|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র   * যানজট নিরসনে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ ডিএনসিসির   * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী   * শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে দারিদ্র্য বড় বাধা: প্রধানমন্ত্রী   * জ্বালানি তেল-সারের মূল্য বাড়ায় কমতে পারে ধানের উৎপাদন   * মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ   * বিশ্বে দুর্ভিক্ষের মুখে সাড়ে ৩৪ কোটিরও বেশি মানুষ : জাতিসংঘ   * শিক্ষায় বেড়েছে সংখ্যা, মান বাড়েনি ৫০ বছরেও   * বিশ্ববাজারে অর্ধেকে নেমেছে পাম তেলের দাম, কমছে না দেশে   * নজরদারিতে আসছে মাছ ধরার নৌযান, ডিভাইস জানাবে জেলেদের অবস্থান  

   অর্থনীতি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
খেলাপি ঋণে ছাড় কমলো

ছাড় দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালায় আবারও সংশোধন আনা হয়েছে। এতে ব্যাংকারদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নীতিমালার আলোকে ‘পুনঃতফসিল করা কোনো ঋণ ছয় মাস অনাদায়ী থাকলে তা সরাসরি মন্দ মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে।
পুনঃতফসিল করা ঋণের সুদ আয় হিসেবে দেখানোর শর্ত কঠোর করা হয়েছে। অর্থাৎ আদায় ছাড়া পুনঃতফসিল করা ঋণের সুদ আয় খাতে নেওয়া যাবে না।
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে। ঋণ খেলাপিদের ঢালাও ছাড় দেওয়া নিয়ে তখন সমালোচনা উঠে। সমালোচনা করেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকার। ওই সার্কুলারের ১৬ দিনের মাথায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হলো।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, পুনঃতফসিলের পর আরোপিত সুদ প্রকৃত আদায় ছাড়া ব্যাংকের আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। মন্দ মানে শ্রেণিকৃত ঋণ তৃতীয় ও চতুর্থবার পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে প্রকৃত আদায় ছাড়া সংরক্ষিত প্রভিশন ব্যাংকের আয় খাতে নেওয়া যাবে না।
গত ১৮ জুলাইয়ের নির্দেশনায় ঋণ পুনঃতফসিলে শুধু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া ছিল। যেটা এতদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখতিয়ার ছিলো। নতুন নির্দেশনায় ‘সেই সিদ্ধান্ত’ বদলে ব্যাংকারদের ক্ষমতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।তুলে দেওয়া হয়েছে ঋণ পুনঃতফসিলে গ্রহীতার আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা। এছাড়া ‘বিশেষ বিবেচনা’র পরিবর্তে ‘গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে শিল্প/ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলেই’ শুধু চতুর্থবার ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে, বলে নতুন সাকুর্লারে বলা হয়ে।
তবে পরিদর্শনের পর কোনো ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ পরিদর্শনের সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত শর্ত পরিপালন যাচাই-বাছাই শেষে ঋণটিকে যেকোনো শ্রেণিমানে রাখতে পারবে।’
পরিদর্শন শেষে তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। পুনঃতফসিল পরে আসল ও সুদ মাসিক কিংবা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সমকিস্তিতে আদায় করতে হবে। ছয়টি মাসিক বা দুটি ত্রৈমাসিক কিস্তি অনাদায়ী হলে পুনঃতফসিল করা ঋণ সরাসরি ক্ষতিজনক বা মন্দ মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে।

খেলাপি ঋণে ছাড় কমলো
                                  

ছাড় দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালায় আবারও সংশোধন আনা হয়েছে। এতে ব্যাংকারদের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নীতিমালার আলোকে ‘পুনঃতফসিল করা কোনো ঋণ ছয় মাস অনাদায়ী থাকলে তা সরাসরি মন্দ মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে।
পুনঃতফসিল করা ঋণের সুদ আয় হিসেবে দেখানোর শর্ত কঠোর করা হয়েছে। অর্থাৎ আদায় ছাড়া পুনঃতফসিল করা ঋণের সুদ আয় খাতে নেওয়া যাবে না।
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে। ঋণ খেলাপিদের ঢালাও ছাড় দেওয়া নিয়ে তখন সমালোচনা উঠে। সমালোচনা করেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকার। ওই সার্কুলারের ১৬ দিনের মাথায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হলো।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, পুনঃতফসিলের পর আরোপিত সুদ প্রকৃত আদায় ছাড়া ব্যাংকের আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। মন্দ মানে শ্রেণিকৃত ঋণ তৃতীয় ও চতুর্থবার পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে প্রকৃত আদায় ছাড়া সংরক্ষিত প্রভিশন ব্যাংকের আয় খাতে নেওয়া যাবে না।
গত ১৮ জুলাইয়ের নির্দেশনায় ঋণ পুনঃতফসিলে শুধু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া ছিল। যেটা এতদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখতিয়ার ছিলো। নতুন নির্দেশনায় ‘সেই সিদ্ধান্ত’ বদলে ব্যাংকারদের ক্ষমতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।তুলে দেওয়া হয়েছে ঋণ পুনঃতফসিলে গ্রহীতার আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা। এছাড়া ‘বিশেষ বিবেচনা’র পরিবর্তে ‘গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে শিল্প/ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলেই’ শুধু চতুর্থবার ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে, বলে নতুন সাকুর্লারে বলা হয়ে।
তবে পরিদর্শনের পর কোনো ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ পরিদর্শনের সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত শর্ত পরিপালন যাচাই-বাছাই শেষে ঋণটিকে যেকোনো শ্রেণিমানে রাখতে পারবে।’
পরিদর্শন শেষে তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। পুনঃতফসিল পরে আসল ও সুদ মাসিক কিংবা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সমকিস্তিতে আদায় করতে হবে। ছয়টি মাসিক বা দুটি ত্রৈমাসিক কিস্তি অনাদায়ী হলে পুনঃতফসিল করা ঋণ সরাসরি ক্ষতিজনক বা মন্দ মানে শ্রেণিকরণ করতে হবে।

রেমিট্যান্স ও রফতানিতে বাজিমাত
                                  

পণ্য রফতানিতে নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি জুলাইয়ে রফতানিতে আয় হয়েছে ৩৯৮ কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মঙ্গলবার (২ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অপরদিকে গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সও এসেছে জুলাইতে। এ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। গত সোমবার রেমিট্যান্সের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেলো এ তথ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের এই অঙ্ক গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের মে’তে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।
করোনার অভিঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের রফতানিতে এই সাফল্য দেশের অর্থনীতির জন্য আশা জাগানিয়া লক্ষণ হিসেবে মনে করছেন রফতানিকারকরা।
মাঝে কোরবানির ঈদের ছুটির কারণে আট-দশ দিন পোশাক কারখানাসহ অন্য সব কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও অর্থনীতির এই সূচকের সাফল্যকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তারা।
ইপিবির তথ্যমতে, বাংলাদেশ জুলাই মাসে প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকে ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, প্লাস্টিক পণ্যে ৪৪ দশমিক ৩২ শতাংশ, ম্যানুফ্যাকচার্ড কমোডিটিজে ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, তৈরি পোশাকে ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং পাটজাত পণ্যে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
নিট ও ওভেন মিলিয়ে ৩৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে জুলাইয়ে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।
যদিও কৃষি, হস্তশিল্প ও কেমিক্যাল পণ্য রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্য ধরেছে সরকার।
ইপিবির তথ্যে দেখা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে পাট খাত থেকে রফতানি আয় তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ শতাংশ কম এসেছিল।
এ বছর অন্যান্য খাতের মধ্যে জুলাইয়ে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য, ৯ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারের হোম টেক্সটাইল, ৯ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে।
হিমায়িত মাছ রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ওষুধ রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রফতানি থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার, বাইসাইকেল থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ডলার, ক্যাপ ও টুপি থেকে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, প্লাস্টিক পণ্য ১ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং কুটিরশিল্প রফতানি থেকে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ।
অপরদিকে গত জুনের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে প্রায় ২৬ কোটি ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। জুনে এসেছিল ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার। মে’তে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।
এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
গত বছরের জুলাই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার।
তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।
২০২০-২১ অর্থবছরে এসেছিল দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রবাসীরা এখন ডলারের রেট বেশি পাচ্ছেন। এছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করেছে। এ কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে। আশা করছি এ ধারা অব্যাহত থাকবে।  
দেশের রফতানিকারকরা বলছেন, বিদ্যমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সমগ্র বিশ্বে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এতে সেসব দেশের মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। যার কারণে তারা নিত্যপণ্যের বাইরে অন্য পণ্যের ক্রয় কমিয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজারই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। সেখানে বিক্রি কমলে প্রভাব তৈরি পোশাকের রফতানিতে পড়বেই।
তারপরও চলতি জুলাইয়ে নিট ও ওভেন মিলিয়ে ৩৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।
গত বছরের জুলাইয়ে ২৮৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছিল। সদ্য বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে পোশাক খাতে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় সাড়ে ৩৫ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশের নিট পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, শুধু বাংলাদেশই নয়, এটা আশপাশের দেশগুলোর জন্যও সুসংবাদ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে প্রতিটি দেশই যখন রফতানি আয় এবং প্রবাসী আয়ে ধস সামলাচ্ছে, তখন দুটি সূচকেই বাংলাদেশের সাফল্য আমাদের সাহসী করেছে। ভবিষ্যতে আর পেছনে তাকাতে হবে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি আয় বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। যুদ্ধের উত্তেজনাও কমতে শুরু করেছে বলে শুনছি। আমেরিকান ক্রেতারা নাকি বাংলাদেশে আসছেন। ভিয়েতনাম থেকেও অর্ডার আসছে। এটি শুভ লক্ষণ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জি এইচ হাবিব জানিয়েছেন, বিশ্বের এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ রফতানি আয় ও প্রবাসী আয়ে যে সাফল্য দেখিয়েছে তা অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি খুব একটা কমবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও অর্থনীতিতে সংকট নেই। তবে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউরোপ। সুসংবাদ হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সেটা হলে বাংলাদেশের দুঃশ্চিন্তার কারণ নাই।

শেয়ারবাজারে লোডশেডিং আতঙ্ক
                                  

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত জানানোর পর শেয়ারবাজারে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে ভয়াবহ দর পতনের মধ্যে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ দিনের সর্বনিম্ন দামে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট বিক্রির আদেশ দেন। ফলে লেনদেন শুরু থেকেই বড় পতনের মধ্যে পড়েছে সূচক।
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ে লক্ষ্যে সোমবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সরকার। সেইসঙ্গে সপ্তাহে একদিন পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, আমাদের ধারণা, এখন এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হবে। এটা আমরা ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং করে দেবো। এতে দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টা, কোথাও কোথাও দুই ঘণ্টাও লোডশেডিং হতে পারে। কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
পরে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ, মন্দির বা উপাসনালয়গুলোতেও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মসজিদে নামাজের সময় ছাড়া অন্য সময় যেন যত্রতত্র এসি ব্যবহার না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার থেকে দেশের সব এলাকায় এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হবে। এক সপ্তাহ পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা দেখার পর পরবর্তীতে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হতে পারে।
লোডশেডিং নিয়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আসার পর সোমবার শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৮৭ পয়েন্ট কমে যায়। ক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে ২৭৫ প্রতিষ্ঠানের।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার শেয়ারবাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ দিনের সর্বনিম্ন দামে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট বিক্রির আদেশ দিতে থাকেন। ফলে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের ক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে।
এমন ক্রেতা সংকট দেখা দেয়ায় লেনদেনের ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ৫০ পয়েন্টের ওপরে পড়ে যায়। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০টা ৩০ মিনিটে ডিএসইতে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২৪টির। আর ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৭৬ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট কমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমেছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫১ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ১৩১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির।
শেয়ারবাজারে এমন দরপতন দেখা দেওয়ার কারণ হিসেবে ডিএসইর একাধিক সদস্য বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেকে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন। আর বিক্রির চাপ বাড়ায় শেয়ারবাজারে বড় দরপতন দেখা দিয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সরকার বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিয়েছে। এতে শিল্পের উৎপাদন কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হবে। রপ্তানি আয় কমতে পারে। এ কারণে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ফলে বিক্রি চাপ বেড়েছে এবং দরপতন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি বলবো যে খুব বেশি মাত্রায় শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কি না হওয়া উচিত। সেইসঙ্গে বিক্রির চাপ না বাড়িয়ে শেয়ার ধরে রাখা উচিত। কিছুদিন অপেক্ষা করে দেখা উচিত পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
                                  

গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে ৩৪ হাজার ৪০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা।
এদিকে সেতুর ওপর ঈদে ঘরে ফেরা মানুষবাহী যানাবহনের চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাসুদ বাপ্পী বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৪ হাজার ৪০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৭২ লাখ ৩৩ হাজার ৫০ টাকা। এর মধ্যে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ১৮ হাজার ৯২৪টি যান পারাপারের বিপরীতে এক কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার ৩০০ টাকার টোল আদায় হয়েছে। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে গাড়ি চলেছে ১৫ হাজার ৪৮৩টি। পশ্চিম টোল প্লাজায় আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। 

গতি ফিরে পাচ্ছে পুঁজিবাজার, স্থিতিশীল রাখতেও পদক্ষেপ
                                  

গতি ফিরে পাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। গতির পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়াতেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফলে বিনিয়োগ সহায়ক নানা পদক্ষেপে সংশ্লিষ্টদের মনে আশার সঞ্চার।
বাজারের একাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকাটাইমস। তাদের সবার ভাষ্য একই। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসির উদ্যোগ তারা আশান্বিত। সবশেষ মঙ্গলবার ডিএসই ইটিএফ ও এটিবি চালুর বিষয়ে যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে তা বিনিয়োগকারীসহ সবার জন্যই ইতিবাচক।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বাজার ইতোমধ্যে গতি ফিরে পেয়েছে। নানা পদক্ষেপের ফলে টানা কয়েকদিন ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে যা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
তাদের মতে, বর্তমানে পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় চলছে। এভাবে চলতে থাকলে বাজারে আরো বিনিয়োগকারী আসবে। সবাই লেনদেনে উৎসাহিত হবে। অনেকেই ভয়ে স্থির হয়ে গিয়েছিল, তারা বাজারের ভালো অবস্থান দেখে আবার ফিরে আসছেন। এর মধ্যে আর কিছুদিন পরই বাজেট আসছে। বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য একটা বড় অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। সবকিছু মিলিয়ে বাজারে সুবাতাস বইছে। যা আরো সামনে জোরেসোরে বইবে এবং বাজার আরো বড় উত্থানে লেনদেন হবে বলে আশা তাদের।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন বাজেটে বাজারের জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ রাখা হবে। যেহেতু এই বিষয়টা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়িয়েছে, সেহেতু এবার পুঁজিবাজারে সুবাতাস দীর্ঘমেয়াদি হবে। যার প্রতিফলন ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বাজার টানা ইতিবাচক ধারায় চলছে। লেনদেনের পরিমাণও ভালো হচ্ছে। এর থেকেই বুঝা যায় বাজার গতি ফিরে পেয়েছে। যা অব্যাহত থাকবে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা জানান, আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগ রাখা হবে। যা বাজারকে আরো গতিশীল করে তুলতে সহযোগিতা করবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন পদক্ষেপে বাজার ইতিবাচক ধারায় চলছে তা সবাই দেখছেন। তাই আশা করা যায় বাজেটের পর বাজার দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের একাধিক সূত্র ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট কর কমছে। একই সঙ্গে কমছে হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতে কর। এছাড়াও প্রথমবারের মতো দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিনা প্রশ্নে সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনা প্রশ্নে পাচার হওয়া অর্থ সাদা করার সুযোগ দেবে সরকার। ফলে কেউ যদি বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনে তবে দেশের অন্য কোনো আইনে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হবে না। অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার বিভিন্ন ধরনের সুযোগ বহু আগে থেকেই দিয়ে আসলেও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের সুযোগ এবারই প্রথম দিচ্ছে সরকার। তবে এ সুবিধা শুধুমাত্র এক বছরের জন্যই দেওয়া হবে।
এ সুবিধার ফলে বাংলাদেশিরা বিদেশে তাদের সম্পদের তথ্য আয়ের বিবরণীতে যুক্ত করার সুযোগ পাবেন, ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে না।
জানা গেছে, এবারের বাজেটে তিনভাবে ট্যাক্স অ্যামনেস্টি দেয়া হবে। প্রথমত, বিদেশে স্থাবর সম্পত্তি থাকলে সেই সম্পত্তি দেশের আয়কর রিটার্নে দেখাতে চাইলে ১৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, অস্থাবর সম্পত্তির ওপর ১০ শতাংশ কর এবং তৃতীয়ত, কেউ বিদেশ থেকে টাকা দেশের আনলে সেই টাকার ওপর সাত শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে দেখাতে পারবেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবে টাকা যোগ হওয়ার আগেই কর পরিশোধ করতে হবে। সব ক্ষেত্রেই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করা হবে না। এমনকি আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হবে না।সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ‘বিভিন্ন সময় যেসব টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চলে গেছে, আমরা বিভিন্নভাবে এসব টাকা ফেরতের সুযোগ দিতে অ্যামনেস্টি দিচ্ছি, যাতে টাকাগুলো আমাদের দেশে ফিরে আসে, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’
এছাড়াও আসন্ন বাজেটে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে এ ছাড় পেতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিগুলোকে শর্ত পূরণ করতে হবে। কোন কোম্পানি শর্ত পূরণ করতে না পারলে কর হার কমার পরিবর্তে আড়াই শতাংশ বাড়বে।
আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের ক্ষেত্রে দুটি শর্ত থাকছে। একটি হচ্ছে- যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হয়েছে, তারাই কেবল এ সুবিধা পাবে।
আর দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শর্তপূরণে ব্যর্থ হলে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া থাকলেও ওই কোম্পানিকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিতে হবে।
একক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানির (ওপিসি) ক্ষেত্রেও একই শর্ত দিয়ে করপোরেট কর ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। বর্তমানে এক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ কর দিতে হয়।

‘পারসন অব দ্য ইয়ারে’ ভূ‌ষিত বসুন্ধরা এম‌ডি
                                  

‘গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড’ পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। আর ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ হয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর।
এছাড়া এশিয়া ওয়ান ‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ইয়ার’ খেতাব পেয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান।  
গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড অ্যান্ড লিডার্স ২০২১-২০২২ এশিয়া-আমেরিকা-আফ্রিকা অ্যাওয়ার্ড প্রোগামে তাদের এসব বিরল সম্মানে ভূষিত করা হয়।  এবারের ১৭তম আসরে এশিয়াওয়ান মিডিয়া গ্রুপের আয়োজনে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ম্যারিয়ট হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানে এসব সম্মাননা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরাকে গ্রেটেস্ট ব্র্যান্ড হিসেবে বেছে নেওয়া হয় দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান, ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎকর্ষ সাধন ও মানোন্নয়নের জন্য। বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে পারসন অব দ্য ইয়ার মনোনীত করা হয় ভোক্তা ও শিল্প পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য। আর তাঁকে মনোনীত করে ইউনাইটেড রিসার্চ সার্ভিসেস অ্যান্ড এশিয়াওয়ান ম্যাগাজিন।  
এদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানকে শিল্প ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ও প্রতিনিধিত্বের জন্য মনোনীত করে এশিয়া ইউরোপ বিজনেস অ্যান্ড সোশ্যাল গ্রুপ। বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর উপদেষ্টা মো. নাজমুল হক।
অনুষ্ঠানে ডকুমেন্ট্রির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বসুন্ধরা গ্রুপের নানা কার্যক্রম। আগত অতিথিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় গ্রুপের বিশেষ দিক এবং বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে। ডকুমেন্ট্রিতে স্থান পায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, বসুন্ধরা গ্রুপের শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য, গুণগত মান ও মানবিক কার্যক্রম।
মেগা এই শীর্ষ সম্মেলনটি পারস্পরিক কল্যাণ ও সহযোগিতার জন্য একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার ব্যবসায়ী এবং সামাজিক নেতাদের একটি বিশাল সমাবেশে পরিণত হয়। কেউ কেউ আবার ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, সিঙ্গাপুর, দুবাই, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, চীন, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ওমান, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়িক ও সরকারি খাতের প্রধান ব্যবসায়ী ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে ইউরেশীয়, উপসাগরীয় এবং আফ্রিকান অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নেটওয়ার্কিং এবং বিনিয়োগের সুযোগের নতুন উপায় খুঁজে নেন।
এশিয়াওয়ান মিডিয়া গ্রুপ ১৭তম এশিয়া-আমেরিকা-আফ্রিকা বিজনেস অ্যান্ড সোশ্যাল ফোরামের মধ্য দিয়ে মূলত ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অর্জন তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। একইসময়ে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে সরকারি কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত, ব্যবসার মালিক, বিনিয়োগকারী, রাজকীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং পেশাদার, ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিইও, সিএফও, সিটিও এবং সিএইচআরওসহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ইয়ার ২০২১-২২’ সম্মানে ভূষিত সাফওয়ান সোবহান
                                  

অসামান্য নেতৃত্বগুণ আর ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা প্রদর্শনের স্বীকৃতি হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানকে ‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ইয়ার ২০২১-২২’ সম্মানে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) লন্ডনের ম্যারিওট হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানে এশিয়াওয়ান মিডিয়া গ্রুপ আয়োজিত ‘এশিয়া-ইউরোপ বিজনেস অ্যান্ড সোশ্যাল ফোরাম’- এর ১৭তম আসরে সাফওয়ান সোবহানের হাতে এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
‘একসঙ্গে পরস্পর উন্নয়ন’ থিমে দিনব্যাপী এই মেগা সামিটে ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে আসা ব্যবসা আর সামাজিক খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। করোনা মহামারি পরবর্তী বিশ্বে নবতর উদ্যোম ও সহযোগিতায় কী করে ইউরেশিয়া, গালফ ও আফ্রিকান অঞ্চলে নেটওয়ার্কিং আর বিনিয়োগের পথ দ্রুত প্রসারিত করা যায়, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা, দূত, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিইও, সিএফও, সিটিও, সিএইচআরও এই সম্মেলনে শামিল হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান গ্রুপটির উত্তরোত্তর অগ্রগতিতে সক্রিয় অবদান রাখার পাশাপাশি দেশীয় ব্যবসা-পরিবেশ সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বেজিয়ার বর্তমান সভাপতি সাফওয়ান ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা সমাধানে তাঁর বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে আসছেন।  
সমাজ ও শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এর আগে ‘এশিয়া-আফ্রিকা ব্যবসা ও সামাজিক ফোরাম; ই-সামিট ২০২০-২১’-এর ১৪তম আসরেও সাফওয়ান সোবহানকে ‘এশিয়া`স গ্রেটেস্ট লিডার’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।

ধর্মঘটের সমাধান না হলে বাধাগ্রস্ত - রপ্তানিখাত
                                  

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় রাজধানীসহ সারাদেশে চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবি, হয় তেলের দাম কমাতে হবে, অন্যথায় পরিবহনে ভাড়া সমন্বয় করতে হবে।ধর্মঘট শুরুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। পূর্বঘোষণা ছাড়াই দেওয়া ধর্মঘটে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। ১০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না গাড়ি, পৌঁছানো যাচ্ছে না গন্তব্যে।পরিবহন বন্ধ থাকায় করোনা মহামারি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো দেশের রপ্তানিখাত রয়েছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। শিল্প মালিকরা বলছেন, এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বড় সংকট দেখা দিতে পারে দেশের পোশাকশিল্পসহ রপ্তানিমুখি সব খাতে।ডিজেল-কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, লরি, কার্গো এবং কাভার্ডভ্যান।ট্রাক, কার্গোভ্যান ও কাভার্ডভ্যান বন্ধ থাকায় পণ্য ডেলিভারিতে তৈরি হচ্ছে বড় বাধা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পোশাক শিল্পে। সময় মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারলে ক্রেতারাও খুঁজবে বিকল্প পথ। এসব দিক বিবেচনায় অনতিবিলম্বে সরকারকে কাভার্ডভ্যান ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে বিষয়টির দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পোশাক শিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা।বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি প্রাইম মুভার মালিক সমন্বয় পরিষদ নেতারা বলছেন, হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। ভাড়া বাড়ানো না হলে তারা রাস্তায় পরিবহন নামাবেন না।তাদের মতে, মালিক সমিতির সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই সরকার বঙ্গবন্ধু সেতু ও মোক্তারপুর সেতুর টোল ২৫৭ শতাংশ থেকে হঠাৎ করে ৩০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর একদিন যেতে না যেতে আবার বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে।বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা বলছেন, প্রায় দেড় বছর পর করোনার প্রভাব কাটিয়ে মাত্র ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাকশিল্প। এখন কাজের অর্ডার চলছে ব্যাপকহারে, বায়ার আসছেন। অর্ডারের পণ্য যথাসময়ে সরবরাহও হচ্ছে। এ অবস্থায় হঠাৎ ট্রাক, কার্গোভ্যান এবং কাভার্ডভ্যান বন্ধ থাকলে পণ্য ডেলিভারিতে বড় বাধা তৈরি হবে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হবেন। এতে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে পোশাকশিল্প। পাশাপাশি পরিবহন বন্ধ থাকলে দূরের শ্রমিক কারখানায় আনা-নেওয়াতেও বাধা তৈরি হবে। তারা সময়মত কাজে যোগদান করতে পারবে না।এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জাগো নিউজকে বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাব কাটিয়ে মাত্র ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাক খাত। এখন ক্রেতারা আমাদের দেশে আসছেন, কাজের অর্ডার হচ্ছে, সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ হচ্ছে। এ অবস্থায় যে কোনো ধরনের ধর্মঘট রপ্তানি খাতকে বাধাগ্রস্ত করবে। পোশাকশিল্পসহ অন্যান্য খাত যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয় এজন্য ট্রাক, কার্গোভ্যান এবং কাভার্ডভ্যান মালিকদের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আলোচনা করে শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা উচিত।এদিকে গতকাল শুক্রবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রোববার (৭ নভেম্বর) বিআরটিএ’র ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাস্তবভিত্তিক মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যম জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।এর আগে গত বুধবার (৩ নভেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন দাম ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। যা কার্যকর হয় ওইদিন রাত ১২টা থেকে। এরপরই কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়া শুক্রবার সকাল থেকে সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়।এদিকে ধর্মঘটের কারণে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বিভিন্ন গন্তব্যে ছুটে চলা মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গণপরিবহন না থাকায় বিকল্প মাধ্যমে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া হাঁকানো হচ্ছে। দিনের শুরুতেই অফিস-কর্মস্থলমুখী মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।

পদ সৃজন ৪৫ হাজার, করোনায় কর্মহীন দেড় কোটি
                                  

মো‍ঃ সবুজ হোসেন হাওলাদার

করোনায় দেড় কোটি লোক কর্মহীন হয়ে পড়লেও সরকারিভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৪৫ হাজারের। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নতুন এসব পদ সৃজন করা হয়েছে। গত এক বছরে পদ সৃজনের একাধিক প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগে। অর্থ বিভাগ সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি অপ্রতুল। তবে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে প্রণোদনা প্যাকেজ বাড়িয়ে বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাহলে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে বিভিন্ন ভাবে নতুন পদ সৃজনের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯৪টি। এরমধ্যে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় নতুন পদ ১৮ হাজার ৪৩৭টি, স্বাস্থ্য বিভাগে ২২ হাজার ৬৭৩ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদ সৃজন করা হয় ৪০৮৪টি। বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে করোনা মহামারির সময় বিশ্বে ১৯ কোটি লোক চাকরি হারিয়ে বেকার হয়েছেন। শুধু ভারতেই এর সংখ্যা ১৩ কোটি। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার জরিপে বাংলাদেশে কর্মহীন হয়েছেন এমন সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। তাদের অনেকে কাজ হারিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। তারা আর শহরে ফেরেননি। তবে গ্রামে বেশি কর্মহীন হয়েছেন। এখনও অনেকে কর্মসংস্থানে ফিরতে পারেননি এমন সংখ্যাও প্রায় ৪০ শতাংশ। করোনায় কর্মহীন জনগোষ্ঠী নিয়ে গবেষণা করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত। তার গবেষণায় দেখানো হয়-দেশে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে ৬ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার মানুষ কর্মে নিয়োজিত ছিলেন। শুধু লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়েছেন ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ২৭১ জন। এর মধ্যে কৃষি খাতে ১ কোটি ১৪ লাখ, শিল্প খাতে প্রায় ৯৩ লাখ শ্রমিক এবং সেবা খাতে ১ কোটি ৫৩ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। অর্থাৎ মোট কর্মগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ মানুষই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেকার হয়েছেন সেবা খাতে। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রয়োজন ছাড়া সরকার পদ সৃষ্টি করলে চলবে না। যাদের নতুন নিয়োগ দেবে তাদের উৎপাদনশীল খাতে আনতে হবে। বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল কাজ করছে। তবে নানা ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে পারে সরকার। এতে বেসরকারি খাত চাঙ্গা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে যেসব পদ সৃজন হয়েছে এরমধ্যে প্রথম গ্রেডের ৪৫৩১টি, দ্বিতীয় গ্রেডের ৪৫৮২টি, তৃতীয় গ্রেডের ৫৪৭৪টি এবং চতুর্থ গ্রেডের আছে ৩৮৭০টি। এছাড়া করোনার সময় স্বাস্থ্য বিভাগে সবচেয়ে বেশি জনবল নিয়োগ হয়েছে। করোনা সংক্রমণের শুরুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খায় সরকার। আক্রান্তের অনুপাতে স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎকসহ স্বাস্থ্যকর্মী সংকট ছিল। দ্রুতগতিতে এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে ১১৭৪টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ৬ হাজার সহকারী সার্জন, ১০ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ৪৯৩১টি এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ৫৬৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়। এসব পদ সৃজনে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে ৩২টি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১ম-৯ম গ্রেডভুক্ত ৮৬১টি পদ, দশম গ্রেডভুক্ত ৩৪৮টি পদ, ১১তম-১৬তম গ্রেডভুক্ত ১৭৭১টি পদ এবং ১৭তম-২০তম গ্রেডভুক্ত ১১০৪টি পদ সৃষ্টি করা হয়।
জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সরকারের এখনও অনেক ডিপার্টমেন্টে পদ খালি আছে। আবার নতুন পদের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে। সরকারি কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ছে। ফলে লোকবলের প্রয়োজন হয়। যে কারণ প্রতিবছরই অর্থ বিভাগ থেকে পদ সৃজন করতে হয়। এরপরও যে সংখ্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন সে তুলনায় এখনও কম। যেমন দেশের মোট জনসংখ্যা অনুযায়ী কতজন পুলিশ, ডাক্তার, বিচারকসহ পেশাজীবী আছেন। অনুপাতে অনেক কম। সে হিসাবে সরকারের প্রশাসনে জনবল আরও দরকার ছিল। কিন্তু ব্যয় ব্যবস্থার দিক পর্যালোচনা করে সেভাবে পূরণ করা হচ্ছে না।সরকারের পদ সৃজনের অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সে বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শুলেখা রানী বসু যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে। সে সঙ্গে লোকবলের প্রয়োজন হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছরই নতুন পদ সৃজন করতে হয়। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা পদ সৃজনের যে প্রস্তাব পাঠায় অর্থ বিভাগে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনে পদ সৃজনের সংখ্যা কমিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবের শতভাগ বাস্তবায়ন খুব কমই করা হয়। কারণ এর সঙ্গে অর্থ ও ব্যয় যোগ থাকে।সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৩৩টি জেলার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বগুড়া যুব কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে উপ-পরিচালক কার্যালয়ের জন্য রাজস্ব খাতে ১০৩২টি পদ সৃষ্টির সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং অধিদপ্তরের অধীন ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৯৮টি পদ সৃজন হয়েছে। ন্যাশনাল একাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজের রাজস্ব খাতে ৫০টি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে ১৪৮টি, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডে ২৫৭টি নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য ১৯৫টি পদ সৃজনের সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। পাশাপাশি সারা দেশে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের জন্য ২৬৪টি পদ সৃজন হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অনুবিভাগে ১০টি এবং বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালের জন্য ৯৭১টি ক্যাডার, ৭২১টি নন-ক্যাডার পদসহ ১৬৯২টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। জেলা হাসপাতালের জন্য ৫৯১টি ক্যাডার, ১৭১৮টি নন-ক্যাডার পদসহ ২৩০৯টি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য বিভাগে ৪৪৩টি ক্যাডার ও ১৩৭টি নন-ক্যাডার পদ সৃষ্টিতে সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিত্যপণ্যের দাম
                                  

 মো: সবুজ হোসেন হাওলাদার, স্টাফ রিপোর্টার :

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশে বাড়ছে সকল প্রকার নিত্যপণ্যের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি নির্ভর পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাড়ছে এসব পণ্যের দাম। জ্বালানি তেলের দাম না কমলে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। সরকারি মহল বলছে, নিত্যপণ্যের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। জানা গেছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে বিশ্ববাজারে এখন প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৮০ ডলারে এসে ঠেকেছে। জ্বালানি তেলের এই দাম গত সাত বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে এখন সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর গত জুনে করোনার প্রকোপের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রতি ব্যারেলের দাম ৭৫ ডলারে ওঠে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পাশাপাশি রেন্ট ক্রুড অয়েল ও হান্টিং অয়েলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত এক মাসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ। আর হান্টিং অয়েলের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশের ওপরে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা চাল বাজারে উঠতে শুরু করায় উচ্চমূল্যেই স্থির হয়ে আছে সকল প্রকার চালের দাম। বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। এ সময় বেড়েছে আটা-ময়দার দামও। চিনির দাম আকাশ ছুঁয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ব্যবসায়ীদের পছন্দের দামেই বিক্রি হচ্ছে চিনি। ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণ আন্তর্জাতিক বাজার। আমদানি নির্ভর এসব পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়লে এর প্রভাব এখানকার বাজারে বাড়বেই। এর ওপর যুক্ত হয়েছে পরিবহন খরচ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশে বিদেশে সর্বত্রই পরিবহন খরচ, বিশেষ করে জাহাজ ও ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। যা পণ্যের মূল্যে প্রভাব ফেলেছে।  এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, পেঁয়াজ হারভেস্ট করেছে সেই এপ্রিল মাসে, এতদিন পর্যন্ত পেঁয়াজ থাকে না। পেঁয়াজ চাষিরা সব বিক্রি করে দেন। পেঁয়াজ পচনশীল ও মজুদ রাখার তেমন কোনও ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। গ্রীষ্মকালীন ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাজারে আসার পরপরই আগামী ১৫ থেকে ২ দিন পর দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব তো কেউ আটকে রাখতে পারবে না। এর প্রভাব তো পড়বেই। তবে নিত্যপণ্যের দাম অবশ্যই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।

৬০০ কোটি টাকা ছাড়ালো লেনদেন প্রথম ঘণ্টাতেই
                                  

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মাধ্যমে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেনেও বেশ ভালো গতি দেখা যাচ্ছে। প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ৬০০ কোটি টাকার ওপরে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)-ও লেনদেনে ভালো গতি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে মূল্যসূচক। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই একেরপর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়তে থাকে। এতে প্রথম মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্টের বেড়ে যায়। ২০ মিনিটের মাথায় সূচকটি বাড়ে ৩৯ পয়েন্ট। তবে এরপর সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা কমে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সকাল ১১টা ১৮ মিনিটের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের তুলনায় ২২ পয়েন্টে বেড়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বেড়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৮ পয়েন্ট। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৫টির। আর ৫৩টির দাম অপরিবর্তিত। লেনদেন হয়েছে ৭০৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭২ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২১৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২২টির, কমেছে ৬৮টির এবং অপরিবর্তিত ২৪টির।

ব্যাংক হিসাব তলব ১১ সাংবাদিক নেতার
                                  

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জন সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউ।  গতকাল  (১২ সেপ্টেম্বর) দেশের সব ব্যাংকে এই তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক হিসাব তলব করা সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মোল্লা জালাল ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোরসালীন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান। চিঠিতে বলা হয়, উল্লেখিত ব্যক্তিরা ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কোনও হিসাব অতীতে অথবা বর্তমানে পরিচালিত হয়ে থাকলে সেসব হিসাবের যাবতীয় তথ্য (যাবতীয় কাগজপত্রাদিসহ হিসাব খোলার ফর্ম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশান প্রোফাইল, শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী) জরুরি ভিত্তিতে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিবরণীর শুধু সফটকপি পাঠাতে হবে। একইসঙ্গে এই সাংবাদিক নেতাদের নামে কোনও হিসাব অতীতে অথবা বর্তমানে পরিচালিত হয়ে থাকলে, তা-ও জানাতে বলা হয়েছে।

অস্বাভাবিক দাম: ৪ মাস পর ডিএসইর সতর্কবার্তা
                                  

চার মাস ধরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের শেয়ার দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এ দাম বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। টানা দাম বাড়ার চার মাস পর বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের শেয়ার দাম কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক বেড়েছে। ডিএসই জানিয়েছে, শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ জানাতে গত  (৩১ আগস্ট) কোম্পানিটিকে নোটিশ পাঠানো হয়। জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে তার জন্য কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৪ এপ্রিল কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার দাম ছিল ১২ টাকা। যা অনেকটা টানা বেড়ে ৩১ আগস্ট লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ২৪ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ চার মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ১২ টাকা ৭০ পয়সা বা ১০৬ শতাংশ। শেয়ারের এ টানা দাম বৃদ্ধির প্রবণতায় থাকা কোম্পানিটি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সবশেষ ২০২০ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০২০-২১ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসের (২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত) ব্যবসায় শেয়ার প্রতি মুনাফা করেছে মাত্র ১২ পয়সা।

অস্বাভাবিক দাম: ৪ মাস পর ডিএসইর সতর্কবার্তা
                                  

চার মাস ধরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের শেয়ার দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের এ দাম বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। টানা দাম বাড়ার চার মাস পর বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের শেয়ার দাম কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক বেড়েছে। ডিএসই জানিয়েছে, শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ জানাতে গত  (৩১ আগস্ট) কোম্পানিটিকে নোটিশ পাঠানো হয়। জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে তার জন্য কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৪ এপ্রিল কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার দাম ছিল ১২ টাকা। যা অনেকটা টানা বেড়ে ৩১ আগস্ট লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ২৪ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ চার মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ১২ টাকা ৭০ পয়সা বা ১০৬ শতাংশ। শেয়ারের এ টানা দাম বৃদ্ধির প্রবণতায় থাকা কোম্পানিটি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সবশেষ ২০২০ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০২০-২১ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসের (২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত) ব্যবসায় শেয়ার প্রতি মুনাফা করেছে মাত্র ১২ পয়সা।

৪ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি
                                  

বেসরকারিভাবে প্রথম দফায় চার লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য ৭১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৮ আগস্ট এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে আমদানির জন্য বরাদ্দ দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে নন বাসমতি সিদ্ধ চাল তিন লাখ ৬২ হাজার টন এবং আতপ চাল ৫৬ হাজার টন। চালে সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ ভাঙা দানা থাকতে পারবে। চাল আমদানি শর্তে বলা হয়েছে, বরাদ্দ আদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট-ঋণপত্র) খুলতে হবে এবং এ সংক্রান্ত তথ্য (বিল অব এন্ট্রিসহ) খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ই-মেইলে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে। বরাদ্দ পাওয়া আমদানিকারকদের আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশে বাজারজাতকরণ করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) ইস্যু করা যাবে না। আমদানি করা চাল স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানের নামে ফের প্যাকেটজাত করা যাবে না বলেও শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্লাস্টিকের বস্তায় আমদানি করা চাল বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে এলসি খুলতে ব্যর্থ হলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে বলেও শর্ত দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। অনেকদিন ধরেই চালের বাজার অস্থিতিশীল। বোরো মৌসুমেও চালের বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গরিবের মোটা চালের কেজিপ্রতি দাম ৫০ টাকার কাছাকাছি। চিকন চালের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এই প্রেক্ষাপটে দাম স্থিতিশীল রাখতে শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। চাল আমদানি শুল্ক ও কর কমানোর অনুরোধ জানিয়ে গত ৬ জুলাই এনবিআরকে চিঠি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। ১২ আগস্ট চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে এনবিআর। এই সুবিধা আগামী আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। কমানো শুল্ক হারে চাল আমদানির জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবে। এর আগে গত বছর দাম বাড়তে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে ও আমদানি উৎসাহিত করতে চালের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশে নামানো হয়, যার মেয়াদ গত এপ্রিলে শেষ হয়।

বাংলাদেশে পোশাক খাতে তৈরি হচ্ছে সুবর্ণ সুযোগ
                                  

দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে তৈরি পোশাকখাত। করোনার শুরুতে বড় ধাক্কা খেলেও ফের ফিরতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা। রপ্তানিযোগ্য পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখন খানিকটা বিপাকে। যেমনটা বাংলাদেশ পড়েছিল করোনার শুরুর দিকে। তাই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের পোশাকশিল্প ঘুরে দাঁড়িয়ে আরও বড় বাজার দখল করতে পারবে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের মার্চ মাসে দেশে করোনা শনাক্তের পর খড়্গ নেমে আসে দেশের পোশাকশিল্পের ওপর। মুখ ফেরাতে থাকেন বায়াররা। বাতিল হতে থাকে কোটি কোটি টাকার অর্ডার। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, ঘটে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো ঘটনা। ঘোর বিপদে পড়েন কারখানা মালিকরা।

 

ক্রমে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। সরকারও মালিকদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। কিছু ক্রেতা অন্য দেশের কাছে চলে গেলেও ফিরতে থাকে অনেক রপ্তানি আদেশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের মান আবার ফিরিয়ে আনে ক্রেতাদের।

অন্যদিকে দেশের পোশাকখাতের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম গত বছর বাংলাদেশের করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। করোনা মোকাবিলায় সফলতা দেখিয়ে বাড়াতে থেকে রপ্তানি, পেতে থাকে নতুন নতুন রপ্তানি আদেশ। কিন্তু গত দেড় বছরে করোনা বদলে দিয়েছে বিশ্বের অনকে কিছু। এক সময় করোনা মোকাবিলায় সবচেয়ে সফল দেশগুলোর একটি ভিয়েতনাম, এখন সেই ভাইরাসটিতে ধুঁকছে। দেশটিতে প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যু ও নতুন রোগী শনাক্ত। বিধিনিষেধের কারণে দেশটি অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে পণ্য নেওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড খুঁজতে শুরু করেছে বিকল্প। ফলে বিশ্বের অন্যতম পোশাক ও জুতা উৎপাদনকারী দেশটি পড়েছে বেশ বিপাকে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ২০২০ সালে আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি নেতিবাচক হওয়ায় অনেক অর্ডার বাতিল হয়। বায়ার বিকল্প খোঁজায় সে সুযোগ কাজে লাগায় ভিয়েতনাম। আমাদের পোশাকখাতের মূল প্রতিযোগী দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি। পাশাপাশি দেশটিতে এখন করোনা পরিস্থিতিও উদ্বেজনক। এ সুযোগে আমাদের শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বায়ারদের কাছে এটা তুলে ধরতে পারলে আরও অর্ডার আসবে বলে মনে করি।

গত ১২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাতে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছে এবং এর বেশিরভাগই নারী। নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাত বিশেষ অবদান রাখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আমরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।

 

‘এজন্য উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য উন্নত মান, নতুন ডিজাইন, গ্রাহকের পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের ডাটা, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হবে।’

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের পোশাকের মান, ডিজাইন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হলেও সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয় উদ্যোক্তাদের। কোনো বায়ার এলেই কারখানা মালিক যেকোনো মূল্যে পোশাক সরবরাহ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি করেন। পণ্যের মান ভালো হলেও সঠিক মূল্য না পাওয়ায় শ্রমিকরাও বাড়তি বেতন পাচ্ছেন না, নতুবা বন্ধ থাকছে তাদের ইনক্রিমেন্ট।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিয়েতনাম থেকে পণ্য নেওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড যেহেতু বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে, তাই এবার পোশাক মালিকরাও বসেছেন নড়েচড়ে। তারা বলছেন, ভালো ও মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন হলেও দামের ক্ষেত্রে পিছিয়ে বাংলাদেশি পণ্য। সময় এসেছে এবার দরদাম করে কাজের অর্ডার নেওয়ার। মালিকপক্ষ যাতে আর নিজেদের মধ্যে দাম কমানোর প্রতিযোগিতা না করে।

সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বায়ারদের কাছে তা তুলে ধরতে পারলে আরও অর্ডার আসবে দেশে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দেশে এখন অনেক অর্ডার আছে। ভিয়েতনামে অর্ডার হওয়া কাজ তো আর আসবে না। তবে বায়ার এলে আমরা বাঁচাই করে অর্ডার নেবো। এ অপশন আমাদের তৈরি হয়েছে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। যাতে আমরা নিজেদের মধ্যে পণ্যের দাম কমানোর প্রতিযোগিতা না করি।

বিকেএমইএর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জাগো নিউজকে বলেন, ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু কারখানা বন্ধ। উত্তর-মধ্যসহ অন্য কারখানায় এখনো উৎপাদন চলছে। বায়ার তো আর সবাই সরবে না, কিছু হয়তো মুভ করবে। সুযোগ এসেছে দরদাম করার। যেসব বায়ার আসবে তাদের কাছ থেকে দরদাম করেই অর্ডার নেবো। এখন ইউরোপ থেকে প্রচুর অর্ডার আসছে, আগামীতে আরও আসবে। এ সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।


   Page 1 of 15
     অর্থনীতি
খেলাপি ঋণে ছাড় কমলো
.............................................................................................
রেমিট্যান্স ও রফতানিতে বাজিমাত
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে লোডশেডিং আতঙ্ক
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
.............................................................................................
গতি ফিরে পাচ্ছে পুঁজিবাজার, স্থিতিশীল রাখতেও পদক্ষেপ
.............................................................................................
‘পারসন অব দ্য ইয়ারে’ ভূ‌ষিত বসুন্ধরা এম‌ডি
.............................................................................................
‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ইয়ার ২০২১-২২’ সম্মানে ভূষিত সাফওয়ান সোবহান
.............................................................................................
ধর্মঘটের সমাধান না হলে বাধাগ্রস্ত - রপ্তানিখাত
.............................................................................................
পদ সৃজন ৪৫ হাজার, করোনায় কর্মহীন দেড় কোটি
.............................................................................................
বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিত্যপণ্যের দাম
.............................................................................................
৬০০ কোটি টাকা ছাড়ালো লেনদেন প্রথম ঘণ্টাতেই
.............................................................................................
ব্যাংক হিসাব তলব ১১ সাংবাদিক নেতার
.............................................................................................
অস্বাভাবিক দাম: ৪ মাস পর ডিএসইর সতর্কবার্তা
.............................................................................................
অস্বাভাবিক দাম: ৪ মাস পর ডিএসইর সতর্কবার্তা
.............................................................................................
৪ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি
.............................................................................................
বাংলাদেশে পোশাক খাতে তৈরি হচ্ছে সুবর্ণ সুযোগ
.............................................................................................
বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে মেট্রো স্পিনিং
.............................................................................................
‘টিকা নেওয়া ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবে না’- তথ্যটি সঠিক নয়
.............................................................................................
বীমা ও শেয়ারবাজারও বন্ধ আজ
.............................................................................................
রণোদনার ঋণের গ্রহিতা ও ব্যয়ের তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি
.............................................................................................
১২ দিন পর বাংলাবান্ধা দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু
.............................................................................................
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে এশিয়ায় বাংলাদেশ পঞ্চম
.............................................................................................
বন্ধ পাইকারি বাজার, খুচরায় চড়া মসলা
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে ১০ বছরে সর্বোচ্চ লেনদেন
.............................................................................................
সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ
.............................................................................................
লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে ধস
.............................................................................................
শবে বরাতের আগেও দাম বাড়লো নিত্যপণ্যের
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন
.............................................................................................
আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভর করে শুরুতে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান
.............................................................................................
ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান, ১২৩ প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা
.............................................................................................
চড়া কাঁচামালের দাম, বেশি বিপদে ছোট বেকারিগুলো
.............................................................................................
বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২৬ লাখ ১২ ছাড়িয়েছে
.............................................................................................
রমজানের ৬ নিত্যপণ্যের মজুত পর্যাপ্ত
.............................................................................................
শেয়ারপ্রতি ২০ পয়সা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দেবে গোল্ডেন হারভেস্ট
.............................................................................................
লভ্যাংশ হিসেবে শুধু শেয়ার দেবে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স
.............................................................................................
আবারও বিক্ষোভে নেমেছে মিয়ানমারের হাজারো জনতা
.............................................................................................
একদিনে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বাড়ল ১০ টাকা
.............................................................................................
নাটোরে শুরু হলো মাসব্যাপী ‘বিসিক-ঐক্য স্বাধীনতা মেলা’
.............................................................................................
তেলের বাজার চাঙ্গা
.............................................................................................
প্রথম ঘণ্টায় ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার
.............................................................................................
১১০ কেজি ওজনের বাঘাইড় দেখতে শত শত মানুষের ভিড়
.............................................................................................
জাতীয় বীমা দিবস আজ
.............................................................................................
প্রথম ঘণ্টায় সূচকে মিশ্র প্রবণতা, লেনদেনে ধীরগতি
.............................................................................................
কিট উৎপাদনের অনুমতি পেলো এএফসি অ্যাগ্রো
.............................................................................................
চাল সংগ্রহে বারবার ব্যর্থতা ঝুঁকিতে ফেলছে খাদ্য নিরাপত্তাকে
.............................................................................................
সব জেলায় শিল্পমেলা করতে চায় বিসিক
.............................................................................................
চাল নিয়ে সভায় বসছে খাদ্যবিষয়ক সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী কমিটি
.............................................................................................
আমদানির চাল বাজারজাতকরণ তদারকির নির্দেশ ডিসি-এসপিদের
.............................................................................................
লোকসানে ডুবছে রেনউইক যজ্ঞেশ্বর
.............................................................................................
বিশ্বব্যাংকের কাছে ৭০ লাখ ডলার অনুদান চায় বিএসইসি
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale