|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র   * যানজট নিরসনে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ ডিএনসিসির   * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী   * শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে দারিদ্র্য বড় বাধা: প্রধানমন্ত্রী   * জ্বালানি তেল-সারের মূল্য বাড়ায় কমতে পারে ধানের উৎপাদন   * মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ   * বিশ্বে দুর্ভিক্ষের মুখে সাড়ে ৩৪ কোটিরও বেশি মানুষ : জাতিসংঘ   * শিক্ষায় বেড়েছে সংখ্যা, মান বাড়েনি ৫০ বছরেও   * বিশ্ববাজারে অর্ধেকে নেমেছে পাম তেলের দাম, কমছে না দেশে   * নজরদারিতে আসছে মাছ ধরার নৌযান, ডিভাইস জানাবে জেলেদের অবস্থান  

   আদালত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সাবরিনা-আরিফুলসহ ৮ জনের মামলার রায় আজ

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী এবং তার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুল চৌধুরীসহ ৮ জনের মামলায় রায় ঘোষণা হবে আজ।  মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
মামলায় গত ২৯ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। সাবরিনা-আরিফুল ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন— আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা।
আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ ৭ বছর সাজা হবে বলে প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। সিএমএম আদালতে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। রায়ে আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড হবে বলে প্রত্যাশা করছি।  
অপরদিকে সাবরিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।  
গত ২০ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। চার্জশিটভূক্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর ১১ মে এই মামলার ৮ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। ওইদিন ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুল চৌধুরী লিখিত বক্তব্য জমা দেন। এরপর মামলাটিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।
২০২০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক লিয়াকত আলী। এরপর একই বছর ২০ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত।
করোনার ভুয়া রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী ডা. সাবরিনা চৌধুরী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেকেজির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবরিনা আছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়।
২০২০ সালের ১২ জুলাই সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন জেকেজির প্রতারণা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে তেজগাঁও থানায় আগেই আরিফুলের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০২০ সালের ২৩ জুন করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আরিফুলসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর থানা হাজতে থাকা অবস্থায় আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী ভাঙচুর ও হামলা করে থানায়। মারধর করে পুলিশকে।
জানা যায়, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার।

সাবরিনা-আরিফুলসহ ৮ জনের মামলার রায় আজ
                                  

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী এবং তার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুল চৌধুরীসহ ৮ জনের মামলায় রায় ঘোষণা হবে আজ।  মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
মামলায় গত ২৯ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। সাবরিনা-আরিফুল ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন— আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা।
আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ ৭ বছর সাজা হবে বলে প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। সিএমএম আদালতে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। রায়ে আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড হবে বলে প্রত্যাশা করছি।  
অপরদিকে সাবরিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।  
গত ২০ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। চার্জশিটভূক্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর ১১ মে এই মামলার ৮ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। ওইদিন ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুল চৌধুরী লিখিত বক্তব্য জমা দেন। এরপর মামলাটিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।
২০২০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক লিয়াকত আলী। এরপর একই বছর ২০ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত।
করোনার ভুয়া রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী ডা. সাবরিনা চৌধুরী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেকেজির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সাবরিনা আছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়।
২০২০ সালের ১২ জুলাই সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন জেকেজির প্রতারণা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে তেজগাঁও থানায় আগেই আরিফুলের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
২০২০ সালের ২৩ জুন করোনার ভুয়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আরিফুলসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর থানা হাজতে থাকা অবস্থায় আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী ভাঙচুর ও হামলা করে থানায়। মারধর করে পুলিশকে।
জানা যায়, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনে খালেদাকে দাওয়াত দিতে আইনি বাধা নেই
                                  

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।
রোববার (৫ জুন) রাজধানীতে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আয়োজনে ১৪৬তম রিফ্রেসার কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যাপারে দুটি শর্ত আছে, তা হলো- তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন আর বিদেশে যেতে পারবেন না। সে কারণে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় তাকে দাওয়াত দিতে আইনি কোনো বাধা নেই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিদ্বেষের বশীভূত হয়ে কারও প্রতি কোনো ‘অ্যাকশন’ নেন না। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া ও তার পুত্রদ্বয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো দুদকের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এখন তারা যদি এটা বলে যে, আওয়ামী লীগ সরকার এই মামলাগুলো করেছে, তাহলে আমার মনে হয় যে তারা শুধুশুধু জনগণ যেটা বিশ্বাস করে তাদের দুর্নীতির ব্যাপারে, সেটাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য আওয়ীমী লীগ সরকারকে দোষারোপ করছে। তাদের দোষারোপ করাটা ভিত্তিহীন।
আনিসুল হক বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। ২০০৪ সালের আইনের পরে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুদককে চেয়ার-টেবিলও দেয়নি বিএনপি সরকার। ২০০৭ সালে এটাকে প্রকৃত কার্যকর করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের বাজেট বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তিসংগত যেকোনো প্রয়োজনে অর্থ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় কার্পণ্য করবে না। জাতীয় বাজেটে আইন মন্ত্রণালয়কে যে টাকা দেওয়া হয়, আগে কোনো সরকার তা দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই প্রথম বিচারকদের প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের একটি অংশ বাস্তবায়নের জন্য ২১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এটা আইন মন্ত্রণালয়ের নামে বরাদ্দকৃত মূল বাজেটের বাইরে।
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী বলেন, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বন্ধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়নি। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ করার জন্য এই আইন করা হয়েছে।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, কোর্স পরিচালক মীর মো. এমতাজুল হক বক্তব্য রাখেন।

বোরকা পরা শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ
                                  

দেশের বিভিন্ন জেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বোরকা পরায় হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে অসাম্প্রদায়িক বা ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে হিজাব ও বোরকা পরাকে সাংবিধানিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।
আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা পরার বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত বলেন, বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সব ধর্মের মানুষের এখানে সমান অধিকার। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং রাষ্ট্র কর্তৃক সে অধিকার সমুন্নত রাখা একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। বোরকা বা হিজাব পরায় শিক্ষার্থীদের আদৌ হেনস্থা করা হয়েছে কি না এবং হেনস্থা করা হয়ে থাকলে এর পেছনে কারা দায়ী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বোরকা বা হিজাব পরায় হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলা ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- ১. নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বারবারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ২. সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ব্রজেন্দ্রগঞ্জ আর সি উচ্চ বিদ্যালয়, ৩. সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ৪. কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৫. নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়, ৬. চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোয়ারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয়, ৭. চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ৮. গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ৯. মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কালকিনি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ১০. নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ কাজী ফজলুল হক উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ১১. সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার বিষম ডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ১২. ফেনীর জিয়া মহিলা কলেজ, ১৩. বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আগৈলঝাড়া পয়সা মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ১৪. সিলেটের কিশোরী মোহন উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১৫. চট্টগ্রামের পতেঙ্গা মাইজপাড়া মাহমুদুন্নবী উচ্চ বিদ্যালয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধে নওগাঁর ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
                                  

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নওগাঁর তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৩১ মে) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ।
আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।
২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তাদের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এ মামলায় আসামি ছিলেন চারজন। তারা হলেন- নওগাঁর মো. রেজাউল করিম মন্টু, মো. নজরুল ইসলাম, মো. শহিদ মণ্ডল ও মো. ইসহাক।
তবে এর মধ্যে মো. ইসহাক (৬২) তদন্ত চলার সময়ই গ্রেফতার অবস্থায় মারা যান। এ কারণে অভিযোগ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।বাকি তিনজনের মধ্যে মন্টু ও মণ্ডল কারাবন্দি রয়েছেন। বাকী আসামি নজরুল ইসলাম পলাতক।
২৬ এপ্রিল এ তিনজনের বিষয়ে শুনানি শেষে সিএভি রাখা হয়েছিল।
তদন্ত সংস্থা জানায়, আসামি মো. রেজাউল করিম মন্টু ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী জয়পুরহাট জেলার আমির ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ওই সময় থেকেই তিনি জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি নিজ বাড়িতে চলে আসেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে তিনি আত্মগোপন করেন। বাকীরাও জামায়াতের সমর্থক বলে জানানো হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আসামিরা নওগাঁর (সাবেক রাজশাহী জেলার নওগাঁ মহকুমা) বদলগাছী থানায় অপরাধ সংঘটন করে।
আসামিদের বিরুদ্ধে সাতজনকে হত্যাসহ অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করার অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলায় মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৭ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আসামিরা নওগাঁর বদলগাছী থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নের রানাহার গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ-নিরস্ত্র সাহেব আলী, আকাম উদ্দিন, আজিম উদ্দিন মণ্ডল, মোজাফফর হোসেনকে হত্যাসহ ওই সময় ১০-১২টি বাড়ি লুট করে অগ্নিসংযোগ করে।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আসামিরা নওগাঁর বদলগাছী থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নের খোজাগাড়ী গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ-নিরস্ত্র মো. নুরুল ইসলামকে হত্যা করে। এ সময় তারা ১৫-২০টি বাড়ি লুণ্ঠনের পর অগ্নিসংযোগ করে।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা থেকে পরদিন অর্থাৎ ৯ অক্টোবর আনুমানিক বিকেল ৫টা পর্যন্ত নওগাঁর বদলগাছী থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের মো. কেনার উদ্দিন ও মো. আক্কাস আলীকে অবৈধভাবে আটক করে নির্যাতন করে। পরে অপহরণ করে জয়পুরহাটের কুঠিবাড়ি ব্রিজে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। এ সময়ের মধ্যে আসামিরা ৪০-৫০টি বাড়ি লুণ্ঠনের পর অগ্নিসংযোগ করে। 

হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
                                  

জনপ্রিয় লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বুধবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আল-মামুন এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেএমবির সূরা সদস্য আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ, সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন, মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শাওন ও নুর মোহাম্মদ ওরফে সাবু।
গত ১৮ জানুয়ারি এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে৷ এরপর ২৭ মার্চ আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক রায়ের জন্য ১৩ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন ড. হুমায়ুন আজাদ। তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ২২ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসা নেন। সবশেষ জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট তিনি মারা যান। মামলাটিতে ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, নূর মোহাম্মদ সাবু ওরফে শামীম, মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার ওরফে ভাগ্নে শহিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। তবে ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান ও আতাউর রহমান সানির ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিএমএম আদালত তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেন।
এরপর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে বাদী মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। অধিকতর তদন্তে হত্যা মামলায় রূপান্তর করে ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডি পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
এই পাঁচ আসামি হলেন- জেএমবির সূরা সদস্য আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ, সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন, মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শাওন, রাকিবুল হাসান ওরফে হাফিজ মাহামুদ ও নুর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। যুদ্ধাপরাধের দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে এ মামলার আসামি করা হয়। তবে পরে সাঈদীসহ আরও পাঁচ জনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। আসামিদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে আছেন। তারা দু’জনই ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আসামি নূর মোহাম্মদ শুরু থেকেই পলাতক। সালাহউদ্দিন সালেহীন ও হাফিজ মাহমুদ গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যান থেকে তাদের ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। সালেহীন তখন পালিয়ে গেলেও হাফিজ মাহমুদ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। তাই হাফিজকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।এই মামলায় ২০১২ সলের ১০ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে মোট ৪১ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন।

পূর্ব বিরোধ মিমাংসার কথা বলে ডেকে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম ॥ ৩জনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
                                  

বশির আহমেদ খলিফা, ঝালকাঠি:

ঝালকাঠির পৌনাবালিয়ায় ঐতিহ্যবাহী শিব মেলার প্রথম দিনে পার্শবর্তী এলাকায় দুই দল যুবকের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১মার্চ) রাত সাড়ে ৯টায় আহতদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা ২জনকে সেখানে চিকিৎসা দিলেও আশংকা জনক অবস্থায় ৩জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে। পূর্ব বিরোধে মিমাংসা করার কথা বলে রাত সাড়ে ৮টায় লালমোন সাইক্লোন সেন্টারের সামনে ডেকে প্রতিপক্ষরা ধারালো রামদা ও চাকু নিয়ে এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুত্বর আহতদের স্বজনরা জানায়, কয়েকদিন পূর্বে তাদের বন্ধু নাগপাড়া গ্রামের মজিদ হাওলাদারের পুত্র রাকিবের সাথে লালমোন গ্রামের পলাশ সিকদারের সাথে বিরোধের ঘটনা ঘটলে স্থানীয়রা মিটমাট করে দেয়। আজ রাত ৮টার দিকে পলাশ সিকদার ও তার ভাই রহমান সিকদার রাকিবকে ফোন করে তাদের বাড়ীর কাছে আসতে বলে। তাদের ডাকে রাকিব একটি অটোরিক্সায় ফরিদ সিকদারের পুত্র রিফাত (২০), ফারুখ সিকদারের পুত্র তাওহিদ (২০), কবির খার পুত্র রফিক খা (২০)ও ইেবু হাওলাদারের পুত্র সোহাগ (১৯) কে নিয়ে লালমোন সাইক্লোন সেন্টারের সামনে পৌছানো মাত্রই পূর্ব থেকেই ধাড়ালো অস্ত্র নিয়ে ওঁত পেতে থাকা পলাশ সিকদার ও রহমান সিকদারসহ ৩/৪জন হামলা চালায়। এসময় ধাড়ালো অস্ত্রের আঘাতে রাকিবের পেটের ভূরি বেরিয়ে যায়। তাওহিদের মেরুদন্ডর উপর চাকু ডুকিয়ে দেয়া হয় ও রাকিবের হাতের কব্জির রগ কেটে ফেলা ছাড়াও অন্যদের শরিরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এলোপাথারি কুপিয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে ও চিকিৎসার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সর্বশেষ রাত সোয়া ১২ টায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে অবস্থানরত আহত রিফাত-তাওহিদের আত্মীয় মনির জানায়, হাসপাতালে আনার সাথে সাথে আহত ৩জনকে অপারেশন থিয়েটারে ডুকানোর পর এখোন পর্যন্ত বের করা হয়নি। আহত ৩জনের মধ্যে একজনের প্রান বাঁচানো নিয়ে চিকিৎসকরা সংশয় প্রকাশ করেছে।এ ব্যাপারে পোনাবালিয়ার ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির হোসেন জানায়, ঘটনার সময় তিনি শহরে অবস্থান করলেও এলাকায় এসে ঘটনা শুনেছি। কয়েকদিন পূর্বে রাকিবের সাথে পলাশের ঝগড়া হলে স্থানীয়রা বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছিল। তাদের মধ্যেই আজ আবার কেনো সংঘর্ষ হলো বুঝলাম না।এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানা পুলিশ খবর পেয়ে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে আহতদের নাম তালিকা সংগ্রহ করেছে। তবে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানাগেছে।

বাল্যবিয়ে: দুই শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া নিয়ে শুনানি আজ
                                  

বাল্যবিয়ের ঘটনায় নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন হাইকোর্টে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলেও অঙ্গীকার দিয়েছেন। ওই সাজার ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করা লিখিত ব্যাখ্যায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া হয়। এর একটি কপি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মাধ্যমে হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতে দায়িত্বরত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৫ আগস্ট বাল্যবিয়ের ঘটনায় দুই শিশুকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া ব্যাখ্যার এক কপি ২৬ আগস্টের মধ্যে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করতে বলা হয়েছিল। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার। অন্যদিকে শিশুদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। আদালতের আদেশের বিষয়টি ওইদিন নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছিলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়ার কাছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। সেই ব্যাখ্যা হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশনা চেয়েছিলাম। তখন আদালত এই আদেশ দেন। প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে গত ১ আগস্ট নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপাশা গ্রামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৫ বছর) সঙ্গে সমবয়সী মহেশ্বরখিলা গ্রামের একজনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই বিয়ের খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের আটক করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে এক মাস করে সাজা দেন। এরপর তাদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে গত (৪ আগস্ট) বাল্যবিয়ের অভিযোগে নেত্রকোনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া সাজায় কারাগারে যাওয়া দুই শিশু মুক্তি পায়। আইনজীবীর চিঠি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট শিশু দুটিকে মুক্তির নির্দেশ দেন। দুই শিশুকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর খবর যুক্ত করে তাদের মুক্তি চেয়ে ই-মেইলে একটি চিঠি (পত্র) পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এরপর এই আদেশ দেন হাইকোর্ট।

বিনা দোষে জেল খাটা নিহত মিনুর দুই আইও হাইকোর্টে
                                  


প্রায় ১৫ বছর আগে চট্টগ্রামে এক নারী গার্মেন্টসকর্মী হত্যার ঘটনায় করা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তারের হয়ে জেল খাটা মিনুর গাড়িচাপায় মৃত্যুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আটক কুলসুমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নথিসহ হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছেন দুই তদন্ত কর্মকর্তা (আইও)। বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকালে হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিনে তারা সশরীরে আদালতে উপস্থিত হন। এ বিষয়ে আজ হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চে শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও যুক্ত রয়েছেন। গত ১৬ আগস্ট দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে নথিসহ ০১ সেপ্টেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। আদালতে মিনুর পক্ষে থাকছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। এর আগে গত ৩১ মার্চ ঘটনাটি উচ্চ আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এরপর ৭ জুন হাইকোর্ট মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দেন। গত ১৬ জুন বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মিনু। তবে গত ২৮ জুন ভোর পৌনে ৪টার দিকে বায়েজিদ ভাটিয়ারী লিংক রোডের মহানগর সানমার গ্রিনপার্কের বিপরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিনু। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ২৯ জুন একটি মামলা হয়। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম। আর খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত কুলসুমকে ২৯ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রতারণার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় কুলসুমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি জবানবন্দিও দেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জুবায়ের মৃধা। জানা যায়, একটি হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানাঅনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। আর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটছেন মিনু। বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আদালতের নজরে আনেন। গত ২২ মার্চ সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে পিডব্লিউ মূলে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে জবানবন্দি শুনে এ মামলার আপিল উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় মিনুর উপ-নথি ২৩ মার্চ হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন। এ মামলায় মিনুর পক্ষে শুনানি করেছিলেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জে একটি বাসায় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টসকর্মী কোহিনূর আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর রহমতগঞ্জে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কোহিনূর আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন গার্মেন্টসকর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। এরপর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। মামলায় পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রতিবেদন দিলে অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এরমধ্যে এক বছর তিন মাস জেল খেটে জামিনে মুক্তি পান কুলসুম। মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ওই হত্যা মামলায় আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সাজার পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলি মিনু গত ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান। এদিকে গত ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নয় বলে জানতে পারেন। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। কারাগারের সংরক্ষিত হাজতি রেজিস্ট্রার অনুসারে আসামি কুলসুম আক্তার গত ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে আসেন। তিনি কারাগারে প্রায় এক বছর তিন মাস ছিলেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালত ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুম আক্তার কুলসুমী। এর পরে তিনি দুর্ঘনায় মারা যান। যেটি নিয়ে সৃষ্টি হয় ধুম্রজাল।

বাবা-মা একমত হলে রাখার সিদ্ধান্ত হোটেলে
                                  

বাবা-মা একমত হয়ে আদালতে আবেদন দাখিল করলে জাপানি দুই শিশুকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিবর্তে উন্নত হোটেলে রাখার আদেশ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। দুই শিশুর বাবার করা এক আবেদন শুনানিতে বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। শিশুদের বাবার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ ও অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক আদালতে বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে দুই শিশুর কষ্ট হচ্ছে। শিশুদের বাবা হোটেলের সব খরচ বহন করবেন। আমরা শিশুদের হোটেলে রাখার জন্য আবেদন করেছি। আমাদের আবেদনটি শুনুন। তখন আদালত বলেন, শিশুদের মা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নিয়ে কোনো অভিযোগ করছেন না। তারা বলছেন, শিশুরা ভালো আছে। আপনারা উভয়পক্ষ যদি শিশুদের হোটেলে বা কোনো বাসায় রাখতে একমত হন, তবেই আমরা শিশুদের হোটেলে রাখার ব্যাপারে আদেশ দিতে পারি। এর আগে বুধবার (২৫ আগস্ট) জাপানি দুই শিশুকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে সুবিধামতো রাজধানীর যেকোনো একটি উন্নতমানের হোটেলে রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তাদের বাবা। শিশুদের বাবার পক্ষে আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ এ আবেদন করেন। গত ২৩ আগস্ট জাপানি দুই শিশুকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে উন্নত পরিবেশে রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ সময়ের মধ্যে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের মা ও বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাবা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। আগামী ৩১ আগস্ট দুই শিশুকে হাইকোর্টে হাজির করতে হবে। ওইদিন আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন। তবে আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের ৩১ আগস্টের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করতে ভূমিকা রাখতে বলেছেন।

গত ২২ আগস্ট ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশুকে হেফাজতে নেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারও আগে ১৯ আগস্ট তাদের বাবা শরীফ ইমরানকে এক মাসের জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই শিশুকে আগামী ৩১ আগস্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সঙ্গে তাদের বাবা ও ফুফুকে নিয়ে আসতে বলা হয়। রাজধানীর গুলশান ও আদাবর থানার ওসিকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। গত ১৯ আগস্ট সকালে দুই কন্যাশিশুকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করেন জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো (৪৬)। রিটে দুই কন্যাশিশুকে নিজের জিম্মায় নেওয়ার নির্দেশনা চান ওই নারী। এর আগে আইনজীবী শিশির মনির জানান, ২০০৮ সালে জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো ও বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানি আইন অনুযায়ী বিয়ে সেরে টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। তাদের ১২ বছরের সংসারে তিন কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তারা তিনজনই টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শরীফ ইমরান এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২১ জানুয়ারি ইমরান আমেরিকান স্কুল ইন জাপান কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু এতে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর একদিন জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা স্কুল বাসে বাড়ি ফেরার পথে বাসস্টপ থেকে ইমরান তাদের অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। গত ২৫ জানুয়ারি শরীফ ইমরান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছ থেকে মেয়েদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে মেয়েদের নিজ জিম্মায় পেতে আদেশ চেয়ে গত ২৮ জানুয়ারি টোকিওর পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের সঙ্গে এরিকোর সাক্ষাতের অনুমতি দিয়ে আদেশ দেন। কিন্তু ইমরান আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে দুই মেয়েকে সাক্ষাতের সুযোগ দেন। এরপর গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে’ ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে নিয়ে তিনি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর গত ৩১ মে টোকিওর পারিবারিক আদালত জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে তাদের মা এরিকোর জিম্মায় হস্তান্তরের আদেশ দেন। তবে দুই মেয়ে বাংলাদেশে থাকায় বিষয়টি নিয়ে তিনি বাংলাদেশের একজন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে আসেন।

বিজিবির ১৯৬ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা-সুবিধা দেয়ার নির্দেশ বহাল
                                  

গেজেট বাতিল করা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৯৬ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা ও আর্থিক সুবিধা দিতে নির্দেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মো. আব্দুল কাইয়ূম। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ করে বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করীম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাবরিনা জেরিন ও মো. আব্দুল কাইয়ূম। এর আগে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল করে মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল, তাদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ওই গেজেট স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত। গত বছরের ২৯ নভেম্বর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা-আর্থিক সুবিধা দিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। ফলে আর্থিক সুবিধাদি দিতে নির্দেশ বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী আব্দুল কাইয়ূম। আইনজীবী আরও জানান, গত বছরের ৭ জুন ১১৩৪ জন বিজিবি সদস্যের গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি সরকার। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০০২ এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর শিডিউল-১ এর তালিকা ৪১-এর ৫ নম্বর ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জামুকার ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাধীনতা যুদ্ধের পর (১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে যোগদান করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১১৩৪ জনের নামে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করা হলো। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে পৃথকভাবে ১৯৬ জন রিট করেছিলেন।

রিমান্ড শেষে কারাগারে মামুনুল হক
                                  

নাশকতা ও ধর্ষণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের দুই থানায় দায়েরকৃত পৃথক ছয় মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে। সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁও থানায় দায়েরকৃত এসব মামলায় তাকে মোট ১৮ দিনের রিমান্ডে রাখে পুলিশ। আজ শনিবার (৫ মে) রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওছার আলমের আদালত শুনানি শেষে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের করা মামলায় গত বুধবার সর্বশেষ মামুনুল হককে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জানা গেছে, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ছয় মামলার মধ্যে তিনটি করেছে জেলা পুলিশ, দুটি করেছে সিআইডি এবং একটি করেছে পিবিআই। ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সংঘর্ষ, লুটপাট ও নাশকতার অভিযোগে এসব মামলা হয়। মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলাটি হয়েছে গত ৫ এপ্রিল। চলতি বছরের ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের পর সংঘর্ষের ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়। 

মালিক নজরুলের ইচ্ছাকৃত ভুলে ঝরে ২২ শ্রমিকের প্রাণ
                                  

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার হিজলতলায় প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ড ঘটতো। আগুন থেকে বাঁচতে কারখানার কর্মীরা মালিক নজরুল ইসলামকে বারবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দিতেন। কিন্তু তাতে ভ্রূক্ষেপ করেননি তিনি। নজরুলের সেই অবহেলায় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর কারখানাটিতে ফের অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যাতে প্রাণ হারান ২২ শ্রমিক। ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সম্প্রতি চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলামের দেয়া চার্জশিটে একমাত্র আসামি করা হয়েছে প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক নজরুল ইসলামকে (৩৫)। যদিও তিনি মামলাটিতে জামিনে রয়েছেন। চার্জশিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘আসামি নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কারখানায় প্রায়ই আগুন লাগতো। কারখানাটির শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা মালিক নজরুল ইসলামকে আগুন থেকে বাঁচার সাবধানতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা বারবার তাগিদ দিলেও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এতে কর্ণপাত করেননি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর কারখানাটিতে আগুন লাগে।’ চার্জশিটে আরও বলা হয়, ‘ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ২১ জন মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ছয়জন গুরুতর জখম হন, যা পেনাল কোড ৩০২/৩০৭/৩২৬ ধারায় অপরাধ। আসামি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে পেনাল কোড ৩০২/৩০৭/৩২৬ ধারায় চার্জশিট দেয়া হলো।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘তদন্তে আসামি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তাই তার বিরুদ্ধে পেনাল কোড ৩০২/৩০৭/৩২৬ ধারায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর কারখানাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো শ্রমিক আলমের (৩৭) ছোট ভাই জাহাঙ্গীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ওই মামলা করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ওই কারখানায় এর আগেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কারখানার মালিক ও মামলার অন্য অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন না নিয়ে এবং অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা যেমন—জরুরি নির্গমণ ব্যবস্থা, পানি ইত্যাদির মজুত না রেখে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলবে সপ্তাহের তিন দিন
                                  

করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচার কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঐ সিদ্ধান্ত মোতাবেক সপ্তাহের তিন দিন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টে বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই বিচারকাজ চলবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গতকাল রবিবার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া সোম ও বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা। সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, সাংবিধানিক কোর্ট খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আইনজীবীরা মামলার শুনানিতে এখন অংশ নেবে।রবিবার এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বলা হয়েছে, করোনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সপ্তাহের তিন দিন আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টে বিচারকাজ পরিচালিত হবে।

হাইকোর্টের চার বেঞ্চে বিচারকাজ

এদিকে, হাইকোর্টের চারটি বেঞ্চে বিচারকাজ চলছে। এর মধ্যে তিনটি দ্বৈত ও একটি একক বেঞ্চ রয়েছে। দ্বৈত বেঞ্চগুলোতে রিট, ফৌজদারি ও দেওয়ানি মোশন মামলার শুনানি চলে। প্রসঙ্গত গত বছরের মার্চে করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সাংবিধানিক আদালতের বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। বিচারপতি, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থী জনগণকে সুরক্ষা দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে চালু করা হয় উচ্চ আদালতের বিচার কার্যক্রম। পরে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চালু হয় আপিল বিভাগের বিচার কার্যক্রম। সময়ের ধারাবাহিকতায় ভার্চুয়াল পদ্ধিতর বিচারকাজ এখন সবার কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে জানান আইনজীবীরা।

 

শবে বরাতে পটকা-আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ
                                  

পবিত্র শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষার্থে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করার জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।  পুলিশ অর্ডিন্যান্স (৭৬) এর ২৮ ধারার ক্ষমতা বলে পুলিশ কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম এ আদেশ দিয়েছেন। সোমবার (২৯ মার্চ) সকালে ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শবেবরাত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে ২৯ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে  ৩০ মার্চ ভোর ৬টা পর্যন্ত বিস্ফোরক দ্রব্য, আতশবাজি, পটকা ও অন্যান্য ক্ষতিকর দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ করা হলো। এই আদেশ যথাযথভাবে পালন করা না হলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ট্রেনে নারী-শিশু-প্রতিবন্ধীদের জন্য আসন বরাদ্দে হাইকোর্টের রুল
                                  

যাত্রীবাহী ট্রেনে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রেল ভ্রমণের জন্য আসন বরাদ্দের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ও রেলওয়ে পরিদর্শককে এই রুলের জবাব দিতে হয়েছে। বুধবার (১০ মার্চ) হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন। এর আগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দের বাস্তবায়ন চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছিল। জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন। সেই সঙ্গে নারীরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য ট্রেনে তাদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দের বাস্তবায়ন চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতি রিটে নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ও রেলওয়ে পরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৩ জানুয়ারি রিট আবেদন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের আইন অনুযায়ী নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তারপরও তাদের জন্য আলাদা কোনো কামরা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। আমি শুধু রেলের সেই নিয়মটি বাস্তবায়ন চাই। কারণ ট্রেনে ভ্রমণ অত্যন্ত আরামদায়ক। কিন্তু কোনো নারী যদি একা টেনে যাতায়াত করতে চায়, তাহলে প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে রেল গাড়িতে ওঠা যেমন কষ্টকর, তেমনি শতশত পুরুষের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে ট্রেনের কামরার ভেতরে আসন পর্যন্ত গিয়ে সিটে বসাটাও টাফ হয়ে যায়।’ মো. আজমল হোসেন খোকন বলেন, ‘যেসব নারীরা দুধের শিশু নিয়ে ট্রেনে ওঠেন, তারা নির্দ্বিধায় তার শিশুকে দুধ পান করাতে পারেন না। কারণ শত শত নারী-পুরুষের ঠাসা রেলের কামরায় নিজে যেখানে বসতে অস্বস্তিবোধ করেন, সেখানে শিশুদের দুধ পান করানো আরও কঠিন। তাই আলাদা কামরা বরাদ্দ হলে শিশুদের দুধ পান করাতে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।’ আইনজীবী আজমল বলেন, ‘রাতে কোনো নারী একা ট্রেনে ভ্রমণ করতে চাইলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তাই নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ দিলে দিনে কিংবা রাতে নারীরা তাদের কামরায় নির্দ্বিধায় উঠে তাদের আসনে বসতে পারবেন। এতে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকিও কমবে। এছাড়া ট্রেনে ভ্রমণের সময় যদি নামাজের সময় হয়, তখন তারা নিয়মিত সেখানে নামাজও আদায় করতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য পৃথক একটি কামরার কথা বলা থাকলেও সেটি কোনো ট্রেনে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এর আগে নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ চেয়ে ২০২০ সালে ১৩ অক্টোবর রেল মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি একটি (আইনি) লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। নোটিশে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ১৮৯০’ এর ৬৪ ধারায় নারীদের জন্য একটি কামরা বরাদ্দ রাখার বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত আইনটি বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য লিগ্যাল নোটিশটি পাঠানো হলো।’ নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে বলেও উল্লেখ করেছিলেন এই আইনজীবী। লিগ্যাল নোটিশের পরেও কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হাইকোর্টের প্রতিকার চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে।

সাকিবকে হত্যার হুমকিদাতার জামিন নিয়ে হাইকোর্টের রুল
                                  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আসামি মহসিন তালুকদারকে জামিন দেননি হাইকোর্ট। তবে তাকে কেন জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ।


   Page 1 of 16
     আদালত
সাবরিনা-আরিফুলসহ ৮ জনের মামলার রায় আজ
.............................................................................................
পদ্মা সেতু উদ্বোধনে খালেদাকে দাওয়াত দিতে আইনি বাধা নেই
.............................................................................................
বোরকা পরা শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ
.............................................................................................
মানবতাবিরোধী অপরাধে নওগাঁর ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
পূর্ব বিরোধ মিমাংসার কথা বলে ডেকে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম ॥ ৩জনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
.............................................................................................
বাল্যবিয়ে: দুই শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া নিয়ে শুনানি আজ
.............................................................................................
বিনা দোষে জেল খাটা নিহত মিনুর দুই আইও হাইকোর্টে
.............................................................................................
বাবা-মা একমত হলে রাখার সিদ্ধান্ত হোটেলে
.............................................................................................
বিজিবির ১৯৬ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা-সুবিধা দেয়ার নির্দেশ বহাল
.............................................................................................
রিমান্ড শেষে কারাগারে মামুনুল হক
.............................................................................................
মালিক নজরুলের ইচ্ছাকৃত ভুলে ঝরে ২২ শ্রমিকের প্রাণ
.............................................................................................
আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলবে সপ্তাহের তিন দিন
.............................................................................................
শবে বরাতে পটকা-আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ
.............................................................................................
ট্রেনে নারী-শিশু-প্রতিবন্ধীদের জন্য আসন বরাদ্দে হাইকোর্টের রুল
.............................................................................................
সাকিবকে হত্যার হুমকিদাতার জামিন নিয়ে হাইকোর্টের রুল
.............................................................................................
গাজীপুরের সাবেক মেয়র মান্নানের সাজা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
.............................................................................................
জমি নিয়ে বিরোধে আলেক মিয়া হত্যা : ৮ জনের যাবজ্জীবন
.............................................................................................
জামিন পেলেন কার্টুনিস্ট কিশোর
.............................................................................................
মাদক মামলায় ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি
.............................................................................................
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
.............................................................................................
অস্ত্র মামলায় ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি
.............................................................................................
কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা: ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
.............................................................................................
লেবানন থেকে ফিরলেন ৪৩২ বাংলাদেশি
.............................................................................................
অভিজিৎ হত্যা : ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
টিকা নিয়ে ভালো আছি, আপনারাও নিন : আইনজীবীদের প্রধান বিচারপতি
.............................................................................................
নাশকতার মামলায় কারাগারে সাবেক এমপি সালাউদ্দিন
.............................................................................................
জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী
.............................................................................................
ইরফান সেলিমকে কেন জামিন নয়, হাইকোর্টের রুল
.............................................................................................
মেজর মঞ্জুর হত্যায় এরশাদকে অব্যাহতি
.............................................................................................
ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
.............................................................................................
অস্ত্র মামলায় নূর হোসেনের যাবজ্জীবন, চাঁদাবাজিতে খালাস
.............................................................................................
১৫ দিনের মধ্যে সব হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামত করতে লিগ্যাল নোটিশ
.............................................................................................
স্ত্রী-মেয়ে-শ্যালিকাসহ পাপুলের ৬১৭ ব্যাংক হিসাব জব্দ
.............................................................................................
রাজধানীতে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার ৪৯
.............................................................................................
ফারুকী হত্যা মামলার প্রতিবেদন ২৭ জানুয়ারি
.............................................................................................
পুলিশ কর্মকর্তার বাসা থেকে গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
বন্ধুর মেয়েকে ধর্ষণ: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
.............................................................................................
সনদ জালিয়াতি: এনসিসি ব্যাংক কর্মকর্তার কারাদণ্ড
.............................................................................................
বাবুনগরী-মামুনুলদের মামলা তদন্তে পিবিআই
.............................................................................................
শিশু সামিউল হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার
.............................................................................................
ফেসবুকের মামলার শুনানি ১৪ ডিসেম্বর
.............................................................................................
মুক্তি পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া
.............................................................................................
কোর্ট বন্ধের বিষয়ে সকল বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন
.............................................................................................
ফাহাদ হত্যা মামলার নথি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
.............................................................................................
‍আসামি মজনুর বিরুদ্ধে ডিবির চার্জশিট
.............................................................................................
মানহানির মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন খালেদা
.............................................................................................
জয় বাংলা - কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা হাইকোর্টের
.............................................................................................
বৈধ সন্তান নিরূপণ সংক্রান্ত ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের রিট
.............................................................................................
মাস্কের দাম অস্বভবিক বৃদ্ধি - ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরামর্শ হাইকোর্টের
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale