|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র   * যানজট নিরসনে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ ডিএনসিসির   * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী   * শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে দারিদ্র্য বড় বাধা: প্রধানমন্ত্রী   * জ্বালানি তেল-সারের মূল্য বাড়ায় কমতে পারে ধানের উৎপাদন   * মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ   * বিশ্বে দুর্ভিক্ষের মুখে সাড়ে ৩৪ কোটিরও বেশি মানুষ : জাতিসংঘ   * শিক্ষায় বেড়েছে সংখ্যা, মান বাড়েনি ৫০ বছরেও   * বিশ্ববাজারে অর্ধেকে নেমেছে পাম তেলের দাম, কমছে না দেশে   * নজরদারিতে আসছে মাছ ধরার নৌযান, ডিভাইস জানাবে জেলেদের অবস্থান  

   আর্ন্তজাতিক -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনে পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।এনবিসির মিট দ্য প্রেস নিউজ প্রোগ্রামকে সুলিভান বলেছেন, রাশিয়া যদি এই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সীমা অতিক্রম করে তবে রাশিয়ার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বেশ স্পষ্টভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কেমন প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি সুলিভান।  
গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়ায় ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, পুতিন প্রকাশ্যে ইউরোপের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন।
এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়ার ভূখণ্ড রক্ষার জন্য তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত।  জাতিসংঘে অনেকটা একই কথা বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র
                                  

ইউক্রেনে পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।এনবিসির মিট দ্য প্রেস নিউজ প্রোগ্রামকে সুলিভান বলেছেন, রাশিয়া যদি এই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সীমা অতিক্রম করে তবে রাশিয়ার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বেশ স্পষ্টভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কেমন প্রতিক্রিয়া জানাবে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি সুলিভান।  
গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়ায় ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, পুতিন প্রকাশ্যে ইউরোপের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন।
এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়ার ভূখণ্ড রক্ষার জন্য তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত।  জাতিসংঘে অনেকটা একই কথা বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

বিশ্বে দুর্ভিক্ষের মুখে সাড়ে ৩৪ কোটিরও বেশি মানুষ : জাতিসংঘ
                                  

বিশ্বের ৮২টি দেশের অন্তত ৩৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চুড়ান্ত খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে; এবং যদি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেক্ষেত্রে শিগিরই এই সংখ্যার সঙ্গে আরও ৭০ কোটি মানুষ যুক্ত হবেন।
জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ডেভিড বিসলি বৃহত্তম এই বৈশ্বিক সংস্থার সবচেয়ে প্রভাবশালী বিভাগ নিরাপত্তা পরিষদের শুক্রবারের বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নিজ বক্তব্যে জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের এই শীর্ষ নির্বাহী বলেন, করোনা মহামারির শুরুর পর্যায়ে বিশ্বজুড়ে যতসংখ্যক মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল, মহামারির আড়াই বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্তত ৪৫টি দেশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থতির সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বিসলি বলেন, ‘মহামারির আগ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার যে ঢেউ ছিল, মহামারির প্রভাবে তা সুনামিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে খাদ্যপণ্যের মূল্য যে হারে বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য সংকট শুরু হবে। ফলে শিগগিরই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান মার্টিন গ্রিফিথও উপস্থিতি ছিলেন। তিনি জানান, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তানসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কিছু দরিদ্র দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
‘সোমালিয়ায় ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে। অন্যান্য দেশে এখনও দুর্ভিক্ষ শুরু না হলেও অবস্থা খুবই সঙ্গীন। সেসব দেশে লাখ লাখ মানুষ একবেলাও ঠিকমতো খেতে পারছে না,’ বলেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান।
সংকটে থাকা বিভিন্ন দেশের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে গ্রিফিথ আরও বলেন, ‘ইয়েমেনে গুরুতর খাদ্যাভাবে ভুগছে অন্তত ১লাখ ৬০ হাজার মানুষ এবং দেশটির অন্তত ৫ লাখ ৩৮ হাজার শিশু অপুষ্টির শিকার। দক্ষিণ সুদানে বর্তমানে ৬০ শতাংশ মানুষের হাতে পুষ্টিকর খাদ্য কেনার মতো অর্থ নেই। ইথিওপিয়ায় এই সংখ্যা আরও বেশি— ১ কোটি ৩০ লাখ। নাইজেরিয়ায় দুই বেলা খাবারের নিশ্চয়তা নেই— এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।’
শুক্রবারের বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের অবিলম্বে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান ডেভিড বিসলি ও মার্টিন গ্রিফিথ।

ক্ষুধার্ত থাকছে লঙ্কান শিশুরা, প্রতিবেশীদেরও সতর্ক করলো জাতিসংঘ
                                  

চরম অর্থসংকটের মুখে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার শিশুরা। একই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার বাকি দেশগুলোতেও হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। খবর এএফপির।
স্বাধীনতার-উত্তর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শূন্যে পৌঁছেছে। ফলে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানির মতো অতিজরুরি পণ্য আমদানি করতে পারছে না লঙ্কান সরকার। অভূতপূর্ব এই অর্থনৈতিক সংকট দ্বীপরাষ্ট্রটিতে রাজনৈতিক সংকটও তৈরি করেছে।
শুক্রবার (২৬ আগস্ট) জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক জর্জ লারিয়া-আদজেই বলেছেন, রান্নার উপকরণগুলোর দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ায় নিয়মিত খাবার বাদ দিয়েছে শ্রীলঙ্কার অনেক পরিবার। তারাই এই সংকট তীব্রভাবে অনুভব করেছে।
তিনি বলেন, শিশুরা ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছে। তারা জানে না, পরবর্তী খাবার কোথা থেকে আসবে।
৫ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে গত এপ্রিলে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ পেতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
লারিয়া-আদজেই বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শ্রীলঙ্কার মতো এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও পুষ্টি সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
ইউনিসেফ কর্মকর্তা বলেন, তীব্র অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মূল্যস্ফীতি শিশুদের জীবনকে আরও হুমকির মুখে ফেলতে চলেছে। আমি শ্রীলঙ্কায় যা দেখেছি, তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা।
শ্রীলঙ্কায় শিশুদের জনসংখ্যার অন্তত অর্ধেকের জরুরি চাহিদা মেটাতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছে ইউনিসেফ।
শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অপুষ্টি মোকাবিলায় চলতি মাসে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে লঙ্কান সরকারও।
২০২১ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, শ্রীলঙ্কায় ৫ লাখ ৭০ হাজার প্রাক-স্কুল শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার জনই অপুষ্টিতে ভুগছিলো। কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, এরপর থেকে ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি ও ক্রমাগত মূল্যস্ফীতির জেরে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা আকাশচুম্বী হয়েছে।

ইউরোপে ফের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করছে রাশিয়া
                                  

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের প্রধান পাইপলাইন ফের বন্ধ রাখতে যাচ্ছে রাশিয়া। দেশটির জ্বালানি সংস্থা গ্যাজপ্রোম জানিয়েছে, নড স্ট্রিম-১ পাইপ লাইনটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষের দিকে তিন দিন বন্ধ থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার অনির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের আদেশের ফলে ইউরোপে এরই মধ্যে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। আকাশচুম্বী হয়েছে মূল্যস্ফীতি। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাল্টিক সাগরের তলদেশ স্থাপনা করা নর্ড স্ট্রিম পাইপ লাইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস যায়। সেখান থেকে পুরো ইউরোপে সরবরাহ করা হয়।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) অনলাইনে পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে গ্যাজপ্রোম জানিয়েছে, পাইপলাইন বরাবর একটি মূল কম্প্রেসার স্টেশনে একমাত্র সচল টারবাইনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লাইনটি ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
বর্তমানে পাইপলাইনটি দিয়ে সক্ষমতার এক-পঞ্চমাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে রাশিয়া। এর আগেও নিয়মিত কাজের জন্য এটির কার্যক্রম বন্ধ রাখে পুতিন প্রশাসন।
রাশিয়া শুরু থেকেই পাইপলাইনটির মাধ্যমে কম গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়ে আসছে। তবে জার্মানি বলছে ইউক্রেনের সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়া অনিশ্চয়তা তৈরি করতে চায়।

পারমাণবিক কেন্দ্রে বিপর্যয়ের ঝুঁকি ‘প্রতিদিন বাড়ছে’: ইউক্রেন
                                  

জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: রয়টার্সজাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: রয়টার্স
রুশ সেনাদের দখলে থাকা জাপোরিঝজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রতে ঝুঁকি প্রতিদিনই বাড়ছে। এমনটা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের এনারগোদার শহরের মেয়র দিমিত্রো অরলভ।
জাপোরিঝজিয়া ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আর এর অবস্থান ইউক্রেনে। যেখানে অবৈধভাবে হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। দখল করে নিচ্ছে সীমান্তবর্তী শহরগুলো।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইউক্রেন যুদ্ধের বড় একটা ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। এটি কব্জায় নিতে গত মার্চ থেকেই ওই এলাকার আশপাশে হামলা জোরদার করে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় সেনারা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে অতি স্পর্শকাতর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। গত সপ্তাহেই সেখানে হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষ একে অপরকে দোষারপ করছে।
এ নিয়ে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এনারগোদার শহর থেকে মেয়র দিমিত্রো অরলভ বলেন, প্ল্যান্টিতে প্রতিদিনই ঝুঁকি বাড়ছে। সেখানে যা ঘটছে তা পুরোপুরি পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ। যে কোনও মুহূর্তে অপ্রত্যাশিতভাবে বিপর্যয় ঘটতে পারে’।
মস্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কিয়েভ বলছে, নিজেদের সেনা স্থাপন করা এবং অস্ত্র রাখাসহ কেন্দ্রটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। আরও বিপজ্জনক হলো, হামলা বন্ধের কোনও লক্ষণ নেই।

তেলের মূল্যবৃদ্ধি: রাস্তায় ভিক্ষা না হয় অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা
                                  

নুরুল ইসলামের সংসারে দু’টি ছোট বাচ্চা এবং বাবা-মা রয়েছে। নিজের সঙ্গে তাদের প্রয়োজনও পূরণ
বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধকে দায়ী করেছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। তেলের এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেউ কেউ ভিক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন। রোববার (১৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শাকসবজি পরিবহনের জন্য ট্রাক ব্যবহার করেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। ট্রাকে পেট্রোল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় তিনি বলেন, তিনি ভয় পাচ্ছেন যে তাকে হয়তো শিগগিরই ভিক্ষা করতে রাস্তায় নামতে হবে।
বাংলাদেশে জ্বালানির দামের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধির ফলে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় পৌঁছেছে। এমনকি ডিজেল ও কেরোসিনের দামও বেড়েছে ৪২.৫ শতাংশ। তেলের ব্যাপক এই মূল্যবৃদ্ধি মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে এমন এক অবস্থায় ফেলে দিয়েছে যেখানে তিনি নিজের মৌলিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে অর্থ জোগাড়ের জন্য কার্যত সংগ্রাম করছেন।
গত নয় বছর ধরে একটি পরিবহন কোম্পানিতে কাজ করছেন নুরুল। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা দিনাজপুরের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী এই যুবক তার নিজ শহর থেকে তাজা পণ্য রাজধানী ঢাকায় পরিবহন করে থাকেন।
মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের সংসারে দু’টি ছোট বাচ্চা এবং বাবা-মা রয়েছে। নিজের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রয়োজনও নুরুলের পূরণ করতে হয়। কিন্তু জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাকে তার পুরো বেতন দিতে পারছেন না নিয়োগকারী কর্তারা।
নুরুল ইসলাম বলছেন, ‘বাজারে গিয়ে আমি আমার পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার কিনতে পারি না। জ্বালানির দাম যদি এভাবে বাড়তে থাকে, আমি আমার বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে পারব না বা আমার সন্তানদের স্কুলেও পাঠাতে পারব না।’
তার আশঙ্কা, ‘আমি যদি আমার চাকরি হারাই, তাহলে আমাকে রাস্তায় ভিক্ষা করা শুরু করতে হতে পারে।’
বিবিসি বলছে, ১৬ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশটিতে অগণিত আরও বহু মানুষ এখন একইরকম দুর্দশার মুখোমুখি হচ্ছেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংকটে রয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘আমরা জানি দাম বৃদ্ধি অনেক বড় বিষয়, কিন্তু বিদেশে জ্বালানির দাম বাড়লে আমরা কী করতে পারি?’
সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার প্রশাসন অতীতে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এড়াতে ভর্তুকি দিয়েছিল, কিন্তু দাম বাড়ানো এখন অনিবার্য ছিল। তার দাবি, ‘যদি বিশ্বব্যাপী দাম একটি স্তরে নেমে আসে, আমরা কিছু সমন্বয় করার চেষ্টা করব।’
গত সপ্তাহে মূল্যবৃদ্ধির খবর ঘোষণা করার পর শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ পেট্রোল স্টেশনে বিক্ষোভ করেছে। মূল্যবৃদ্ধিকে প্রত্যাখ্যান করে তারা আগের দাম ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া বাংলাদেশে বিক্ষোভ বিক্ষিপ্ত হলেও ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তবে নসরুল হামিদ বিশ্বাস করেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমলেও শ্রীলঙ্কার মতো পরিণতি এড়াবে বাংলাদেশ।
তবে তেলের এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেশ বড় বিপদেই পড়েছেন মোসাম্মাদ জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারী। এই নারী তার অসুস্থ সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাস ভাড়ার খরচ বহন করতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর জ্বালানি খরচের কারণে গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে বেশ অনেক। আর তাই গণপরিবহনে ভ্রমণের একান্ত প্রয়োজন হলেই কেবল সেটি ব্যবহার করছেন জাকিয়া। হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাসে তিনি বিবিসির সাথে কথা বলেন, এসময় তার পাশে ছিল তার কিশোরী মেয়ে।
 জাকিয়া বলছেন, খাদ্যের দামের সাম্প্রতিক এই বৃদ্ধি ইতোমধ্যেই তাকে কঠোরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলছেন, ‘শুধু যে বাসের ভাড়া বেড়েছে তাই নয়, বাজারে সব কিছুর দামও বেড়েছে, যার ফলে আমার সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তার ভাষায়, ‘এটা শুধু বাসের ভাড়া নয়। রিকশা ও অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে, তাই বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’
দিনাজপুরের আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গল্প একই রকম। শিউলি হাজদা জেলার ফুলবাড়ীর একটি ধানক্ষেতে কাজ করেন। তিনি বলছেন, খামারের মাধ্যমে যে আয় হয় তাতে খাবার কেনার সামর্থ্য তার নেই।
তিনি বলেন, হঠাৎ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে চাষের খরচ অনেক বেশি হয়ে গেছে। শিউলি হাজদার ভাষায়, ‘যা বেতন পাই, তাতে কেবল আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা যায়। সবকিছু এতো ব্যয়বহুল, আমরা আমাদের বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য পর্যাপ্ত খাবার কিনতে পারি না।’
বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিউলির মতো বহু মানুষ বলছেন, তাদের উপার্জন কোনো কাজে আসছে না। শিউলি বলছেন, ‘সরকার দ্রুত জ্বালানি তেলের দাম না কমালে আমরা অনাহারে মরব।’

ট্রাম্পের বাসভবন থেকে গোপন নথি উদ্ধার
                                  

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিলাসবহুল বাসভবন মার-আ-লাগো থেকে গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১১ সেট গোপন নথি উদ্ধার করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআই।
উদ্ধারকৃত এসব নথির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পর্কিত ‘টিএস/এসসিআই’ বা ‘অতি গোপনীয়’ ক্যাটাগরি নথিও আছে, যা বেহাত হলে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ‘ব্যাপক’ ও  ‘গুরুতর’ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
গত ০৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ শহরে ট্রাম্পের বাসভবন মার-আ-লাগোতে তল্লাশি চালায় এফবিআইয়ের একটি দল। ওই দিন অবশ্য ফ্লোরিডায় ছিলেন না ট্রাম্প।
অভিযানে ট্রাম্পের বাসভবন থেকে কিছু জিনিস জব্দ করেছিল এফবিআই। শুক্রবার বিকেলে ফ্লোরিডার একটি আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত জিনিসের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সেই তালিকার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার-আ-লাগো থেকে ২০টি বাক্স, ফটো বাইন্ডার এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক পরামর্শদাতা রজার স্টোনের পক্ষে লেখা একটি চিঠি। এ ছাড়া ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট’ সম্পর্কে লেখা একটি নথি উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও ওই নথিতে কী বলা হয়েছে তা স্পষ্ট জানা যায়নি।
ট্রাম্বেপর বাসভবন থেকে উদ্ধার ১১ সেট নথি কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে এএফবিআই। এসবের মধ্যে একটি সেট মার্কিন নিরাপত্তা ব্যাবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ‘টিএস/এসসিআই’ বা ‘অতি গোপন/ সংবেদনশীল’ তালিকাভূক্ত বলে জানা গেছে। এফবিআইএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নথি যদি বেহাত হয়, সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে।
এছাড়া উদ্ধার অন্যান্য ফাইলের মধ্যে ৪ সেট ‘অতি গোপন’ ক্যাটাগরি, তিন সেট ‘গোপন’ ক্যাটাগরি নথি, এবং তিন সেট ‘গোপনীয়’ ক্যাটাগরির নথি রয়েছে। নথিগুলোর বিষয়ে এর চেয়ে বেশি বিস্তারিত আর কিছু বলে নি এফবিআই।‘
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক বিবৃতিতে বলেছেন, উদ্ধারকৃত আইটেমগুলো ‘সব ডিক্লাসিফাইড’ এবং নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এফবিআই যদি চাইত, তাহলে যে কোনো সময় এসব নথি পেতে পারত। আমিই তাদেরকে হস্তান্তর করতাম। পরোয়ানা নিয়ে তল্লাশি চালানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।’  
পাশাপাশি, ‘অতি গোপন’ ক্যাটাগরির যে নথি উদ্ধারের দাবি করেছে এফবিআই— সেটিকেও ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য— তার কাছে এ ক্যাটাগরির কোনো নথি নেই।
গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব শেষে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ট্রাম্প অবৈধভাবে নথিপত্র সরিয়ে নিয়েছেন কি না, সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবেই সোমবার তল্লাশি চালানো হয় মার-আ-লাগোতে। মার্কিন বিচার বিভাগের সন্দেহ ছিল, ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ত্যাগের সময় কিছু অতি গোপন নথি সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গ্যারল্যান্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই তল্লাশি অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তল্লশির বিষয়টি জনসমক্ষে নিশ্চিত করা, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগকে পরোয়ানাটি প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে বিচার বিভাগ।
তদন্তের ঘটনা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে একেবারেই বিরল। ব্যক্তি অধিকার সুরক্ষায় চলমান তদন্তের বিষয়ে আলোচনা করেন না যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। অবশ্য এ ঘটনায় সোমবার রাতে ট্রাম্প নিজেই এক বিবৃতি দিয়ে তল্লাশির বিষয়টি জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের বাসভবনে এফবিআইয়ের অভিযান ঘিরে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় উঠেছে। ২০২৪ সালে তিনি আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন, এমন আলোচনার মধ্যেই তাঁর বাসভবনে এ ধরনের অভিযান চালানো হলো।
বৃহস্পতিবার নিজের তৈরি নামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, তার অ্যাটর্নিরা পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন। সরকার যা চাইছে, তা তাঁদের কাছে থাকলে সহজেই পেতে পারত। কিন্তু তা না করে কোনো কিছু না জানিয়ে সকাল সাড়ে ছয়টার সময় মার-এ-লাগোতে অভিযান চালানো হলো। এফবিআই এজেন্টরা ফার্স্ট লেডির বাথরুমসহ পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যক্তগত সামগ্রীও পরীক্ষা করেন।
এদিকে রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতারা বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের কঠোর নিন্দা করেছেন।

ইউক্রেনের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে রাশিয়ার হামলায় ১৪ জন নিহত
                                  

ইউক্রেনের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় রাশিয়ার চালানো রকেট হামলায় ১৪ জন নিহত হওয়ায় কিয়েভ বুধবার মস্কোকে দায়ী করেছে। এদিকে জি৭ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে থাকায় ‘এ অঞ্চল চরম ঝুঁকির’ মুখে পড়েছে। খবর এএফপি’র।
আঞ্চলিক গভর্নর ভলানতিন রেজনিচেনকো টেলিগ্রাম বার্তায় লিখেছেন, ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলের দনিপ্রোপাত্রভস্ক এলাকায় রাতে চালানো বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
হতাহতদের অধিকাংশ মর্গানেটস শহরের বাসিন্দা। দনিপ্রো নদী বরাবর অবস্থিত শহরটির কাছাকাছি ইউরোপের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাপোরিজঝিয়া পরমাণু কেন্দ্রটি অবস্থিত।
রেজনিচেনকো বলেন, ‘এটি ছিল একটি ভয়াবহ রাত।’ বিমান হামলার সংকেত শুনতে পেলে বাসিন্দাদের তিনি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় গভর্নর অলেকজান্ডার স্টারুখ টেলিগ্রাম বার্তায় লিখেছেন, বুধবার সকালে জাপোরিজঝিয়া এলাকার একটি গ্রামে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরেক নারী নিহত হন।
আঞ্চলিক পরিষদ প্রধান মাইকোলা লুকাশুক জানান, স্থানীয় একটি বিদ্যুৎ লাইনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় হাজারো মানুষ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
এদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়া জাপোরিজঝিয়া পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করে। এ কেন্দ্রে ছয়টি চুল্লি রয়েছে।

জুলাইয়ের তীব্র তাপপ্রবাহে ব্রিটেনে হাজারো মানুষের মৃত্যু হতে পারে
                                  

ইউরোপের অধিকাংশ দেশের মতো ব্রিটেনেও গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয়েছে। গত ১৯ জুলাই তাপমাত্রা পরিমাপ স্কেলে পারদ ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছিল। এটি ২০১৯ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিপদের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কেননা, ৯ আগস্ট ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস আগামী দিনে আরও চরমভাবে তাপমাত্রা বাড়ার সতর্কতা জারি করেছে।
দেশটিতে গরম আবহওয়ার ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যবস্থা তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। ইংল্যান্ডের মাত্র ২ শতাংশ বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক বাড়িতে, বিশেষ করে ফ্ল্যাটগুলো অতিরিক্ত গরম হয় কারণ তাদের বায়ু চলাচল ব্যবস্থা দুর্বল এবং সূর্যের তাপ প্রবেশ করে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অতিরিক্ত মৃত্যু, আগের সব রেকর্ডের তুলনায় অনেক বেশি। ২৯ জুলাই শেষ হওয়া দুই সপ্তাহের হিসাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে তিন হাজার ৫৮ অতিরিক্ত মৃতের সংখ্যা নিবন্ধন করা হয়েছে সেখানে। সম্প্রতি ইউরোপের অন্যান্য অংশেও অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জুলাইয়ের তীব্র তাপপ্রবাহে ব্রিটেনে হাজারো মানুষের মৃত্যু হতে পারে
তাহলে কি তাপপ্রবাহ এত মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী?
পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বলে যে উচ্চ তাপমাত্রা মৃত্যুর একটি বড় কারণ। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বা হৃদরোগের মতো অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। ইউরোপে ২০০৩ সালের তাপপ্রবাহ, মহাদেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যুতে প্রভাব ফেলে।
ব্রিটেনে ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস জানায়, সেদিন এবং এরপর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তথাকথিত ‘হার্ভেস্টিং ইফেক্ট’[মৃত্যুহার স্থানচ্যুতি এমন একটি ঘটনা যেখানে অতিরিক্ত মৃত্যুর সময়কাল (অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মৃত্যু) ও মৃত্যু কম হওয়ার সময়কাল (অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে কম মৃত্যু) নির্দেশ করে। এটি মূলত পরিবেশগত ঘটনা যেমন তাপমাত্রা, ঠাণ্ডা আবহাওয়া, মহামারি, দুর্ভিক্ষ বা যুদ্ধের কারণে ঘটে থাকে।
এভাবে মৃত্যুর কারণ ও প্রভাব আলাদা করা কঠিন। মৃত্যু সনদে স্পষ্টভাবে ‘তাপ’ উল্লেখ না করলে তা মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ কিনা তা অবিলম্বে জানার খুব কম উপায় রয়েছে। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে কোভিড-১৯ -যা সম্প্রতি কয়েক বছরে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ। তবে এটি তুলনীয় নয়। যদিও গত দুই সপ্তাহ ধরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কোভিড -১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। যেখানে অতিরিক্ত আটশ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু তাপ দ্বারা ত্বরান্বিত হতে পারে।
জুলাইয়ের তীব্র তাপপ্রবাহে ব্রিটেনে হাজারো মানুষের মৃত্যু হতে পারে
অন্যান্য কারণ থেকে গরম আবহাওয়াকে পৃথক করার জন্য পরিসংখ্যানগত মডেলিং ব্যবহার করে ‘তাপজনিত মৃত্যু পর্যবেক্ষণ’ প্রতিবেদন দিয়েছে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা। বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, ২০২০ ও ২০২১ সালে তাপপ্রবাহ ইংল্যান্ডে গড়ে দুই হাজার ৯৫ জন মানুষের মৃত্যুতে প্রভাব ফেলেছিল। এটি ২০১৬ ও ২০১৯ এর মধ্যে পর্যবেক্ষণ করে বের করা সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণ। এর কারণ সম্ভবত কোভিড মানুষের মৃত্যুকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী দশ জনের মধ্যে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহজনিত কারণে।
জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এটির সঙ্গে বাড়িঘর উপযোগী করে খাপ খাইয়ে না নিলে তাপেও মৃত্যু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ব্রিটিশ সরকারের জলবায়ু নীতি যাচাই-বাছাই করা একটি স্বাধীন সংস্থা, ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি ধারণা করছে যে, বার্ষিক গরম আবহাওয়ায় মৃত্যু এখন প্রায় দুই হাজার থেকে ২০৫০-এর দশকে সাত হাজার বৃদ্ধি পেতে পারে।

করোনায় কমেছে প্রাণহানি, শনাক্ত-মৃত্যুর শীর্ষে জাপান
                                  

চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও কমেছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় কমেছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ৮০০ মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জাপানে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে ইতালি, ইরান, রাশিয়া ও তাইওয়ান। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৯৩ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৪ লাখ ৩৬ হাজার।সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৮০ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে প্রায় পাঁচশো। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৭ জনে।
একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫১ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭৮ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৯৩ লাখ ৩ হাজার ৮১৯ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জাপানে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৪ হাজার ৮৭৯ জন এবং মারা গেছেন ১৬১ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৯৭৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৩৩ হাজার ৫০৯ জন মারা গেছেন।
লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৯ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৭ হাজার ১৯৮ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৫১ জনের।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৫৪৬ জন এবং মারা গেছেন ১২ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯ কোটি ৩৯ লাখ ১৯ হাজার ১৫০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩৮ জন মারা গেছেন।
ফ্রান্সে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৫২৮ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৪০ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৩৭ জন মারা গেছেন। একইসময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৫০৭ জন এবং মারা গেছেন ২৭ জন।
ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৬৫৬ জন এবং মারা গেছেন ৭৪ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে ইউরোপের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৪২৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৩৬ জন মারা গেছেন। একইসময়ে মেক্সিকোতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৪৪৮ জন এবং মারা গেছেন ৮৫ জন।

তাইওয়ানে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪২ জন এবং নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ২২ হাজার ৪৪ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ২২৯ জনের। একইসময়ে ইরানে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৪৭৭ জন এবং মারা গেছেন ৬৩ জন।

রাশিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৪ জন এবং নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ২০ হাজার ৩০৩ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৮৭ লাখ ১২ হাজার ৬৯৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৭৪১ জনের। একইসময়ে নিউজিল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৫১৮ জন এবং মারা গেছেন ১৮ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৬১৬ জন এবং মারা গেছেন ৩২ জন। একইসময়ে থাইল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৫০ জন এবং মারা গেছেন ৩৫ জন। চিলিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৮১১ জন এবং মারা গেছেন ২৭ জন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম
                                  

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়েছে। কারণ মন্দার আশঙ্কায় চাহিদায় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে গত মাসে চীনের ক্রুড আমদানি ধীর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে নির্দেশ করে।
সোমবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ছয়টায় দেখা যায়, প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ১৮ ডলারে নেমেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের পর সর্বনিম্ন। তাছাড়া সাপ্তাহিকভিত্তিতে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন হয়েছে।
এদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের মূল্য ব্যারেল প্রতি ৬৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৫ আগস্ট) অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮০ সেন্ট বেড়ে হয় ৯৪ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৭ সেন্ট বেড়ে হয় ৮৯ দশমিক ০১ ডলার।
বিশ্বে সবচেয় বেশি ক্রুড তেল আমদানি করে চীন। জুলাই মাসে দেশটি প্রতিদিন ৮ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। কিন্তু তা গত বছরের তুলনায় নয় দশমিক পাঁচ শতাংশ কম। উচ্চ ক্রুড মূল্য ও দুর্বল অভ্যন্তরীণ মার্জিনের মধ্যে চীনের শোধনাকারীরা মজুতও কমিয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির ভয়ংকর দিনগুলোতে ঐতিহাসিক পতনের পর চলতি বছরের শুরুর দিকে তেলের দাম হঠাৎ করে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার হয়ে যায়। এর পেছনে করোনাকালীন ধাক্কা সামলে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন আক্রমণের জেরে বৃহৎ জ্বালানি সরবরাহকারী রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ছিল বলে মনে করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা, উদীয়মান বাজারগুলোতে ঋণ সংকট এবং বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক চীনের ‘জিরো কোভিড’ নীতির কারণে জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ চাহিদা এখনো খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হামলা, শিশুসহ নিহত ১০
                                  

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে শুক্রবার (৫ আগস্ট) হঠাৎ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে পাঁচ বছরের এক শিশু এবং ইসলামিক জিহাদের এক কমান্ডারসহ অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ফিলিস্তিনি পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে রেখে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখা আল-কুদস ব্রিগেডস জানিয়েছে, গাজা শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্যালেস্টাইন টাওয়ারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে বিমান হামলায় মারা গেছেন তাইসির আল-জাবারি নামে তাদের এক কমান্ডার। সংগঠনটি জানিয়েছে, দখলদারদের বিমান হামলার প্রতিবাদে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ১০০র বেশি রকেট ছুড়েছে তারা।
এই ঘটনায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে আবারও ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৫ মাস আগেই অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের মাসব্যাপী হামলায় ২৬০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন।
দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের টেমের কারমাউত বলেন, সবাই বিচলিত, কেউ যুদ্ধ চায় না। কারমাউত গাজার বাসিন্দা এবং তার পরিবার এখনো ওই শহরেই রয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে গাজায় চার-পাঁচটি বড় সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা এখনো উপত্যকা পুনর্গঠনের কথা বলছি। গাজা কখনোই সত্যিকারে সেরে ওঠেনি। এটি কেবল এক সংঘাত থেকে আরেক সংঘাতে বাস করে।
জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি নেতা বাসাম আল-সাদিকে গ্রেফতারের জেরে কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যেই এ হামলা চালালো দখলদারবাহিনী। পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলের ওই অভিযানেও এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
‘ভয় আর আতঙ্ক’
আল-জাবারিকে হত্যার পাশাপাশি গাজা সীমান্তে কড়াকড়ি আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। ১৫ বছর ধরে অবরুদ্ধ এলাকাটির সব সীমান্ত ক্রসিং ফের বন্ধ করে দিয়েছে দখলদাররা।
রামাল্লা-ভিত্তিক গবেষক মরিয়ম বারঘৌতি বলেন, ফিলিস্তিনিদের হত্যা করতে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে, যেন তা সামরিক বাহিনীর চেইন অব কমান্ডের অধীনে না হয়। তাই আমরা এখন যা দেখছি, তা হলো ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের ‘ভয় ও আতঙ্কের’ তীব্রতা।
তিনি বলেন, এটাও মনে রাখতে হবে যে, আগামী নভেম্বরে ইসরায়েলে নির্বাচন এবং বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা বাড়াতে গাজাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে।

আঞ্চলিক শান্তির জন্য তাইওয়ানে এসেছি: পেলোসি
                                  

চীনের সামরিক হুমকি পায়ে ঠেলে তাইওয়ান সফরে গেছেন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তার এই সফরে বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং এতে করে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
তবে ন্যান্সি পেলোসি বুধবার (৩ আগস্ট) বলেছেন, তার প্রতিনিধি দল এই ‘অঞ্চলের শান্তির জন্য’ তাইওয়ানে এসেছে। মূলত সফরকে কেন্দ্র করে বেইজিংয়ের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এবং কূটনৈতিক অগ্নিঝড় শুরুর পর পেলোসি এই মন্তব্য করলেন। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে তাইপেতে পৌঁছান ন্যান্সি পেলোসি। তবে দফায় দফায় হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের এই স্পিকারের তাইওয়ান সফরকে মোটেই সহজভাবে নেয়নি চীন। আর তাই ন্যান্সির সফরের প্রতিক্রিয়ায় রাতেই তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয় চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এএফপি বলছে, মঙ্গলবার রাতে তাইপেতে পৌঁছানোর পর বুধবার সকালে তাইওয়ানের পার্লামেন্টে যান ন্যান্সি পেলোসি। সেখানে তাইওয়ানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার সাই চি-চ্যাং-এর সঙ্গে বৈঠকের সময় পেলোসি বলেন, ‘বন্ধুত্বের খাতিরে আমরা তাইওয়ানে এসেছি, এই অঞ্চলের শান্তির জন্য আমরা এখানে এসেছি।’
এদিকে পেলোসি তাইওয়ানে অবতরণের পরপরই বেশ দ্রুত কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় চীন। বেইজিংয়ে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকোলাস বার্নসকে মঙ্গলবার গভীর রাতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে। এসময় চীনা এই মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলে, ওয়াশিংটনকে ‘মূল্য চুকাতে হবে’।
অন্যদিকে চীনের সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জি ফেংকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ‘তাইওয়ানে পেলোসির সফরের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত জঘন্য এবং এর পরিণতি হবে অত্যন্ত গুরুতর।’
এছাড়া ন্যান্সির সফরের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উইউ কিয়ান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
উইউ কিয়ান বলেন, ‘চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং তারা সামরিক অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা তাইওয়ানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালাব।’
‘চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষা, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার নামে আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বহিরাগত শক্তির অযাচিত নাক গলানোর জবাব হিসেবে পরিচালিত হবে এ অভিযান।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে পৌঁছান ন্যান্সি পেলাসি। ১৯৯৭ সালের পর এটি কোনো মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিকের তাইওয়ান সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ রাশিয়ার
                                  

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। পূর্ব ইউরোপের এই দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরুর পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো এই অভিযোগ সামনে আনলো মস্কো। বুধবার (৩ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত আমেরিকান হিমারস ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু অনুমোদন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগোর কোনাশেনকভ বলেছেন, ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া কথপোকথন ইন্টারসেপ্ট করার মাধ্যমে এই বিষয়টি জানা গেছে। অবশ্য বিবিসি স্বাধীনভাবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্রের দাবিটি যাচাই করতে পারেনি।
রাশিয়া এর আগে ইউক্রেনে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ করার জন্য ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করেছিল। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনীয়দের ‘বিস্তারিত ও সময়-সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করেছে যাতে তারা যে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তা বুঝতে এবং নিজের দেশকে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে পারে।’
হিমারস এমন একটি রকেট সিস্টেম যা দিয়ে ৭০ কিমি (৪৫ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারে। মূলত ইউক্রেনের হাতে আগে যে ধরনের আর্টিলারি ছিল বা ব্যবহার করতো এটি তার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।
ইগোর কোনাশেনকভ বলেছেন: ‘কিয়েভের বাহিনীর রকেট ডনবাস এবং অন্যান্য অঞ্চলের জনবসতিতে বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হানছে এবং এতে বিপুল বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। আর এর জন্য সরাসরি দায়ী বাইডেন প্রশাসন।’
এর আগে গত এপ্রিল মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছিলেন, ইউক্রেনকে বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র সরবরাহ করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও এর নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো ইউক্রেনে ছায়াযুদ্ধে জড়িয়েছে। ৭২ বছর বয়সী এই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ‘যুদ্ধ মানে যুদ্ধই।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ সেসময় আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে এক অর্থে যুদ্ধে লিপ্ত। তারা (রাশিয়ার বিরুদ্ধে) ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে। যুদ্ধ মানে যুদ্ধই।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই অস্ত্রগুলো বিশেষ অভিযানের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।’
অবশ্য ইউক্রেনের সংঘাতের সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে অসংখ্য যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে, নির্যাতনের অভিযোগ ধামাচাপা দিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী দোনেতস্কের একটি কারাগারে মস্কো বোমা হামলা করেছে বলে অভিযোগ করে ইউক্রেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গোলাগুলি, হতাহত ৬
                                  

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। স্থানীয় সময় সোমবার (১ আগস্ট) রাতে ওয়াশিংটন ডিসির উত্তর-পূর্ব অংশে গোলাগুলি ও হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
গোলাগুলির এই ঘটনাস্থলটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিল থেকে খুব দূরে নয়। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওয়াশিংটন ডিসির আজিজ বেটস অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের বাইরে এফ স্ট্রিট এনই’র ১৫০০ ব্লকে গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান রবার্ট জে. কন্টি তৃতীয়।
সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা জানা যায়নি।
কন্টি আরও বলেন, গোলাগুলির কারণ এখনও জানা যায়নি এবং পুলিশ এখনও জানে না যে, গোলাগুলিতে জড়িত অপরাধীরা একে অপরকে আগে থেকেই চিনত কি না। তিনি বলেন, গুলি চালানোর সময় ওই এলাকায় একটি বড় দল ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।
কন্টি বলেছেন, ‘আমি এই বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ যে বাসিন্দাদের আজ রাতে গোলাগুলির মধ্যে পড়তে হয়েছে। বাসিন্দাদের এটি প্রাপ্য ছিল না। তারা যে এলাকায় বাস করে সেখানে গোলাগুলি হবে, এটা মানা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়গুলোতে সহিংসতার জোয়ার রোধ করার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবুও মনে হচ্ছে আমাদের সম্প্রদায়ে এমন মানুষ আছে যারা তাদের মানবতাবোধ হারিয়ে ফেলেছে।’
ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, গোলাগুলি হওয়া কিংম্যান পার্ক এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ক্যাপিটল হিলের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের কাছে অবস্থিত। সেখানকার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, তিনি কমপক্ষে ১৫টি গুলির শব্দ শুনেছেন।
গোলাগুলির ঘটনাস্থলের কাছেই বসবাস করেন অ্যাডভাইজরি নেবারহুড কমিশনার লরা জেনটাইল। তিনি বলছেন, ‘এটি ভয়ঙ্কর। এটি আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ ঘটনা। মানুষ খুবই অনিরাপদ বোধ করছে।’

আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় আল-কায়েদা প্রধান নিহত
                                  

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলায় জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি নিহত হয়েছেন। গত রোববার ড্রোনের মাধ্যমে ওই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। খবর বিবিসি ও এএফপি।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে চালানো একটি অভিযান সফল হয়েছে। ওই অভিযানের বিষয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিস্তারিত জানাবেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
২০১১ সালে পাকিস্তানে মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর ২০১১ সালের ১৬ জুন আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে আল-কায়েদার নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। অবশ্য এই খবর এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।তবে হোয়াইট হাউস জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ড্রোন অভিযানের বিস্তারিত আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানাবেন।
মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তিনটি সূত্র আল-কায়েদা নেতার হত্যার খবর নিশ্চিত করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং সিএনএন অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের বরাত দিয়ে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
এর আগে একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, আফগানিস্তানে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ একটি আল-কায়েদা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ‘সফল’ অভিযান চালানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান সপ্তাহান্তে চালানো হয়েছিল এবং কোনো বেসামরিক লোক তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
এদিকে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গত রোববার রাজধানী কাবুলের একটি আবাসিক এলাকায় আমেরিকান ড্রোন হামলা হয়েছে। তিনি এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক নীতির পরিষ্কার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন এবং আল-জাওয়াহিরি এক সাথে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার আয়োজন করেন বলে অনেকে অভিহিত করেন।
আল-জাওয়াহিরি মিশরের ইসলামি জিহাদ নামক জঙ্গি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালের মে মাসে মার্কিন বাহিনীর হাতে নিহত হবার পর আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
তার আগে আল-জাওয়াহিরিকে ওসামা বিন লাদেনের ডান হাত আর আল-কায়েদার মূল চিন্তাবিদ বলে গণ্য করা হতো। অনেকে মনে করেন আয়মান আল-জাওয়াহিরিই ছিলেন ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার মূল রূপকার।


   Page 1 of 75
     আর্ন্তজাতিক
পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র
.............................................................................................
বিশ্বে দুর্ভিক্ষের মুখে সাড়ে ৩৪ কোটিরও বেশি মানুষ : জাতিসংঘ
.............................................................................................
ক্ষুধার্ত থাকছে লঙ্কান শিশুরা, প্রতিবেশীদেরও সতর্ক করলো জাতিসংঘ
.............................................................................................
ইউরোপে ফের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করছে রাশিয়া
.............................................................................................
পারমাণবিক কেন্দ্রে বিপর্যয়ের ঝুঁকি ‘প্রতিদিন বাড়ছে’: ইউক্রেন
.............................................................................................
তেলের মূল্যবৃদ্ধি: রাস্তায় ভিক্ষা না হয় অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা
.............................................................................................
ট্রাম্পের বাসভবন থেকে গোপন নথি উদ্ধার
.............................................................................................
ইউক্রেনের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে রাশিয়ার হামলায় ১৪ জন নিহত
.............................................................................................
জুলাইয়ের তীব্র তাপপ্রবাহে ব্রিটেনে হাজারো মানুষের মৃত্যু হতে পারে
.............................................................................................
করোনায় কমেছে প্রাণহানি, শনাক্ত-মৃত্যুর শীর্ষে জাপান
.............................................................................................
বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম
.............................................................................................
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হামলা, শিশুসহ নিহত ১০
.............................................................................................
আঞ্চলিক শান্তির জন্য তাইওয়ানে এসেছি: পেলোসি
.............................................................................................
ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ রাশিয়ার
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গোলাগুলি, হতাহত ৬
.............................................................................................
আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় আল-কায়েদা প্রধান নিহত
.............................................................................................
জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ছে মিয়ানমারে
.............................................................................................
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী নিহত
.............................................................................................
বেসামরিকদের দোনেৎস্ক ছাড়ার আহ্বান জেলেনস্কির
.............................................................................................
লাটভিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করল রাশিয়া
.............................................................................................
মধ্যস্থতাকারী জার্মানি নিরপেক্ষতা হারানোয় তুরস্কের নিন্দা
.............................................................................................
করোনায় দৈনিক মৃত্যু বেড়ে ১৯০০, শনাক্ত সাড়ে ৮ লক্ষাধিক
.............................................................................................
পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় আইআইটি গৌহাটি
.............................................................................................
ইউক্রেনে জেলেনস্কিকে সরাতে চায় রাশিয়া
.............................................................................................
পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি গ্রেফতার
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি অবস্থা জারি
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে গুলি, নিহত ৬
.............................................................................................
মহানবীকে অবমাননা: রাজস্থানে দর্জি খুন ঘিরে উত্তেজনা, কারফিউ
.............................................................................................
একটা গর্জন হলো, ঘরের ছাদ ভেঙ্গে আটকা পড়ে গেলাম...
.............................................................................................
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ২৫০ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গেরিলা পেট্রো
.............................................................................................
ইউক্রেনে ৩২ সাংবাদিক নিহত
.............................................................................................
নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের খোঁজ মিলেছে, ১৪ আরোহীর মরদেহ উদ্ধার
.............................................................................................
মাঙ্কিপক্স ছড়াতে পারে ২১৯টি দেশে, উদ্বেগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
.............................................................................................
মাঝ আকাশে ২২ যাত্রী নিয়ে ‘উধাও’ বিমান
.............................................................................................
ব্রাজিলে প্রবল বৃষ্টি-ভূমিধসে নিহত অন্তত ৩৫
.............................................................................................
টেক্সাসে স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে ১৯ শিশুসহ ২১জন নিহত
.............................................................................................
সব এলাকা পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত লড়াই চলবে: জেলেনস্কি
.............................................................................................
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
.............................................................................................
এবার দুর্নীতি মামলায় সু চির ৫ বছর কারাদণ্ড
.............................................................................................
কিয়েভের আগে মস্কো সফরে গুতেরেস, মানতেই পারছেন না জেলেনস্কি
.............................................................................................
পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট
.............................................................................................
বিধ্বস্ত হওয়ার আগে শব্দের গতিতে চলছিল চীনের সেই বিমান
.............................................................................................
পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতা, আগুনে ঝলসে ১০ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
পুতিনের সাথে বৈঠকের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর জেলেনস্কির
.............................................................................................
ইউক্রেনে প্রথমবার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো রাশিয়া
.............................................................................................
যে ৬ দফা মানলেই ‘থেমে যাবে’ ইউক্রেন যুদ্ধ!
.............................................................................................
ইউক্রেনের প্রায় সর্বত্র বিমান হামলার সতর্ক সংকেত, কিয়েভ ঘিরে রেখেছে রুশ বাহিনী
.............................................................................................
ইউক্রেনে সাময়িক যুদ্ধবিরতি - রাশিয়ার
.............................................................................................
ইউক্রেন সেনারা ৫ বাংলাদেশিকে জিম্মি করেছে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale