসাসহ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বই), ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ব্রেইল বই রয়েছে। তিন মাস আগে কাগজ মিলে টাকা দিয়েও এখনো কাগজ পাচ্ছেন না প্রেস মালিকরা। সে কারণে প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ও ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির নতুন কারিকুলামের বই ছাপার কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকের তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির দরপত্র আগে হওয়ায় এ পর্যন্ত দেড় কোটির মতো বই পাঠানো সম্ভব হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের সাত কোটির মতো বই হয়েছে। তার মধ্যে এ পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পাঁচ কোটি বই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার মাতুয়াইল ফাহিম প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স পাঁচ লটে মাধ্যমিকের প্রায় ১২ লাখ আর প্রাথমিকের তিনটি লটে প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির প্রায় ১৪ লাখ বই ছাপার কার্যাদেশ পায়। এর মধ্যে মাধ্যমিকের ৬০ শতাংশ বই ছাপানো সম্ভব হলেও প্রাথমিকের বই ছাপানোর কাজ শুরু করেনি।
এ প্রতিষ্ঠানের মালিক শামসুল ইসলাম বাহার জাগো নিউজকে বলেন, গত তিন মাস আগে কাগজ মিলে অগ্রিম টাকা দিলেও এখনো তারা কাগজ দিচ্ছে না। এখন টাকা ফেরত দিচ্ছে চাচ্ছে। কাগজ না পাওয়ায় আমরা প্রাথমিকের বই ছাপানো শুরু করতে পারছি না।
তিনি বলেন, একদিকে এনসিটিবি কার্যাদেশ দিতে দেরি করেছে, তার ওপর কবে কাগজ পাওয়া যাবে সেটিও অনিশ্চিত হওয়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে কাজ বন্ধ রেখেছি। এ বিষয়ে এনসিটিবির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো সহযোগিতা করছে না। কাগজ সরবরাহ করতে না পেরে মিল বন্ধ রাখা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর মৌসুমী অফসেট প্রেসের মালিক মো. নজরুল ইসলাম কাজল জাগো নিউজকে বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির সাতটি লটে পাঁচ লাখ আর প্রাথমিকের প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির পাঁচ লটে ১২ লাখ বইয়ের কার্যাদেশ পেলেও কাগজ না পাওয়ায় বই ছাপানোর কাজ শুরু করতে পারিনি।
‘কাগজ তৈরিতে বিদেশ থেকে পাল্প আমদানি করতে হয়। ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দর ও সংকটের কারণে এর দাম দুই গুণ বেড়ে গেছে। সে কারণে দেশের ৯৮ শতাংশ কাগজ মিল বন্ধ রাখা হয়েছে। তার ওপর বই তৈরিতে কালি, কেমিক্যালসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এবার মুনাফা তো দূরের কথা, লস দিয়েও কাগজ ও কাঁচামাল সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রেসের কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
জানতে চাইলে মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে কাগজ নেই। ডলারের দাম দেড়গুণ হয়ে যাওয়ায় কাগজ মিল মালিকদের কাগজ তৈরিতে আমদানি করা পাল্পের জন্য দেড়গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণে বন্ধ রয়েছে কাগজ উৎপাদন। কাগজ না পেয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রাথমিকের বই ছাপানোও বন্ধ।
তিনি বলেন, মাধ্যমিকের দরপত্র আগে হওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ বই তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকের পাঁচ শতাংশ বইও ছাপা হয়নি। প্রেস মালিকরা তিন-চার মাস আগে কাগজের জন্য বুকিং দিলেও বর্তমানে সে দরে কাগজ সরবরাহ করতে না পেরে অধিকাংশ কাগজ মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা কবে বই পাবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত বছর জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে দুই-তিনটি বই তুলে দেওয়া সম্ভব হলেও এবার অধিকাংশ উপজেলায় বই পাঠানো সম্ভব হবে না।
কাগজ সংকট ও প্রাথমিকের বই নিয়ে জটিলতা তৈরির বিষয়টি স্বীকার করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, কাগজ সংকটের জন্য প্রাথমিকের বই ছাপানো বন্ধ রাখা হয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমি মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) কয়েকটি প্রেস পরিদর্শন করেছি। প্রেস মালিকরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। পরে দুপুরে প্রকাশনা মালিকদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। সর্তক করে দেওয়া হয়েছে তাদের। দরপত্র অনুযায়ী সব বই নির্ধারিত সময়ে দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রেস মালিকদের পা ধরে আর তেল মাখিয়ে কাজ করাবো না। তাদের সঙ্গে দরপত্রে যে চুক্তি হয়েছে সে মোতাবেক আমাদের সময়মতো বই দিতে হবে। তারা বুঝেশুনে টেন্ডারে আবেদন জমা দিয়েছেন। নিয়ম মোতাবেক তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয় তবে জরিমানাসহ প্রেস মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 কাগজ সংকটে বন্ধ ছাপানো, শিক্ষার্থীদের বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
                                  

নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আমদানি খরচ বাড়ায় কাগজের মিলগুলোতে কাঁচামাল সংকট। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে উৎপাদন। অগ্রিম অর্ডারের টাকাও ফেরত দিচ্ছেন তারা। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রেস মালিকরা। তারা কাগজ সংকটে কার্যাদেশ পেয়েও বই ছাপাতে পারছেন না। বেশি পিছিয়ে প্রাথমিকের বই ছাপানো। তবে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলছেন, প্রেস মালিকরা বুঝেশুনেই দরপত্র দিয়ে কাজ নিয়েছেন। যেভাবেই হোক তারা বই দেবেন। সঠিক সময়ে বই দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুদ্রণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, আগামী বছরের জন্য এনসিটিবি এবার মোট ৩৩ কোটি ২৮ লাখ বই ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তার মধ্যে ১০ লাখ প্রাথমিকের বই রয়েছে। বাকিগুলো মাধ্যমিক পর্যায়ের (কারিগরি ও মাদরাসাসহ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বই), ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ব্রেইল বই রয়েছে। তিন মাস আগে কাগজ মিলে টাকা দিয়েও এখনো কাগজ পাচ্ছেন না প্রেস মালিকরা। সে কারণে প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ও ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির নতুন কারিকুলামের বই ছাপার কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকের তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির দরপত্র আগে হওয়ায় এ পর্যন্ত দেড় কোটির মতো বই পাঠানো সম্ভব হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের সাত কোটির মতো বই হয়েছে। তার মধ্যে এ পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পাঁচ কোটি বই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার মাতুয়াইল ফাহিম প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স পাঁচ লটে মাধ্যমিকের প্রায় ১২ লাখ আর প্রাথমিকের তিনটি লটে প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির প্রায় ১৪ লাখ বই ছাপার কার্যাদেশ পায়। এর মধ্যে মাধ্যমিকের ৬০ শতাংশ বই ছাপানো সম্ভব হলেও প্রাথমিকের বই ছাপানোর কাজ শুরু করেনি।
এ প্রতিষ্ঠানের মালিক শামসুল ইসলাম বাহার জাগো নিউজকে বলেন, গত তিন মাস আগে কাগজ মিলে অগ্রিম টাকা দিলেও এখনো তারা কাগজ দিচ্ছে না। এখন টাকা ফেরত দিচ্ছে চাচ্ছে। কাগজ না পাওয়ায় আমরা প্রাথমিকের বই ছাপানো শুরু করতে পারছি না।
তিনি বলেন, একদিকে এনসিটিবি কার্যাদেশ দিতে দেরি করেছে, তার ওপর কবে কাগজ পাওয়া যাবে সেটিও অনিশ্চিত হওয়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে কাজ বন্ধ রেখেছি। এ বিষয়ে এনসিটিবির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো সহযোগিতা করছে না। কাগজ সরবরাহ করতে না পেরে মিল বন্ধ রাখা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর মৌসুমী অফসেট প্রেসের মালিক মো. নজরুল ইসলাম কাজল জাগো নিউজকে বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির সাতটি লটে পাঁচ লাখ আর প্রাথমিকের প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির পাঁচ লটে ১২ লাখ বইয়ের কার্যাদেশ পেলেও কাগজ না পাওয়ায় বই ছাপানোর কাজ শুরু করতে পারিনি।
‘কাগজ তৈরিতে বিদেশ থেকে পাল্প আমদানি করতে হয়। ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দর ও সংকটের কারণে এর দাম দুই গুণ বেড়ে গেছে। সে কারণে দেশের ৯৮ শতাংশ কাগজ মিল বন্ধ রাখা হয়েছে। তার ওপর বই তৈরিতে কালি, কেমিক্যালসহ সব ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এবার মুনাফা তো দূরের কথা, লস দিয়েও কাগজ ও কাঁচামাল সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রেসের কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
জানতে চাইলে মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে কাগজ নেই। ডলারের দাম দেড়গুণ হয়ে যাওয়ায় কাগজ মিল মালিকদের কাগজ তৈরিতে আমদানি করা পাল্পের জন্য দেড়গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণে বন্ধ রয়েছে কাগজ উৎপাদন। কাগজ না পেয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রাথমিকের বই ছাপানোও বন্ধ।
তিনি বলেন, মাধ্যমিকের দরপত্র আগে হওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ বই তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকের পাঁচ শতাংশ বইও ছাপা হয়নি। প্রেস মালিকরা তিন-চার মাস আগে কাগজের জন্য বুকিং দিলেও বর্তমানে সে দরে কাগজ সরবরাহ করতে না পেরে অধিকাংশ কাগজ মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা কবে বই পাবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত বছর জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে দুই-তিনটি বই তুলে দেওয়া সম্ভব হলেও এবার অধিকাংশ উপজেলায় বই পাঠানো সম্ভব হবে না।
কাগজ সংকট ও প্রাথমিকের বই নিয়ে জটিলতা তৈরির বিষয়টি স্বীকার করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, কাগজ সংকটের জন্য প্রাথমিকের বই ছাপানো বন্ধ রাখা হয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমি মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) কয়েকটি প্রেস পরিদর্শন করেছি। প্রেস মালিকরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। পরে দুপুরে প্রকাশনা মালিকদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। সর্তক করে দেওয়া হয়েছে তাদের। দরপত্র অনুযায়ী সব বই নির্ধারিত সময়ে দিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রেস মালিকদের পা ধরে আর তেল মাখিয়ে কাজ করাবো না। তাদের সঙ্গে দরপত্রে যে চুক্তি হয়েছে সে মোতাবেক আমাদের সময়মতো বই দিতে হবে। তারা বুঝেশুনে টেন্ডারে আবেদন জমা দিয়েছেন। নিয়ম মোতাবেক তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয় তবে জরিমানাসহ প্রেস মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিদ্যুতের দাম বাড়ছেই, ঘোষণা দুপুরে
                                  

১৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। বিদ্যুতের পাইকারি দাম ঘোষণা সংক্রান্ত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সেদিন সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জালিল জানান, বিদ্যুতের পাইকারি দাম আগেরটাই বহাল রাখা হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ছে না।
সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল আরও বলেন, পিডিবি যে প্রস্তাবনা দিয়েছে তা অস্পষ্ট ছিল। তবে আজকের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তারা রিভিউ আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদেরও নিজেদের সব তথ্য স্পষ্ট ও নতুন করে উত্থাপন করে রিভিউ আবেদন করতে হবে। তারপর আইন যা বলে আমরা সেটিই করবো। এ নিয়ে আরেকটি গণশুনানিও হতে পারে বা সরাসরি বিবেচনায়ও আনা যেতে পারে।
প্রায় ৫ সপ্তাহ পর আজ (২১ নভেম্বর) ফের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বিইআরসি। জানা গেছে, আজ ঘোষণা আসবে দাম বাড়ানোর।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ যখন দিশেহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে পাইকারি পর্যায়ে বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম। এ খবরে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব তৈরি করছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ পাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো। সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। এছাড়া পিডিবির লোকসানের পরিমাণও চলে যাচ্ছিল সীমার বাইরে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গত ১২ জানুয়ারি বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর আবেদন করে। ১৮ মে তাদের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হয়। শুনানিতে বিইআরসির কারিগরি কমিটি ৫৮ শতাংশ দাম বাড়ানোর সুপারিশ করে। প্রায় ৫ মাস পর গত ১৩ অক্টোবর বিইআরসি জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ও যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় পিডিবির আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
এরপর গত ২ নভেম্বর পিডিবি ও বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ৬ নভেম্বর বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকা সফরকারী আইএমএফ প্রতিনিধি দল। এ সময় বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি ও পিডিবির লোকসান নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর কমিশনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করে পিডিবি। সংস্থাটির আবেদন বিবেচনায় নিয়ে নতুন আদেশ দিতে যাচ্ছে কমিশন।
এ বিষয়ে বিইআরসি সদস্য (বিদ্যুৎ) বজলুর রহমান বলেন, যেসব ঘাটতির কারণে পিডিবির প্রস্তাব নাকচ হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছে পিডিবি। বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। তবে পিডিবি যতটুকু চেয়েছে তত বাড়বে না।
এদিকে পাইকারিতে দাম বাড়ানো হচ্ছে- এমন খবরে বিতরণ কোম্পানিগুলোও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন তৈরি করছে। পাইকারি বিদ্যুতের দর কতটুকু বাড়বে, তা ধরেই গ্রাহক পর্যায়ে মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে ৬ বিতরণ কোম্পানি। এসব প্রস্তাবের ওপর শুনানি করে নতুন মূল্য ঘোষণা করবে বিইআরসি।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, পাইকারি মূল্য যে হারে বাড়বে, সে অনুসারে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।
বিইআরসি সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদ্যুতের পাইকারি দর ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিডিবির ১৪-১৫ টাকা খরচ হচ্ছে। তাই দিন দিন লোকসান বাড়ছে সংস্থাটির। পিডিবি জানিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে তাদের লোকসান ছিল ১১ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় লোকসান। চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) লোকসানের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

 অর্ধশত শিল্প ও অবকাঠামো উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
                                  

কর্ণফুলী ড্রাইডক স্পেশাল ইকোনমিক জোনসহ ৫০টি শিল্প ও অবকাঠামোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার (২০ নভেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভার্চুয়ালি ইজেডগুলোতে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
৫০টি শিল্প স্থাপনার মধ্যে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে (বিএসএমএসএন) চারটি কারখানা এবং বেসরকারিভাবে পরিচালিত বিভিন্ন ইজেডে আটটি কারখানা খোলা হয়েছে।
এই শিল্প ইউনিটগুলো ইতোমধ্যেই ডলার ৯৬৭ দশমিক ৭৩ মিলিয়নের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং প্রায় ডলার ৩৩১ দশমিক ২৭ মিলিয়নের আরও বিনিয়োগ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ইজেডে ২৯টি শিল্প ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যেগুলো এখন পর্যন্ত ৬১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং আর ১,৯২২ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিএসএমএসএন, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, শ্রীহট্ট ইজেড এবং সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন করা হয়।
তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএমএসএন-এ ২০-কিলোমিটার শেখ হাসিনা সরণি, ২৩০-কেভিএ গ্রিডলাইন এবং সাবস্টেশন উদ্বোধন করেন এবং প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি) ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পানি শোধনাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ম্যাকডোনাল্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এইগুলোর মধ্যে একটি, প্রিফেব্রিকেটেড স্ট্রাকচারাল স্টিল তৈরি করে, যা ইস্পাত সেতু এবং ইস্পাত উঁচু ভবন, কারখানা এবং পাওয়ার প্ল্যান্টে ব্যবহৃত হয়।
নিপ্পন এবং ম্যাকডোনাল্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড আমদানি করা ইস্পাত, পুরলিন, স্লিটিং শিট এবং কয়েল থেকে এমএস প্লেট উৎপাদন করে। এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, যেটি পেইন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য, ইমালসন উৎপাদন করে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পিএইচসি পাইল প্রস্তুতকারক সমুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, ৮ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে ৪-একর জমিতে তাদের কারখানা নির্মাণ করছে।
আগামী ৬ ডিসেম্বর জাপানিজ ইকোনমিক জোন উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রামে বিএসএমএসএন প্রান্ত থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। অনুষ্ঠানে বেজার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
শিল্প, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পশ্চাৎপদ ও অনুন্নত অঞ্চলসহ বাংলাদেশের সব সম্ভাব্য এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বেজার।
পরিকল্পিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে, সরকার ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে ২৮টি বর্তমানে উন্নয়নাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত, ১২টি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনার লাইসেন্স পেয়েছে এবং এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলিতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে এটি বার্ষিক ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ট্যাক্স হলিডে, এবং কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা পেতে পারেন।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো জাপান, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং নরওয়ে সহ বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেছে।

৮০ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন দুদকের শরীফ
                                  

এয়ারলাইন্স কোম্পানির দুই লাখ টাকা বেতনের চাকরির অফার ফিরিয়ে দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চাকরি হারানো মো. শরীফ উদ্দিন। তিনি যোগ দিচ্ছেন একটি বেসরকারি ভেটেরিনারি মেডিসিন ফার্মে। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব টেকনোলজিস্ট পদে নিয়োগ পেয়েছেন। বেতন মাসে ৮০ হাজার টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে শরীফ আগামী সপ্তাহে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।
শরীফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ভেটেরিনারি চিকিৎসক। পড়েছিও পশুস্বাস্থ্য নিয়ে। গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান আমাকে চাকরির অফার দেয়। অনেকে চাকরির অ্যাপয়েনমেন্ট লেটারও পাঠিয়ে দেন। এখানে দুটি এয়ার লাইন্স কোম্পানির অফারও ছিল। এয়ার লাইন্স কোম্পানির অফারে মাসে বেতন ছিল দুই লাখ টাকা। আমি ওই চাকরিতে জয়েন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘চাকরির অফার আসে একটি ভেটেরিনারি মেডিসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেরও। যেহেতু আমি ভেটেরিনারি চিকিৎসক। এ প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলে আমার পুরোনো পেশায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়। এজন্য আমি ভেটেরিনারি ওষুধ কোম্পানিতে জয়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে।’
গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমি চাকরি জীবনের শুরু থেকে গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেয়েছি। এখনো গণমাধ্যম আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’
চাকরি হারানোর পর আর্থিক অনটনে পড়েন শরীফ উদ্দিন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে তিনি ভাইয়ের কনফেকশনারিতে কাজ শুরু করেন। এ নিয়ে গত ৬ নভেম্বর  বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর শরীফের কাছে দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরির প্রস্তাব আসে।
জানা গেছে, দুদকের বড় বড় অভিযোগের ফাইল অনুসন্ধানে নিয়োজিত ছিলেন সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। এরমধ্যে অন্যতম কক্সবাজারে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার জমি অধিগ্রহণ কাজে দুর্নীতি, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পখ্যাত কক্সবাজার পৌরসভার পানি শোধনাগার প্রকল্পে অনিয়ম উদঘাটন, রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির উৎস অনুসন্ধান, কর্ণফুলী গ্যাসের বড় বড় রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে মামলার সুপারিশ করেছিলেন। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। আবার অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দিয়েছিলেন শরীফ।
কক্সবাজারের জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পে ২২ জন আমলা, তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি কাল হয়ে দাঁড়ায় শরীফ উদ্দিনের।
২০২১ সালের ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। পরবর্তীসময়ে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের চাকরি বিধিমালা ৫৪-এর ২ ধারায় কমিশনের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতাবলে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
দুদকের চাকরি বিধিমালা ৫৪(২) ধারায় বলা আছে, ‘এই বিধিমালায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোন কারণ না দর্শাইয়া কোন কর্মচারীকে ৯০ দিনের নোটিশ প্রদান করিয়া অথবা নব্বই দিনের বেতন নগদ পরিশোধ করিয়া তাহাকে চাকরি হইতে অপসারণ করিতে পারিবে।’

প্রবাসীদের এনআইডি বিতরণ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-ইসি ‘রেষারেষি’
                                  

ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার কার্যক্রম। ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী কর্মকর্তারা প্রকল্পের আওতায় বিদেশে যেতে পারছেন না। এই কৃচ্ছ্রসাধনের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও চান বিদেশের মিশনগুলোর কর্মকর্তারাই কাজটি সম্পন্ন করুক। বিদেশ যেতে পারা না পারার বিষয়ে কথা না বললেও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় হচ্ছে না। করোনার কারণেও প্রবাসীদের এনআইডি দেওয়া যায়নি। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এ ব্যাপারে ইসিকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপিত মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সবশেষ তথ্য থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, ইউএই ও কুয়ালালামপুরে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্তটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানোর সুপারিশ করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সম্পৃক্ততা থাকলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত ফলোআপ করার সুপারিশ করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটিতে প্রবাসীদের এনআইডি সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করে মন্ত্রণালয়।
বিভিন্ন দেশে দেড় কোটির মতো বাংলাদেশের নাগরিক বসবাস করছেন বলে অনেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এদের অধিকাংশেরই এনআইডি নেই। ফলে অনেকে জমিজমা কেনাবেচা, ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট নবায়নসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা থেকে বঞ্চিত। কিন্তু বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কমিশন তাদের এনআইডি দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর হয়নি। ঘটা করে কয়েকটি দেশে এনআইডি দেওয়ার কাজ শুরু হলেও বেশিদূর এগোতে পারেনি ইসি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আনোয়ারুল কবির  জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় তার এনআইডি হয়নি। এজন্য অনেক বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। জমি কিনতে ও বেচতে পারেন না।
প্রবাসীদের পরিচয়পত্র দিতে একটি প্রকল্প রয়েছে সরকারের। যেখানে বরাদ্দও আছে শতকোটি টাকা। অনলাইনে আবেদন করলেও প্রবাসীদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর সেটি ঠিক থাকলে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট ও চোখের আইরিশ নেওয়ার প্রয়োজন হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর মেয়াদে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিয়া) দ্বিতীয় পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। প্রকল্পের আওতায় প্রবাসে নিবন্ধন টিম পাঠানো ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন সংক্রান্ত ব্যয় হিসেবে একশ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প গ্রহণের প্রায় দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও ফলাফল শূন্য।
নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম  বলেন, প্রকল্প নেওয়ার আগেই ২০১৯ সালে নভেম্বরে অনলাইনে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার কার্যক্রম মালয়েশিয়া থেকে শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ ও বাংলাদেশ প্রান্তে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিতে জানায়, এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি মিশনগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা ও সমন্বয় চলমান। মিশনগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে যে, তাদের এ ব্যাপারে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ও প্রস্তুত। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রস্তাব করেছিল, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রতিনিধিদল মিশনে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেবেন। পরে দেশে এসে প্রক্রিয়াকরণ ও প্রিন্ট করে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মিশনে পাঠাবে।
পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি মনে করেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদল মিশনে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়ার পরিবর্তে মিশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ বর্তমান কৃচ্ছ্রসাধন নীতির আলোকে অধিকতর সমীচীন হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোতে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে পারে।
বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে মিশন আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে আবেদনগুলো ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে যাচাই-বাছাই এবং পাসপোর্ট প্রিন্টের জন্য পাঠায়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট প্রিন্ট করার পর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সেগুলো বিতরণ করার জন্য মিশনগুলোতে ডাকযোগে পাঠায়। স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ টেকসই, বাস্তবসম্মত, সাশ্রয়ী ও অধিক প্রবাসীবান্ধব হবে বলে মনে করছে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিটি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিবেচনাধীন। তাদের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া গেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং মিশনগুলো একযোগে কাজ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে নিয়মিত ফলোআপ ও সমন্বয় করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ইসির কর্মকর্তারা বিদেশ যেতে না পেরে চিঠির কোনো উত্তর দিচ্ছেন না। আর এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতিও হচ্ছে না। নতুন কমিশন আসার পরও চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ূন কবীর বলেন, আমরা প্রস্তুত, কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় হচ্ছে না। আর করোনার কারণেও এনআইডি দেওয়া বন্ধ ছিল।
তবে এটি অস্বীকার করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রস্তাব করেছিল যে, তারা প্রতিনিধিদল মিশনে পাঠিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বায়োমেট্রিক তথ্য নিয়ে তা দেশে এসে প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রিন্ট করে বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মিশনে পাঠাবে। কিন্তু এটি ব্যয়বহুল। সরকারের অনেক টাকা নষ্ট হবে। তাই আমরা বলেছি, মিশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ করা বর্তমান কৃচ্ছ্রসাধন নীতির আলোকে অধিকতর সমীচীন। এ ব্যাপারে ইসিকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

ডলার সংকটে কমেছে আমদানি, রপ্তানি শূন্যের কোটায়
                                  

ডলার সংকটের অজুহাতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত কয়েক মাসের তুলনায় ভারতীয় পণ্য আমদানি কিছুটা কমেছে। আর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি শূন্যের কোটায়। বাণিজ্যভিত্তিক এ বন্দর দিয়ে শুধু রপ্তানি খাতেই বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো খাদ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশে ব্যবস্থা থাকলেও ভারতের অভ্যন্তরে রপ্তানি পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পণ্য রাখার সেটের কোনো ব্যবস্থা নেই।
ভারত থেকে যেসব পণ্য বাংলাদেশে আসে
বিভিন্ন ধরনের চাল, পাথর, পেঁয়াজ, জিরা, টিটাগুড়, গমের ভূসি, ভুট্টার বীজ, আদা, রসুন, আতাফল, মিক্সার মেশিন, মাটি খননযন্ত্র ভেকু মেশিন উল্লেখযোগ্য।
ভারতে রপ্তানি যোগ্যপণ্য
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে-কলা, পেঁয়াজের ফুলকা, আলুসহ সব ধরনের সবজি, পোশাক কারখানার ঝুট কাপড়, পাটের তৈরি বস্তা ইত্যাদি।
বন্দরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ভারতীয় প্রায় ৪০০ ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও এখন তা ২০০’র নিচে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারে ডলারের সংকটের কারণে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত করছেন। ফলে বন্দর দিয়ে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে।
হিলি কাস্টমসের তথ্য মতে, গত পাঁচ বছরে ভারত থেকে ৯৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ১৩ হাজার ২৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। একই সময়ে এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৭৪ হাজার ২ মেট্রিক টন। যার মূল্য ৫০৩ কোটি টাকা।
সরেজমিনে হিলি বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ‘হিলি সীমান্তের শূন্য রেখা দিয়ে ট্রাকবোঝাই ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। শূন্য রেখায় দাঁড়িয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ট্রাকগুলো তল্লাশি ও কাস্টমসের কাজ শেষে অর্ধকিলোমিটার দূরে ভাঙা রাস্তা পেরিয়ে পানামা পোর্টের দুই নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন।
বর্তমানে পানামা পোর্ট লিমিটেডের ২২ একর জায়গা চারটি গেট নিয়ে অবস্থান। রোববার ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে ১৭১টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
আমদানি রপ্তানির বিষয়ে জানতে চাইলে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জাগো নিউজকে বলেন,‘ কিছুদিন আগের চেয় আমাদের আমদানিতে অনেকটা ছন্দপতন হয়েছে। এখন অনেকটা স্বাভাবিক কমে এসেছে। আবারও আমাদের ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিলাসবহুল পণ্য যেগুলো আমাদের এখন দরকার নেই সেই পণ্যগুলো নিরুৎসাহিত করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন- চাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন কিংবা গো-খাদ্য, মৎস্য খাদ্য এই পণ্যগুলো আমরা শর্তসাপেক্ষে আমদানি করতে পারবো। এরইমধ্যে আমাদের এই শর্তে এলসি চলমান।
তিনি বলেন, আগে আমাদের যে সব পণ্য বেশি পরিমাণে বাংলাদেশে আসত সেগুলো এখন আসছে না। কারণ অন্যান্য দেশের মতো ভারত বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে নিরুসাহিত করছেন। এরই মধ্যে তারা গম আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে, চিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
রপ্তানির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে আমরা বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করতে চাই কিন্তু ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অনীহা, সদিচ্ছা ও সেখানে তাদের কর্তৃপক্ষ না থাকা এবং সেখানে সেটের ব্যবস্থা না থাকা ও উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ অফিস না থাকায় আমরা বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করতে পারছি না। আমরা শুধু আমদানি করে যাচ্ছি কিন্তু রপ্তানি এবেবারে নেই বললেই চলে।
তিনি বলেন, যদিও আমাদের হিলিতে একটা পাটকল রয়েছে সেই পাটের বস্তার ব্যাগ ভারতে রপ্তানি হচ্ছে কিন্তু হিলি দিয়ে হচ্ছে না। ট্রাকে মালগুলো বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি করতে হচ্ছে, সোনামসজিদ দিয়ে রপ্তানি করতে হচ্ছে এতে আমাদের রপ্তানির খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা যায় তাহলে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে অনেক ডলার আমরা বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারবো।
রাস্তা কোথাও বেহাল কোথাও সংস্কার শুরু
হিলি বন্দরের পানামা পোর্টের সামনে থেকে চারমাথা হয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পর্যন্ত রাস্তাটি সর্বশেষ ২০১০ সালে সংস্কার করা হয়। ১২ বছর পর শূন্যরেখা থেকে পানামা পোটের গেট পর্যন্ত সংস্কার শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ওই সড়কটি দিয়ে চার-পাঁচশ ভারতীয় ট্রাক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এছাড়া দেশীয় ট্রাক ও দূরপাল্লার যান চলাচলের মূল সড়ক এটিই।

কয়েকদিন আগে বন্দরের প্রধান সড়কটি নতুন করে চার লেনের কাজ শুরু হলেও চারমাথা থেকে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে রাজধানী মোড় পর্যন্ত একইভাবে এখানো বিছানো আছে ইট। রাস্তায় খানাখন্দের কারণে চারমাথা মোড় থেকে রাজধানী মোড় পর্যন্ত এখন ধুলোর শহরে পরিণত হয়েছে।
হিলি-জয়পুরহাট সড়কের শান্তি মোড়, রাজধানী মোড়, হিলি-দিনাজপুর সড়কের ফকিরপাড়া, হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের ডাঙ্গাপাড়া, জালালপুরসহ অনেক স্থানে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত হয়েছে।
এছাড়া চারমাথা পোর্ট থেকে দক্ষিণে রাজধানী মোড় প্রধান সড়ক দিয়ে কোচ, বাসসহ পণ্যবাহী ট্রাক দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করে। বর্ষকালে এসব গর্তে পানি থাকলে বোঝা যায় না এর অবস্থা। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় ভয়ভীতি নিয়ে চলাফেরা করছে সব ধরনের যানবাহন। শুষ্ক মৌসুমে কষ্ট করে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে মানুষের ভোগান্তি পৌঁছায় চরমে।
ইজিবাইক চালক আমেদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে হিলি বাজারে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। কয়েক বছর ধরে রাস্তাঘাটের যে অবস্থা তাতে এখন জীবন চলা দায়। কয়দিন পর পর ভ্যানের এক্সেলেটর ভাঙে। যাত্রীরা গাড়িতে চড়তে চায় না। বুকের ব্যথা হয়।’
আমেদ আলী বলেন, শূন্যরেখা থেকে পানামা পোর্টের গেট পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। শেষ হলে অনেকটা ভোগান্তি কমে যাবে। জানতে চাইলে আমদানিকারক শাহিনুর রহমান শাহিন জাগো নিউজকে বলেন, হিলি স্থলবন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর স্থলবন্দর। আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণে রাজস্ব দিয়ে থাকি। বর্তমানে বৈশ্বিক মন্দার কারণে আমাদের আমদানি অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য প্রয়োজনীয় পণ্যছাড়া ব্যাংকগুলো এলসি দিচ্ছে না। পাশাপাশি বিগত সময়ে এই বন্দর দিয়ে ফল আমদানি হতো কিন্তু এখন আমদানি শূন্যের কোটায়। এর মূল কারণ এনবিআর থেকে আমাদের একটি মার্ক করে দেওয়া আছে যে ছয় চাকার গাড়িতে ১৪ মেট্রিক টন এবং বারো চাকায় ১৮ মেট্রিক টন ফল আমদানি করতে হবে। এ রকম আমাদের ব্যারিয়ার তৈরি করে দিয়েছেন, যা আমদানির বিষয়ে এটি পরিপন্থি বলে মনে করছি। কারণ যারা ছোট আমদানিকারক ছয় চাকায় ৫ টন মাল আমদানি করতে পারেন এটি তাদের অধিকার, সেটাকে ব্যাহত করার কারণে এই তাজা ফল এই বন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে না।
শহিনুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের মধ্যে হিলিতে মোটরসাইকেলের পার্সের একটি বাজার। এখানে ছোটবড় শতাধিক দোকান রয়েছে। এখানকার ১৫ জন আমদানিকারক রয়েছেন, যারা বেনাপোল দিয়ে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানি করছেন। বেনাপোলে যন্ত্রাংশগুলো আমদানি হচ্ছে কেজি হিসেবে। হিলিতে প্রতিটি যন্ত্রাংশ একেকটা কোট দিয়ে কাস্টমসের জটিলতার কারণে আমদানিকারকরা হয়রানির কারণে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে না।
ভারতের বাজারে বাংলাদেশি অনেক পণ্যের চাহিদা রয়েছে। তবে ভারতের ওপারে কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা না থাকায় পণ্য রপ্তানির পরে ছাড় করতে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ কারণেই মূলত বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
আমদানি কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে আমদানিকারক মাহাবুব আলম জাগো নিউজকে বলেন, ব্যাংক আপাতত শুধু খাদ্যপণ্যের ওপর এলসি দিচ্ছে। অন্য আইটেমগুলোতে এলসি দিচ্ছে না ডলার সংকটের কারণে। আমদানি কমাতে আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে ব্যবসার কাজে লাগিয়েছি। এতে আয় না আসায় আমাদের ব্যাংকের সুদের বোঝা টানতে হচ্ছে, লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পণ্য খালাসে বন্দরের অভ্যন্তরীণ বিষয়টি জানতে চাইলে পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রতাব মল্লিক বলেন, পানামা পোর্টের ভেতর আমদানি করা পণ্যগুলো খালাসের বিষয়ে কিছুদিন আগে আমরা একটু জটিলতায় ছিলাম। আগে ১০ একর জায়গা ছিল এখন ২২ একর জায়গায় অবস্থান করছি। নতুন করে একটা আলাদা স্থাপনা এবং একটি গেট তৈরি করেছি। চারটি গেটের মধ্যে একদিক দিয়ে ভারতীয় গাড়ি ঢোকে অন্যদিক দিয়ে বের হয়। একইভাবে বাংলাদেশি ট্রাকগুলো প্রবেশ ও বাহির হয়। এতে বন্দরের ভেতরের ট্রাকের জটের সমস্যা সমাধান হয়েছে।
পানামা পোর্টের কাঁচামালের ক্ষেত্রে ১৬টি সেট রয়েছে যাতে বৃষ্টির ভেতরেও এই সেটে কাজের কোনো সমস্যা না হয়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ শ্রমিক কাস্টমসের ভেতর কাজ করেন। কাস্টমাররা দ্রুত পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে পারে সেসব ব্যবস্থা পানামা পোর্ট নিয়ে রেখেছে।

২০ নভেম্বর ৫০ কারখানা-অবকাঠামো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
                                  

স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০ নভেম্বর অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইজেড) ৫০টি শিল্প কারখানা, প্রকল্প ও অন্যান্য অবকাঠামো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেজার আটটি স্থানে ভার্চুয়ালি ৫০টি শিল্প কারখানা, প্রকল্প ও স্থাপনা উদ্বোধন করবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের (বিএসএমএসএন) চারটি বাণিজ্যিক কারখানা এবং বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের আটটি কারখানা।’
বেজা চেয়ারম্যান বলেন, এই শিল্প কারখানাগুলোতে ইতোমধ্যেই ৯৬৭ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৩৩১ দশমিক ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিযোগ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ২৯টি শিল্প কারখানার ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন- যেগুলোতে এখন পর্যন্ত ৬১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং আরও ১৯২২ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইজেডের যেসব স্থাপনা উদ্বোধন হতে যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিএসএমএসএন-এর প্রশাসনিক ভবন, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সাবরাং পর্যটন পার্ক।
বেজা প্রধান বলেন, পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএমএসএন-এ ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ শেখ হাসিনা সরণি, ২৩০-কেভিএ গ্রিডলাইন ও সাবস্টেশন উদ্বোধন করবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি পানি শোধানাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এটি দৈনিক ৫০ মিলিয়ন লিটার পানি পরিশোধন করতে সক্ষম।
যে শিল্প কারখানাগুলো উদ্বোধন করা হবে, এগুলোর মধ্যে চারটি কারখানা বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে স্থাপিত। এগুলোর একটি ম্যাকডোনাল্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিডিটেড। এতে প্রিফ্যাব্রিকেটেড স্ট্রাকচারাল স্টিল উৎপাদিত হবে। এই স্টিল বহুতল ভবন, কারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত হয়।
নিপ্পন অ্যান্ড ম্যাকডোনাল্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে আমদানিকরা স্টিল, পারলিন, স্লিটিং শিট ও কয়েল থেকে এমএস প্লেট উৎপাদন করবে।
এই অর্থনৈকি অঞ্চলে এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড রঙ ও ইমালসন (বিভিন্ন তরল পদার্থের মিশ্রিত রাসায়নিক যৌগ) উৎপাদন করবে।
সামুদা কন্সট্রাকশন লিমিটেড চার একর জায়গা জুড়ে তাদের কারখানা নির্মাণ করছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের বিনিয়োগ ৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বেজা শিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে- বাংলাদেশের সব পিছিয়ে পড়া ও সম্ভাবনাময় এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে।
পরিকল্পিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে সরকার এখন পর্যন্ত ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২৮টির কাজ চলছে।
এখন পর্যন্ত, ১২টি বেসরকারি মালিকানাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়পত্র পেয়েছে এবং এ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
১ কোটি লোকের সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর লক্ষ্য। এছাড়াও এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বছরে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা কর অবকাশ এবং শুল্কমুক্ত কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা পাবেন।
অর্থনৈতিক অঞ্চলটিগুলো জাপান, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকা, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও নরওয়েসহ বিভিন্ন দেশের সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।
গত ২৬ অক্টোবর এই উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে এটি বিলম্বিত হয়।

১৩ ঘণ্টা পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন লাইটার শ্রমিকরা
                                  

পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের লাইটার জাহাজের শ্রমিকরা। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) বন্দরের চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া হয়। এরপর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।
বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি নবী আলম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ করা চায়নিজ ঘাট পুনরায় স্থাপন এবং চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আমাদের ধর্মঘট আপাতত প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে লাইটারেজ জাহাজগুলো যেকোনো স্থানে অবস্থান করতে পারবেন। চরপাড়া ঘাট ও চায়নিজ ঘাট ব্যবহারে শ্রমিকদের কোনো টোল দেওয়া লাগবে না।
নবী আলম আরও বলেন, সভায় শ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও মেনে নেওয়া হয়। আর চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। ইজারা বাতিল একটি প্রক্রিয়া। এটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ইজারাদারদের টোল না নেওয়ার জন্য সভা থেকে বলে দেওয়া হয়েছে। এখন লাইটার শ্রমিকদের ঘাট পারাপারে কোনো টোল দিতে হবে না।
এর আগে বন্দরের চরপাড়া শ্রমিকদের মারধর ও লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন লাইটারেজ জাহাজের শ্রমিকরা।
এতে বন্দরের বহিঃনোঙ্গর থেকে সারাদেশে আমদানি পণ্য পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যেসব জাহাজ পণ্যবোঝাই করে গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা অলস বসে থাকে। আবার কর্ণফুলী নদীর বেসরকারি ঘাটগুলোতেও লাইটারেজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ করে দেন নৌযান শ্রমিকরা। তবে জ্বালানি পরিবহন ধর্মঘটের বাইরে রাখা হয়।
শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো- চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ, পতেঙ্গা থানার ওসির অপসারণ, চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল, সাঙ্গু নদীর মুখ খনন এবং লোড ও খালি লাইটার জাহাজ বহিঃনোঙ্গরে সার্ভে করা।

চট্টগ্রামে টিসিবি পণ্য পাবে ৫ লাখ ৩৫ হাজার পরিবার
                                  

চট্টগ্রামে আগামী সোমবার (১৪ নভেম্বর) থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর আওতায় মহানগরী ও উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার পরিবার ভর্তুকি মূল্যে পণ্য পাবেন। কার্ডধারীদের চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে টিসিবি।
চট্টগ্রাম মহানগরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউপি সদস্যদের তৈরি এলাকাভিত্তিক তালিকায় কার্ডপ্রাপ্তরা টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের পণ্য পাবেন।
টিসিবির চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, একজন ভোক্তা ৫৫ টাকায় এক কেজি চিনি, ৬৫ টাকা করে দুই কেজি মসুর ডাল এবং ১১০ টাকা করে দুই লিটার সয়াবিন তেল পাবেন।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৩ লাখ এবং ১৫ উপজেলায় ২ লাখ ৩৫ হাজারসহ মোট ৫ লাখ ৩৫ হাজার কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবার সোমবার থেকে মাসব্যাপী টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য পাবেন। পণ্যের তালিকায় চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল থাকলেও পেঁয়াজ পাবেন না কার্ডধারীরা।
টিসিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অফিস প্রধান মো. হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম। চট্টগ্রামে সোমবার থেকে শুরু হবে। আগের মতো ওয়ার্ড কাউন্সিলররা যে তালিকা আমাদের দিয়েছেন শুধু সেসব কার্ডধারীরাই পণ্য পাবেন। এছাড়া ডিলারদের বরাদ্দপত্রের মাধ্যমে পণ্য দেওয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর কাজের অগ্রগতি ৪৭ শতাংশ
                                  

যমুনা নদীতে দেশের বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার দূরে রেলসেতুটি নির্মাণাধীন। এরই মধ্যে সেতুর ৪৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের ২২টি জেলার সঙ্গে ট্রেন চলাচল সহজ করবে এই সেতু।
বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) এসব তথ্য জানান রেল মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর ৪৭ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। এ সময়ে অর্থ ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৬ শতাংশ। এ প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করায় সেতুর নির্মাণ ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের পর প্রকল্পের ব্যয় ৭ হাজার ৪৭ কোটি টাকা বেড়ে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তারা আরও জানান, সেতুর ৫০টি পিলারের মধ্যে ৩৪ টির কাজ এগিয়েছে। ১২টির সুপার স্ট্রাকচারের কাজ চলছে। তবে ১৬টির কাজ ধরা হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু দিয়ে ৩৮টি ট্রেন চলাচল করে। নতুন রেলসেতু চালু হলে মালবাহীসহ ৬৮টি ট্রেন চলাচল করার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে আন্তঃএশিয়া রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।
প্রসঙ্গত, নির্মাণাধীন এই সেতুকে সাধারণ ট্রেন ছাড়াও দ্রুতগতির (হাইস্পিড) ট্রেন চালানোর উপযুক্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে সেতুতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো যাবে। তবে শুরুতে (উদ্বোধনের এক বছর) সাধারণত ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে।

আইএমএফের কঠিন শর্ত মেনে নেব না: ওবায়দুল কাদের
                                  

টাকার দরকার থাকলেও বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠিন শর্ত মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বুধবার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।
সরকার আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়েছে, তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্ব সংকট এখন আমাদের জাতীয় জীবনে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট, ডলার সংকট, রিজার্ভে চাপ পড়েছে। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। ব্রিটেনের মতো দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ১০ দশমিক ১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি।’
তিনি বলেন, ‘সেখানে আমাদের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ ছিল, সর্বশেষ এটি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, কিছুটা কমেছে। আমাদের এখানে দ্রব্যমূল্যের বাড়ার গতিটা একটু কমেছে। আশা করছি, আস্তে আস্তে স্বস্তিদায়ক হবে। শান্তি কথাটা আমরা মুখে যতটা বলি, বাস্তবে ততটাই কঠিন।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রতিফলন বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে থাকবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। টাকার তো প্রয়োজন। আইএমএফের ঋণ আমরা গ্রহণ করবো। তবে কঠিন শর্ত আমরা মেনে নেব না। টাকার জন্য খুব হার্ড প্রি-কন্ডিশন মেনে নেওয়া সহজ নয়। আলাপ-আলোচনা চলছে।
‘কথাবার্তা চলছে, যেটা যৌক্তিক সেটাই হবে। এই মুহূর্তে টাকা নিতে হবে, বিকল্প নেই। অর্থ আমরা নেব, তবে কঠিন শর্তে নয়।’
কঠির শর্ত কী- জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অ্যাপ্লাই ইয়োর কমনসেন্স। কঠিন শর্ত যেটা লাগবে, সেটা দিয়ে কেন? আপনি একজন সাধারণ মানুষ, আপনি বুঝেন যে শর্তটা কী? আইএমএফের অতীতের ব্যাপারেও আমরা জানি। আইএমএফের শর্তগুলো কী হতে পারে, কোন শর্তটা মানলে দেশের আরও ক্ষতি হতে পারে, এমন শর্ত আমরা মানব না।’
টাকা পাচারের বিষয়টি আলোচনায় আসছে। এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। খতিয়ে দেখছে। যেটা বলা হচ্ছে, তা কতটা সত্য ও বাস্তব। পাচার করলে কোথায় করা হয়েছে। খোঁজ-খবর নিয়েই বলা যাবে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অতটা সংকট নেই, যেটা বাইরের অনেক দেশে আছে। আমরা অনেকের তুলনায় ভালো আছি, ভালো বলতে আমি বলছি- স্বস্তিদায়ক আছি। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সাধারণ মানুষের কষ্ট তো হবেই। সেটা আমরা সরকার হিসেবে নাকচ করে দিচ্ছি না, আমরা রিয়ালাইজ করছি। আমরা চেষ্টা করছি।’
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘সংকট একেবারে চলে যাবে এমনটা আমরা বলছি না। আমরা স্বস্তিদায়ক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, চালিয়ে যাবো।’

ছেলেরা যা পারে না, মেয়েরা তার থেকে বেশি পারে: প্রধানমন্ত্রী
                                  

‘ছেলেরা যা পারে না, মেয়েরা তার থেকে বেশি পারে। এটা শুনলে আবার ছেলেরা রাগ করবে। রাগ করার কিছু নেই। ছেলেদের প্রতিযোগিতাটা একটু বেশি। তাও বলবো আমাদের মেয়েরা যথেষ্ট ভালো করছে।’ বুধবার (৯ নভেম্বর) সকালে সাফজয়ী নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ মুকুট বাংলাদেশে আসে মেয়েদের হাত ধরে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর নেপালকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন করায় ছাদখোলা বাসে তাদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেয় দেশের সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাই আজ সাফজয়ী ২২ খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা দেন তিনি।
এ সময় সাফজয়ী ২৩ জন ফুটবলার ও ১১ জন প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাকে সম্মানা চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫ লাখ টাকা এবং প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাকে ২ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলকে আজ আমি দেখতে পেলাম, কাছে পেলাম এবং সংবর্ধনা দিতে পারলাম, সে জন্য আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও দোয়া জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে, সাহিত্যচর্চা করবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি এগুলো দরকার। স্বাধীনতার পর এদেশে যাতে খেলাধুলার চর্চাটা ব্যাপকভাবে হয়, সে জন্য জাতির পিতা ১৯৭২ সালে জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন করেন এবং ১৬টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন অনুমোদ দেন। ১৯৭৪ সালে ১৮টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন এবং বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে অনুমোদন দেন। অতএব খেলাধুলাকে জেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল তার লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অ্যাক্ট পাস করে দিয়ে যান। তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠন করেন। ১৯৭৫ সালের ৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধুি ক্রীড়াসেবী ও সংস্কৃতীসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করেন।’
ছোট ভাইদের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই শেখ কামাল ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, বেসবলসহ সব খেলায় সে পারদর্শী ছিল। খেলাধুলার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চা, নাটক করা, সেতার বাজানোসহ সব করতো। শেখ জামালও ফুটবল, হকি, ক্রিকেট খেলতো। আমাদের বাসায়ও বাস্কেটবলের কোর্ট ছিল। আমাদের বাসাটাই ছিল স্পোর্টসের আলাদা একটা জগৎ। সুলতানা কামাল তো ইউনিভার্সিটি ব্লুজ ছিল। পাকিস্তান আমলে সে ইউনিভার্সিটি ব্লু হয়েছিল। আমি মনে করি খেলাধুলা আমাদের অপরিহার্য। আমার বাবা ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে খেলতেন। আমার ভাইয়েরা সবাই বিভিন্ন ক্লাব ও টিমের সঙ্গে জড়িত ছিল।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সবাই সব সময় খেলাধুলায় সম্পৃক্ত ছিলেন। আমার দাদা, তিনিও ফুটবল খেলতেন। দাদার ছোট ভাই শেখ হাবিবুর রহমান, তিনিও ফুটবল খেলতেন। আমার বাবা ফুটবল খেলতেন। গোপালগঞ্জে অফিসার্সদের খেলার যে কমিটি ছিল, আমার দাদা সেখানে খেলতেন। আর ছাত্রদের যেটা, সেখানে আমার বাবা ছিলেন। তিনি তখন মিশন স্কুলের ছাত্র ছিলেন। মিশন স্কুলেন ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার দাদা ছিলেন অফিসার্স কমিটির সেক্রেটারি। খেলার মাঠে দুজনেরই কম্পিটিশন হতো। বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে এসব লিখেছেন।’
উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাফ উইমেনস টুর্নামেন্টে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন করে বাংলাদেশ। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ মালদ্বীপ, পাকিস্তান, ভারত ও নেপালের বিপক্ষে ২৩ গোল করে। ফাইনালে একটি মাত্র গোল হজম করতে হয় রানার্সআপ নেপালের বিপক্ষে। সাফজয়ী তারকারা দেশে ফিরলে দেশের মানুষ তাদের উষ্ণ সংবর্ধনা দেয়।

বাজারে মোটা চালের ‘কৃত্রিম’ সংকট, অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষ
                                  

অধিকাংশ দোকানে টাকা দিয়েও মিলছে না মোটা চাল। হু হু করে বাড়ছে দাম। মহল্লার দোকানে মোটা একেবারেই অপ্রতুল। চালের আড়ত কিংবা বড় বাজারেও সাত দোকান ঘুরে মিলছে এক দোকানে। এতে চরম বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ। বাধ্য হয়ে তারা বেশি দামে মাঝারি মানের চাল কিনছেন পেটের তাগিদে। আড়তদাররা বলছেন, মিলাররা মোটা চাল সরবরাহ করছেন না। যাদের কাছে মিলছে দাম হাঁকছেন বেশি। আর অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আঙুল মজুতদারদের দিকে। এ সংকট কৃত্রিম হতে পারে বলে ধারণা তাদের।
মহাখালীর সাততলা বস্তির একটি টিনশেড ঘরে চার সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন আনোয়ার হোসেন। পেশায় রিকশাচালক। বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সকালে আমতলী বাজারে চাল কিনতে যান আনোয়ার। চার-পাঁচটি দোকান ঘুরে কোথাও মোটা চাল পাচ্ছিলেন না। পরে একটি দোকানে মোটা চাল পান। ৫৬ টাকা দরে কেনেন পাঁচ কেজি।
আলাপকালে আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে যে কোনো মুদি দোকানে মোটা চাল পাওয়া যেত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে মুদি দোকানে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বাজারে গিয়েও চালের বড় দোকান বা আড়তে মোটা চাল মেলে না, যা পাওয়া যায়, দাম বেশি রাখে। আবার বেশি দামের কারণে মাঝারি বা সরু চালে তো হাতই দেওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের মানুষকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আমতলী বাজারে বড় সাতটি মুদি দোকানে চাল বিক্রি হয়। এর মধ্যে পাঁচটি দোকানেই মোটা চাল (স্বর্ণা, চায়না, ইরি) দেখা যায়নি। দোকানিদের দাবি, বাজারে মোটা চালের সরবরাহ কম। তাই সংকট তৈরি হয়েছে। এতে অনেক দোকানি বাধ্য হয়ে কেজিতে দু-এক টাকা বাড়িয়ে চাল বিক্রি করছেন। নিরুপায় হয়ে নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ চাল কিনছে। তবে মাঝারি ও সরু চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
মিলারদের কারসাজিতে বাজারে মোটা চালের সংকট দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন আমতলী বাজারের মতিউর রাইস এজেন্সির মালিক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে বাজারে চালের সংকট তৈরি করেন মিলাররা। এখন মাঝারি ও সরু চাল বাজারে পাওয়া গেলেও মোটা চালের সংকট রয়েছে। রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে মোটা চাল নেই বললেই চলে। কিছু দোকানে মিললেও প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায়। অথচ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৩ নভেম্বর ঢাকার বাজারদরে মোটা চাল পাইকারি ৪৩-৪৪ টাকা এবং খুচরায় ৪৭ থেকে ৫০ টাকা।
ঢাকার মধ্যে কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার, নয়াবাজার, বাবুবাজার, শ্যামবাজারে কয়েক হাজার পাইকারি ও খুচরা চালের আড়ত বা দোকান রয়েছে। সম্প্রতি এই বাজারগুলোতেও মোটা চালের সংকট দেখা গেছে। বাধ্য হয়ে অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ মাঝারি ও সরু চাল কিনছেন।
চকবাজারের উর্দু রোডের প্রবীণ বাসিন্দা হাসান উদ্দিন। গত বুধবার (২ নভেম্বর) বিকেলে মোটা চাল কিনতে মৌলভীবাজারে যান। কিন্তু অনেক ঘোরার পর একটি দোকানে পান মোটা চাল। ৫৫ টাকা দরে ১০ কেজি চাল কেনেন। ফেরার পথে আলাপকালে হাসান উদ্দিন বলেন, আগে মহল্লার মুদি দোকানগুলোতে চাইলেই মোটা চাল পাওয়া যেত। কিন্তু এখন বলে বাজারে মোটা চাল নেই। আবার মাঝারি বা সরু চাল কিনে খাওয়ার মতো সাধ্যও নেই। তাই মৌলভীবাজারে চাল কিনতে এসেছি। অনেক খুঁজে একটি দোকানে পেলাম। বাজারে মোটা চাল কেন পাওয়া যাচ্ছে না, এ উত্তর কেউ দিতে পারেননি।
মৌলভীবাজারের বিক্রমপুর রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী নবীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাদের বাজারে চাল সরবরাহ করেন মিলাররা। তাদের কাছে মোটা চাল চাইলে বলে, চাল নেই। তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়া ও চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় মিলে চাল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে বাজারে মোটা চালের প্রচুর চাহিদা। প্রতিদিন শত শত মানুষ মোটা চাল কিনতে গিয়ে ফেরত যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, গত আমন, বোরো, ইরি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু তারপরও বাজারে চালের সংকট। মাঝারি ও সরু চাল বেশি দামে কিনতে গিয়ে কর্মহীন, নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট থেকে ১০ কেজি মাঝারি চাল (পাইজাম) কেনেন মাসুদ রানা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন বাবর রোডে। আলাপকালে বলেন, দিন যত যাচ্ছে, সংসারে ব্যয় তত বাড়ছে। আর এই ব্যয়ের বড় একটি খাত চাল। তারপরও বাজারে মোটা চাল পাওয়া যায় না।
পুরান ঢাকার বাবুবাজার থেকে ঢাকার অধিকাংশ মুদি দোকানি চাল কেনেন। সরেজমিনে দেখা যায়, এই বাজারের প্রতিটি দোকানেই কৃষি বিপণন অধিদপ্তর নির্ধারিত চালের দাম উল্লেখ করে বোর্ড টাঙানো। সেখানে মোটা চালের দাম লেখা আছে ৪৪ টাকা কেজি। তবে অধিকাংশ দোকানে মোটা চাল দেখা যায়নি। এছাড়া নয়াবাজারের খুচরা পর্যায়ের ১৫টি দোকানের মধ্যে মোটা চাল পাওয়া গেছে দুটি দোকানে।
ওয়ারীর নারিন্দার মুদি দোকানি কামাল হোসেন। দিনে তার দোকানে তিন বস্তা চাল বিক্রি হয়। এর মধ্যে মোটা চালের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি। কামাল হোসেন বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা থাকলেও গত এক-দুই মাস ধরে আড়তে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে দুই-চার বস্তা মোটা চাল পেলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অনেক দরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়ে মাঝারি বা সরু চাল কিনছেন।
নয়াবাজার-বাবুবাজার এলাকা থেকে ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্যানে চাল নিয়ে যান চালক মোতালেব। আলাপকালে জানান, তিনি চকবাজারের শহীদ নগরে একটা রিকশার গ্যারেজে মেস করে থাকেন। ওই মেসে আগে একবেলা ভাত খেলে ৪০ টাকা দিতে হতো। এখন মোটা চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ায় প্রতিবেলা ৬০ টাকা দিতে হয়।
বাবুবাজারের দৌলত ভান্ডারের ক্যাশিয়ার মো. তাহের আলী বলেন, বর্তমানে মার্কেটে মোটা চাল নেই বললেই চলে। আগে মোটা যে চালের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা তা বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আল হেলাল রাইস এজেন্সির চাল বিক্রেতা আলী আজম জাগো নিউজকে বলেন, আগে আমাদের দোকানে চালের স্টকে ২০০ থেকে ৩০০ বস্তা চাল মজুত থাকতো। বর্তমানে দু-তিনটি মোটা চালের বস্তা রয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে চালের কেজিতে এক থেকে দুই টাকা আরও বাড়তে পারে।
বাবুবাজার সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বাদামতলী চালের আড়ত। সেখানে মোট ২৭টি আড়তের মধ্যে মোটা চাল ছিল ৯টি আড়তে। জানতে চাইলে নুরুদ্দিন রাইস এজেন্সির মালিক হেলাল উদ্দিন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বাজারে মোটা চালের সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা চাইলেও মোটা চাল সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করছেন মিলাররা। এই সংকট কবে কাটবে জানা নেই।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ঠিক কী কারণে খোলাবাজারে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না, তা জানা নেই। তবে ধারণা করছি, দাম বাড়াতে বড় ব্যবসায়ীরা মোটা চাল মজুত করেছেন। সরকারের গোয়েন্দারা তদন্ত করলেই বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, দেশের কৃষক ও মিল মালিকরা ধান-চালের পর্যাপ্ত মূল্য পায় না। এর মধ্যে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, চাল আমদানি করার। এখন চালও যদি আমদানি করতে হয় তাহলে ডলার বিদেশে চলে যাবে। এটি না করে মিল মালিকদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত। এই সংকট সমাধানে পথ খুঁজে বের করা দরকার।

আজ ১০০ সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
                                  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ যান চলাচলের জন্য ১০০টি সড়ক সেতু উদ্বোধন করবেন। সরকার ৮৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব সেতু নির্মাণ করেছে।
সোমবার (৭ নভেম্বর) সকালে গণভবন থেকে একযোগে নবনির্মিত ১০০টি সেতুর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান।
সেতুগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ১৭টি, বরিশাল বিভাগে ১৪টি, ময়মনসিংহে ছয়টি, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে পাঁচটি করে, ঢাকায় দুটি ও কুমিল্লায় একটি রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর আগে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সেতু উপহার দেবেন। আমরা শুভক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, যাতায়াতের সময় কমিয়ে সড়ক যোগাযোগকে নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ করার পাশাপাশি সেতুগুলো দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
                                  

বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে সারাদেশে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। রোববার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টা থেকে এ পরীক্ষা শুরু হয়। চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন পরীক্ষার্থীরা। তবে যেসব পরীক্ষার্থী দেরি করে কেন্দ্রে এসেছেন তাদের রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, দেরির কারণ লিখে হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
এ বছর ১২ লাখ তিন হাজার ৪০৭ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে ছয় লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ ছাত্র এবং পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৬১১ জন ছাত্রী রয়েছেন। দেশের দুই হাজার ৬৪৯টি কেন্দ্রে হচ্ছে পরীক্ষা।
এ বছর মোট ১১টি শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৩ জন। এরমধ্যে ছাত্র পাঁচ লাখ ৮২ হাজার ১৮৩ এবং ছাত্রী পাঁচ লাখ তিন হাজার ৫৩০ জন।
অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় দুই হাজার ৬৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৪৪৮টি কেন্দ্র ৯৪ হাজার ৭৬৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে ৫১ হাজার ৬৯৫ ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৬৮ জন ছাত্রী।
এছাড়া কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় এক লাখ ২২ হাজার ৯৩১ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে ৮৮ হাজার ৯১৮ ছাত্র এবং ৩৪ হাজার ১৩ জন ছাত্রী।

বরিশালে বিএনপি নেতা ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা
                                  

বরিশালে বিভাগীয় গণসমাবেশে আসার পথে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বহরের কয়েকটি গাড়িতে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
শনিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে গাড়িবহর নিয়ে রওনা হই। পথে পথে নানা স্থানে বাধা দেওয়া হয়। বাধা অতিক্রম আমার গাড়িবহর বরিশালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সকালে গৌরনদীর মাহিলাড়া বাজারে পৌঁছালে সেখানে হামলা করা হয়। আমার পেছনে থাকা কয়েকটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। জানতে পেরেছি স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত।’
ইশরাক আরও বলেন, ‘সরকারদলীয় লোকজনদের হামলায় ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল হক সহিদ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মামুন ভূঁইয়া, মো. রাসেল, মো. বাবুল ও খোকন এবং ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ইমরান, ৪২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সদস্য সচিব মাসুদ রানা, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল নেতা রকি ও আল আমিনসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন’
এদিকে মাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী পাল্টা অভিযোগ করে জানান, ইশরাক হোসেনের গাড়িবহর মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকা অতিক্রমকালে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে নানা স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিষেধ করায় বহরের গাড়ি থেকে নেমে রড ও লাঠিসোটা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ওপর হামলা চালায়। আমাদের সাত-আটটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিনজন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিলাস কবিরাজকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার ও ভাঙচুরের অভিযোগ বিষয় জানতে চাইলে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি ভালো বলতে পারবো না। তবে শুনেছি গাড়িবহর থেকে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে নানা স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। এটা নিষেধ করতে গেলে বহরের গাড়িতে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন আহত হয়েছেন। একজনকে হাসপাতালে ভর্তির খবরও শুনতে পেরেছি।’
গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। কোনো পক্ষ থেকেই অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


   Page 1 of 194
     জাতীয়
 কাগজ সংকটে বন্ধ ছাপানো, শিক্ষার্থীদের বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
.............................................................................................
বিদ্যুতের দাম বাড়ছেই, ঘোষণা দুপুরে
.............................................................................................
 অর্ধশত শিল্প ও অবকাঠামো উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
৮০ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন দুদকের শরীফ
.............................................................................................
প্রবাসীদের এনআইডি বিতরণ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-ইসি ‘রেষারেষি’
.............................................................................................
ডলার সংকটে কমেছে আমদানি, রপ্তানি শূন্যের কোটায়
.............................................................................................
২০ নভেম্বর ৫০ কারখানা-অবকাঠামো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
১৩ ঘণ্টা পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন লাইটার শ্রমিকরা
.............................................................................................
চট্টগ্রামে টিসিবি পণ্য পাবে ৫ লাখ ৩৫ হাজার পরিবার
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর কাজের অগ্রগতি ৪৭ শতাংশ
.............................................................................................
আইএমএফের কঠিন শর্ত মেনে নেব না: ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
ছেলেরা যা পারে না, মেয়েরা তার থেকে বেশি পারে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
বাজারে মোটা চালের ‘কৃত্রিম’ সংকট, অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষ
.............................................................................................
আজ ১০০ সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
.............................................................................................
বরিশালে বিএনপি নেতা ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা
.............................................................................................
যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ২৪ নভেম্বর
.............................................................................................
শতাধিক উপজেলা-পৌরসভা-ইউপিতে ভোট আজ
.............................................................................................
ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠালে ডলারে ১০৭ টাকা পাবেন প্রবাসীরা
.............................................................................................
মতিঝিলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট
.............................................................................................
ইলিশ এলেও ‘নাগালের বাইরে’
.............................................................................................
সংসদ অধিবেশন বসছে বিকেলে
.............................................................................................
মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে রেড ক্রিসেন্ট: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
১৬ দিনের সফরে ঢাকা ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি
.............................................................................................
হজ ব্যবস্থাপনায় জড়িত কর্মকর্তাদের পরামর্শ চায় সরকার
.............................................................................................
দেশের স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সিত্রাং, নিষেধাজ্ঞাই ছিল জেলেদের জন্য আশীর্বাদ
.............................................................................................
শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার
.............................................................................................
সোনারগাঁয়ের প্রধান সড়কে যানজট, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
.............................................................................................
সোনারগাঁয়ের প্রধান সড়কে যানজট, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
.............................................................................................
ঘূর্ণিঝড়ে সাড়ে ৪ হাজার মোবাইল টাওয়ার অচল
.............................................................................................
নিম্নচাপ হয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছে ‘সিত্রাং’, উন্নতির দিকে পরিস্থিতি
.............................................................................................
প্রয়োজনে আমদানি করে এলএনজি সরবরাহ চান ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
৭ বিভাগে অতিভারি বৃষ্টির সতর্কতা, হতে পারে পাহাড়ধস
.............................................................................................
২০৩০ সালে ৬টি এমআরটি লাইন দৃশ্যমান হবে
.............................................................................................
নতুন কারিকুলাম পাঠদানে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন অনিশ্চিত
.............................................................................................
রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি, মাঠে নামছে ভোক্তা অধিকার
.............................................................................................
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি উদ্বোধন
.............................................................................................
শহীদ শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মদিন আজ
.............................................................................................
আধাঘণ্টায় ২৫০ কোটি টাকা ছাড়ালো লেনদেন, সূচক ঊর্ধ্বমুখী
.............................................................................................
ক্যানসার চিকিৎসায় আসছে ভ্যাকসিন
.............................................................................................
বিএনপির কর্মীদের লাঠি নিয়ে আসা আইনসিদ্ধ নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
ব্রুনাইয়ের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা
.............................................................................................
সংকটে পড়া দেশগুলোকে ঋণ পরিশোধে ছাড় দেবে বিশ্বব্যাংক
.............................................................................................
মধুমতী সেতুতে বাসের টোল ২০৫, সাইকেল-রিকশা ৫ টাকা
.............................................................................................
বৃষ্টির প্রবণতা কমলেও অপরিবর্তিত থাকতে পারে তাপমাত্রা
.............................................................................................
দুপুরে মধুমতি-তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
কৃষকের জীবন রাঙিয়ে তুলেছে ‘সোনালি আঁশ’
.............................................................................................
‘সাইবার ক্রাইম’ নিয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
যানজট নিরসনে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ ডিএনসিসির
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale