|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অপরিহার্য ....... লায়ন গনি মিয়া বাবুল   * বঙ্গবন্ধুকে ফিরে না পেলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেত না: তাপস   * আমরা শিশু   *  বিএনপির সমাবেশ নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে: ওবায়দুল কাদের   * কী হতে চলেছে ১০ ডিসেম্বর?   *  কাগজ সংকটে বন্ধ ছাপানো, শিক্ষার্থীদের বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা   *  ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প : ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা বহু   *  পুলিশের মুখে স্প্রে করে আসামি ছিনতাই: মামলার তদন্তে সিটিটিসি   * বিদ্যুতের দাম বাড়ছেই, ঘোষণা দুপুরে   * গ্যাস সংকটে বড় ক্ষতির মুখে সিরামিক খাত  

   অর্থনীতি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
গ্যাস সংকটে বড় ক্ষতির মুখে সিরামিক খাত

দেশের সম্ভাবনাময় সিরামিক শিল্প এখন রপ্তানিমুখী খাত। গত কয়েক বছরে এই খাতটির অগ্রগতি অভূতপূর্ব। মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই মেটাচ্ছে দেশের সিরামিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। রপ্তানিতেও বেশ চাহিদা আছে বাংলাদেশে উৎপাদিত সিরামিক পণ্যের। সম্প্রতি গ্যাস সংকটে খাতটির ওপর রীতিমতো নেমে এসেছে অশনি সংকেত। এলাকাভেদে দিনে শিল্প এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে ছয় থেকে ১২ ঘণ্টা। অথচ সিরামিক কারখানার জন্য মেশিন ২৪ ঘণ্টা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে চালু রাখা জরুরি। এতে রপ্তানিতে স্থবিরতা নেমে আসার পাশাপাশি দেশের চাহিদা মেটানোই কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভালুকায় টাইলস ও সিরামিকের তৈজসপত্রের আলাদা দুটি কারখানা গড়ে তুলেছে এক্সিলেন্ট সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গত মার্চ মাস থেকে গ্যাস সংকটে গুনতে হচ্ছে লোকসান। হাতে প্রচুর বিদেশি ক্রয়াদেশ থাকলেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তা সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে এক্সিলেন্ট সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হাকিম সুমন জাগো নিউজকে বলেন, এখনো ফ্যাক্টরিতে ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকছে না। আমাদের মেশিনগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করার পরিকল্পনা করে বসানো। উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমেছে। মেশিনের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। উৎপাদনের পরিকল্পনায় ব্যাংক লোন নেওয়া আছে। লাভ তো দূরের কথা, কীভাবে লোকসান কমানো যায় সেই চেষ্টা চলছে গত মার্চ থেকে। প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি, চেষ্টা করছি রক্তক্ষরণটা কমানোর।
আব্দুল হাকিম আরও বলেন, সরকার যদি এ খাতটাকে একটু আন্তরিকতা দেখাতো তবে আমরা টিকে যেতে পারতাম। আমি এখন রপ্তানি করতে পারছি না। প্রচুর অফার রয়েছে। পুরোনো ক্রেতারাও অন্যের কাছে চলে যাচ্ছেন। এ গ্যাসে পণ্য উৎপাদন করলেও মান অবনমন হচ্ছে।
শুধু এক্সিলেন্ট সিরামিক নয়, গ্যাস সংকটে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সামগ্রিক সিরামিক খাত। দেশের অভ্যন্তরে সিরামিকের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার। পাশাপাশি প্রতি বছর বিদেশে যাচ্ছে আরও পাঁচশো কোটি টাকার সিরামিক পণ্য। চলতি বছর এ চাহিদা অব্যাহত থাকলেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে থমকে গেছে শিল্পটি। কারখানার উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমাতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা।
তারা জানান, গ্যাস সংকটে বাজারে ঠিকঠাক পণ্য দিতে পারছেন না। আবার রপ্তানি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো ক্রয়াদেশ কমাচ্ছে। এতে সিরামিক রপ্তানিও নেতিবাচক ধারায় চলে গেছে। সার্বিকভাবে এবছর খাতের টার্নওভার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমছে।বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, গ্যাসের কারণে আমাদের এবছর তিন হাজার কোটির মতো টার্নওভার কমছে, যা সার্বিক বাজারের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। এ ক্ষতির কারণে অধিকাংশ কোম্পানি লোকসানে পড়বে। বিশেষ করে ছোট ছোট অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।
এখন গ্যাসের সংকট কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত মাসে গাজীপুর এলাকার কারখানায় দিনে ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ থাকতো না। এখন ছয় ঘণ্টা থাকে না। সে কারণে গাজীপুর এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু সাভারে এখনো কারখানা চলছে না। সেখানে ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকে না। নারায়ণগঞ্জেও এমন খারাপ অবস্থা। সেখানেও বড় ঘাটতি রয়েছে।
বিসিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে সিরামিক খাতে বর্তমানে ৭০টি প্রতিষ্ঠান আছে। যার অধিকাংশ রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সাভার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের মতো এলাকায়। এসব কারখানায় সিরামিকের তৈজসপত্রের পাশাপাশি টাইলস ও স্যানিটারি পণ্য তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ২০টি তৈজসপত্র, ৩২টি টাইলস ও স্যানিটারি পণ্য উৎপাদনের ১৮টি কারখানা চলমান। গত কয়েক বছরে এ খাতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। যাতে একসময়ের আমদানিনির্ভর এসব পণ্যের এখন প্রায় ৮০ শতাংশ দেশে তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের সিরামিকস পণ্য।
সিরামিক কারখানার মালিকরা বলছেন, তাদের পণ্য প্রস্তুতে চুল্লিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থাকতে হয়। সেই হিসাবে এই শিল্পে গ্যাস একটি অন্যতম কাঁচামাল। পণ্য উৎপাদনে ১০-১১ শতাংশ খরচই হয় গ্যাসের পেছনে। দিনে অনেক সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হয় গ্যাস সংকটের কারণে। চুল্লি বন্ধ করলে আবারও গরম করতে গ্যাস অনেক বেশি লাগে। এছাড়া সিরামিক পণ্য পোড়াতে গ্যাসের প্রেশার দরকার হয়, কারণ চুল্লি রাখতে হয় ১২শ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। তাপমাত্রা কমে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। পণ্যের মান খারাপ হয়ে যায়।
জানতে চাইলে আর্টিসান সিরামিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মামুনুর রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, এখনো রাত থেকে ভোর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে। দীর্ঘদিন গ্যাসের এ সংকটের কারণে লোকসান গুনছি। উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি ঠিকমতো হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য দিতে পারছি না। তাতে ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।
এদিকে সংকট কাটাতে অনেক শিল্প-কারখানা সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস নিচ্ছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে। এতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর বিসিএমইএ পেট্রোবাংলা এবং সিএনজি স্টেশন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেয়। চিঠিগুলোতেও সিএনজি স্টেশনগুলো থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়। যদিও সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তারপরেও কিছু প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে সিলিন্ডারে গ্যাস নিচ্ছে।

গ্যাস সংকটে বড় ক্ষতির মুখে সিরামিক খাত
                                  

দেশের সম্ভাবনাময় সিরামিক শিল্প এখন রপ্তানিমুখী খাত। গত কয়েক বছরে এই খাতটির অগ্রগতি অভূতপূর্ব। মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই মেটাচ্ছে দেশের সিরামিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। রপ্তানিতেও বেশ চাহিদা আছে বাংলাদেশে উৎপাদিত সিরামিক পণ্যের। সম্প্রতি গ্যাস সংকটে খাতটির ওপর রীতিমতো নেমে এসেছে অশনি সংকেত। এলাকাভেদে দিনে শিল্প এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে ছয় থেকে ১২ ঘণ্টা। অথচ সিরামিক কারখানার জন্য মেশিন ২৪ ঘণ্টা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে চালু রাখা জরুরি। এতে রপ্তানিতে স্থবিরতা নেমে আসার পাশাপাশি দেশের চাহিদা মেটানোই কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভালুকায় টাইলস ও সিরামিকের তৈজসপত্রের আলাদা দুটি কারখানা গড়ে তুলেছে এক্সিলেন্ট সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গত মার্চ মাস থেকে গ্যাস সংকটে গুনতে হচ্ছে লোকসান। হাতে প্রচুর বিদেশি ক্রয়াদেশ থাকলেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তা সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে এক্সিলেন্ট সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হাকিম সুমন জাগো নিউজকে বলেন, এখনো ফ্যাক্টরিতে ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকছে না। আমাদের মেশিনগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করার পরিকল্পনা করে বসানো। উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমেছে। মেশিনের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। উৎপাদনের পরিকল্পনায় ব্যাংক লোন নেওয়া আছে। লাভ তো দূরের কথা, কীভাবে লোকসান কমানো যায় সেই চেষ্টা চলছে গত মার্চ থেকে। প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি, চেষ্টা করছি রক্তক্ষরণটা কমানোর।
আব্দুল হাকিম আরও বলেন, সরকার যদি এ খাতটাকে একটু আন্তরিকতা দেখাতো তবে আমরা টিকে যেতে পারতাম। আমি এখন রপ্তানি করতে পারছি না। প্রচুর অফার রয়েছে। পুরোনো ক্রেতারাও অন্যের কাছে চলে যাচ্ছেন। এ গ্যাসে পণ্য উৎপাদন করলেও মান অবনমন হচ্ছে।
শুধু এক্সিলেন্ট সিরামিক নয়, গ্যাস সংকটে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সামগ্রিক সিরামিক খাত। দেশের অভ্যন্তরে সিরামিকের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার। পাশাপাশি প্রতি বছর বিদেশে যাচ্ছে আরও পাঁচশো কোটি টাকার সিরামিক পণ্য। চলতি বছর এ চাহিদা অব্যাহত থাকলেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে থমকে গেছে শিল্পটি। কারখানার উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশের বেশি কমাতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা।
তারা জানান, গ্যাস সংকটে বাজারে ঠিকঠাক পণ্য দিতে পারছেন না। আবার রপ্তানি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো ক্রয়াদেশ কমাচ্ছে। এতে সিরামিক রপ্তানিও নেতিবাচক ধারায় চলে গেছে। সার্বিকভাবে এবছর খাতের টার্নওভার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমছে।বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, গ্যাসের কারণে আমাদের এবছর তিন হাজার কোটির মতো টার্নওভার কমছে, যা সার্বিক বাজারের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। এ ক্ষতির কারণে অধিকাংশ কোম্পানি লোকসানে পড়বে। বিশেষ করে ছোট ছোট অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।
এখন গ্যাসের সংকট কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত মাসে গাজীপুর এলাকার কারখানায় দিনে ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ থাকতো না। এখন ছয় ঘণ্টা থাকে না। সে কারণে গাজীপুর এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু সাভারে এখনো কারখানা চলছে না। সেখানে ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকে না। নারায়ণগঞ্জেও এমন খারাপ অবস্থা। সেখানেও বড় ঘাটতি রয়েছে।
বিসিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে সিরামিক খাতে বর্তমানে ৭০টি প্রতিষ্ঠান আছে। যার অধিকাংশ রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সাভার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের মতো এলাকায়। এসব কারখানায় সিরামিকের তৈজসপত্রের পাশাপাশি টাইলস ও স্যানিটারি পণ্য তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ২০টি তৈজসপত্র, ৩২টি টাইলস ও স্যানিটারি পণ্য উৎপাদনের ১৮টি কারখানা চলমান। গত কয়েক বছরে এ খাতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। যাতে একসময়ের আমদানিনির্ভর এসব পণ্যের এখন প্রায় ৮০ শতাংশ দেশে তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের সিরামিকস পণ্য।
সিরামিক কারখানার মালিকরা বলছেন, তাদের পণ্য প্রস্তুতে চুল্লিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থাকতে হয়। সেই হিসাবে এই শিল্পে গ্যাস একটি অন্যতম কাঁচামাল। পণ্য উৎপাদনে ১০-১১ শতাংশ খরচই হয় গ্যাসের পেছনে। দিনে অনেক সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হয় গ্যাস সংকটের কারণে। চুল্লি বন্ধ করলে আবারও গরম করতে গ্যাস অনেক বেশি লাগে। এছাড়া সিরামিক পণ্য পোড়াতে গ্যাসের প্রেশার দরকার হয়, কারণ চুল্লি রাখতে হয় ১২শ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। তাপমাত্রা কমে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। পণ্যের মান খারাপ হয়ে যায়।
জানতে চাইলে আর্টিসান সিরামিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মামুনুর রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, এখনো রাত থেকে ভোর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে। দীর্ঘদিন গ্যাসের এ সংকটের কারণে লোকসান গুনছি। উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি ঠিকমতো হচ্ছে না। বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য দিতে পারছি না। তাতে ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।
এদিকে সংকট কাটাতে অনেক শিল্প-কারখানা সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস নিচ্ছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে। এতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর বিসিএমইএ পেট্রোবাংলা এবং সিএনজি স্টেশন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেয়। চিঠিগুলোতেও সিএনজি স্টেশনগুলো থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়। যদিও সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তারপরেও কিছু প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে সিলিন্ডারে গ্যাস নিচ্ছে।

স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ২৩৩৩ টাকা
                                  

দেশের বাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালোমানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৩৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৪৬৪ টাকা হয়েছে, যা এতদিন ছিল ৮০ হাজার ১৩২ টাকা।
রোববার (১৩ নভেম্বর) থেকে স্বর্ণের এই নতুন দাম কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
বাজুসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বর থেকে থেকে ভালোমানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে খরচ পড়বে ৮২ হাজার ৪৬৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৩২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম পড়বে ৬৭ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ হাজার ৫২০ টাকা।
তবে রুপার দাম আগের মতো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী— ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ১ হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকায় অপরিবর্তিত আছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ওষ্ঠাগত জনজীবন
                                  

দেশে মূল্যস্ফীতি গত কয়েক বছরে সর্বোচ্চ। আয় কমেছে মানুষের। বেড়েছে ব্যয়। অনেক নিত্যপণ্যের দাম নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে। বিভিন্ন প্রসাধনীর দামও আকাশচুম্বী। এর মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা খোদ সরকারপ্রধানের মুখে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে খাদ্য সংকটে পড়া দেশের তালিকায়ও রয়েছে বাংলাদেশ, যা বাড়তি চাপ তৈরি করেছে সব শ্রেণির মানুষের। এর মধ্যে দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দামও বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। সব মিলে ওষ্ঠাগত জনজীবন।
খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা কিছুটা বেশি। সেখানে বাইসাইকেল মেরামতকারী জালাল মিয়া বলেন, ‘এমনিতে সংসার চলছে না আগের মতো। এক ছেলে স্কুল বাদ দিয়ে দোকানে লেগেছে। সঞ্চয় দূরের কথা, এখন প্রতি মাসে ধার করছি। পাওনাদারের তাগাদায় একরকম পালিয়ে বেড়াতে হয় মাস শেষে। এর মধ্যে দুর্ভিক্ষের খবরের পর থেকে ঘুম হয় না।’
তিনি বলেন, ‘এখন এ পরিস্থিতিতে অন্য কার কী ক্ষতি হচ্ছে জানি না। তবে আমার সন্তানের পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলো। সেটা পোষাবো কীভাবে? আমিও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি, সেটা না হয় একসময় ঠিক হয়ে যাবে।’
ওই এলাকায় জালাল মিয়ার মতো আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুরবস্থা ও দুশ্চিন্তার কথা জানা যায়। শুধু সেখানেই নয়, দেশে গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় সবখানে মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের বেশি ভোগাচ্ছে। শুধু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নয়, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও চাপে আছেন।
তারা বলছেন, পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে যে যার মতো মানিয়ে চলার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন খাতে নানাভাবে নিজেদের খরচ কাটছাঁট করছেন। কেউ দামি খাবার খাওয়া কমিয়েছেন, কেউবা বন্ধ রেখেছেন পোশাক কেনা। আবার কেউ বাসা পাল্টিয়ে খরচ সাশ্রয় করছেন।
সিপাহীবাগ এলাকায় কথা হয় সালাউদ্দিন আহমেদ নামে একজনের সঙ্গে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এ চাকরিজীবী বলেন, ‘ছেলেমেয়ে পল্লীমা একাডেমিতে পড়ে। শুরু থেকে স্কুলের পাশে চৌধুরীপাড়া এলাকায় থাকতাম। সেখানে বাসাভাড়া বেশি। সেজন্য এখন এ এলাকায় এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘তাতেও হিসাব মেলে না মাস শেষে। সেজন্য বাজার খরচ ও ঘোরাফেরা কমিয়ে দিতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে বাবা-মায়ের। গ্রামে তাদের খরচ পাঠাতে পারছি না আগের মতো।’
বিগত কয়েক মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্ল্যাসিফিকেশন (আইপিসি) ছাড়া আরও কিছু খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা বলছে, ২০২৩ সালে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে অনেক দেশ। বৈশ্বিক এ মন্দার কবলে পড়লে বিশ্বের ৩৫ কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে। এসব সংস্থার খাদ্য সংকটের তালিকায় নাম আছে বাংলাদেশেরও।
সাধারণ মানুষ বলছে, গত কয়েক মাসে বাজারে কোনো সুখবর নেই। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে দামের উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে দেশের বাজারে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে। এতে কয়েক দফা বাড়ে নিত্যপণ্যের দাম। দুর্ভিক্ষের খবরের পর আবারও দফায় দফায় পণ্যের দাম বাড়ছে, যা এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
বাজারের তথ্যও বলছে এমন কথা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, বিগত এক বছরের ব্যবধানে বাজারে আটার দাম ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৮ শতাংশ। একইভাবে ময়দার দাম বছর ব্যবধানে ৬৪.৭৭ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
চালের দাম বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৬ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রধান দুটি খাদ্যশস্যের দাম বাড়ায় দারুণ চাপে পড়েছে মানুষ। বাংলাদেশের বাজারে দুটি পণ্যের দামই দাঁড়িয়েছে ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগে মানুষ চালের দাম বাড়লে বিকল্প হিসেবে আটা-ময়দা বেছে নিতো। এবছর সে সুযোগও নেই। আটার দামও অত্যন্ত চড়া। এমনকি চালের দামকে ছাড়িয়ে গেছে আটা-ময়দার দাম।
অন্যদিকে টিসিবির তথ্য আরও বলছে, বাজারে সয়াবিন তেলের দাম এখন গত বছরের তুলনায় সাড়ে ২১ শতাংশ বেশি। আর চিনির দাম বেড়েছে সাড়ে ৪৫ শতাংশ। চিনির ক্ষেত্রে গত একমাসেই দাম বেড়েছে ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত বছর এক কেজি চিনির দাম ৮০ টাকার মধ্যে থাকলেও সেটি এখন ১১৫ টাকা।
বাজারের তথ্য আরও বলছে, বিগত এক বছরে মসুর ডালের দাম ২৬ শতাংশ, অ্যাংকর ডালের দাম ৪৭ শতাংশ, রসুনের দাম ৫০ শতাংশ, শুকনা মরিচের দাম ১১৫ শতাংশ, আদার দাম ১৩০ শতাংশ, গুঁড়ো দুধের দাম ৩৭ শতাংশ, লবণের দাম ১৫ শতাংশ, ফার্মের ডিমের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক এম আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট থেকে শুরু করে ডলারের সংকট হয়েছে সেটা সত্য। তবে সেসব কারণ দেখিয়ে যে হারে পণ্যমূল্য বাড়ানো হয়েছে সেটা বেশি।’
তিনি বলেন, ‘বাজারের এ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এখন হুট করেই তৈরি হয়নি। করোনা পরিস্থিতির পর থেকেই আস্তে আস্তে হচ্ছে, কিন্তু সেটা সরকার আমলে নেয়নি, যা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’
সাবেক কৃষি সচিব ড. আনোয়ার ফারুক বলেন, ‘আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। কিন্তু তেল, চিনি, ডাল ও আটা-ময়দার কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ যেসব পণ্য আমদানি হয়, সেগুলো যেন ব্যাহত না হয় সে ব্যবস্থা দরকার। প্রয়োজনে সরবরাহ ঠিক রাখতে যেখানে ডলার সংকট রয়েছে, তাদের সাধ্যমতো সাপোর্ট দিতে হবে। যেন তারা সুবিধামতো পণ্য আমদানি করতে পারে। তাহলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে।’
বাজার বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যসহ অনেক পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দেশের বাজারে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা, পরিবহন খরচ ও বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব রয়েছে বাজারে। পাশাপাশি একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছেন। দুর্ভিক্ষের খবর পুঁজি করে তারা পণ্য মজুত ও অযাচিতভাবে দাম বাড়াচ্ছে।
বাজারে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে বিকল্প আমদানির উৎস খোঁজার চেষ্টা, খাদ্যে ভর্তুকি বাড়ানো ও দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর পরিসর বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তারা।



শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার, লেনদেনে ধীরগতি
                                  

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দাম কমার তুলনায় দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। তবে লেনদেনে ধীরগতি রয়েছে।
প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেনে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ২২ পয়েন্ট। আর লেনদেন হয়েছে ১৫০ কোটি টাকার কম।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেনে মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সেই সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান।
এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
লেনদেনের শুরুতে দেখা দেয়া এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। এতে লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে এরপর সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা কমতে দেখা যাচ্ছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০টা ৪ মিনিটে ডিএসইতে ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩টির। আর ১২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ২০ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৭ পয়েন্ট। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়েছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫৩ কোটি ৩২ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে এক কোটি ৮১ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৬৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২২টির, কমেছে ১৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির।

ঋণের সুদহার নিয়ে উভয় সঙ্কটে ব্যাংক
                                  

আমানত কমে যাচ্ছে। অনেক ব্যাংক পড়েছে নগদ অর্থের সঙ্কটে। এ সঙ্কট কাটাতে আমানতের সুদহার বাড়ানো হচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো এ ব্যয় সমন্বয় করতে ঋণের সুদহার বাড়াতেও পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ বেঁধে দেয়া হয়েছিল; যা এখনো পরিবর্তান হয়নি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে ঋণের সুদহার বাড়ানো যাবে না। ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যদিও ঋণের শর্ত হিসেবে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দিতে সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এমনি পরিস্থিতিতে ঋণের সুদহার নিয়ে উভয় সঙ্কটে পড়েছে ব্যাংকগুলো।
অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে তৈরি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে আমানত কমেছে দুই হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যেখানে আমানত এসেছিল ১৪ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। আমানত কমে যাওয়ায় সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ রেপো ও বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ ধার নিচ্ছে। এ সঙ্কট কাটাতে কিছু কিছু ব্যাংক বাড়তি সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। কিন্তু ঋণের সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ৯ শতাংশের বেশি সুদে ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। আর এর ফলেই ব্যাংকগুলো পড়েছে বিপাকে। গতকাল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই থেকে ঋণের সুদহার না বাড়ানোর পক্ষে জোরালো মত দিয়েছে এফবিসিসিআই সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফের এক সংলাপে বলেছেন, গ্যাস- বিদ্যুৎ এখন বড় ইস্যু। ব্যবসা-ব্যয় বেড়ে গেছে। এ সময়ে ঋণের সুদহার বাড়ালে শিল্প টিকে থাকবে কি না- এমন প্রশ্ন থেকে যায়। বর্তমান অবস্থায় সুদহার বাড়ালে শিল্প কোথায় যাবে। তিনি বলেন, সুদহার না বাড়িয়ে বাড়তি ব্যয় কমিয়ে ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। ব্যয়বহুল শাখাসহ ব্যাংকের অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যয় কমাতে হবে।
দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া হয়। কিন্তু ওই ঋণের অর্থের বড় একটি অংশ তারা নানা অজুহাতে ফেরত দিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাড় দেয়া হচ্ছে। এতে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়ে গেছে। এক দিকে ঋণের অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা, অন্য দিকে আস্থা ধরে রাখতে আমানতকারীদের অর্থ সুদ-আসলে পরিশোধ করতে হচ্ছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় যেটুকু মুনাফা করা হচ্ছে তার বড় একটি অংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে ব্যয় হচ্ছে। সব মিলেই অনেক ব্যাংক এখন চাপে পড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধ করলে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা আপনাআপনিই বেড়ে যেত। তিনি বলেন, সবধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। মানুষ এখন আর কম সুদে ব্যাংকে আমানত রাখতে চাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অনেক ব্যাংক সুদহার বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ঋণের সুদহার বাড়ছে না। এক দিকে আমানতের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অন্য দিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণের সুদহারে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর তহবিল পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কমছে মুনাফার হার। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যাংকগুলোর অভিভাবক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; অন্যথায় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা আরো কমে যাবে।

খেলাপি ঋণ নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ
                                  

 কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক
ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলাপি ঋণ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না ঋণ আদায়ের হার। খেলাপি ঋণের সিংহভাগই অনাদায়ী রয়ে যায়। আবার খেলাপি ঋণ নামের বিপদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রভিশন ঘাটতি। ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এর বিপরীতে সংস্থান রাখার মতো যথেষ্ট মুনাফা হচ্ছে না। এতে আর্থিক খাতে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে খাতটির বিপদগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)। সেইসঙ্গে ব্যাংক খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি জানতে চেয়েছে— ব্যাংকখাতে কেন খেলাপি বাড়ছে। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ঋণখেলাপিদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে।
রোববার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক বৈঠকে খেলাপি ঋণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের সঙ্গে এর প্রতিকার বিষয়েও জানতে চেয়েছে আইএমএফ।
আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির প্রতিনিধি দলটি এদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মাসুদ বিশ্বাস, কেন্দ্রয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মো. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে আইএমএফের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে বুধবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সফরে আসে আইএমএফ প্রতিনিধি দলটি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কয়েকটি সেশনে বৈঠক করে প্রতিনিধিদলটি। বৈঠ‌কে বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহ আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হ‌য়। এ দিন বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসে দলটি। বৈঠকে রিজার্ভসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
নানা সুবিধা দেওয়ার পরও ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। ২০২২ সালের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণ এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এটি বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশ রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৫ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা।
বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের পরও এ তথ্যটিকে সঠিকভাবে নিচ্ছে না আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে— খেলাপি ঋণের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন হচ্ছে না। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়। আইএমএফের মানদণ্ডে না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠবে। সংস্থাটি বলছে— খেলাপি ঋণের যে হার দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মতে, খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত সহনীয়। বাংলাদেশে এ হার ৯ শতাংশ। সরকারি ব্যাংকে ২০ শতাংশের বেশি। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সন্দেহজনক লেনদেন ও অর্থপাচার নিয়েও উদ্বেগের কথা জানায় সংস্থাটি।
আইএমএফের এসব প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়— সাধারণত খেলাপি ঋণের হিসাব দুইভাবে করা হয়। এর একটি গ্রস এবং অপরটি নিট। গ্রস হিসাবে খেলাপি ঋণ বেশি হলেও নিট হিসাবে কম। যা ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে। এ কারণে করোনাকালীন সময়ে খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে।
দেশের বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে, সরকারি ব্যাংকে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় একটু অসুবিধা হচ্ছে। কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে— সরকারি ব্যাংকের শতভাগ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে নেই।

আবার আটকে গেলো ডিএসই’র লেনদেন
                                  

এক সপ্তাহ না যেতেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন আবারও আটকে গেছে। তবে এবার কারিগরি সমস্যার কারণে নয়, কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারের মূল্য সমন্বয় জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে লেনদেন শুরু করতে পারেনি ডিএসই।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৩০ অক্টোবর) এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময় ৯টা ৩০ মিনিটে লেনদেন শুরু হয়নি। ৩০ মিনিট পর অর্থাৎ ১০টা থেকে লেনদেন শুরু হবে।
তবে ডিএসইর একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ ৬৯ কোম্পানির লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা আছে। লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে এসব কোম্পানির মূল্য সমন্বয় নিয়ে জটিলতায় পড়ে ডিএসই। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে লেনদেন শুরু করতে পারেনি।
যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, অনিবার্য কারণে আজ নির্ধারিত সময়ে লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে কারিগরি কোনো জটিলতা নেই।
এর আগে গত সপ্তাহে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় লেনদেন শুরু হওয়ার পর ১০টা ৫৮ মিনিটে হঠাৎ ডিএসইতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার তিন ঘণ্টা ১২ মিনিট পর ২টা ১০ মিনিটে ডিএসইতে আবার লেনদেন শুরু হয়। এ দফায় লেনদেন চলে মাত্র ২০ মিনিট। এতে সব মিলিয়ে ডিএসইতে লেনদেন হয় এক ঘণ্টা ৪৮ মিনিট।
লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সে সময় ডিএসই থেকে দুঃখ প্রকাশ করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রেডিং সিস্টেমে কারিগরি সমস্যার কারণে ১০টা ৫৮ মিনিটে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ডিএসইর আইটি এবং নাসডাক টিমের যৌথ প্রচেষ্টায় সমস্যার সমাধান করে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে আবার লেনদেন শুরু হয়, যা চলে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
তবে এই লেনদেন বন্ধের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির পরিচালক আবুল হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিপাকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ২০ শতাংশ
                                  

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতির লাগাম যেন থামছেই না। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যমূল্যের মুদ্রাস্ফীতি গড়ে ২০ শতাংশের বেশি। একই সময়ে লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা, সাব-সাহারান আফ্রিকা, এবং পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি গড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে।
এতে বলা হয়, পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোতেই শুধু খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি কম। আংশিকভাবে চালের দাম স্থিতিশীল থাকার কারণে এসব অঞ্চল কিছুটা স্বস্তিতে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, মার্কিন ডলারের কারণেও আসন্ন বিশ্বমন্দা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ, ডলারে রেট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। তবুও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ তেল আমদানিকারক উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এ সময়ের মধ্যে দেশীয় মুদ্রা তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ অর্থনীতিগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ মার্কিন ডলারের বৃদ্ধির তুলনায় স্থানীয় মুদ্রার পরিপ্রেক্ষিতে গমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

সফটওয়্যারের সমস্যায় ডিএসইতে লেনদেন বন্ধ
                                  

ট্রেডিং সফটওয়্যারে কারিগরি সমস্যার কারণে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন সাময়িক বন্ধ হয়ে গেছে।
সোমবার সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটের পরেই লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১১টা ৩২ মিনিটে সমস্যার সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে ডিএসইর জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে লেনদেন সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে আমাদের আইটি টিম, নাসডাক এবং সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে বসেছেন। সমস্যার সমাধান হলে আবার লেনদেন শুরু হবে।

বাজার মূলধন কমলো চার হাজার কোটি টাকা
                                  

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চারদিনই দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে এক সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন চার হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে।
গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৩২ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে তার তিনগুণের বেশি। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মাত্র ৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭১টির। আর ১৭৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১০১ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৭৫ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা এক দশমিক ১৫ শতাংশ। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ৩০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৫৩ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ২৭ শতাংশ।
প্রধান ও ডিএসই-৩০ মূল্যসূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে কমেছে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক। গত সপ্তাহে এই সূচকটি কমেছে ১২ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ২৩ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৬৫ শতাংশ।
সবকয়টি সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে গড় লেনদেনের পরিমাণ। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ২০৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৪৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৮০১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৪ হাজার ৮৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ৯৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। মোট লেনদেন বাড়ার কারণ গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে শেয়ারবাজারে এক কার্যদিবস কম লেনদেন হয়।
সবশেষ সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবথেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৮৬ কোটি ৪১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪৮ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। ৩৩৫ কোটি ৫০ লাখ ২৩ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ফার্মা।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইস, জেএমআই হসপিটাল অ্যান্ড রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, কেডিএস এক্সসরিজ এবং ওরিয়ন ইনফিউশন।

ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
                                  

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকপণ্যের কদর বিশ্বজুড়েই। তবে দেশের পোশাকশিল্পের বড় ক্রেতা ইউরোপ-আমেরিকা। এছাড়া বিশ্বের নতুন নতুন বাজারেও যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশি পোশাকপণ্য। ফলে ক্রমেই বড় হচ্ছে ক্রেতার তালিকা। দেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা আমেরিকার মতো ইউরোপেও বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি বেড়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ইউরোপের পোশাক আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ছিল। এই সময়ে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বাজারে পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ (৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ) বেড়েছে। যেখানে তাদের বৈশ্বিক আমদানি বেড়েছে ২৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এর মাধ্যমে ৬ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি ১১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ পোশাক আমদানির উৎস চীন। আলোচ্য সময়ে চীন থেকে ইউরোপের পোশাক আমদানি ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। চীন থেকে এ সময়ে আমদানি হয় ১২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারের পোশাকপণ্য।
অপরদিকে, তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম পোশাকের উৎস। আলোচ্য সময়ে তুরস্ক থেকে ইউরোপের পোশাক আমদানি ২০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে তুরস্ক থেকে ১০ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে ইইউ। এ সময়ে ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ পোশাক আমদানির উৎস- যেমন কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত থেকে আমদানি যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ, ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ, ৩২ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।
ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি নিয়ে কথা হয় তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, মূলত করোনা মহামারি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং ভোক্তাদের কেনাকাটা বৃদ্ধির ফলে ইউরোপের খুচরা বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে। তবে, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্দার কারণে ২০২২ সালের বাকি সময়টিতে প্রবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা টিকে থাকবে, তা ভাবনার বিষয়।
এছাড়া, অস্বাভাবিক দীর্ঘ গ্রীষ্মের কারণে শীতের পোশাকের চাহিদাও ইউরোপে বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছিল। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের আমদানি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারে। তবে পরবর্তীতে অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে খুচরা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় ক্রেতারা আপাতত সতর্ক অবস্থানে আছেন বলেও জানান মো. মহিউদ্দিন রুবেল।
অন্যদিকে আমেরিকার অফিসিয়াল ডেটা সোর্স ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপেরেল (ওটিইএক্সএ)’ চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ের জন্য সর্বশেষ পোশাক আমদানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ওটিইএক্সএ`র মতে, ২০২১ সালের একই সময়ের (জানুয়ারি-জুলাই) তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার পোশাক আমদানি ৫৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। আর পুরো বিশ্ব থেকে তাদের আমদানি বেড়েছে ৩৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৫ দশমিক ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে চীন থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪০ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শীর্ষ পোশাক আমদানির উৎস চীন। আলোচিত সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র পোশাক আমদানি করেছে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের। একই সময়ে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ৩৫ দশমিক ৩০ বেড়েছে, আমদানি পৌঁছেছে ১০ দশমকি ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যান্য শীর্ষ দেশ যেমন ইন্দোনেশিয়া, ভারত, কম্বোডিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি একই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

খেলাপি ঋণে ছাড় কমলো
                                  

ছাড় দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালায় আবারও সংশোধন আনা হয়েছে। এতে ব্যাংকারদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নীতিমালার আলোকে ‘পুনঃতফসিল করা কোনো ঋণ ছয় মাস অনাদায়ী থাকলে তা সরাসরি মন্দ মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে।
পুনঃতফসিল করা ঋণের সুদ আয় হিসেবে দেখানোর শর্ত কঠোর করা হয়েছে। অর্থাৎ আদায় ছাড়া পুনঃতফসিল করা ঋণের সুদ আয় খাতে নেওয়া যাবে না।
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে। ঋণ খেলাপিদের ঢালাও ছাড় দেওয়া নিয়ে তখন সমালোচনা উঠে। সমালোচনা করেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকার। ওই সার্কুলারের ১৬ দিনের মাথায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হলো।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, পুনঃতফসিলের পর আরোপিত সুদ প্রকৃত আদায় ছাড়া ব্যাংকের আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। মন্দ মানে শ্রেণিকৃত ঋণ তৃতীয় ও চতুর্থবার পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে প্রকৃত আদায় ছাড়া সংরক্ষিত প্রভিশন ব্যাংকের আয় খাতে নেওয়া যাবে না।
গত ১৮ জুলাইয়ের নির্দেশনায় ঋণ পুনঃতফসিলে শুধু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া ছিল। যেটা এতদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখতিয়ার ছিলো। নতুন নির্দেশনায় ‘সেই সিদ্ধান্ত’ বদলে ব্যাংকারদের ক্ষমতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।তুলে দেওয়া হয়েছে ঋণ পুনঃতফসিলে গ্রহীতার আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা। এছাড়া ‘বিশেষ বিবেচনা’র পরিবর্তে ‘গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে শিল্প/ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলেই’ শুধু চতুর্থবার ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে, বলে নতুন সাকুর্লারে বলা হয়ে।
তবে পরিদর্শনের পর কোনো ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ পরিদর্শনের সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত শর্ত পরিপালন যাচাই-বাছাই শেষে ঋণটিকে যেকোনো শ্রেণিমানে রাখতে পারবে।’
পরিদর্শন শেষে তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। পুনঃতফসিল পরে আসল ও সুদ মাসিক কিংবা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সমকিস্তিতে আদায় করতে হবে। ছয়টি মাসিক বা দুটি ত্রৈমাসিক কিস্তি অনাদায়ী হলে পুনঃতফসিল করা ঋণ সরাসরি ক্ষতিজনক বা মন্দ মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে।

রেমিট্যান্স ও রফতানিতে বাজিমাত
                                  

পণ্য রফতানিতে নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি জুলাইয়ে রফতানিতে আয় হয়েছে ৩৯৮ কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মঙ্গলবার (২ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অপরদিকে গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সও এসেছে জুলাইতে। এ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। গত সোমবার রেমিট্যান্সের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেলো এ তথ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের এই অঙ্ক গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের মে’তে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।
করোনার অভিঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের রফতানিতে এই সাফল্য দেশের অর্থনীতির জন্য আশা জাগানিয়া লক্ষণ হিসেবে মনে করছেন রফতানিকারকরা।
মাঝে কোরবানির ঈদের ছুটির কারণে আট-দশ দিন পোশাক কারখানাসহ অন্য সব কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও অর্থনীতির এই সূচকের সাফল্যকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তারা।
ইপিবির তথ্যমতে, বাংলাদেশ জুলাই মাসে প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকে ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, প্লাস্টিক পণ্যে ৪৪ দশমিক ৩২ শতাংশ, ম্যানুফ্যাকচার্ড কমোডিটিজে ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, তৈরি পোশাকে ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং পাটজাত পণ্যে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
নিট ও ওভেন মিলিয়ে ৩৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে জুলাইয়ে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।
যদিও কৃষি, হস্তশিল্প ও কেমিক্যাল পণ্য রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্য ধরেছে সরকার।
ইপিবির তথ্যে দেখা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে পাট খাত থেকে রফতানি আয় তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ শতাংশ কম এসেছিল।
এ বছর অন্যান্য খাতের মধ্যে জুলাইয়ে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য, ৯ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারের হোম টেক্সটাইল, ৯ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে।
হিমায়িত মাছ রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ওষুধ রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রফতানি থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার, বাইসাইকেল থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ডলার, ক্যাপ ও টুপি থেকে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, প্লাস্টিক পণ্য ১ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং কুটিরশিল্প রফতানি থেকে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ।
অপরদিকে গত জুনের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে প্রায় ২৬ কোটি ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। জুনে এসেছিল ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার। মে’তে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।
এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
গত বছরের জুলাই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার।
তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।
২০২০-২১ অর্থবছরে এসেছিল দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রবাসীরা এখন ডলারের রেট বেশি পাচ্ছেন। এছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করেছে। এ কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে। আশা করছি এ ধারা অব্যাহত থাকবে।  
দেশের রফতানিকারকরা বলছেন, বিদ্যমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সমগ্র বিশ্বে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এতে সেসব দেশের মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। যার কারণে তারা নিত্যপণ্যের বাইরে অন্য পণ্যের ক্রয় কমিয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজারই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। সেখানে বিক্রি কমলে প্রভাব তৈরি পোশাকের রফতানিতে পড়বেই।
তারপরও চলতি জুলাইয়ে নিট ও ওভেন মিলিয়ে ৩৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।
গত বছরের জুলাইয়ে ২৮৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছিল। সদ্য বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে পোশাক খাতে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় সাড়ে ৩৫ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশের নিট পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, শুধু বাংলাদেশই নয়, এটা আশপাশের দেশগুলোর জন্যও সুসংবাদ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে প্রতিটি দেশই যখন রফতানি আয় এবং প্রবাসী আয়ে ধস সামলাচ্ছে, তখন দুটি সূচকেই বাংলাদেশের সাফল্য আমাদের সাহসী করেছে। ভবিষ্যতে আর পেছনে তাকাতে হবে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি আয় বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। যুদ্ধের উত্তেজনাও কমতে শুরু করেছে বলে শুনছি। আমেরিকান ক্রেতারা নাকি বাংলাদেশে আসছেন। ভিয়েতনাম থেকেও অর্ডার আসছে। এটি শুভ লক্ষণ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জি এইচ হাবিব জানিয়েছেন, বিশ্বের এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ রফতানি আয় ও প্রবাসী আয়ে যে সাফল্য দেখিয়েছে তা অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি খুব একটা কমবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও অর্থনীতিতে সংকট নেই। তবে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউরোপ। সুসংবাদ হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেটা হলে বাংলাদেশের দুঃশ্চিন্তার কারণ নাই।

শেয়ারবাজারে লোডশেডিং আতঙ্ক
                                  

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত জানানোর পর শেয়ারবাজারে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে ভয়াবহ দর পতনের মধ্যে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ দিনের সর্বনিম্ন দামে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট বিক্রির আদেশ দেন। ফলে লেনদেন শুরু থেকেই বড় পতনের মধ্যে পড়েছে সূচক।
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ে লক্ষ্যে সোমবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সরকার। সেইসঙ্গে সপ্তাহে একদিন পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, আমাদের ধারণা, এখন এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হবে। এটা আমরা ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং করে দেবো। এতে দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা, কোথাও কোথাও দুই ঘণ্টাও লোডশেডিং হতে পারে। কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
পরে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ, মন্দির বা উপাসনালয়গুলোতেও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মসজিদে নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় যেন যত্রতত্র এসি ব্যবহার না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার থেকে দেশের সব এলাকায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হবে। এক সপ্তাহ পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা দেখার পর পরবর্তীতে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হতে পারে।
লোডশেডিং নিয়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আসার পর সোমবার শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৮৭ পয়েন্ট কমে যায়। ক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে ২৭৫ প্রতিষ্ঠানের।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার শেয়ারবাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ দিনের সর্বনিম্ন দামে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট বিক্রির আদেশ দিতে থাকেন। ফলে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের ক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে।
এমন ক্রেতা সংকট দেখা দেয়ায় লেনদেনের ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ৫০ পয়েন্টের ওপরে পড়ে যায়। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০টা ৩০ মিনিটে ডিএসইতে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২৪টির। আর ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৭৬ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট কমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমেছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫১ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ১৩১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির।
শেয়ারবাজারে এমন দরপতন দেখা দেওয়ার কারণ হিসেবে ডিএসইর একাধিক সদস্য বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেকে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন। আর বিক্রির চাপ বাড়ায় শেয়ারবাজারে বড় দরপতন দেখা দিয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সরকার বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিয়েছে। এতে শিল্পের উৎপাদন কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হবে। রপ্তানি আয় কমতে পারে। এ কারণে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ফলে বিক্রি চাপ বেড়েছে এবং দরপতন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি বলবো যে খুব বেশি মাত্রায় শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কি না হওয়া উচিত। সেইসঙ্গে বিক্রির চাপ না বাড়িয়ে শেয়ার ধরে রাখা উচিত। কিছুদিন অপেক্ষা করে দেখা উচিত পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
                                  

গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে ৩৪ হাজার ৪০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা।
এদিকে সেতুর ওপর ঈদে ঘরে ফেরা মানুষবাহী যানাবহনের চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাসুদ বাপ্পী বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৪ হাজার ৪০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৭২ লাখ ৩৩ হাজার ৫০ টাকা। এর মধ্যে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ১৮ হাজার ৯২৪টি যান পারাপারের বিপরীতে এক কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার ৩০০ টাকার টোল আদায় হয়েছে। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গাড়ি চলেছে ১৫ হাজার ৪৮৩টি। পশ্চিম টোল প্লাজায় আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। 

গতি ফিরে পাচ্ছে পুঁজিবাজার, স্থিতিশীল রাখতেও পদক্ষেপ
                                  

গতি ফিরে পাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। গতির পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়াতেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফলে বিনিয়োগ সহায়ক নানা পদক্ষেপে সংশ্লিষ্টদের মনে আশার সঞ্চার।
বাজারের একাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকাটাইমস। তাদের সবার ভাষ্য একই। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসির উদ্যোগ তারা আশান্বিত। সবশেষ মঙ্গলবার ডিএসই ইটিএফ ও এটিবি চালুর বিষয়ে যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে তা বিনিয়োগকারীসহ সবার জন্যই ইতিবাচক।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বাজার ইতোমধ্যে গতি ফিরে পেয়েছে। নানা পদক্ষেপের ফলে টানা কয়েকদিন ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে যা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
তাদের মতে, বর্তমানে পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় চলছে। এভাবে চলতে থাকলে বাজারে আরো বিনিয়োগকারী আসবে। সবাই লেনদেনে উৎসাহিত হবে। অনেকেই ভয়ে স্থির হয়ে গিয়েছিল, তারা বাজারের ভালো অবস্থান দেখে আবার ফিরে আসছেন। এর মধ্যে আর কিছুদিন পরই বাজেট আসছে। বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য একটা বড় অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। সবকিছু মিলিয়ে বাজারে সুবাতাস বইছে। যা আরো সামনে জোরেসোরে বইবে এবং বাজার আরো বড় উত্থানে লেনদেন হবে বলে আশা তাদের।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন বাজেটে বাজারের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ রাখা হবে। যেহেতু এই বিষয়টা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়িয়েছে, সেহেতু এবার পুঁজিবাজারে সুবাতাস দীর্ঘমেয়াদি হবে। যার প্রতিফলন ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বাজার টানা ইতিবাচক ধারায় চলছে। লেনদেনের পরিমাণও ভালো হচ্ছে। এর থেকেই বুঝা যায় বাজার গতি ফিরে পেয়েছে। যা অব্যাহত থাকবে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা জানান, আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগ রাখা হবে। যা বাজারকে আরো গতিশীল করে তুলতে সহযোগিতা করবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন পদক্ষেপে বাজার ইতিবাচক ধারায় চলছে তা সবাই দেখছেন। তাই আশা করা যায় বাজেটের পর বাজার দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের একাধিক সূত্র ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট কর কমছে। একই সঙ্গে কমছে হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতে কর। এছাড়াও প্রথমবারের মতো দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিনা প্রশ্নে সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনা প্রশ্নে পাচার হওয়া অর্থ সাদা করার সুযোগ দেবে সরকার। ফলে কেউ যদি বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনে তবে দেশের অন্য কোনো আইনে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হবে না। অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার বিভিন্ন ধরনের সুযোগ বহু আগে থেকেই দিয়ে আসলেও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের সুযোগ এবারই প্রথম দিচ্ছে সরকার। তবে এ সুবিধা শুধুমাত্র এক বছরের জন্যই দেওয়া হবে।
এ সুবিধার ফলে বাংলাদেশিরা বিদেশে তাদের সম্পদের তথ্য আয়ের বিবরণীতে যুক্ত করার সুযোগ পাবেন, ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে না।
জানা গেছে, এবারের বাজেটে তিনভাবে ট্যাক্স অ্যামনেস্টি দেয়া হবে। প্রথমত, বিদেশে স্থাবর সম্পত্তি থাকলে সেই সম্পত্তি দেশের আয়কর রিটার্নে দেখাতে চাইলে ১৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, অস্থাবর সম্পত্তির ওপর ১০ শতাংশ কর এবং তৃতীয়ত, কেউ বিদেশ থেকে টাকা দেশের আনলে সেই টাকার ওপর সাত শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে দেখাতে পারবেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবে টাকা যোগ হওয়ার আগেই কর পরিশোধ করতে হবে। সব ক্ষেত্রেই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করা হবে না। এমনকি আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হবে না।সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ‘বিভিন্ন সময় যেসব টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চলে গেছে, আমরা বিভিন্নভাবে এসব টাকা ফেরতের সুযোগ দিতে অ্যামনেস্টি দিচ্ছি, যাতে টাকাগুলো আমাদের দেশে ফিরে আসে, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
এছাড়াও আসন্ন বাজেটে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে এ ছাড় পেতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিগুলোকে শর্ত পূরণ করতে হবে। কোন কোম্পানি শর্ত পূরণ করতে না পারলে কর হার কমার পরিবর্তে আড়াই শতাংশ বাড়বে।
আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের ক্ষেত্রে দুটি শর্ত থাকছে। একটি হচ্ছে- যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হয়েছে, তারাই কেবল এ সুবিধা পাবে।
আর দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শর্তপূরণে ব্যর্থ হলে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া থাকলেও ওই কোম্পানিকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিতে হবে।
একক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানির (ওপিসি) ক্ষেত্রেও একই শর্ত দিয়ে করপোরেট কর ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। বর্তমানে এক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ কর দিতে হয়।


   Page 1 of 16
     অর্থনীতি
গ্যাস সংকটে বড় ক্ষতির মুখে সিরামিক খাত
.............................................................................................
স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ২৩৩৩ টাকা
.............................................................................................
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ওষ্ঠাগত জনজীবন
.............................................................................................
শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার, লেনদেনে ধীরগতি
.............................................................................................
ঋণের সুদহার নিয়ে উভয় সঙ্কটে ব্যাংক
.............................................................................................
খেলাপি ঋণ নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ
.............................................................................................
আবার আটকে গেলো ডিএসই’র লেনদেন
.............................................................................................
বিপাকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ২০ শতাংশ
.............................................................................................
সফটওয়্যারের সমস্যায় ডিএসইতে লেনদেন বন্ধ
.............................................................................................
বাজার মূলধন কমলো চার হাজার কোটি টাকা
.............................................................................................
ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
.............................................................................................
খেলাপি ঋণে ছাড় কমলো
.............................................................................................
রেমিট্যান্স ও রফতানিতে বাজিমাত
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে লোডশেডিং আতঙ্ক
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
.............................................................................................
গতি ফিরে পাচ্ছে পুঁজিবাজার, স্থিতিশীল রাখতেও পদক্ষেপ
.............................................................................................
‘পারসন অব দ্য ইয়ারে’ ভূ‌ষিত বসুন্ধরা এম‌ডি
.............................................................................................
‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ইয়ার ২০২১-২২’ সম্মানে ভূষিত সাফওয়ান সোবহান
.............................................................................................
ধর্মঘটের সমাধান না হলে বাধাগ্রস্ত - রপ্তানিখাত
.............................................................................................
পদ সৃজন ৪৫ হাজার, করোনায় কর্মহীন দেড় কোটি
.............................................................................................
বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিত্যপণ্যের দাম
.............................................................................................
৬০০ কোটি টাকা ছাড়ালো লেনদেন প্রথম ঘণ্টাতেই
.............................................................................................
ব্যাংক হিসাব তলব ১১ সাংবাদিক নেতার
.............................................................................................
অস্বাভাবিক দাম: ৪ মাস পর ডিএসইর সতর্কবার্তা
.............................................................................................
অস্বাভাবিক দাম: ৪ মাস পর ডিএসইর সতর্কবার্তা
.............................................................................................
৪ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি
.............................................................................................
বাংলাদেশে পোশাক খাতে তৈরি হচ্ছে সুবর্ণ সুযোগ
.............................................................................................
বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে মেট্রো স্পিনিং
.............................................................................................
‘টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবে না’- তথ্যটি সঠিক নয়
.............................................................................................
বীমা ও শেয়ারবাজারও বন্ধ আজ
.............................................................................................
রণোদনার ঋণের গ্রহিতা ও ব্যয়ের তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি
.............................................................................................
১২ দিন পর বাংলাবান্ধা দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু
.............................................................................................
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে এশিয়ায় বাংলাদেশ পঞ্চম
.............................................................................................
বন্ধ পাইকারি বাজার, খুচরায় চড়া মসলা
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে ১০ বছরে সর্বোচ্চ লেনদেন
.............................................................................................
সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ
.............................................................................................
লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে ধস
.............................................................................................
শবে বরাতের আগেও দাম বাড়লো নিত্যপণ্যের
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন
.............................................................................................
আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভর করে শুরুতে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান
.............................................................................................
ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান, ১২৩ প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা
.............................................................................................
চড়া কাঁচামালের দাম, বেশি বিপদে ছোট বেকারিগুলো
.............................................................................................
বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২৬ লাখ ১২ ছাড়িয়েছে
.............................................................................................
রমজানের ৬ নিত্যপণ্যের মজুত পর্যাপ্ত
.............................................................................................
শেয়ারপ্রতি ২০ পয়সা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দেবে গোল্ডেন হারভেস্ট
.............................................................................................
লভ্যাংশ হিসেবে শুধু শেয়ার দেবে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স
.............................................................................................
আবারও বিক্ষোভে নেমেছে মিয়ানমারের হাজারো জনতা
.............................................................................................
একদিনে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বাড়ল ১০ টাকা
.............................................................................................
নাটোরে শুরু হলো মাসব্যাপী ‘বিসিক-ঐক্য স্বাধীনতা মেলা’
.............................................................................................
তেলের বাজার চাঙ্গা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রকাশক: রিনা বেগম
প্রধান সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান
প্রকাশক কতৃক ৫১/৫১ এ পুরানা পল্টন থেকে প্রকাশিত । সোনালী প্রিন্টিং প্রেস ২/১/এ ইডেন ভবন ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৫১/৫১ এ পুরানা পল্টন (৪র্থ তলা) , ঢাকা - ১০০০।
ফোন: ০২২২৩৩৮০৮৭২ , মোবাইল: ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale