|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অপরিহার্য ....... লায়ন গনি মিয়া বাবুল   * বঙ্গবন্ধুকে ফিরে না পেলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পেত না: তাপস   * আমরা শিশু   *  বিএনপির সমাবেশ নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে: ওবায়দুল কাদের   * কী হতে চলেছে ১০ ডিসেম্বর?   *  কাগজ সংকটে বন্ধ ছাপানো, শিক্ষার্থীদের বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা   *  ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প : ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা বহু   *  পুলিশের মুখে স্প্রে করে আসামি ছিনতাই: মামলার তদন্তে সিটিটিসি   * বিদ্যুতের দাম বাড়ছেই, ঘোষণা দুপুরে   * গ্যাস সংকটে বড় ক্ষতির মুখে সিরামিক খাত  

   রাজনীতি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কী হতে চলেছে ১০ ডিসেম্বর?

 ঘোষণা ‘খেলা হবে’
১০ ডিসেম্বর যত ঘনিয়ে আসছে তত উত্তেজনা বাড়ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপির এ বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে নেতাদের মধ্যে চলছে উত্তপ্ত বাক্যবাণ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা যেভাবে প্রতিদিন ‘খেলা হবে’ ঘোষণা দিচ্ছেন তাতে জনমনে শঙ্কা বাড়ছে আরও। এর আগেই ছাত্রলীগের কাউন্সিল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশ দুই পক্ষকে মুখোমুখি করবে বলে মনে করছেন অনেকে। কী হতে চলেছে তাহলে ১০ ডিসেম্বর? তা নিয়েও রয়েছে নানান গুঞ্জন।
আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির পূর্বঘোষিত ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ। এখান থেকেই ঘোষণা করা হবে আগামী দিনের কর্মসূচি। এর আগে ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও ৯ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশ। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকবে রাজধানী ঢাকা। এ অবস্থায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা কথার যে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন তাতে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
ঢাকায় সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। দলটির লক্ষ্য কয়েক লাখ নেতাকর্মীর জমায়েত। এর আগে ‘১০ ডিসেম্বরের পর দেশ চলবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায়!’ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের এমন বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। এর মধ্যেই বিভাগীয় সমাবেশের স্থান নিয়ে বিএনপি ও সরকার মুখোমুখি অবস্থানে। দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে। রাজনৈতিক সংঘাত এড়াতে সরকার চাইছে তাদের ঠিক করে দেওয়া স্থান সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করুক বিএনপি। তবে নয়াপল্টনে সমাবেশের ব্যাপারে অনড়} দলটি, যা পরিস্থিতি ক্রমে আরও ঘোলাটে করে তুলছে।
সমাবেশের জন্য অনুমতি চাইলে সাধারণত জনসভার কয়েক ঘণ্টা আগে বিএনপিকে অনুমতি দেওয়া হয়। এবার ১১ দিন আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকার সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু নয়াপল্টনে সমাবেশ করার বিষয়ে এখনো অনড় বিএনপি। যদি শেষ পর্যন্ত তারা অনড় থাকে তাহলে সরকারের কঠোর বাধার মুখে পড়তে হবে স্বাভাবিকভাবেই।
১০ ডিসেম্বর নিয়ে যত গুঞ্জন
>> ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে খালেদা জিয়া যোগ দেবেন।
>>বিএনপি রাজধানী দখল করে সরকারের পতন ঘটাবে।
>> বিএনপির কর্মসূচি সরকার হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের কর্মসূচির মতো দমন করবে।
>> প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের রাজধানীতে উপস্থিতিতে তৃতীয়পক্ষ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
>>পশ্চিমা বিশ্ব আওয়ামী লীগ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু ভারতও আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। এই দিনে আমেরিকা বিভিন্ন দেশ ব্যক্তি-সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রকাশ করে। এবারের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় বাংলাদেশি এমপি-মন্ত্রী, ব্যবসায়ী-আমলাদের তালিকা দীর্ঘ হবে। প্রশাসন পেশাদার আচরণ করবে। ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ প্রতিষ্ঠা পাবে।
>> পশ্চিমা বিশ্ব বিএনপির জন্য কাজ করবে না, তারা মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নিয়ে দেন-দরবার করার জন্য তারা চাপ দিচ্ছে।
>> দুই রাজনৈতিক দলের সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন হবে।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতারা যা বলছেন
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, এটা আমাদের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি। আমরা দুই মাস আগে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। তারপরে ছাত্রলীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সরকার সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। সরকারের এসব আচরণ জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছে না।
১০ ডিসেম্বর সম্পর্কে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, সরকারের শক্ত অবস্থান পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। পত্রিকায় দেখলাম প্রধানমন্ত্রী যশোর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। উনি করতে পারলে বিএনপি কেন পারবে না? তাদের অধিকার নেই? আমার মনে হয় আওয়ামী লীগের আগামী কাউন্সিল ঘিরে কিছু নেতা নিজেকে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করছেন। বিএনপির বিরুদ্ধে গরম গরম বক্তৃতা দিয়ে নিজেকে সোচ্চার দেখিয়ে তাদের ত্যাগ প্রমাণের চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে এতকিছু তো বলার প্রয়োজন নেই। আর সত্যি সত্যি যদি তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকে তারা অন্য পরিকল্পনা করছে, সেটা তো আপনার বক্তৃতা দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না। সেটা খুঁজে বের করেন। বিএনপি রাজনৈতিক দল, তারা কী করতে পারে? বিএনপি বলছে ১০ তারিখ বিভাগীয় সমাবেশে তারা আন্দোলনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে। সেটা আমরা দেখি কী হয়, কিন্তু সেটা কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি যেভাবে সমাবেশ করছে তাতে মনে হচ্ছে ডিসেম্বর মাস ঢাকা অচলের মাস।
‘সব পক্ষের কাছে কেন যেন মনে হচ্ছে যে নির্বাচন জানুয়ারি মাসে হচ্ছে। ১০ তারিখ কী হতে পারে? বিএনপি একটি সমাবেশ করবে। শেষ পর্যায়ে তারা সরকারকে হুঁশিয়ারি, পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিতে পারে, তারা নিজস্ব যে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাচ্ছে তার রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারে।’
১০ তারিখ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এভাবে দুটি দল যদি তাদের নেতাকর্মীদের একে অপরের মুখোমুখি করিয়ে দেয়, সংঘাত বাঁধতেই পারে। সেরকম একটা সংঘাত দেশ ও রাজনীতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে মনে করি না। ১০ তারিখ ঘিরে যদি সবাই মোড়ে মোড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বসে পড়ে তাহলে সবাই হেরে যাবে।
তিনি বলেন, এক বছর ধরে শুনে আসছি বর্তমান সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলোর যে কারণেই হোক ব্যালেন্স নেই। আন্তর্জাতিক বন্ধু যারা রয়েছেন তারা অসন্তুষ্ট। এই অসন্তুষ্টির কারণে বাংলাদেশে পরিবর্তন এলে তারা খুব বেশি নাকচ করবেন না। কারণ আমার শত্রুকে তুমি শত্রু না মনে করলে তুমি আমার মিত্র না।
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো নয়। স্বাধীনতার ৫০-৫২ বছর পর আমাদের এরকম হওয়া উচিত নয়। প্রত্যেক দিন যে আমরা বলছি- খেলা হবে, খেলা হবে। মানুষ তো তাতে শঙ্কিত হচ্ছে। মানুষের ওপর মানসিক চাপ পড়ছে। একটা দেশ তার জনগণের প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে পারে না।
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা জাগো নিউজকে বলেন, একজন সমাবেশ করবে আর একজন বাধা দেবে- আমরা সংবিধান মানি কি না সেটা এখন প্রশ্ন। আমি সংঘাতের আশঙ্কা করছি, সন্তোষজনক কিছু দেখছি না।
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, আওয়ামী লীগ বিভিন্নভাবে বাধার মাধ্যমে বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব উপেক্ষা করে বিএনপির সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম দেখে সরকার ভীত। তারা রাজনৈতিক সমাবেশ ভন্ডুল করার জন্য কৌশল নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

কী হতে চলেছে ১০ ডিসেম্বর?
                                  

 ঘোষণা ‘খেলা হবে’
১০ ডিসেম্বর যত ঘনিয়ে আসছে তত উত্তেজনা বাড়ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপির এ বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে নেতাদের মধ্যে চলছে উত্তপ্ত বাক্যবাণ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা যেভাবে প্রতিদিন ‘খেলা হবে’ ঘোষণা দিচ্ছেন তাতে জনমনে শঙ্কা বাড়ছে আরও। এর আগেই ছাত্রলীগের কাউন্সিল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশ দুই পক্ষকে মুখোমুখি করবে বলে মনে করছেন অনেকে। কী হতে চলেছে তাহলে ১০ ডিসেম্বর? তা নিয়েও রয়েছে নানান গুঞ্জন।
আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির পূর্বঘোষিত ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ। এখান থেকেই ঘোষণা করা হবে আগামী দিনের কর্মসূচি। এর আগে ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও ৯ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশ। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকবে রাজধানী ঢাকা। এ অবস্থায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা কথার যে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন তাতে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
ঢাকায় সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। দলটির লক্ষ্য কয়েক লাখ নেতাকর্মীর জমায়েত। এর আগে ‘১০ ডিসেম্বরের পর দেশ চলবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায়!’ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের এমন বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। এর মধ্যেই বিভাগীয় সমাবেশের স্থান নিয়ে বিএনপি ও সরকার মুখোমুখি অবস্থানে। দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে। রাজনৈতিক সংঘাত এড়াতে সরকার চাইছে তাদের ঠিক করে দেওয়া স্থান সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করুক বিএনপি। তবে নয়াপল্টনে সমাবেশের ব্যাপারে অনড়} দলটি, যা পরিস্থিতি ক্রমে আরও ঘোলাটে করে তুলছে।
সমাবেশের জন্য অনুমতি চাইলে সাধারণত জনসভার কয়েক ঘণ্টা আগে বিএনপিকে অনুমতি দেওয়া হয়। এবার ১১ দিন আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকার সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু নয়াপল্টনে সমাবেশ করার বিষয়ে এখনো অনড় বিএনপি। যদি শেষ পর্যন্ত তারা অনড় থাকে তাহলে সরকারের কঠোর বাধার মুখে পড়তে হবে স্বাভাবিকভাবেই।
১০ ডিসেম্বর নিয়ে যত গুঞ্জন
>> ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে খালেদা জিয়া যোগ দেবেন।
>>বিএনপি রাজধানী দখল করে সরকারের পতন ঘটাবে।
>> বিএনপির কর্মসূচি সরকার হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের কর্মসূচির মতো দমন করবে।
>> প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের রাজধানীতে উপস্থিতিতে তৃতীয়পক্ষ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
>>পশ্চিমা বিশ্ব আওয়ামী লীগ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু ভারতও আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। এই দিনে আমেরিকা বিভিন্ন দেশ ব্যক্তি-সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রকাশ করে। এবারের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় বাংলাদেশি এমপি-মন্ত্রী, ব্যবসায়ী-আমলাদের তালিকা দীর্ঘ হবে। প্রশাসন পেশাদার আচরণ করবে। ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ প্রতিষ্ঠা পাবে।
>> পশ্চিমা বিশ্ব বিএনপির জন্য কাজ করবে না, তারা মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নিয়ে দেন-দরবার করার জন্য তারা চাপ দিচ্ছে।
>> দুই রাজনৈতিক দলের সমঝোতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন হবে।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতারা যা বলছেন
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, এটা আমাদের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি। আমরা দুই মাস আগে কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। তারপরে ছাত্রলীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সরকার সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। সরকারের এসব আচরণ জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছে না।
১০ ডিসেম্বর সম্পর্কে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, সরকারের শক্ত অবস্থান পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। পত্রিকায় দেখলাম প্রধানমন্ত্রী যশোর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। উনি করতে পারলে বিএনপি কেন পারবে না? তাদের অধিকার নেই? আমার মনে হয় আওয়ামী লীগের আগামী কাউন্সিল ঘিরে কিছু নেতা নিজেকে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করছেন। বিএনপির বিরুদ্ধে গরম গরম বক্তৃতা দিয়ে নিজেকে সোচ্চার দেখিয়ে তাদের ত্যাগ প্রমাণের চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে এতকিছু তো বলার প্রয়োজন নেই। আর সত্যি সত্যি যদি তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকে তারা অন্য পরিকল্পনা করছে, সেটা তো আপনার বক্তৃতা দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না। সেটা খুঁজে বের করেন। বিএনপি রাজনৈতিক দল, তারা কী করতে পারে? বিএনপি বলছে ১০ তারিখ বিভাগীয় সমাবেশে তারা আন্দোলনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে। সেটা আমরা দেখি কী হয়, কিন্তু সেটা কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি যেভাবে সমাবেশ করছে তাতে মনে হচ্ছে ডিসেম্বর মাস ঢাকা অচলের মাস।
‘সব পক্ষের কাছে কেন যেন মনে হচ্ছে যে নির্বাচন জানুয়ারি মাসে হচ্ছে। ১০ তারিখ কী হতে পারে? বিএনপি একটি সমাবেশ করবে। শেষ পর্যায়ে তারা সরকারকে হুঁশিয়ারি, পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিতে পারে, তারা নিজস্ব যে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাচ্ছে তার রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারে।’
১০ তারিখ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এভাবে দুটি দল যদি তাদের নেতাকর্মীদের একে অপরের মুখোমুখি করিয়ে দেয়, সংঘাত বাঁধতেই পারে। সেরকম একটা সংঘাত দেশ ও রাজনীতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে মনে করি না। ১০ তারিখ ঘিরে যদি সবাই মোড়ে মোড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বসে পড়ে তাহলে সবাই হেরে যাবে।
তিনি বলেন, এক বছর ধরে শুনে আসছি বর্তমান সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলোর যে কারণেই হোক ব্যালেন্স নেই। আন্তর্জাতিক বন্ধু যারা রয়েছেন তারা অসন্তুষ্ট। এই অসন্তুষ্টির কারণে বাংলাদেশে পরিবর্তন এলে তারা খুব বেশি নাকচ করবেন না। কারণ আমার শত্রুকে তুমি শত্রু না মনে করলে তুমি আমার মিত্র না।
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো নয়। স্বাধীনতার ৫০-৫২ বছর পর আমাদের এরকম হওয়া উচিত নয়। প্রত্যেক দিন যে আমরা বলছি- খেলা হবে, খেলা হবে। মানুষ তো তাতে শঙ্কিত হচ্ছে। মানুষের ওপর মানসিক চাপ পড়ছে। একটা দেশ তার জনগণের প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে পারে না।
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা জাগো নিউজকে বলেন, একজন সমাবেশ করবে আর একজন বাধা দেবে- আমরা সংবিধান মানি কি না সেটা এখন প্রশ্ন। আমি সংঘাতের আশঙ্কা করছি, সন্তোষজনক কিছু দেখছি না।
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, আওয়ামী লীগ বিভিন্নভাবে বাধার মাধ্যমে বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব উপেক্ষা করে বিএনপির সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম দেখে সরকার ভীত। তারা রাজনৈতিক সমাবেশ ভন্ডুল করার জন্য কৌশল নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

চা বাগান শ্রমিক-সংখ্যালঘু ভোটেই সংসদ সদস্য
                                  

 মৌলভীবাজার-৪

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ২৩৮ নম্বর আসন মৌলভীবাজার-৪। টিলা, চা বাগান আর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেরা আসন এটি। ভোটারদের বড় একটি অংশ চা বাগানের শ্রমিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। সংসদ সদস্য কে হবেন সেটা অনেকটা নির্ভর করে তাদের ভোটের ওপর। এদিক থেকে এগিয়ে আওয়ামী লীগ। এই দুই সম্প্রদায়ের মানুষই এ আসনে তাদের বড় ভোটব্যাংক। গত তিন দশক এখানে টানা ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ।
সম্প্রতি মৌলভীবাজার-৪ ৃআসনের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারে চায়ের দোকানে আড্ডায় উপস্থিত নাগরিকদের সঙ্গে এমপি এলাকায় আসেন কি না, রাজনৈতিক দলের নেতারা কেমন? আগামী নির্বাচনে কার অবস্থান কেমন, কাদের ভোট বেশি এসব বিষয়ে কথা হয় জাগো নিউজ টিমের।
আবদুর রশিদ নামে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বলেন, ‘নেতারা নির্বাচনে দোয়া নিবার লাগি আসে। দোয়া নেওয়ার পর জয়ী হলে তো আর কাজ থাকে না।’
মুরগির ফার্মের ম্যানেজার সোহেল (২৮) বলেন, এখানে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলের নেতাদেরই একই অবস্থা, ভোট ছাড়া কেউ আসেন না।
পাশ থেকে সাইফুল নামে এক দিনমজুর বলেন, ‘এটা আওয়ামী লীগের আসন। সুষ্ঠু ভোট হলেও এখানে নৌকা পাস করে।’
সত্তরোর্ধ্ব সোহেল নামে এক দোকানি বলেন, ‘আমার বয়সে আমি আমাদের ভোটকেন্দ্রে দেখিনি নৌকা হারতে। কিন্তু এবার হারছে। শুধু আমাদের কেন্দ্রে ধানের শীষ পাস করছে।’
নৌকা জেতার কারণ কী? জানতে চাইলে আড্ডায় একাধিক লোক বলেন, ‘এখানে চা বাগান বেশি। এক সাইডে চা বাগান আরেক সাইডে বস্তি। বস্তিতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিরও ভোট আছে বেশ কিছু। কিন্তু চা বাগানের শ্রমিকরা একচেটিয়া নৌকায় ভোট দেয়। এছাড়া এখানে বেশ কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক আছে। তাদের ভোটও নৌকায় পড়ে। যে কারণে নৌকা এগিয়ে থাকে সব সময়।’
বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওই আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার এখানে সব জাতি ধর্ম-বর্ণের লোকদের ভোট আছে। ৪৬টি চা বাগান। চা বাগানের শ্রমিকরা বেশিরভাগ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। বাগানের শ্রমিকরা আমাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। আমি তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি। বাগানে একটা স্কুলও করে দিচ্ছি।’
এই আসনে আওয়ামী লীগের আরেক প্রার্থী অধ্যাপক রফিকুর রহমানও বলেন, ‘এখানে সংখ্যালঘু বেশি। চা শ্রমিক বেশি। তারা নৌকায় ভোট দেন। এখানে ৬০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার। নৌকা নিয়ে যে আসবে, সেই ভোট পাবে। ব্যক্তিগত ক্রেডিট নেই।’
মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আসছেন এবং নির্বাচিতও হচ্ছেন উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। টানা ছয়বার মনোনয়ন পাওয়া এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগে তিনি ‘স্বৈরাচারী’ হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবার বা নিজের স্বার্থে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতাও করেছেন। তবে আবদুস শহীদের দাবি, তিনি দলের নেত্রী ও জনগণের মন জয় করতে পেরেছেন বলেই মনোনয়ন এবং জয় পান।
এলাকা ঘুরে জানা যায়, মৌলভীবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান এমপি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান এবং মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ২৩৮ নম্বর আসন মৌলভীবাজার-৪। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩০। ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪২ পুরুষ এবং ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮ জন নারী ভোটার।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ (২০১৮) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুস শহীদ পান ২ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট এবং বিএনপির মুজিবর রহমান চৌধুরী ৯৩ হাজার ২৯৫ ভোট পেয়েছেন।
১০ম সংসদ নির্বাচনে (২০১৪) আওয়ামী লীগের আবদুস শহীদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী।
৯ম সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) আওয়ামী লীগের আবদুস শহীদ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির মুজিবুর রহমান চৌধুরী পান ৭৯ হাজার ৫৯৯ ভোট।
৮ম সংসদ নির্বাচনে (২০০১) আওয়ামী লীগের আবদুস শহীদ পান ৯৬ হাজার ৩২৯ ভোট এবং মুজিবুর রহমান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পান ৭০ হাজার ৩৬৪ ভোট।
৭ম সংসদ নির্বাচনে (১৯৯৬) আওয়ামী লীগের আবদুস শহীদ ৯১ হাজার ৮১১ ভোট পান। জাতীয় পার্টির আহাদ মিয়া পান ৫৯ হাজার ৮২৫ ভোট।
৫ম সংসদ নির্বাচনে (১৯৯১) আওয়ামী লীগের আবদুস শহীদ পান ৭৫ হাজার ৩২১ ভোট এবং জাতীয় পার্টির আহাদ মিয়া পান ৬০ হাজার ২১৫ ভোট।

আগামী নির্বাচনে ফাইনাল খেলা হবে: ওবায়দুল কাদের
                                  

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফাইনাল খেলায় ফয়সালা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘আন্দোলন আন্দোলন করতে করতে মির্জা ফখরুল সাহেব গলা শুকিয়ে ফেলছেন। কিন্তু মরা নদীতে তো জোয়ার আসে না। জোয়ার কি আসবে কখনো? কর্মীদের আন্দোলন দিয়ে সরকার হটানোর ইতিহাস নেই। এখনো আপনাদের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীর বাইরে জনগণ যোগ দেয়নি। কোন মুখে বলেন ফয়সালা হবে? ফয়সালা হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফাইনাল খেলায়। তখন দেখা যাবে কে হারে, কে জেতে।’
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ছাত্রলীগের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতিতে একটা সংকটময় অবস্থা চলছে। সারা বিশ্বেই অস্থিরতার মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনিই প্রথম সরকারপ্রধান, যিনি বলেছেন জনগণ কষ্টে আছে। তার মানে বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তারপরও এখানে আন্দোলনের হাঁক-ডাক শোনা যায়।’
তিনি বলেন, ‘রাজপথে এখন আপনারা কোন চক্রে আছেন, আমরা জানি। টেমস নদীর ওপার থেকে দণ্ডিত অর্থপাচারকারী, অপরাধী যুবরাজ হাঁক-ডাক দিচ্ছে। সেই ডাকে টেমস নদীতে ঢেউ উঠেছে কি না, জানি না। তবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় ঢেউ নেই। বিএনপির শুকিয়ে যাওয়া নদীতে জোয়ার আর আসে না। চিৎকার যত পারেন করুন, ফয়সালা হবে নির্বাচনে।’
বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাজপথে হুমকি দিয়ে লাশ ফেলতে চান? আপনারা লাশ ফেলার দুষ্টচক্রে ঢুকে গেছেন। লাশ ফেলে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো আন্দোলনে ফয়সালা বিরোধী দল করতে পারেনি। সরকার হটাবেন? জনগণ সাড়া দিক, কই তা তো দেখি না। এখনো কোথাও জনগণ সাড়া দেওয়ার কেউ নেই। জনগণ কারও সঙ্গে মারামারি করে না। আপনাদের আন্দোলন মানেই হচ্ছে নিজেরা নিজেরা মারামারি। আপনাদের বিক্ষোভ মানেই হচ্ছে পুলিশের দোষ, পুলিশের ওপর হামলা। পুলিশের ওপর হামলা পুলিশ আত্মরক্ষা করবে না?’
কাদের বলেন, ‘আপনাদের হাতে রক্তের দাগ। মির্জা ফখরুল আপনাকে সতর্ক করে দিতে চাই। ২১ হাজার আওয়ামী লীগকর্মী, আহসান উল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, এদের রক্তে আপনাদের হাত রঞ্জিত। আমরা আপনাদের কাউকে হত্যা করিনি। হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমাদের নেত্রী ২০ বার হত্যার টার্গেটে পড়েছেন, কিন্তু খালেদা জিয়াকে কেউ মারতে যায়নি। কাকে অপবাদ দেন?’
তিনি বলেন, ‘যখনই আইনমন্ত্রী বললেন কমিশন হবে, সঙ্গে সঙ্গেই বলে জিয়াউর রহমান হত্যার তদন্তে কমিশন হবে। এ কমিশন ক্ষমতায় গেলে হবে, কবে? ক্ষমতায় যখন ছিলেন, তখন কেন করলেন না? তাহলে নিশ্চয়ই আপনাদের মধ্যেও অনেকেই আছেন জিয়াউর রহমানকে হত্যার পেছনে দূরভিসন্ধি আছে, চক্রান্তও আছে। তা না হলে কেন কমিশন করলেন না? লাশের কাহিনীও সবাই জানে। আমার প্রশ্নের জবাবে ফখরুল সবসময় নিরুত্তর।’

রাজনীতিতে ‘অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল’, ভাঙবে কে?
                                  

আগস্ট মাস এলেই আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেন, রাজনীতিতে একটা অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল তৈরি হয়েছে। ১৫ আগস্টের খুনিদের এবং ২১ আগস্টের হামলাকারীদের সহায়তা করে এই দেওয়াল তৈরি করেছে বিএনপি। আসলেই কি তাই? যদি তাই হয়, তবে বর্তমান সংকটকালে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং আসন্ন নির্বাচন আয়োজনে রাজনীতির এই দেওয়াল অতিক্রম করা প্রয়োজন।
এই দেওয়াল অতিক্রমের দায়িত্ব বিএনপির কাঁধেই দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা বলছেন, এই দেওয়াল ধ্বংস করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার হাতিয়ার কেবল বিএনপির হাতেই রয়েছে। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট ঘটনায় সম্পৃক্ততার জন্য ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন কাণ্ডে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
তারা নিজেদের সব ব্যর্থতা, লজ্জা লুকানোর জন্য এবং জনরোষ থেকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য নতুন নতুন গল্প বানায়। কারণ অনুসন্ধান চালিয়ে নিজের ঘরের লোকের বিচার করার সাহস, শক্তি এবং সততা আওয়ামী লীগের নেই। এজন্য তারা এরকম বয়ান তৈরি করে তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে এবং দীর্ঘায়িত করে।
একই পরামর্শ বিশিষ্টজনদের। তারা বলছেন, দেওয়ালটি মূলত অনাস্থার, অবিশ্বাসের। এটি অতিক্রম করার জন্য উভয়পক্ষকে সংবেদনশীল হতে হবে। বিএনপি এবং তাদের সহযোগীদের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা দরকার।
তবে বিএনপির দাবি, রাজনীতিতে কোনো দেওয়াল নেই। এটা আওয়ামী লীগের তৈরি কল্পকাহিনি। তারা এরকম বয়ান তৈরি করে অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে এবং দীর্ঘায়িত করে। এটা তাদের একটা মিথ্যা বয়ান।
কয়েক বছর ধরেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলে আসছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই দেওয়াল আমাদের কর্ম সম্পর্কের পথে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দেওয়ালের সৃষ্টি হয়েছে ৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে। তারপরও এই অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল কীভাবে ভাঙবো। আমাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। এতো কিছুর পরও খালেদা জিয়ার ছেলের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা তার বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন, কিন্তু দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের আগে শেখ হাসিনা গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়াকে। তিনি ঘৃণাভরে গালাগাল করে যে ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন...
জাতির পিতাকে হত্যা এবং ২১ আগস্ট জাতির পিতার কন্যাকে হত্যা প্রচেষ্টার সঙ্গে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সম্পৃক্ততা এবং এই জঘন্য কর্মের প্রতি আপামর বিএনপির সমর্থন বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতি গঠন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। এ এক অলঙ্ঘনীয় শক্ত দেওয়াল।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উভয়পক্ষকে সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেওয়ালটা হচ্ছে অনাস্থার দেওয়াল, অবিশ্বাসের দেওয়াল। এই দেওয়াল যদি আমাদের অতিক্রম করে যেতে হয়, তাহলে যারা ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের মতো জঘন্য ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত; তাদেরই প্রধান দায়িত্ব যে, এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা, এই ধরনের হত্যাকাণ্ড তারা আর ভবিষ্যতে করবে না- সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা। কারণ এটা তো স্বাভাবিক, আওয়ামী মনে করছে— আমাদের তো শেষ করে দিতে চেয়েছিল। যারা আমাদের শেষ করে দিতে চেয়েছে বার বার, তাদের সঙ্গে কতটা বিশ্বাস নিয়ে আমরা কাজ করতে পারবো! এটা বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের রাজনীতিতে একটা সুসম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে। এখন দুপক্ষকেই হয়তো অনেক বেশি সংবেদনশীলতার পরিচয় দিতে হবে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি এবং তাদের সহযোগী যারা ছিল এই ষড়যন্ত্রে, তাদের আজ এগিয়ে আসা দরকার।’
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যা এবং ২১ আগস্ট জাতির পিতার কন্যাকে হত্যা প্রচেষ্টার সঙ্গে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সম্পৃক্ততা এবং এ জঘন্য কর্মের প্রতি আপামর বিএনপির সমর্থন বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতিগঠন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। এ এক অলঙ্ঘনীয় শক্ত দেওয়াল।’
তিনি বলেন, ‘এই দেওয়াল ধ্বংস করে জাতিকে ন্যূনতম জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ করার হাতিয়ার কেবল বিএনপির হাতেই রয়েছে। প্রথমত তাদের এই পৃথিবীর নির্মমতম ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতার হত্যা ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাপ্রচেষ্টার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ পরিবারের সম্পৃক্ততার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা ও সমর্থন করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ভবিষ্যতে দেশবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা ও যে কোনো দেশবিরোধী অপশক্তির প্রতি কোনো প্রকার সমর্থন দান থেকে বিরত থাকতে হবে। এই মৌলিক বিষয়গুলোতে বিএনপি ইতিবাচক হলে ভবিষ্যতে বিভাজনের মহাপ্রাচীর ধ্বংস হতে পারে।’
 নিয়ে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাগো নিউজকে বলেন, যখন নিজের ঘরের শত্রু বিভীষণ হবে। নিজের ঘরের শত্রু নিজের ঘরে আগুন জ্বালাবে, কিন্তু সেটা বলার মতো সাহস, সততা এবং শক্তি আপনার থাকবে না। তখন আপনি চেষ্টা করবেন দোষটা আশপাশের পড়শি বা দূরের কারও ঘাড়ে চাপানোর, যাদের সঙ্গে আপনার বিরোধ আছে। আওয়ামী লীগের হয়েছে সেই অবস্থা। ’৭৫ এ বিএনপির জন্মই হয়নি। তার বহু বছর পরে বিএনপির জন্ম। ’৭৫ ঘটিয়েছে খন্দকার মোশতাক ও তাহরে উদ্দিন ঠাকুর। ’৭৫ এর পরে মোশতাকের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার ১৯ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। সফিউল্লাহ সেনাপ্রধান ছিলেন, তিনি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে। একটা ফোর্স নিয়েও তিনি আগানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। সেই সময় বিমানবাহিনী প্রধান ছিলেন এ কে খন্দকার, তিনি কি আঙুল চুষছিলেন? তাকে তো আওয়ামী লীগ পরিকল্পনামন্ত্রী বানিয়েছে। সফিউল্লাহকে বানিয়েছে এমপি। যারা প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে, সেই জাসদ আছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে।
তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে কয়েক বছর ধরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথায় কথায় বলেন, আওয়ামী লীগের এত নেতাকর্মী ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট কোথায় ছিলেন? তার সঙ্গে আমিও এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম- আওয়ামী লীগ সে সময় কী করেছে? তখন তো বিএনপির জন্মই হয়নি। এখন আপনার নিজের লোককে চিহ্নিত করার সাহস ও সততা আপনার নেই। বরং আপনি স্বস্তিদায়ক অবস্থানে থাকেন, যখন বিরোধীদের ঘাঁড়ে দোষটা চাপাতে পারেন।
২১ আগস্টের দায় সম্পর্কে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্টের সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতায় থাকলেই যদি এ ধরনের ঘটনার দায় নিতে হয়, তাহলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুরো দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। কোনো দল সরকারে থাকা অবস্থায় চায় না, সে সরকার অস্থিতিশীল হয়ে যাক। ২১ আগস্ট ঘটিয়ে বিএনপির কী লাভ হতো? বিএনপি কি পাগল ২১ আগস্ট ঘটাতে যাবে? বিএনপির সঙ্গে ২১ আগস্ট হামলার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এমনকি ১/১১ সরকার যারা বিএনপিকে ধ্বংস করার সব রকম চেষ্টা করেছে, যেই সরকার আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল, যেই সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে গেছে- সেই সরকারও তো কোনো দিন বলেনি ২১ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে বিএনপি জড়িত।’
কেন ১৫ এবং ২১ আগস্টের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততার প্রশ্ন আসে? কারণ হিসেবে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, তারা নিজেদের সব ব্যর্থতা, লজ্জা লুকানোর জন্য এবং জনরোষ থেকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য নতুন নতুন গল্প বানায়। কারণ অনুসন্ধান চালিয়ে নিজের ঘরের লোকের বিচার করার সাহস, শক্তি এবং সততা আওয়ামী লীগের নেই। এজন্য তারা এরকম বয়ান তৈরি করে তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে এবং দীর্ঘায়িত করে। এটা তাদের একটা মিথ্যা বয়ান।

আমরা রাজপথের পুরাতন খেলোয়াড় : ওবায়দুল কাদের
                                  

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা রাজপথের পুরাতন খেলোয়াড়। বিএনপি তো এই পথে নতুন।বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কাদের এসব কথা বলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর যেকোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি রাজপথে মোকাবিলা করা হবে। রাজপথে মোকাবিলা হবে, ফয়সালা হবে।
বিএনপিকে আগুন নিয়ে না খেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগুন নিয়ে খেলতে আসলে পরিণাম হবে ভয়াবহ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হতে পেরেছেন তার পাশে সহযোদ্ধা, সহযাত্রী হিসেবে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মতো মহীয়সী নারী ছিলেন বলেই। তার মতো প্রজ্ঞা ও ধৈর্যশীল নারী না থাকলে একটি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দেওয়া জাতির পিতার জন্য দুরূহ হতো।
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ১ মিনিট নিরবতা পালন করে আওয়ামী লীগ। পরে বঙ্গমাতা ও ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন তারা। এ সময় জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, খায়রুজ্জামান লিটন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ড.হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর প্রমুখ।

চূড়ান্ত আন্দোলনে ধীরে চলো নীতি
                                  

তৃণমূল থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের চাপ থাকা সত্ত্বেও আপাতত কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। ভোলায় পুলিশের হামলায় দুই নেতা নিহত হওয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই আছেন তারা।
ঘোষণা করা হয়েছে শোক ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে যাতে বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে অতীতে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া সরকার বা বিভিন্ন শক্তির প্রলোভনে পড়ে হটকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার নেতিবাচক ফল আমরা পেয়েছি। কিন্তু এবার খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চূড়ান্ত আন্দোলনে অনেকটাই ধীরে চলো নীতিতে দলের হাইকমান্ড।
তাদের মতে, ভোলায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সেখানে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যার জন্য এভাবে গুলি চালাতে হবে। একটি পরিস্থিতি তৈরি করে বিএনপিকে এখনই রাজপথে নামানোর কৌশল হতে পারে। তাই আমরাও এবার সে ফাঁদে পা দেব না। আপাতত ইস্যুভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি, দল গোছানো আর বৃহত্তর ঐক্যেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, অনেকে জানতে চান কবে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাদের কথা শুনে আমি অবাক হই। বিএনপি তো আন্দোলনের মধ্যেই আছে। সরকারের নানা ব্যর্থতায় আমরা রাজপথেই প্রতিবাদ করছি। আন্দোলন মানে তো গাড়ি ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও নয়। আমরা এসবে বিশ্বাস করি না। জনগণও সেটা চায় না। আমরা চাই সরকারবিরোধী একটি গণআন্দোলন। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করর্ছি। বৃহত্তর ঐক্য তৈরিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছি। গণঅভ্যুত্থান ছাড়া এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটানো সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, বিএনপির সব সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকার তার গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে সব সময় বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। অতীতে আমরা সরকারের এমন নীলনকশা দেখেছি। সরকার একটা বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করে বিএনপিকে আন্দোলনে উসকে দিতে চাইছে। কিন্তু আমরা সরকারের কোনো উসকানিতে পা দেব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সময়মতো চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জানা গেছে, ভোলায় পুলিশি হামলার পরপরই দলের নীতিনির্ধারকরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ করেন তারা। বৈঠকে প্রায় সব নেতাই একমত হন, এ ঘটনার পেছনে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে। তারা মনে করেন, এর পেছনে সরকারের মূলত দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এক, যে কোনো ভাবে এই মুহূর্তে বিএনপিকে রাজপথে নামাতে চায় সরকার। এমন বার্তা তাদের কাছে রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, রাজপথে নামলে সরকার কতটা কঠিন হতে পারে বিরোধী দলগুলোকে এমন বার্তা দেওয়া। তবে সরকার যে কৌশলই নিক আমাদের ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ মুহূর্তে ইস্যুভিত্তিক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে নেতারা মত দেন। তারা জানান, কঠোর কর্মসূচি দিলেই সংঘাত ও সহিংসতা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এতে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা নতুন করে মামলা-হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি। নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে এত আগে মাঠে নামলে ফল নিয়ে ঘরে ফেরা কঠিন হবে। আন্দোলনের ফল এবার যাতে ঘরে আনা যায় সেই কৌশলেই এগোতে হবে।
দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান-দুর্নীতি, অনিয়ম আর সবশেষ ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। দ্রব্যমূলের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। জন ক্ষোভকে ভিন্ন খাতে নিতে সরকার নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। বিএনপিকে রাজপথে নামিয়ে তাদের ব্যর্থতার দায় বিএনপির ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। কিন্তু বিএনপি সে পথে পা বাড়াবে না। তাছাড়া দেশের এমন পরিস্থিতিতে হরতাল, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেও এই মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে না যাওয়ার পক্ষে হাইকমান্ড।
বিএনপির দুজন নীতিনির্ধারক বলেন, ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের নামে কোথাও যেন সহিংসতা না হয় এ ব্যাপারে সব স্তরের নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়। মিছিলকে কেন্দ্র করে তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে ভাঙচুর চালিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপাতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে দায়িত্বশীল নেতাদের বলা হয়। হাইকমান্ডের এমন বার্তা পাওয়ার পর সারা দেশে বিক্ষোভ হলেও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতির মৃত্যুর পরও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
নয়াপল্টনে তার জানাজা ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে কিন্তু সেটা যাতে সংঘর্ষে রূপ না নেয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা। কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান সেটা তারা দেখভাল করেন। পুলিশ যেখানে দায়িত্ব পালন করে তার আশপাশে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া নয়াপল্টনের বিভিন্ন গলি ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও ছিল তাদের কড়া নজরদারি। ফলে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় জানাজা।
জানাজা থেকে ৩ দিনের শোক ও ৩ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বিদেশিদের সমর্থন আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন দলটির নেতারা। এদিকে ভোলায় নেতাদের হত্যা এবং সরকারের নানা ব্যর্থতার প্রতিবাদে দলের কট্টরপন্থি সিনিয়র নেতা ও তরুণ নেতাদের একাংশ এখনই হার্ডলাইনে যাওয়ার পক্ষে। তারা মনে করেন, কঠোর কর্মসূচি পালন করলে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মনোবল আরও চাঙ্গা হবে। ক্ষমতাসীন দল ও বিদেশিদের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে যাবে।
এজন্য এ অংশটি কঠোর কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক আলোচনা সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য চলাকালে নেতাকর্মীরা উচ্চৈঃস্বরে ‘হরতাল, হরতাল’ বলে চিৎকার করেন। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, আগে রাস্তা দখল করতে হবে।
এ বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার নানাভাবে বিএনপি ও নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছে। নির্যাতন করছে। গুলি চালিয়ে হত্যা করছে। কিন্তু এরপরও তারা সরকারের ফাঁদে পা দেবে না। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

সরকার নয়, বিএনপি চোখে সর্ষে ফুল দেখছে: কাদের
                                  

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন— সরকার নয়, চোখে সর্ষে ফুল দেখছে বিএনপি। সামনে যখন আরও প্রকল্পের উদ্বোধন হবে তখন বিএনপি নেতারা চোখে সর্ষে ফুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবেন না।
বুধবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর সেতুভবনে ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী। ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার চোখে সর্ষে ফুল দেখছে’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে এ কথা বলেন তিনি।
পদ্মাসেতু হয়ে যাওয়ায় বিএনপি নেতাদের যে অন্তর জ্বালা বেড়েছে তা এখনো কমেনি বরং দিনদিন বাড়ছে এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সমানেই আসছে তরুণ প্রজন্মের মেট্রোরেল, কর্ণফুলীতে বঙ্গবন্ধু টানেলসহ অনেক মেগাপ্রকল্প, তাই বিএনপি নেতারা চোখে শুধু সর্ষে ফুলই দেখতে পাচ্ছেন। সামনে যখন এসব প্রকল্পের উদ্বোধন হবে তখন তারা চোখে সর্ষে ফুল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবেন না।
বিদ্যুৎ নিয়ে সাময়িক যে সংকট সেটা নাকি সীমাহীন দুর্নীতির কারণে হয়েছে এবং এ সংকট নাকি সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাবে— বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার পতনের যে দিবাস্বপ্ন বিএনপি দেখছে সেটা অচীরেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।
দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত বিএনপি নেতারা সবকিছুতেই দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে বেড়ান। সবকিছু নিয়ে মিথ্যাচার করা বিএনপির এখন দৈনন্দিন রুটিন হয়ে গিয়েছে। দেশবাসী জানেন বিশ্বব্যাপী এখন জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এ সংকটকে আরও প্রকট করেছে।
যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, এ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি যাতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে লক্ষ্যে সরকারকে আগেভাগেই কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা বিশ্বব্যাপী এ সংকটের কোনো সমাধানের কথা না বলে বরং দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে এবং দুরভিসন্ধিমূলক শান্ত জনগণকে উস্কে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু বিএনপির এসব মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্র জাতির কাছে এখন স্পষ্ট। বিএনপির কথা মানুষ এখন আর বিশ্বাস করে না। যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব আজ পরীক্ষিত।
তিনি বলেন, করোনা সংকট মোকাবিলায় যেখানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ হিমশিম খেয়েছে সেখানে শেখ হাসিনা সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।
দেশবাসী ভালো করেই জানেন, যেকোন সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অন্য যেকোন দলের থেকে অনেক এগিয়ে। কাজেই মিথ্যাচার আর অপপ্রচার করে জনগণকে উস্কে দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র বিএনপি করছে সে ফাঁদে দেশবাসী পা দেবে না। অতীতেও জনগণ শেখ হাসিনা সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে এবং এখনো রাখছে।
বিশ্ব পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিএনপি অনুধাবন করতে না পারলেও জনগণ ঠিকই বিষয়টি অনুধাবন করে সরকারকে সহযোগিতা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই এ সংকটের সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।

বিরোধী দল দমনে আরও হিংস্র রূপে সরকার: ফখরুল
                                  

আওয়ামী দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দল ও মতকে দমনে সরকার এখন আরও হিংস্র রূপ ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতকাল (সোমবার) পুলিশের গুলিতে পঙ্গুত্ব বরণকারী চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফ চট্টগ্রাম আদালতে হাজিরা দিতে যান। এসময় তাকে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ফখরুল বলেন, সাইফকে এভাবে আটক ও গুম করে রাখা নির্মম মনুষ্যত্বহীনতা ও ভয়ানক অশুভ সংকেত। এর আগেও তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করে। এতে সাইফ চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়। আবারও তাকে একই কায়দায় আটক ও তার কোনো সন্ধান না পাওয়া গভীর উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে ও আওয়ামী দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতেই বিরোধী দল ও মতকে দমনে সরকার এখন আরও হিংস্র রূপ ধারণ করেছে। এটি সবার কাছে দৃশ্যমান যে, সাইফকে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। সাইফ পুলিশের কাছেই আছে। তাকে এভাবে নিখোঁজ করে রাখায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও তার পরিবার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমি অবিলম্বে সাইফকে জনসমক্ষে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাঙালি জাতির সব অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে: তথ্যমন্ত্রী
                                  

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এ কথা বলেন তিনি।
  অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত পরিবর্তন মোকাবিলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাদওয়ান মুজিবঅর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত পরিবর্তন মোকাবিলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাদওয়ান মুজিব
ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ বাঙালি জাতির সব অর্জন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে।’
সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর আরো একটি বড় অর্জন হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বিশ্ববেনিয়াদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জাতিরই ইতিহাস। বাঙালি জাতির সমস্ত অর্জনের সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বাংলাদেশে আস্ফালন করে এবং তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বিএনপি। বিএনপি এখনো জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে রাজনীতি করে এবং তারা এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে পরাস্ত করে আমরা বাংলাদেশকে উন্নতি সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
‘অতীতে যেমন সমস্ত ষড়যন্ত্রকে ছিন্ন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে, আমরা ইনশাআল্লাহ ২০৪১ সাল নাগাদ সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবো’- প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বিএনপি ও তার দোসরদের বুকে বড় জ্বালা: কাদের
                                  

পদ্মাসেতু হয়ে যাওয়ায় সারাদেশের মানুষ যখন খুশি তখন বিএনপি ও তার দোসরদের বুকে বড় জ্বালা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী  ওবায়দুল কাদের।
তিনি মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য নবায়ন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তার রাজধানীর বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২৫ জুন পদ্মাসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মার দু-পাড়সহ সারা বাংলাদেশে আজ আনন্দের ফোয়ারা জনগণের মাঝে বিরাজ করছে, বিরাজ করছে সাজ সাজ রব।বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, পদ্মাসেতু হবে না, এ সরকার কখনও তা করতে পারবে না—এমন প্রসঙ্গ টেনে সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু হয়ে গেছে, এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা, তাই বিএনপি ও তাদের দোসরদের  বুকে বড় জ্বালা।

‘সরকার পদত্যাগ না করলে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না’
                                  

সরকার পদত্যাগ না করলে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি দলের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (০৮ মে) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পরবর্তী নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের কথা তো পরিষ্কার যে, আওয়ামী লীগের সরকার পদত্যাগ না করলে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে নির্বাচনের কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। এই নিয়ে আমরা কোনো কথাই বলতে চাই না। নির্বাচনে তো আমরা যাবোই না, যদি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকে। প্রথম শর্ত হচ্ছে, তাদের পদত্যাগ করতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ওই সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এবং সেই নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে, সেখানে দিয়ে একটা জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ও পার্লামেন্ট গঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের সভায় সরকার দলীয় নেতারা বলেছেন, বিএনপি না এলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। তারা বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করবেন। সেই লক্ষ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনার দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে কিনা—জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি মনে করি, কোনো কথাই হবে না যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ করে। এছাড়া কোনো প্রশ্ন ওঠে না।
দলের সভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে—এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা একটা মুনাফেক দল এবং তারা এই কথাটা বলতেই থাকে। তারা সুন্দর সুন্দর কথা বলে, দেখলে মনে হয় যে, এদের মতো ভালো মানুষ আর নাই! আর ভেতরে ভেতরে যা করার তা করে যাবে। তারা ভদ্রলোকের মতো কথা বলে, গণতন্ত্রের মতো কথা বলে। সভা-সমাবেশ তো দূরের কথা, একটা মিলাদ করতে দেয় না, ঈদ পূনর্মিলনীতে আক্রমণ করে, দোয়া মাহফিলে আক্রমণ করে, এদের কাছ থেকে কী আশা করতে পারেন। সব তো মোনাফেকি!

জিয়া নির্বাচনে প্রহসন ও ভোট কারচুপির কালচার শুরু করে
                                  

জিয়াউর রহমান নির্বাচনে প্রহসন ও ভোট কারচুপির কালচার শুরু করে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শনিবার (৭ মে) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভার শুরুতে তিনি এমন অভিযোগ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কখনও ভোটে পেছনে ছিল না। আমরা গ্রামের অর্থনীতি শক্তিশালী করছি। পারসেন্টেজ বেশি ছিল। নানা ষড়যন্ত্র করে ভোটে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও আমরা এগিয়েছি।
এ সময় মানুষ ঈদে নির্বিঘ্ন বাড়ি গেছে ও ফিরছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর জন্য তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
সরকার প্রধান বলেন, গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হচ্ছে। তৃণমূল থেকে উন্নয়ন করছি। মানুষ গ্রামের বাড়ে গিয়ে ঈদ করেছে। উৎসব করেছে। এতে গ্রামে অর্থ সরবরাহ বাড়ে। বিশ্বে অনেক দেশে এটা কমে গেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে চায়। আমাদের অপরাধটা কি? কোথায় ব্যর্থ হয়েছি? জিয়া-এরশাদ-খালেদা-তারেক সবাই মানুষ হত্যা করেছে। জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে।
তিনি বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা এদের সময় ক্ষমতা ছিল ক্যান্টনমেন্টে, পাকিস্তানি স্টাইলে মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ চালু করেছিল। পরাধীনদের অনুসরণ করব না। নিজস্বভাবে দেশের উন্নয়ন করব, মাথা উঁচু করে চলব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতৃত্ব কোথায়? দুই জনই সাজাপ্রাপ্ত। এদের সঙ্গে ডান-বাম অতিবাম এসে যুক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। আওয়ামী লীগ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। কখনও পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি।
তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত সম্মেলন করি। সময় ঘনিয়ে এসেছে। এর আগে কিছু কাজ আমরা করি। ঘোষণাপত্রের অনেক কিছু বাস্তবায়ন করেছি।
সরকার প্রধান বলেন, জনগণকে ধন্যবাদ, বার বার ভোট দিয়েছে। টানা তিন বার ক্ষমতায় রেখেছে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে। জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। অনেকে অতি জ্ঞানী হলেও তারা কম বোঝে। তাকিয়ে থাকে কখন তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে। বসে থাকে কখন সিগনাল আসবে। বিদেশে দেশের বিরুদ্ধে বদনাম করে। বিদেশ থেকে যেন ক্ষমতায় বসাবে। এখনকার বাংলাদেশ সেটা নয়।
এ সময় দলীয় নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাদের (বিরোধীদের) কুকর্ম মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে একটা মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। ঈদের আগে ৩৩ হাজার ঘর দিয়েছি। জুলাই মাসে আরও ৩৪ হাজার দেব। বাকি থাকবে ৪৫ হাজার। তাও দিয়ে দিলে দেশে ভূমিহীন কেউ থাকবে না। আমরা চাই বাংলাদেশে একটা মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

মাদারীপুর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: গোলাম মাওলা সভাপতি, মুর্তজা সাধারণ সম্পাদক ও সাগর হোসেন তামিম সাংগঠনিক সম্পাদক
                                  
 মাহবুবুর রহমানঃ
 
মাদারীপুর প্রেসক্লাবের দুই বছর মেয়াদী নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন যুগান্তর ও এটিএন বাংলার সাংবাদিক গোলাম মাওলা আকন্দ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এনটিভি ও দৈনিক খোলা কাগজের সাংবাদিক এম.আর মুর্তজা। শনিবার সকাল ১১টায় মাদারীপুর নতুন শহর এলাকার প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট্য নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটির অন্যরা হলেন সহ-সভাপতি শফিক স্বপন (দৈনিক আমাদের সময়), বেলাল খান (ইউএনবি/ভোরের ডাক), আক্তার হোসেন বাবুল (দৈনিক খবর), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস.এম. রাসেল (দৈনিক নয়াদিগন্ত ও সম্পাদক, আলোকিত সময়), বেলাল রিজভী (বাংলাদেশ প্রতিদিন/নিউজ টুয়েন্টিফোর টিভি), রিপনচন্দ্র মল্লিক (ইনডিপেনডেন্ট টিভি/সংবাদ/বিডিনিউজ), সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর হোসেন তামিম (চ্যানেল টুয়েন্টিফোর/আজকের পত্রিকা/নিউজবাংলা), কোষাধ্যক্ষ সাব্বির হোসাইন আজিজ (দি এশিয়ান এইজ), দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক (দৈনিক মানবকন্ঠ), সাহিত্য, সাংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এমদাদ খান (দি বাংলাদেশ টুডে), সহ-সাহিত্য সাংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদ হাসান  দৈনিক আমার সংবাদ), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক স্বর্ণা সরোয়ার (সম্পাদক, সাপ্তাহিক আশ্বাস), কার্যকরী সদস্য অলিউল আহসান কাজল (দৈনিক মানবজমিন), গাউছ-উর-রহমান (সম্পাদক, সাপ্তাহিক শরীয়তুল্লাহ/দৈনিক দিনকাল), শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর (দৈনিক সন্ধ্যাবানী), ম.ম হারুন-অর-রশিদ (আনন্দ টিভি) ও কে.এম রাশেদ কামাল  (দৈনিক জবাবদিহি)। আগামী দুই বছর এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
নব কমিটির সভাপতি গোমাল মাওলা আকন্দ বলেন, ‘নবনির্মিত প্রেসক্লাব ভবনে নতুন করে অফিস স্থাপন ও যোগ্যতা অনুসারে নতুন সাংবাদিকদের সাধারণ সদস্য করা এবং সাংবাদিকদের সকল প্রকার মঙ্গলজনক কাজের উদ্যোগের কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।
কালকিনি পৌরসভার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত " বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লিদের অংশ গ্রহন
                                  
মাহবুবুর রহমানঃ
 
মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌরসভা চত্বরে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে  বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লিরা অংশ গ্রহন করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। পৌর মেয়র এসএম হানিফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসাঃ তাহমিনা বেগম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদার, যুগ্ন সম্পাদক সরদার মো: লোকমান হোসেন, কালকিনি পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল বাসার, দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হোসেনসহ মাদারীপুর জেলা ও কালকিনি উপজেলার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়।
 
 
 
জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসা না করার আহবান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের
                                  

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসা না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি অবৈধভাবে পণ্য মজুদদারি, সংরক্ষণ এবং সিন্ডিকেট গঠন করা থেকে বিরত থাকারও আহবান জানিয়েছেন  ব্যবসায়িদের প্রতি।
ওবায়দুল কাদের আজ বৃহষ্পতিবার সকালে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের প্রতি এ আহবান জানান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাজারে জনস্বার্থ বিরোধী সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো মেনে নেয়নি, নিবেনা এবং প্রশ্রয়ও দিবেনা। তিনি রমজান মাস টার্গেট করে জনস্বার্থ বিরোধী এবং বাজার অস্থিতিশীল করার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়িদের সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি সংযম হওয়ারও  আহবান জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে একদেশের ঘটনাপ্রবাহ অন্য দেশে প্রভাব ফেলে। রাশিয়া ও  ইউক্রেন সঙ্কটে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েকটি পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যাপী, তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বাজারেও কয়েকটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার জনগণের অসুবিধা সৃষ্টি হয়, এমন কোন বিষয়ে কখনো নিরব থাকেননি এবং আগামীতেও নিরব থাকবেন না। তিনি জনগণের জীবনমানের সুরক্ষায় গ্রহণ করেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এরই মাঝে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি জোরদার করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা জনস্বার্থে আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ওবায়দুল কাদের দেশবাসীকে আস্বস্ত করে বলেন, রমজানেকোনো পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি নেই এবং ঘাটতি হবে না।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ থাকা স্বত্তেও কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজান এবং বিশেষ বিশেষ সময়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে। এসব অসাধুচক্রের বিরুদ্ধে সরকার সোচ্চার।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, রমজান মাসেকোনো অসাধু চক্রের কারসাজি সফল হতে দেওয়া হবে না।দেওয়া হবে না কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধির অপচেষ্টাকে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নানামুখি উদ্যোগ নিয়েছে, বাজার ব্যবস্থায় মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই বাজার পরিস্থিতি মনিটর করছেন।

গণবিরোধী রাজনীতি করলে জনগণ পাশে থাকে না: তথ্যমন্ত্রী
                                  

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জনগণ বিএনপির ডাকে সাড়া দেবে না। কারণ, যারা গণবিরোধী রাজনীতি করে, জনগণ তাদের পাশে থাকে না।
শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে সরকারকে বিদায় জানানোর হুমকি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।    
তিনি বলেন, বিগত দিনগুলোতে বিএনপি আন্দোলনের যে হুমকি দিয়েছিল, বর্তমানে সেটার ধারাবাহিতা ছাড়া কিছু নয়। খন্দকার মোশারফ সাহেবসহ বিএনপি নেতারা এমন বহু ঈদের পরে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাবেন এটা অন্তত ১২ বছর ধরে বলে আসছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার এক বছর পর থেকেই এই ঈদের পরে, এই শীতের পরে, এই বর্ষার পরে, পরীক্ষার পরে -এরকম বহু হুমকি শুনে আসছি। খালি কলসি যে বেশি বাজে, তাদের এই হুমকিগুলোও ঠিক সেরকম ছিল। খন্দকার মোশারফ সাহেবও যে বক্তব্য রেখেছেন, আগামী ঈদের পরে জাতীয় ঐক্য করে, সরকারের পতন ঘটাবেন সেগুলো আগের বক্তব্যের ধারাবাহিকতা ছাড়া অন্য কিছু নয়। মানুষ তাদের এই হুমকি শুনে হাস্যরস করে।
সরকারবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ডান-বাম, অতি বাম, সবার সন্নিবেশ ঘটিয়ে একটা জাতীয় ঐক্যের মতো করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই ঐক্য করে কোনো লাভ হয়নি। সেটি একেবারে ফানুসের মতো নিভে গেছে। কারণ উন্নয়নের ফলে দেশের মানুষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে, ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে আছে। জনগণ তাদের (বিএনপি) ডাকে কখনও সাড়া দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না।
বাংলাদেশ গণতন্ত্র সূচকে একধাপ এগিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমাপে গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়েছে। আমি মনে করি, দেশ গণতন্ত্র সূচকে আরও অনেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারতো। কারণ গণতন্ত্র সংহত করা শুধুমাত্র সরকারি দলের কাজ নয়, যারা বিরোধীদলের রাজনীতি করেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন, সরকারবিরোধী রাজনীতি করেন, তাদেরও দায়িত্ব এসব নিয়ে কথা বলার।
তিনি বলেন, বিএনপি যদি গণবিরোধী রাজনীতি না করতো, মানুষ ও গাড়ি-ঘোড়া জ্বালাও-পোড়াও না করতো, হরতাল অবরোধের মাধ্যমে জনগণকে অবরুদ্ধ করার রাজনীতি না করতো, গণতন্ত্র সূচকে আমরা আরও বহু ধাপ এগিয়ে যেতাম।


   Page 1 of 25
     রাজনীতি
কী হতে চলেছে ১০ ডিসেম্বর?
.............................................................................................
চা বাগান শ্রমিক-সংখ্যালঘু ভোটেই সংসদ সদস্য
.............................................................................................
আগামী নির্বাচনে ফাইনাল খেলা হবে: ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
রাজনীতিতে ‘অলঙ্ঘনীয় দেওয়াল’, ভাঙবে কে?
.............................................................................................
আমরা রাজপথের পুরাতন খেলোয়াড় : ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
চূড়ান্ত আন্দোলনে ধীরে চলো নীতি
.............................................................................................
সরকার নয়, বিএনপি চোখে সর্ষে ফুল দেখছে: কাদের
.............................................................................................
বিরোধী দল দমনে আরও হিংস্র রূপে সরকার: ফখরুল
.............................................................................................
বাঙালি জাতির সব অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
বিএনপি ও তার দোসরদের বুকে বড় জ্বালা: কাদের
.............................................................................................
‘সরকার পদত্যাগ না করলে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না’
.............................................................................................
জিয়া নির্বাচনে প্রহসন ও ভোট কারচুপির কালচার শুরু করে
.............................................................................................
মাদারীপুর প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: গোলাম মাওলা সভাপতি, মুর্তজা সাধারণ সম্পাদক ও সাগর হোসেন তামিম সাংগঠনিক সম্পাদক
.............................................................................................
কালকিনি পৌরসভার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত " বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লিদের অংশ গ্রহন
.............................................................................................
জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসা না করার আহবান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
গণবিরোধী রাজনীতি করলে জনগণ পাশে থাকে না: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দেশের ক্ষতি হয়নি
.............................................................................................
তৈমুরের বার্ষিক আয় ৮ লাখের বেশি,ব্যাংক জমা বেড়ে সম্পদ কমেছে আইভীর
.............................................................................................
বিএনপি জোটের নেতাদের একহাত নিলেন ভিপি নুর
.............................................................................................
১৮ ডিসেম্বর শোভাযাত্রা করবে আ.লীগ
.............................................................................................
সংবাদ সম্মেলন করবেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা
.............................................................................................
‘১৮ কোটি মানুষের জন্য খালেদা জিয়াকেই দরকার’
.............................................................................................
হোমনা-মেঘনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের কড়া হুশিয়ারী
.............................................................................................
খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো : যাচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ২০ দল
.............................................................................................
কান্নায় ভেঙে পড়লেন আ.লীগ থেকে বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর
.............................................................................................
আমি নেত্রীর কাছে রিভিউ চাইবো: মেয়র জাহাঙ্গীর
.............................................................................................
‘খালেদাকে মুক্ত করতে না পারা বিএনপির কলঙ্কময় ক্ষত
.............................................................................................
রেজা-নুরের ওপর হামলা কাপুরু ষোচিত : মির্জা ফখরুল
.............................................................................................
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১৫ ডিসেম্বর
.............................................................................................
‘ আতঙ্ক’ ইউপি নির্বাচন এখন
.............................................................................................
ফেসবুকে মৃত্যুর গুজব, অপরিবর্তিত রওশন এরশাদের অবস্থা
.............................................................................................
জনগণের মন জয় করা যায় না কথামালার চাতুরী দিয়ে : কাদের
.............................................................................................
বিএনপির মরাগাঙে ঢেউ আসে কিনা, তারেক দেশে ফিরুক: কাদের
.............................................................................................
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফাইল গায়েব মন্ত্রীর নির্দেশেই: রিজভী
.............................................................................................
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৩ কমিটি ঘোষণা
.............................................................................................
জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রওশন এরশাদ
.............................................................................................
বাণিজ্য ও শিল্পের প্রসারে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রী হবেন পঞ্চমবারের মতো, শেখ হাসিনা
.............................................................................................
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভা
.............................................................................................
সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে মিছিল করবে বিএনপি
.............................................................................................
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ইকবাল এতদিন কোথায় ছিল?
.............................................................................................
আর আগের রাতের নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না: ব্যারিস্টার তাসমিয়া
.............................................................................................
ব্যর্থতা ঢাকতে সাম্প্রদায়িকতার দানব জাগিয়ে তুলেছে সরকার: রিজভী
.............................................................................................
পুরোনো রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা : কাদের
.............................................................................................
দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলছে: ইসলামী ঐক্যজোট
.............................................................................................
সাভার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রাজশাহীতে দলীয় প্রার্থীকে ভোট না দিলে সংখ্যালঘুদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার হুমকি আ.লীগ নেতার
.............................................................................................
আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন না হলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না: কামরুল ইসলাম
.............................................................................................
সদরপুরে সড়ক ও ষ্টেডিয়াম মাঠের জায়গা পরিদর্শন করলেন এমপি নিক্সন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
প্রকাশক: রিনা বেগম
প্রধান সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান
প্রকাশক কতৃক ৫১/৫১ এ পুরানা পল্টন থেকে প্রকাশিত । সোনালী প্রিন্টিং প্রেস ২/১/এ ইডেন ভবন ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৫১/৫১ এ পুরানা পল্টন (৪র্থ তলা) , ঢাকা - ১০০০।
ফোন: ০২২২৩৩৮০৮৭২ , মোবাইল: ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale