|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * পরমাণু হামলা করলে রাশিয়াকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র   * যানজট নিরসনে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগ ডিএনসিসির   * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী   * শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে দারিদ্র্য বড় বাধা: প্রধানমন্ত্রী   * জ্বালানি তেল-সারের মূল্য বাড়ায় কমতে পারে ধানের উৎপাদন   * মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ   * বিশ্বে দুর্ভিক্ষের মুখে সাড়ে ৩৪ কোটিরও বেশি মানুষ : জাতিসংঘ   * শিক্ষায় বেড়েছে সংখ্যা, মান বাড়েনি ৫০ বছরেও   * বিশ্ববাজারে অর্ধেকে নেমেছে পাম তেলের দাম, কমছে না দেশে   * নজরদারিতে আসছে মাছ ধরার নৌযান, ডিভাইস জানাবে জেলেদের অবস্থান  

   সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এর ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

৯২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় : বাংলার ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ
----------------------------------------------------------------------
মো. সফিকুল ইসলাম
----------------------------------------------------------------------
 
১০ ফেব্রুয়ারি, বাংলার ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ সুবিখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবারের মতো এবারও রাজশাহী থিয়েটার অক্ষয়কুমার স্মরণে এক সেমিনারের আয়োজন করেছে। রাজশাহী কলেজের খ্যাতিমান শিক্ষক ড. আব্দুল মতিন ‘ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় রাজশাহী মহানগরীর শাহ্ মখদুম ডিগ্রী কলেজ মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হবে। 
উনিশ শতকের শেষ এক দশক এবং বিংশ শতকের প্রথম তিন দশক পর্যন্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদদের মধ্যে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের নাম সর্বাপেক্ষা প্রখ্যাত। রাজশাহীর যেসকল কৃতিসন্তান তাঁদের বহুমুখী কর্মপ্রতিভা ও পাণ্ডিত্য দিয়ে বরেন্দ্রভূমি, সমগ্র বাংলা, ভারতবর্ষ, এমনকি বিশ্বব্যাপি নন্দিত হয়েছেন—তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় দীর্ঘ ৬১ বছর রাজশাহীর মাটিতে বসবাস করে বাংলার ইতিহাস রচনাসহ বহুমাত্রিক কাজ করে গেছেন। তিনি যেমন ছিলেন রাজশাহীর প্রাণ, তেমনি রাজশাহী ছিল তাঁর প্রাণেরও অধিক। প্রখ্যাত লেখক শ্রীভবানীগোবিন্দ চৌধুরী যথার্থই বলেন, ‘রাজসাহীতে যাহা কিছু অক্ষয়, তাহাতেই অক্ষয়কুমার ছিলেন’ (ভারতবর্ষ, ‘অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়’, বৈশাখ, ১৩৩৭, পৃ. ৮২৫)। যতদিন তাঁর দেহে প্রাণ ছিল ততদিন তিনি মাতৃভূমির ইতিহাস উদ্ধার, রচনা ও বহুমুখী কাজে নিজকে ব্যাপৃত রেখেছিলেন।
অক্ষয়কুমারের অমরসৃষ্টি ‘সিরাজদ্দৌলা’। তিনি সুদীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গবেষণা গ্রন্থ ‘সিরাজদ্দৌলা’ ১৮৯৭ সালে প্রকাশ করে নবাবকে কালিমামুক্ত করেন। অক্ষয়কুমারের ‘সিরাজদ্দৌলা’ বাংলার ইতিহাসের অমর দলিল। তাই, বন্ধুপ্রতীম ইতিহাসবিদকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘বাঙ্গালা ইতিহাসে তিনি (অক্ষয়কুমার) যে স্বাধীনতার যুগ প্রবর্ত্তন করিয়াছেন সেজন্য তিনি বঙ্গসাহিত্যে ধন্য হইয়া থাকিবেন’ (ভারতী, শ্রাবণ ১৩০৫)। 
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রবীন্দ্র-যুগের বাংলার শ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসবিদ। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও কবিগুরু নিবিড় বন্ধুত্বে একে অপরের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন এবং একসাথে বহুগুণ কাজ করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নানা অভিধায় ভূষিত করেছেন অক্ষয়কুমারকে,— ‘তিনি আধুনিক বাঙ্গালী ইতিহাস-লেখকগণের শীর্ষ-স্থানীয়’; ‘ক্ষমতাশালী লেখক’; ‘যিনি আমাদিগকে অন্ধ অনুবৃত্তি হইতে মুক্তিলাভের দৃষ্টান্ত দেখাইতে পারিয়াছেন, তিনি আমাদের দেশের লোকের কৃতজ্ঞতাপাত্র’।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহযোগিতা ও পরামর্শে অক্ষয়কুমার ১৮৯৯ সালে ৫ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগরীর ঘোড়ামারার নিজ বাসভবন (অক্ষয় নিকেতন) থেকে প্রকাশ করেন ইতিহাসভিত্তিক ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘ঐতিহাসিক চিত্র’। ঐতিহাসিক চিত্র বাংলার প্রথম ইতিহাসভিত্তিক পত্রিকা।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অন্তত দুইশতাধিক প্রবন্ধ এবং বহু গ্রন্থ রচনা করে বাংলার ইতিহাসচর্চা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। অক্ষয়কুমারের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : সমরসিংহ’, ‘সীতারাম রায়’, ‘সিরাজদ্দৌলা’, ‘মীরকাসিম’, ‘ময়না’ (নাটক), ‘গৌড়লেখমালা, `গৌড়রাজমালা (সম্পাদনা)`, ‘সমরসিংহ’, ফিরিঙ্গি বণিক, ‘অজ্ঞেয়-বাদ’, `A short history of Natore Raj (1912)`, ‘রাণী ভবানী’, ‘গৌড়ের কথা’, ‘সাগরিকা’, ‘উত্তরবঙ্গের পুরাতত্ত্ব সংগ্রহ’ ইত্যাদি। রমাপ্রসাদ চন্দ প্রণীত অক্ষয়কুমার সম্পাদিত ‘গৌড়রাজমালা’ ‘আধুনিক-বিজ্ঞান-সম্মত প্রণালীতে লিখিত বাংলার প্রথম ইতিহাস’ হিসেবে ইতিহাসবিদ কর্তৃক স্বীকৃত। অক্ষয়কুমারের রচনা কলিকাতাসহ বাংলার প্রধান পত্রিকা ও জার্নালে প্রকাশ হতো। তিনি কবিগুরু সম্পাদিত `ভারতী` পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন।
বিরল প্রতিভাধর বাঙালি অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় একাধারে ইতিহাসবিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক, সম্পাদক, শিল্পরসিক, প্রযুক্তিবিদ, নাট্যশাস্ত্রবিদ, বাগ্মী এবং আরও বহুবিদ কাজের জনক। তিনি পরমবিদ্যোৎসাহী ও অশেষ জ্ঞানসম্মন্ন ছিলেন। সে-সময়ে অক্ষয়কুমার, রবীন্দ্রনাথ, লোকেন্দ্রনাথ পালিত, নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ, কান্তকবি রজনীকান্ত সেন, কুমার শরৎকুমার রায়, রমাপ্রসাদ চন্দ, শশধর রায় প্রমুখকে ঘিরে রাজশাহীতে এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে ওঠেছিল।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের প্রজ্ঞায় মুগ্ধ হয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহানপুরুষ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বিশ্বখ্যাত ইতিহাসবিদ ভি. ভি. স্মিথ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-সহ বহু পণ্ডিত। 
বাংলার ইতিহাসচর্চার জনকখ্যাত অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব অক্ষয়কুমার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বাঙালি জাতির ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ। সাহিত্যিক প্রবোধচন্দ্র সেন বলেন, ‘বঙ্কিম-নির্মিত ইতিহাস পথে যে সেনাপতি প্রথম আবির্ভূত হলেন, তিনিই অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (দেশ, সাহিত্য সংখ্যা, ১৩৭৩ বঙ্গাব্দ)।’
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের অক্ষয়কীর্তি বাংলার ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পাদপীঠ ‘বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’। অক্ষয়কুমারকে ‘সারথ্যে-বরণ’ করেই ১৯১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরে কুমার শরৎকুমার রায় প্রতিষ্ঠা করেন বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম এবং পরবর্তীতে এই সমিতিই গড়ে তোলে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম। বাংলাদেশের প্রথম এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন এই মিউজিয়ামের দুই দশক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ সংগ্রহ ও সঞ্চয় করে গেছেন তিনি  সহযাত্রীদের সহযোগিতায়। কুমার শরৎকুমার রায়ের সকল কাজের প্রধান সঞ্জীবনী শক্তি ছিলেন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের জন্ম ১৮৬১ সালের ১ মার্চ তৎকালীন নদীয়া (বর্তমান কুষ্টিয়া) জেলায়। অক্ষয়কুমারের পরিবারের পূর্বপুরুষের বাস ছিল রাজশাহীতেই। পরে তাঁরা অন্যত্র বসতি গড়েন। অক্ষয়কুমারের পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় কর্মসূত্রে ১৮৭২ সালে রাজশাহীতে আগমনের মাধ্যমে রাজশাহীর মানুষ আবার রাজশাহীতেই ফিরে আসেন সগৌরবে।
 ১৮৭১ সালে রাজশাহী বোয়ালিয়া গভর্নমেন্ট স্কুলে (বর্তমান কলেজিয়েট স্কুল) ইংরেজি শিক্ষা এবং ১৮৭৪ সালে সংস্কৃত শিক্ষা শুরু করেন এবং বাংলা, ইংরেজি, পালি সংস্কৃত, ফারসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অসাধারণ 
পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ১৮৭৮ সালে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা, ১৮৮০ সালে রাজশাহী কলেজ হতে এফএ পাশ করেন, উভয় পরীক্ষাতে তিনি রাজশাহী বিভাগের মধ্যে প্রথম হন। এরপর, ১৮৮৩ সালে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ, ১৮৮৫ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে বিএল পাশ করে ওই বছরই আইনজীবী হিসেবে রাজশাহী কোর্টে যোগদান করেন। ১৯৩০ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে অক্ষয়কুমার এই পেশায় জড়িত ছিলেন।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বিরানব্বই বছর আগে এই ধরাধাম থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর নাম ইতিহাসে লেখা আছে অতি উজ্জ্বলভাবে, কিন্তু বাঙালি সমাজজীবনে তাঁর নাম প্রায় বিস্মৃতই থেকে গেছে। ইতিহাসের বরপুত্র, কিংবদন্তি হলেও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় থেকে গেলেন আড়ালের মানুষটি হয়ে।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের মতো বিরল প্রতিভাধর বাঙালির নামে বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠান নামকরণ করা হয়নি আজও, এমনকি রাজশাহীতেও নয়।
অথচ, ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরাংশে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে অবস্থিত উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৫ সালে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের নামে ‘AKM Heritage Museum’ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় ‘অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় : জীবন সাধনা’ গ্রন্থ প্রকাশ করে, ১৯৮৪ সালে। 
লেখক : উপ-রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এর ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
                                  
৯২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় : বাংলার ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ
----------------------------------------------------------------------
মো. সফিকুল ইসলাম
----------------------------------------------------------------------
 
১০ ফেব্রুয়ারি, বাংলার ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ সুবিখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবারের মতো এবারও রাজশাহী থিয়েটার অক্ষয়কুমার স্মরণে এক সেমিনারের আয়োজন করেছে। রাজশাহী কলেজের খ্যাতিমান শিক্ষক ড. আব্দুল মতিন ‘ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় রাজশাহী মহানগরীর শাহ্ মখদুম ডিগ্রী কলেজ মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হবে। 
উনিশ শতকের শেষ এক দশক এবং বিংশ শতকের প্রথম তিন দশক পর্যন্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদদের মধ্যে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের নাম সর্বাপেক্ষা প্রখ্যাত। রাজশাহীর যেসকল কৃতিসন্তান তাঁদের বহুমুখী কর্মপ্রতিভা ও পাণ্ডিত্য দিয়ে বরেন্দ্রভূমি, সমগ্র বাংলা, ভারতবর্ষ, এমনকি বিশ্বব্যাপি নন্দিত হয়েছেন—তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় দীর্ঘ ৬১ বছর রাজশাহীর মাটিতে বসবাস করে বাংলার ইতিহাস রচনাসহ বহুমাত্রিক কাজ করে গেছেন। তিনি যেমন ছিলেন রাজশাহীর প্রাণ, তেমনি রাজশাহী ছিল তাঁর প্রাণেরও অধিক। প্রখ্যাত লেখক শ্রীভবানীগোবিন্দ চৌধুরী যথার্থই বলেন, ‘রাজসাহীতে যাহা কিছু অক্ষয়, তাহাতেই অক্ষয়কুমার ছিলেন’ (ভারতবর্ষ, ‘অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়’, বৈশাখ, ১৩৩৭, পৃ. ৮২৫)। যতদিন তাঁর দেহে প্রাণ ছিল ততদিন তিনি মাতৃভূমির ইতিহাস উদ্ধার, রচনা ও বহুমুখী কাজে নিজকে ব্যাপৃত রেখেছিলেন।
অক্ষয়কুমারের অমরসৃষ্টি ‘সিরাজদ্দৌলা’। তিনি সুদীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গবেষণা গ্রন্থ ‘সিরাজদ্দৌলা’ ১৮৯৭ সালে প্রকাশ করে নবাবকে কালিমামুক্ত করেন। অক্ষয়কুমারের ‘সিরাজদ্দৌলা’ বাংলার ইতিহাসের অমর দলিল। তাই, বন্ধুপ্রতীম ইতিহাসবিদকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘বাঙ্গালা ইতিহাসে তিনি (অক্ষয়কুমার) যে স্বাধীনতার যুগ প্রবর্ত্তন করিয়াছেন সেজন্য তিনি বঙ্গসাহিত্যে ধন্য হইয়া থাকিবেন’ (ভারতী, শ্রাবণ ১৩০৫)। 
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রবীন্দ্র-যুগের বাংলার শ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসবিদ। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও কবিগুরু নিবিড় বন্ধুত্বে একে অপরের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন এবং একসাথে বহুগুণ কাজ করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নানা অভিধায় ভূষিত করেছেন অক্ষয়কুমারকে,— ‘তিনি আধুনিক বাঙ্গালী ইতিহাস-লেখকগণের শীর্ষ-স্থানীয়’; ‘ক্ষমতাশালী লেখক’; ‘যিনি আমাদিগকে অন্ধ অনুবৃত্তি হইতে মুক্তিলাভের দৃষ্টান্ত দেখাইতে পারিয়াছেন, তিনি আমাদের দেশের লোকের কৃতজ্ঞতাপাত্র’।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহযোগিতা ও পরামর্শে অক্ষয়কুমার ১৮৯৯ সালে ৫ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগরীর ঘোড়ামারার নিজ বাসভবন (অক্ষয় নিকেতন) থেকে প্রকাশ করেন ইতিহাসভিত্তিক ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘ঐতিহাসিক চিত্র’। ঐতিহাসিক চিত্র বাংলার প্রথম ইতিহাসভিত্তিক পত্রিকা।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অন্তত দুইশতাধিক প্রবন্ধ এবং বহু গ্রন্থ রচনা করে বাংলার ইতিহাসচর্চা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। অক্ষয়কুমারের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : সমরসিংহ’, ‘সীতারাম রায়’, ‘সিরাজদ্দৌলা’, ‘মীরকাসিম’, ‘ময়না’ (নাটক), ‘গৌড়লেখমালা, `গৌড়রাজমালা (সম্পাদনা)`, ‘সমরসিংহ’, ফিরিঙ্গি বণিক, ‘অজ্ঞেয়-বাদ’, `A short history of Natore Raj (1912)`, ‘রাণী ভবানী’, ‘গৌড়ের কথা’, ‘সাগরিকা’, ‘উত্তরবঙ্গের পুরাতত্ত্ব সংগ্রহ’ ইত্যাদি। রমাপ্রসাদ চন্দ প্রণীত অক্ষয়কুমার সম্পাদিত ‘গৌড়রাজমালা’ ‘আধুনিক-বিজ্ঞান-সম্মত প্রণালীতে লিখিত বাংলার প্রথম ইতিহাস’ হিসেবে ইতিহাসবিদ কর্তৃক স্বীকৃত। অক্ষয়কুমারের রচনা কলিকাতাসহ বাংলার প্রধান পত্রিকা ও জার্নালে প্রকাশ হতো। তিনি কবিগুরু সম্পাদিত `ভারতী` পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন।
বিরল প্রতিভাধর বাঙালি অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় একাধারে ইতিহাসবিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক, সম্পাদক, শিল্পরসিক, প্রযুক্তিবিদ, নাট্যশাস্ত্রবিদ, বাগ্মী এবং আরও বহুবিদ কাজের জনক। তিনি পরমবিদ্যোৎসাহী ও অশেষ জ্ঞানসম্মন্ন ছিলেন। সে-সময়ে অক্ষয়কুমার, রবীন্দ্রনাথ, লোকেন্দ্রনাথ পালিত, নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ, কান্তকবি রজনীকান্ত সেন, কুমার শরৎকুমার রায়, রমাপ্রসাদ চন্দ, শশধর রায় প্রমুখকে ঘিরে রাজশাহীতে এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে ওঠেছিল।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের প্রজ্ঞায় মুগ্ধ হয়েছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহানপুরুষ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বিশ্বখ্যাত ইতিহাসবিদ ভি. ভি. স্মিথ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-সহ বহু পণ্ডিত। 
বাংলার ইতিহাসচর্চার জনকখ্যাত অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব অক্ষয়কুমার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বাঙালি জাতির ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ। সাহিত্যিক প্রবোধচন্দ্র সেন বলেন, ‘বঙ্কিম-নির্মিত ইতিহাস পথে যে সেনাপতি প্রথম আবির্ভূত হলেন, তিনিই অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (দেশ, সাহিত্য সংখ্যা, ১৩৭৩ বঙ্গাব্দ)।’
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের অক্ষয়কীর্তি বাংলার ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান পাদপীঠ ‘বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’। অক্ষয়কুমারকে ‘সারথ্যে-বরণ’ করেই ১৯১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরে কুমার শরৎকুমার রায় প্রতিষ্ঠা করেন বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম এবং পরবর্তীতে এই সমিতিই গড়ে তোলে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম। বাংলাদেশের প্রথম এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন এই মিউজিয়ামের দুই দশক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ সংগ্রহ ও সঞ্চয় করে গেছেন তিনি  সহযাত্রীদের সহযোগিতায়। কুমার শরৎকুমার রায়ের সকল কাজের প্রধান সঞ্জীবনী শক্তি ছিলেন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের জন্ম ১৮৬১ সালের ১ মার্চ তৎকালীন নদীয়া (বর্তমান কুষ্টিয়া) জেলায়। অক্ষয়কুমারের পরিবারের পূর্বপুরুষের বাস ছিল রাজশাহীতেই। পরে তাঁরা অন্যত্র বসতি গড়েন। অক্ষয়কুমারের পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় কর্মসূত্রে ১৮৭২ সালে রাজশাহীতে আগমনের মাধ্যমে রাজশাহীর মানুষ আবার রাজশাহীতেই ফিরে আসেন সগৌরবে।
 ১৮৭১ সালে রাজশাহী বোয়ালিয়া গভর্নমেন্ট স্কুলে (বর্তমান কলেজিয়েট স্কুল) ইংরেজি শিক্ষা এবং ১৮৭৪ সালে সংস্কৃত শিক্ষা শুরু করেন এবং বাংলা, ইংরেজি, পালি সংস্কৃত, ফারসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অসাধারণ 
পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ১৮৭৮ সালে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা, ১৮৮০ সালে রাজশাহী কলেজ হতে এফএ পাশ করেন, উভয় পরীক্ষাতে তিনি রাজশাহী বিভাগের মধ্যে প্রথম হন। এরপর, ১৮৮৩ সালে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ, ১৮৮৫ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে বিএল পাশ করে ওই বছরই আইনজীবী হিসেবে রাজশাহী কোর্টে যোগদান করেন। ১৯৩০ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে অক্ষয়কুমার এই পেশায় জড়িত ছিলেন।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় বিরানব্বই বছর আগে এই ধরাধাম থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর নাম ইতিহাসে লেখা আছে অতি উজ্জ্বলভাবে, কিন্তু বাঙালি সমাজজীবনে তাঁর নাম প্রায় বিস্মৃতই থেকে গেছে। ইতিহাসের বরপুত্র, কিংবদন্তি হলেও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় থেকে গেলেন আড়ালের মানুষটি হয়ে।
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের মতো বিরল প্রতিভাধর বাঙালির নামে বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠান নামকরণ করা হয়নি আজও, এমনকি রাজশাহীতেও নয়।
অথচ, ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরাংশে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে অবস্থিত উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৫ সালে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের নামে ‘AKM Heritage Museum’ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় ‘অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় : জীবন সাধনা’ গ্রন্থ প্রকাশ করে, ১৯৮৪ সালে। 
লেখক : উপ-রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


বঙ্গবন্ধু হত্যা
                                  

নেপথ্য ঘাতকদের বিচার চায় জাতি

লায়েকুজ্জামান

মার্কিন লেখক রজার মরিস তারঁ বই‘ আনসারর্টেন গ্রেটসেন- হেনরি কিসিঞ্জার এ্যান্ড আমেরকিান ফরেন পলিসি’তে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের তিন শত্র“র নাম উল্লেখ করেছেন। এরা হচ্ছেন চিলির আলেন্দে, বাংলাদেশের শেখ মুজিব এবং ভিয়েতনামের থিউ। এছাড়াও হেনরি কিসিঞ্জার তার নিজের লেখা ‘হোয়াইট হাউস ইয়ার্স’বই-এ বিশ্বের আরো ক’জন ব্যাক্তির নাম উল্লেখ করেছেন- তারা হলেন ইন্দোনেশিয়ার ড.সুকর্ন,কিউবার ফিদেল ক্যাস্টো এবং আফ্রিকার নেতা প্যাটিস লুবুম্বা।  পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকার সময়ে ওই সব নেতাদের কাছে হেনরি কিসিঞ্জার কোন না কোন ভাবে অপমানিত-পরাজিত ও তার নির্দেশ শোনাতে ব্যার্থ হয়েছেন। এ কারনে তিনি এদের ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। ওই সকল নেতাদের মধ্যে চিলির আন্দেনে,প্যাটিস লুবুম্বা নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন। ড.সুকর্নকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিলো। বারবার চেষ্টা করেও ফিদেল ক্যাষ্টকে হত্যা করতে ব্যার্থ হয়। পরবর্তীতে কালে প্রকাশিত হয়েছে ওই নেতাদের খুন হওয়ার পেছনে হেনরি কিঞ্জিসারের ভূমিকা ছিলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হেনরি কিঞ্জিসার তার ব্যাক্তিগত পরাজয় হিসেবে দেখতেন এবং বঙ্গবন্ধুকে তিনি ঘৃনা করতেন,পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ করার জন্য। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নেপথ্যের কারিগরদের মধ্যে ওই হেনরি কিঞ্জিসার ছিলো অন্যতম প্রধান।
১৯৭৫ সালের ১৮ এপ্রিল পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমীর একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকর আলী ভুট্টো বলেন,‘ অচিরেই উপমহাদেশে একটি পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। কেউ কিছু ঘটাবে।’ ভুট্টোর ওই বক্তৃতায় স্পষ্ট ভাবেই ১৫ আগষ্টের ক্যু সম্পর্কে আভাস দেয়া হয়। ১৯৭৪ সালের জুনমাসে ১০৭ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসেন ভুট্টো। তিনি ফিরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের কারাচী থেকে প্রকাশিত ‘ডেইলি নিউজ’পত্রিকায় বাংলাদেশে দ্রুতই সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহন করতে যাচ্ছে বলে একটি মন্তব্য কলাম লেখা হয়। শ্রীলংকার সাংবাদিক এল খতিব তার বই ‘হু কিল্ড মুজিব’-এ এ বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন। ভারতীয় সাংবাদিক পরেশ সাহা তার ‘মুজিব হত্যার তদন্ত্র ও রায়’বইয়ে লিখেছেন ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারী পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়ার পর যে প্লেনে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠানো হয় সে প্লেনে ভুট্টো একজন ঘুপ্তঘাতকও পাঠায়। তার ওপর নির্দেশ ছিলো বঙ্গবন্ধু প্লেনে ওঠা বা নামার সময়ে তাকে হত্যা করবে। ওই গুপ্তঘাতক ছিলো একজন বাঙ্গালী। নাম দবিরউদ্দিন সিদ্দিকী। তার দাদা ছিলেন ১৯০৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলীম লীগের প্রথম সভাপতি। মার্কিন সাংবাদিক লরেঞ্জ লিফসুলজ তার বিখ্যাত বই ‘বাংলাদেশে এ আনফিনিশ রেভুলেশন’-এ লিখেছেন। ১৯৭৫ সালো গোড়ার  মাসে ঢাকার একজন বড় ব্যাবসায়ীর বাসায় একটি বৈঠকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা হয়। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র বাংলাদেশ ষ্টেশন চীফ ফিলিপ চেরীর সঙ্গে। ব্যবসায়ী জানতেন না,ফিলিফ সিআইএ’র লোক। তাকে তিনি চিনতেন আমেরিক্যান দূতাবাসের কর্মকর্তা হিসেবে। ফিলিফ চেরী একদিন ওই ব্যবসায়ীকে বলেন,আপনার বাসায় আমি একদিন দাওয়াত খাবো,রাতের বেলায়। তবে আমার সঙ্গে দুজন বাঙ্গালী অতিথিও থাকবেন। ফিলিফ চেরী যখন ওই ভদ্রলোকের বাসায় রাতের বেলায় দাওয়াত খেতে আসেন ব্যবসায়ী দেখেন বাঙ্গালী অতিথি দু’জন হচ্ছেন সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান জিয়াউর রহমান এবং তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ব্যবাসায়ীকে বৈঠক খানায় বসিয়ে রেখে ফিলিফ চেরী ,জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে বাগানে বসে গোপন বৈঠক করলেন। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলীম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় সংগঠনের নাম থেকে ‘মুসলিম ’শব্দটি বাদ দিয়ে দলকে অসম্প্রদায়িক দলে পরিনত করা হোক। ৮০০ কাউন্সিলার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিলেন। প্রকাশ্যে বিরোধীতা করলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও গোপালগঞ্জের আবদুস সালাম খান। খন্দকার মোশতাক বিক্ষুদ্ধ হয়ে যোগ দিলেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি কেএসপিতে। শেরে বাংলার তখোন পড়ন্ত বেলা। তিনি আর এগুতে পারছেন না। খন্দাকার মোশতাক বন্ধত্বের দাবী নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করে আবার দলে ফিরে এলেন। এর আগেও একবার খন্দকার মোশতাক আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময়েও ক্ষুদ্ধ হয়ে বেশ কিছু দিন রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। দল প্রতিষ্ঠার সময়ে প্রথম কমিটিতে বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর যুগম্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। বঙ্গবন্ধু তখোন কারাগারে। মোশতাক মাওলানা ভাসানীকে অনুরোধ করেছিলেন ওই পদটি তাকে দেয়ার জন্য। মাওলানা ভাসানী তাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেন। খন্দকার মোশতাক মূলত সেই সময় থেকেই বঙ্গবন্ধুকে ঈর্ষা করতেন,শত্র“ মনে করতেন। তবে প্রকাশের সুযোগ পান ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু হত্যার মাত্র দু’দিন আগে ঢাকার হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের সুইমিং পুল পাড়ে দাড়িঁয়ে ব্রিগেডিয়ার আবদুর রউফ চিৎকার করে বলছিলেন,শেখ মুজিব আর বেশী দিন নেই,তার সময় দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। ওই আবদুর রউফ তখন ছিলেন বাংলাদেশের সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান। তিনি ছিলেন একাত্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের হাতে নিহত মোনায়েম খানের নিকটা আÍীয়।  প্রখ্যাত সাংবাদিক আবেদ খান ‘ইত্তেফাকে ছিলাম-কাশিম বাজার কুটির সাথে ছিলাম না’ শিরোনামে লেখা এক নিবন্ধে লিখেছেন ১৯৭৫ সালের প্রথম দিকেই তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একটি অংশের ষড়যন্ত্রের বিষয় জানতে পারেন। বিষয়টি তিনি তারঁ তখনকার কর্মস্থল ইত্তেফাকে লিখেন। লেখাটি তিনি নিজে পত্রিকায় পেষ্টিং করে দিয়ে বাসায় ফিরেন। অথচ পরের দিন দেখেন ইত্তেফাকে লেখাটি ছাপা হয়নি। গভীর রাতে ইত্তেফাকের মালিক পক্ষ এসে লেখাটি তুলে দেন। লেখাটি তুলে দেয়ার কারন ছিলো যাতে কোনভাবেই বঙ্গবন্ধু সেনা ষড়যন্ত্রের কথাটি না জানতে পারে। শ্রীলংকার সাংবাদিক যিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশে কাজ করেছেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড নিয়ে ব্যাপক গবেষনা করেছেন। এএল খতিব তারঁ ‘ হু কিল্ড মুজিব’বইয়ে লিখেছেন,ইত্তেফাকের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ব্যারিষ্টার মঈনুল হোসেন তখোন পর্দার অন্তরালে মোশতাকের জন্য সমর্থন যোগানোর চেষ্টা করছেন। কারন তিনি রাজনৈতিক ভাবে ছিলেন মোশতাক ঘনিষ্ঠ। এএল খতিব আরো লিখেছেন ইত্তেফাকের তরুন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দু’জন বিদেশেী সংবাদ দাতাকে বলেছিলেন,অভ্যত্থানটি আমার কাছে মোটেই আ´সিক ছিলো না।কূটনৈতিক মহলে বেশ কিছু দিন ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছিলো। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আমাকে একজন কূটনীতিক প্রশ্ন করেছিলেন,এটা কি ডানপন্থী না বাম পন্থী অভ্যাত্থ্যান হবে” এই আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ১ আগষ্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত রহস্যজনক ভাবে অবস্থান করছিলেন কলকাতায়।  ফরিদপুরের কেএম ওবায়দুর রহমান ছিলেন আওয়ামী লীগের সমাজকল্যান সম্পাদক। ১৯৭২ সালে দলীয় তহবিল তছরুপের কারনে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। আবার বঙ্গবন্ধু তাকে সরকারের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। দলের বড় নেতা হিসেবে তার চাওয়া ছিলো পূর্নমন্ত্রী। পূর্নমন্ত্রী না করায় ক্ষুদ্ধ হন তিনি। একই ভাবে ১৯৭৩ সালে দল থেকে বহিস্কার করা হয় পিরোজপুরের নুরুল ইসলাম মঞ্জুকে,তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকেও বাদ দেয়া হয়। ক্ষুদ্ধ হন তিনিও। তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের আশা ছিলো পূর্ন মন্ত্রী হওয়া,তাকে প্রতিমন্ত্রী করায় মনোক্ষুন্ন হন তিনিও। মুন্সীগঞ্জের শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন আন্দোলন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। তারও আশা ছিলো বঙ্গবন্ধু তাকে মন্ত্রী করবেন কিন্ত তাকে চীপ হুইপ  করায় ক্ষুদ্ধ হন তিনি। এ চারজনই সরাসরিভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মাহবুব আলম চাষী নিজে কোন চাষবাস করতেন না,ছিলেন পাকিস্তানের আমলে। কৃষকদের চাষবাদে উৎসাহ দিতে নিজ জেলা কুমিল্লায় বার্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠান করে নিজের নামের সঙ্গে চাষী শব্দটি যোগ করেন। খন্দকার মোশতাকের আপনজন হিসেবে চাষী মুক্তিযুদ্ধও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে ভারতে অবস্থানকালে প্রবাসী সরকারের সময় থেকে। শফিউল আযম,এসবি সফদর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের জাদঁরেল আমলা হিসেবে চাকুরী করেছেন,‘৭৩ সালে দেশে ফিরে আবার তারাই স্থান পেলেন স্বপদে। পাকিস্তান পন্থী এ দুই আমলা সরাসরি জড়িত ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে। ১৯৭১ সালে ১৫৬ জন বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানী সেনাদের সঙ্গে মিশে পাকিস্তানী সেনাদের মতই বাঙ্গালী হত্যায় অংশ নিয়েছে। বাঙ্গালীদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়েছে ,গণহত্যায় অংশ নিয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাদের সঙ্গে এরা সোহরাওয়াদী উদ্যানে আÍসমর্পন করে পাকিস্তানে চলে যায়। ‘৭৩ সালে আবার আটকে পড়া বাঙ্গালী হিসেবে দেশে ফিরে আসে। তাদেরও সরকার সেনাবাহিনীতে ফেরত নেয়। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রাণ গ্র“পের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল আমজাদ হোসেনসহ আরো অনেকে।  জিয়াউর রহমান,বেগম খালেদা জিয়া,মেজর শরিফুল হক ডালিম ও তার স্ত্রী তাসনিমা এরা কেউ বঙ্গবন্ধু পরিবারের আÍীয় ছিলেনা না,তাদের সঙ্গে ওই পরিবারের কোন রক্তের সম্পর্ক ছিলো না। এরা কেউ রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন না? তা হলে ১৯৭৫ সালের প্রথম দিক থেকেই ওই চার জন লোক খুবই ঘন ঘন যাতায়াত করতেন বঙ্গবন্ধুর বত্রিশ নম্বরের বাড়িতে। খালেদা জিয়া প্রায় প্রতি সপ্তাহে একবার যেতেন। জাতীয় শোক দিবসের একাধিক আলোচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা এ প্রশ্নটি তুলেছেন- তারা কেন ঘন ঘন বত্রিশ নম্বরে আসতো। পরবর্তীকালে দেখা যায় ওই চারজনের মধ্যে জিয়া ও খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে এবং মেজর ডালিম হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে।  মেজর জলিল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন,সেক্টর কমান্ডারও ছিলেন। তবে মুক্তিযুদ্ধ চলকালীন সময়েই সিআইএ’র খপ্পরে পড়েন। যুদ্ধ শেষে তার কাছ থেকে কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়,সে ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় মেজর জলিলকে। পরবর্তীতে মেজর জলিল জাসদের সভাপতি হন। পরে জাসদ থেকে পদত্যাগ করে একটি ইসলামী সংগঠন করেন। ফিরে যান আসল জায়গায়। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের বেশ কিছু ত্যাগী নেতাকর্মী দল ছাড়েন এরা গঠন করে জাসদ। সুষ্টি করে গণবাহিনী। সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে। ঈদের জামাতে গুলি করে আওয়ামী লীগের এমপি কুষ্টিয়ার গোলাম কিবরিয়াকে গণবাহিনী হত্যা করে। এ ভাবে অসংখ্যা হত্যা,লুটপাট ,ব্যাংক ডাকাতি সর্বশেষ কর্নেল তাহেরের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ সেনা সদস্যদের ক্ষেপিয়ে তোলে জাসদ। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে জাসদ বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ জামাতে ইসলামী সহ স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারগুলোর ছেলেরা জাসদে যোগ দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারন করে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এরা জাসদ ছেড়ে কেউ জিয়ার বিএনপিতে,আবার কেউ নিজের দল জামায়াতে ইসলামীতে ফিরে যায়। কর্নেল তাহের বীর মুক্তিযোদ্ধা,মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করে তিনি একটি পা হারান। খালেদ মোশাররফ অভ্যথান করে জিয়াকে বন্দি করেছিলেন,তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন কর্নেল তাহের ও জেনারেল ওসমানী। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই কর্নেল তাহেরও জানতেন জিয়া ছিলেন সিআইএ’র এজেন্ট। জিয়া কাদের ইন্ধনে পর্দার আড়ালে খেলছেন তা জানার পরও কর্নেল তাহের কেন জিয়াকে বন্দিশা থেকে মুক্ত করলেন?   ১৯৭২ সালে সরকারের সমালোচনা করে পত্রিকায় একটি লেখা লিখেছিলেন মেজর জিয়াউদ্দিন। তিনি সুন্দরবন খ্যাত মেজর জিয়া নন। এই মেজর জিয়ার বাড়ি চট্টগ্রামে। সেনাবাহিনীতে কর্মরত থেকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা সেনা বিধান বিরোধী বিধায় মেজর জিয়াকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। চাকুরী চ্যুতির পর মেজর জিয়াউদ্দিন সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টিতে যোগ দেন। তার সর্বহারা পার্টিতে যোগ দেয়ার লক্ষ্য ছিলো বঙ্গবন্ধু সরকারকে উৎখাত করা। সিরাজ শিকদার সর্বহারা পার্টির অস্ত্র ভান্ডারের দায়িত্ব দেন মেজর জিয়াউদ্দিনের ওপর। মেজর জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিলো বঙ্গবন্ধুর খুনী  ফারুক ও রশিদের। এই জিয়াউদ্দিন ঢাকা শহরেরর মগবজারের একটি বাসায় সিরাজ শিকদারের সঙ্গে সাক্ষাত করিয়ে দেন খুনী রশিদ ও ফারুককে। তারা বঙ্গবন্ধুর সরকার উৎখাত করতে সিরাজ শিকদারের সহায়তা চান। সিরাজ শিকদার রশিদ ও ফারুককে জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেন।  বৃটিশ সাংবাদিক উলফট পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকর আলী ভুট্টুর ব্যাক্তিগত লাইব্রেরী ঘেটে একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম ‘ জুলফি ভুট্টু অব পাকিস্তান’। ভুট্টুর লাইব্রেরীর কাগজ পত্র ঘাটার সময়ে উলফট একটি চিঠি পান। চিঠির লেখক বাংলাদেশের তখনকার প্রখ্যাত চৈনিক পন্থী বাম নেতা কমরেড আবদুল হক। কমরেড আবদুল হক চিঠিতে ভুট্টুকে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশে মুজিব সরকারকে উৎখাত করার জন্য তাদের কে অস্ত্র অর্থ দেয়ার জন্য। ভুট্টু তার সহকারীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠিতে মার্ক করেছেন। ভুট্টো মুজিব সরকার উৎখাতে তাদেরকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।  বঙ্গবন্ধু সরকারকে উৎখাত করতে ঢাকার আগামসি লেনে খন্দকার মোশতাকের বাসায় নিয়মিত বৈঠক করতেন সে সময়ের আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক,শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন,কেএম ওবায়দুর রহমান,তাহেরউদ্দিন ঠাকুর সে সব বৈঠকে নিয়মিত যোগ দিতেন তৎকালীন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বুষ্টার। তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার নীল নক্সা তৈরি করেন।  ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বঙ্গবন্ধুকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলো। তারা হামলার আশঙ্কার কথা বঙ্গবন্ধুকে জানিয়েছিলেন। তবে বঙ্গবন্ধু তা বিশ্বাস করেননি। বিশ্বাস না করারও কারন রয়েছে।উনিশ তেয়াত্তর সালে বঙ্গবন্ধু বৃটেন সফরের সময়ে একজন বৃটিশ নারী সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন‘ হোয়াট ইজ ইউর কোয়ালিফিকেশন? বঙ্গবন্ধু জবাব দিয়েছিলেন,‘আই লাভ মাই পিপল” সাংবাদিক পান্টা প্রশ্ন করেছিলেন তা হলে ‘হোয়াট ইজ ইউর ডিস কোয়ালিফিকেশন? জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,‘আই লাভ মাই পিপল”। একজন জাতীয়তাবাদী নেতার চরিত্র এমনই তার পক্ষে স্বদেশী কাউকে অবিশ্বাস করা সম্ভব হয় না। নাথুরাম গডসে গান্ধীজিকে নমস্কার জানিয়েই পিস্তলের গুলি ছুড়েছিলেন। ড.সুকর্নকে নিগৃত করা হয়েছিলো তার নিজের লোক দিয়েই।  তবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে একটি বিষয় এখনো অপার রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে তা হলো বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিষয়টি ইন্দিরা গান্ধীকে জানানো হয়েছিলো পাচঁ ঘন্টা পরে। ভোর চারটায় সময়ে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু নিহত হন। আধা ঘন্টার মধ্যে সে খবর ইউরোপ এবং আমেরিকার টিভিগুলোতে দেখানো হয় অথচ শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সকাল ন’টার দিকে স্বাধীনতা দিবসে প্যারেডগ্রাউন্ডে ভাষন দেয়ার সময়ে তার হাতে বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা জানিয়ে একটি চিরকুট দেয়া হয়। ইন্দিরা গান্ধী বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে অফিসে চলে আসেন এবং তিন বাহিনীর প্রধানকে ডাকেন। ঠিক ওই সময়ে দেখা যায় সে সময়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জগজীবন রাম সেখানে উপস্থিত হন এবং ইন্দিরাজীকে বলেন, মাইজী আপনি যে কোন সিন্ধান্ত নিতে পারেন তবে বাংলাদেশে আমাদের একজন হাই কমিশনার আছেন তার কাছ থেকে আগে রিপোর্টটা জেনে নিন। তখন বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কশিনার ছিলেন সমর সেন। তিনি ঘটনার সময়ে ঢাকায় ছিলেন না,ছুটিতে ভারতে ছিলেন-তার ছুটির ঘটনাও জানানো হয়নি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে। দ্রুত সমর সেন ফিরে আসেন ঢাকায় তবে ততদিনে অনেক সময় গড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে গেছে। সমর সেন ঢাকায় এসে প্রথম কোন বিদেশী কূটনীতিক হিসেবে খুনী খন্দকার মোশতাককে ফুলের তোড়া উপহার দেন। ২০২০ সাল বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি অন্যরকম আবেগ অনুভূতির বছর। এ বছর বঙ্গবন্ধু জš§ শতবার্ষিী। বছরটি মুজিব বর্ষ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে তাদের বিচার হয়েছে। তবে এই হত্যাকান্ডের নেপথ্যে যারা পরিকল্পনা করেছে,অর্থ যুগিয়েছে তাদের বিচার হয়নি। জাতি এখন নেপথ্য ঘাতকদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার হয়েছে। নেপথ্য ঘাতকদের অনেকে এখন জীবিত নেই,কেউ কেউ জীবিত আছে। জাতির দাবী মরনোত্তর হলে নেপথ্য ঘাতকদের বিচার করতে হবে। না হলে ইতিহাসের এই জঘন্য অধ্যায়টি অনুৎঘাটিতই থেকে যাবে।

লেখক

সিনিয়র সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান

 

গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি
                                  

লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

এবছর পঞ্চমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হচ্ছে। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য “গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি” । উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ৫ জুন মন্ত্রী সভার বৈঠকে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন ও অনুমোদন করা হয়। ফলে ২০১৭ সাল থেকে ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে সরকারি উদ্যোগে জাতীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে।
মহাসড়কে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার শতকরা ৮০ ভাগ ঘটে অতিরিক্ত গতির কারণে। মহাসড়কে একই মানের গাড়ি, কাজেই একটি গাড়ির আরেকটি ওভারটেক করার প্রয়োজন নেই বললেই চলে। অথচ আমরা দেখতে পাই পেছনের গাড়ি সামনের গাড়িটিকে ওভারটেক না করা পর্যন্ত যেন স্বস্তি পায় না। আমাদের দেশের চালকদের এটা একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এই ধরণের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে যে, বিশ্বে সড়কে প্রতি বছর প্রায় ১.৩ মিলিয়ন মানুষ মারা যায় এবং ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন এর মধ্যে অ-প্রাণঘাতী জখম থাকে। বড় বড় এবং পথচারী বহুল এলাকাগুলোতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ৮০ টির বেশি বড় বড় শহরে পরিচালিত সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩০ কিলোমিটার করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। গাড়ির গতি ঘণ্টায় ১ কিলোমিটার বৃদ্ধি পেলে ৪-৫% দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যানবাহনের গতি যত বেশি কম হবে, পথচারীদের জন্য আহত ও মৃত্যুর ঝুঁকি তত কম হবে।  অর্থাৎ যত গতি, তত ক্ষতি। গতি বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়বে। ৩০ কিলোমিটার ঘণ্টা বেগে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৯৯%। ৫০ কিলোমিটার ঘণ্টা বেগে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৮০%।
মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমানোর জন্য সারা দেশে স্পিড গানের ব্যবহার নিশ্চিত করা যেতে পারে। প্রতি জেলায় যদি গাড়িসহ দুটি টিম নিয়োগ করা যায় এবং প্রতিটির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার এলাকা নির্ধারণ করে দিয়ে স্থান পরিবর্তন করে স্পিড গানের মাধ্যমে দ্রুতগতির গাড়িগুলো শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা আদায় করা হয় তাহলে মহাসড়কে চালকরা দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে সাহস পাবে না।
২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর সকালে রাজধানী খামারবাড়িস্থ বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং ওভারটেকিংয়ের মত অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছিলেন ‘ওভারটেকিং নামক অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেছিলেন, ‘কেউ যদি অহেতুক নিয়মের বাইরে গিয়ে গাড়ি বা ট্রাকের আকার পরিবর্তন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ড্রাইভারদেরও দোষ রয়েছে, কোন গাড়ি তাদের ওভারটেক করলে যেন মাথা খারাপ হয়ে যায়, ঐ গাড়িকে তাদেরও ওভারটেক করতেই হবে। ফলে, দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।’
তিনি বলেন, একটি রাস্তা কেমন লোড নিতে পারে, একটি সড়কে কি ধরনের দু’টি গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারে তার একটি আকার নির্দিষ্ট করা থাকে। অথচ, আমাদের দেশে দেখা যায় অধিক মুনাফার আশায় আসন বৃদ্ধির জন্য বা অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের জন্য ক্ষেত্রে বিশেষে এক্সট্রা ক্লাম দিয়ে দু’পাশে বেআইনীভাবে গাড়ির আকার বাড়িয়ে নিচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে।’
অতীতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তৈরি করা এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হলেও পরবর্তীতে তা থেমে যাওয়ার আবার তা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তন এবং নতুন ঋতু আগমনের সঙ্গে সঙ্গে অতীতের বিষয়গুলো ভুলে যাওয়ার মত বৈশিষ্ট্য আমাদের মানসিকতায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপরোক্ত বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও যুক্তিসম্মত। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, অদ্যাবধি প্রধানমন্ত্রীর এসব কথার কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে সরকার সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়ন ও গেজেট আকারে প্রকাশ করছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই আইন ১নভেম্বর ২০১৯ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু আইনটি পুরোপুরি এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। আইনটি সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়ানোর জন্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আশা করছি।
নতুন আইনের বিধি-বিধান সমূহঃ
১.নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দায়ে শাস্তির বিধান। এই অপরাধে দায়ী চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজা বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে তদন্তে প্রমাণিত হলে ফৌজদারি আইনের ৩০২ ধারায় মামলা স্থানান্তর হবে। অর্থাৎ মৃত্যুদন্ডের সুযোগ থাকছে। এই ধারার অপরাধ অজামিনযোগ্য। পুরোনো আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদন্ড এবং এটি জামিনযোগ্য অপরাধ ছিল।
২.যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে নিবন্ধন সনদ না নিয়ে রাস্তায় যানবাহন নামালে এর মালিককে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ড ভোগ করতে হবে। ভুয়া নম্বরপ্লেট দিয়ে যানবাহন চালালে সর্বনিম্ন এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
৩.সরকারের কার্যকর করা এ নতুন আইনে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এক মাসের কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
৪.নতুন এ আইনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের জেল অথবা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। অথবা উভয় দন্ড হতে পারে। তা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে অষ্টম শ্রেণি পাস করতে হবে।
৫.ভাড়ার তালিকা নিয়ে অবহেলা নয়, গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় নৈমিত্তিক ব্যাপার। ভাড়ার তালিকা না থাকলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা এক মাসের কারাদন্ড- অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। একই সঙ্গে এটি চালকের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তাঁর এক পয়েন্ট কাটা যাবে।
৬.ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবে ভাড়ার মিটার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। তবে এসব যানের প্রায় কোনোটারই মিটার সচল নেই। থাকলেও মিটার মেনে যাত্রী বহন করে না। আগের আইনে এর জন্য কোনো শাস্তির বিধান ছিল না। এখন মিটার বিকল থাকলে এবং যেকোনো গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনে অস্বীকৃতি জানালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদ- অথবা উভয় দন্ডের ব্যবস্থা আছে।
৭.যানবাহনচালককে যেমন সংকেত মেনে চলতে হবে, তেমনি পথচারীকে সড়ক-মহাসড়কে জেব্রা ক্রসিং, পথচারী-সেতু, পাতালপথসহ নির্ধারিত স্থান দিয়ে পার হতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে চালক ও পথচারীকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদ- অথবা উভয় দন্ডে পড়তে হবে।
৮.যত্রতত্র হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর অপরাধে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান ছিল। নতুন আইনে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা তিন মাসের কারাদন্ড- অথবা উভয় দন্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
৯.কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন চালালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা তিন মাসের কারাদ- অথবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। সরকার নির্ধারিত স্থানের বাইরে গাড়ি পার্কিং করলে বা যাত্রী-মালামাল ওঠানামার দায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার সুযোগ আছে।
১০. দেশের পরিবহন খাত থেকে বছরে হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আছে। চাঁদাবাজির বিষয়টি আগের আইনে উপেক্ষিত ছিল। এবার ফৌজদারি আইনের ১৭ ধারায় শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এই ধারায় চাঁদাবাজির দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছরের শাস্তির বিধান রয়েছে।
এই আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্যে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনারোধে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রশংসনীয়, তবে সরকারের গৃহিত এ সকল উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
সড়ক দুর্ঘটনা সকলের কাছে এক আতঙ্কের নাম। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ হতাহত হচ্ছে। সড়কের মড়কে খালি হচ্ছে হাজারো মায়ের কোল। সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমান সময়ে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, যা বেদনাদায়ক ও অনাকাঙ্খিত। সরকারের একার পক্ষে সড়ক দুর্ঘনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সড়ক দুর্ঘনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও, ছাত্রসমাজ, যাত্রী, চালক, পথচারীসহ সকলকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ সরকারই নিতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার নতুন আইন করেছে। এই আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের আরো কঠোর হওয়া উচিত। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বপ্রথম সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো খতিয়ে বের করা আবশ্যক। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ তিনটি, এগুলো হলো অতিরিক্ত গতি বা ওভারস্পিড, ওভারট্রেকিং, ওভাররোড। এছাড়াও সচেতনতার অভাব, অদক্ষ ও অশিক্ষিত চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা, দুর্নীতি, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, অপরিকল্পিত ও ভঙ্গুর সড়ক, ওভারব্রিজের স্বল্পতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি, অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো মনোভাব। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গণমাধ্যম এই বিষয়ে সহায়ক ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে গণমাধ্যমকে দক্ষতার সাথে আরো অধিক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২৫জুন ২০১৮ তারিখে ছয়টি নির্দেশনা এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আরো ১৭টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় অদ্যাবধি এই সকল নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়নি। এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর ছয়টি নির্দেশনা হলো-
গাড়ির চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, লং ড্রাইভের সময় বিকল্প চালক রাখা, যাতে পাঁচঘণ্টার বেশি কোনো চালককে একটানা দূরপাল্লায় গাড়ি চালাতে না হয়। নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর সড়কের পাশে সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরি করা। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাস্তা পারাপার বন্ধ করা। সড়কে যাতে সবাই সিগন্যাল মেনে চলে-তা নিশ্চিত করা। পথচারী পারাপারে জেব্রাক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধার বিষয়টি নিশ্চিত করা। এছাড়া ১৬ আগস্ট ২০১৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে ট্রাফিক ব্যব্যস্থার উন্নয়ন বিষয়ক এক সভায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১৭টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
নির্দেশনাগুলোহলো-
১. ঢাকা শহরে চলমান সব গণপরিবহন, শহরে চলাকালে সব সময় দরজা বন্ধ রাখা এবং বাস স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠা-নামা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়।
২. একই সময়ের মধ্যে গণপরিবহনে (বিশেষত বাসে) দৃশ্যমান দু’টি স্থানে চালক এবং হেলপারের ছবিসহ নাম, চালকের লাইসেন্স নম্বর, মোবাইল নম্বর প্রদর্শন নিশ্চিত করা।
৩. সব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দু’জন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট পরিধান এবং সিগনালসহ সব ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করা।
৪. সব সড়কে বিশেষত মহাসড়কে চলমান সব পরিবহনে (বিশেষত দূর পাল্লার বাসে) চালক এবং যাত্রীর সিট বেল্ট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া এবং পরিবহনসমূহকে সিট বেল্ট সংযোজনের নির্দেশনা দেওয়া এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. ঢাকা শহরের যেসব স্থানে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস রয়েছে সেসব স্থানের উভয় পাশে ১শ’ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করা। প্রয়োজনে আইনের প্রতিশ্রদ্ধাশীল নাগরিকদের ধন্যবাদ কিংবা প্রশংসাসূচক সম্বোধনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
৬. ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাসসমূহে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্ডারপাসসমূহে প্রয়োজনীয় লাইট, সিসিটিভি স্থাপনাসমূহ ব্যবহার করা।
৭. ঢাকা শহরের সব সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করা, ফুটপাত হকার মুক্ত রাখা, অবৈধ পার্কিং এবং স্থাপনা উচ্ছেদ করা, সব সড়কের নাম ফলক দৃশ্যমান স্থানে সংযোজনের নির্দেশ দেয়া হয়।
৮. ট্রাফিক সপ্তাহে চলমান সব কার্যক্রমসমূহ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যথাসম্ভব অব্যহত রাখা।
৯. স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুৎতিক সিগনাল ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
১০. একই সময়ে ঢাকা শহরে রিমোট কন্ট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগনালিং পদ্ধতি চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়।
১১. ঢাকা শহরের সব সড়কের রোড ডিভাইডারের উচ্চতা বৃদ্ধি করে বা স্থানের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ।
১২. মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত (আপ এবং ডাউনে) ন্যূনতম দু’টি স্থানে স্থায়ী মোবাইল কোর্ট বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রতিনিয়ত দৈব চয়নের ভিত্তিতে যানবাহনের ফিটনেস এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করা। শহরের অন্য সব স্থানেও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অস্থায়ীভাবে অনুরূপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১৩. ঢাকা শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি বা আরম্ভ হবার সময় অপেক্ষাকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী, স্কাউট এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের উদ্যোগ নিতে হবে।
১৪. অবৈধ পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ফিটনেস দেওয়ার প্রক্রিয়াতে অবশ্যই পরিবহন দেখে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৫. রুট পারমিট/ফিটনেস বিহীন যানবাহনসমূহকে দ্রুত ধ্বংস করার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে।
১৬. লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ‘লারনার’ দেওয়ার প্রাক্কালে ড্রাইভিং টেস্ট নেয়া যেতে পারে এবং উত্তীর্ণদের দ্রুততম সময়ে লাইসেন্স দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
১৭. কর্মকর্তা/কর্মচারীর ঘাটতি থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
উপরোক্ত নির্দেশনাগুলোসহ পরিবহন আইন ২০১৮ এর কার্যকর বাস্তবায়ন হলে সড়ক দুর্ঘটনা নিশ্চিত কমে আসবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতনতা  ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

লেখক পরিচিতি:

লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)
নির্বাহী সদস্য ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), কেন্দ্রীয় কমিটি
সভাপতি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা। ফোন- ০১৫৫২৬৩১১১৮,



 

গণপরিবহন বন্ধে শ্রমিকদের দুর্ভোগ
                                  

দেশে বিগত কয়েক মাস ধরে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ফের ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। ঈদুল আজহা সামনে রেখে আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছিল কঠোর বিধিনিষেধ। ফের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়। বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব ধরনের শিল্পকারখানা। শুধু জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান যেমনÑ খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন ও সংরক্ষণ এবং ওষুধ খাতের শিল্পকারখানা খোলা থাকবে বলে জানানো হয়। যে কারণে ঈদের আগে বাড়িতে কোরবানির ঈদ পালন করতে যান রফতানিমুখী কারখানার লাখো শ্রমিক। কিন্তু গত শুক্রবার ঘোষণা আসেÑ ১ আগস্ট থেকে শিল্পকারখানা খোলা থাকবে। গণপরিবহন বন্ধ রেখেই সরকার হঠাৎ করে রফতানিমুখী কলকারখানা খুলে দেয়ায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন লাখ লাখ শ্রমিক। অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্ভোগ সয়েই তাদের ফিরতে হয়েছে কর্মস্থলে। গণপরিবহন না চললেও ট্রাকসহ ছোট ছোট যানবাহনে ফেরিঘাটে পৌঁছান শ্রমিকরা। সেখান থেকে ফেরি, ছোট ছোট নৌকা, স্পিডবোট বা ডিঙ্গিতে যে যেভাবে পেরেছেন নদী পার হয়েছেন। ঈদের পর সরকার লকডাউন ঘোষণা করায় গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন তারা। এখন শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণা শুনে চাকরি বাঁচাতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থলে যেতে ছুটতে হলো তাদের। কাজ হারানোর ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে দলবেঁধে ফিরতে বাধ্য হন তারা। একই সাথে গুনতে হয় তিন-চার গুণ বেশি ভাড়া। করোনার এই দুঃসময়ে চাকরি চলে গেলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর উপায় থাকবে না, এমন শঙ্কায় এই ঝুঁকি নিতে হয়েছে তাদের। সময়মতো কর্মস্থলে হাজির না হলে চাকরি-বেতন দুই-ই খোয়ানোর অভিজ্ঞতা তাদের তাড়া করে ফিরেছে। যদিও সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্যই কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে। কিন্তু গত শনিবার কর্মস্থলে পাগলের মতো ছুটে চলা শ্রমিকরা নদী পারাপারের সময় ফেরিতে ঠাসাঠাসি করে আসেন। সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ফেরিঘাট থেকে রাজধানীসহ নানা প্রান্তে যেতে হয়েছে তাদের। মূলত গত শনিবার ছিল ঢাকামুখী মানুষের ঢল। বিশেষ করে তৈরী পোশাক কারখানার কর্মীদের স্র্রোত দেখা যায়। এমন লেজেগোবরে অবস্থার পর বিলম্বে কর্তাব্যক্তিদের বোধোদয় হয়। রফতানিমুখী শিল্পকারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে গতকাল রোববার সব ধরনের গণপরিবহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। কিন্তু এর আগেই যা ঘটার তা ঘটে গেছে। পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে আসতে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধির যেভাবে লঙ্ঘন হয়েছে; তাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশে করোনার প্রকোপ আরো বেড়ে যেতে পারে। পরিবারের সদস্যসহ নিজেদের পেটের দায় মেটাতে অমানুষিক পরিশ্রম করা গার্মেন্টকর্মীরা এভাবে বারবার হেস্তনেস্ত হচ্ছেন, তাতে কারো কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। অথচ এসব শ্রমিকেরই শ্রম-ঘামে দেশের অর্থনীতি পুষ্ট হচ্ছে। যারা এই আয়ের কারিগর তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় এমন নিষ্ঠুর উদাসীনতা কেন? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দেয়ার গরজ কারো আছে বলে মনে হয় না। বরং যারা এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ নেই সরকারের। সরকারি এই অব্যবস্থাপনা খেটেখাওয়া মানুষের সাথে একধরনের রসিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। এই আচরণ দেখে বলা অসঙ্গত নয় যে, সরকারের ভাবনায় নাগরিকরা যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছেন কি না সন্দেহ। তা না হলে দরিদ্রদের সাথে বারবার এমন দায়িত্বহীন আচরণের অবসান ঘটত বৈকি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যৌক্তিক অযৌক্তিক ও কাল্পনিক সমাচার
                                  

আর আই সরকার

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। এটা শুধু সরকারের একক দাবি ছিল তা কিন্তু নয়, গণদাবি ও ছিল। গণপ্রশ্ন ছিল, সরকার এখনো কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করছে না। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল প্রকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দুটি বিষয় স্পষ্ট প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত ইতিবাচক চিত্র, দ্বিতীয়তটি নেতিবাচক চিত্র। ইতিবাচক চিত্রটা আমরা সবাই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছি, যেমন; শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত থেকে রক্ষা পেয়েছে বা মহামারি প্রকট আকারে ধারন করতে পারেনি। এটা রাষ্ট্রের একটি সাফল্য। কিন্তু নেতিবাচক বিষয়গুলো থেকে আমরা ইতিবাচক কিছু শিক্ষাগ্রহণ করতে পারি, তাই কিছুটা আলোচনা করার উত্তম সময় চলে এসেছে।
দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে গ্রামাঞ্চলে যে চিত্রটা প্রকাশ পেয়েছে তার মধ্যে অন্যতম কিছু দিক ছিল এরূপ; গত ২৭ মে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা স্কুলের দপ্তরীকে স্কুল পরিষ্কার করতে বলায় ঐ স্কুলের দপ্তরীকাম নৈশ প্রহরী প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন! এটা চরম অবক্ষয় ও উদ্বেগের বিষয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীকাম নৈশপ্রহরীরা অস্থায়ী কর্মচারী ও স্থানীয় লোক হওয়ার ফলে পেশী শক্তির অপব্যবহার করে থাকতে পারে। সারাদেশে এই অপসংস্কৃতি বিরাজমান। দপ্তরীকাম নৈশপ্রহরীদের নিজস্ব ড্রেসকোড নেই, নেই সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক আইনী কাঠামো। গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ে ওরা স্বাধীন। শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। যার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক প্রকার গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী শূণ্যতা সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ ছুটিতে থাকা অনেক শিক্ষক কৃষিকাজ সহ বিভিন্ন পেশায় মনোনিবেশ করেছেন, কোন কোন শিক্ষক গ্রুপ করে গোপনে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশের অনেক প্রথামিক বিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী গরুর ছাগলের খামার বসছে, কিছু প্রতিষ্ঠানের ভিতরে খড় রাখা হয়েছে। এলজিইডি’র রাস্তার কাজে চুলা বানিয়ে, বিটুমিন পুড়িয়ে ও পাথর জ্বালিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ নোংরা করে রাখা হয়েছে। শহর বা উপশহরের অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শিক্ষকরা যুক্ত হচ্ছেন নানা পেশায়। শিক্ষার্থীরা ঝুকে যাচ্ছে মোবাইল গেইমসে, ইন্টারনেটের অপব্যবহারে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরগ্যাং নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী। অলস বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গনে সন্ধ্যায় মাদকের আড্ডাও বসাচ্ছে অনেক কিশোরগ্যাং দল। অর্থাৎ পড়ালেখা ছাড়া বাকি সব চলছে।
সরকার দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ রেখে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অফিসিয়াল কাজ করার জন্য ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। যদি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি সপ্তাহে ছাত্র-ছাত্রীদের এসাইনমেন্ট দিয়ে খাতা জমা নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের এসাইনমেন্ট দেওয়া জমা নেওয়া হয়নি। শহরাঞ্চেলে এসাইনমেন্ট জমা নিলে ও গ্রামাঞ্চেলের চিত্র ভিন্ন। আমাদের স্কুল কমিটিগুলো কোথায়, উপজেলা শিক্ষা অফিস কি নিয়মিত তদারকি করছেন? এই প্রশ্নের সময় চলে গিয়েছে। এখন আগামীর জন্য চিন্তা করতে হবে।

 

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেও আমরা করোনাকালীন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে উপযুক্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারিনি। সরকার শিক্ষাব্যবস্থা চলমান রাখতে শুরু থেকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছেন, তবে আমাদের আর্থ সামাজিক ও ডিজিটাল অবকাঠামোর কিছু সমস্যার কারনে তেমন সুফল আসেনি। অনলাইনে ঢাকা সহ বড় কিছু শহরে প্রথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ক্লাসকরা সম্ভব হলেও গ্রাম ও মফস্বলের ছাত্র-ছাত্রীরা সে ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হয়। সরকারি উদ্যোগে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ক্লাস ও খুব বেশি জন প্রিয়তা পায়নি এবং এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ আমরা শিক্ষা কার্যক্রমে কিন্তু পিছিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উত্তরনের পথ খুঁজতে হবে। ধরুন আমরা বিদ্যালয় খুলতে চাই। এখন আমাদের করনীয় কি?
আসুন, আমরা সকল স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় নিয়ে কিছু কাল্পনিক চিন্তা করি। প্রথমত, ধরুন আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলতে চাই। তাহলে শুধু প্রথম শ্রেণীর ক্লাস হবে সপ্তাহের রবিবার যা তিনটি সিফটে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে কয়েকটি শাখা করে ক্লাস নেওয়া। এখানে প্রথম সিফট সকাল ৮.০০ ঘটিকা হতে ১০.০০ ঘটিকা পর্যন্ত, দ্বিতীয় সিফট ১১.০০ ঘটিকা হতে দুপর ১.০০ ঘটিকা পর্যন্ত এবং তৃতীয় সিফট দুপর ২.০০ ঘটিকা থেকে ৪.০০ ঘটিকা পর্যন্ত। প্রতিটি সিফট শুরুর মাঝে ১ ঘন্টা বিরতি থাকায় স্কুলে শিক্ষার্থীদের জট তৈরি হবে না এবং শাররীক দূরত্ব বঝায় রাখা সহজ হবে। এই ভাবে সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবারে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর তিনটি সিফট পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করলে দেশের চলমান দীর্ঘ সময় বিদ্যালয় বন্ধ রাখার পথ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে এবং প্রতিষ্ঠান-শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে তা কমে আসতে পারে।
একই প্রক্রিয়া আমরা দেশের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও চিন্তা ভাবনা করে দেখতে পারি। অথবা প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ট্রায়াল বেসিস শুরু করতে কিন্তু পারি। কাল্পনিক চিন্তা থেকে এবার বাস্তবিক চিন্তা যদি করি তাহলে দেখা যায়, এ এসসি দুটি ব্যাচ জট লেগেছে, একাদশ এর শিক্ষার্থীরা এখনকি একাদশ নাকি দ্বাদশ পড়বে। অনার্স প্রথম বর্ষ শিক্ষার্থীরা এখন কোন বর্ষে পড়বে। দেশে শিক্ষা জট যতই থাকুক শিক্ষার্থীদের বয়স জট কিন্তু নেই। আমাদের দেশে চাকুরীর বয়স নির্ধারন করা আছে ৩০ বছর। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষা যারা দিতে পারেনি বা অনার্স চতুর্থ বর্ষে যারা আটকিয়ে গিয়েছে তাদের চাকুরীর বয়স কিন্তু থেমে থাকেনি ? তাদের জন্যও কি ৩০ বছর থাকবে? সূতরাং জট যুক্তের আগেই জট মুক্তের চিন্তা করতে হবে। অন্তত কাল্পনীক চিন্তা হলেও করতে হবে। আমাদের দেশে শিক্ষা নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা ‘এডুকেশন ওয়াচ’ তাদের ২০২০-২১ সমীক্ষার অন্তর্র্বতীকালীন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চায়। অর্থাৎ তারা স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে। আর ৭৬ শতাংশ অভিভাবক ও ৭৩ শতাংশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে। তবে ৫৮ শতাংশ শিক্ষক ও ৫২ শতাংশ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সতর্ক তার সঙ্গে স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে বলেছেন।
শিক্ষা জটমুক্ত থাকতে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করার দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন, সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি ও কিছু প্রেস কনফারেন্স করছেন বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন লিখেছেন, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ জন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন ছাত্রছাত্রী। যাদের অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছে, কেউ বা ছন্নছাড়া জীবনে অভ্যস্থ হয়ে গেছেন।
এবার দুটি বাস্তব গল্প বলে শেষ করছি, এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কোন ক্লাসে পড়, সে বলল আগে “এক্স” ক্লাসে পড়তাম এখন কোন ক্লাসে পড়ি জানি না। দি¦তীয়টি হল, প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ পত্র ফটোকপি করতে গিয়ে ছিলাম। ফটোকপির দোকানের ছেলেটাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কি নতুন? না! দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকার কারনে পড়ালেখা নেই তাই দোকানে বসে টুকটাক কিছু করছি। তার এই টুকটাক কিছু করাটা দিনের পর দিন পড়ারেখা থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এটা একজন শিক্ষার্থীর চিত্র নয়, পুরো রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে। আসুন বাস্তবে না হলে কাল্পনিক ভাবে হলেও শিক্ষাকার্যক্রম চালু করার চিন্তা করি। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড।

আর আই সরকার
লেখক ও গবেষক

rahiqulislam@gmail.com

ডেঙ্গু ও নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিতে সর্বোত্তম ব্যবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী‘র বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণরোগ প্রতিরোধ
                                  
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী, সুপ্রিয় দেশবাসী এবং সুধীবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম। আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সময়োপযোগী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন একটি অত্যাশ্চার্য্য আবিস্কার নিয়ে। আর তা হলো ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধক এবং ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। ইদানিং ডেঙ্গুর প্রকোপে যখন সারাদেশবাসী আতংকগ্রস্থ, ঠিক এই মুহূর্তে সুদীর্ঘ ২০ বছরের গবেষণা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ এবং বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মহান সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় আমি এই সফলতায় উত্তীর্ণ হয়েছি যে, হোমিওপ্যাথি শাস্ত্র অনুযায়ী সিম্পটমিক (ঝুসঢ়ঃড়সরপ) বিশেষ কিছু মেডিসিন প্রয়োগের ফলে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই পূর্ব হতেই যদি আমার গবেষণা লদ্ধ মেডিসিন প্রয়োগ করা যায় তাহলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার কোন ঝুঁকি থাকেনা। আর পূর্ব হইতে যদি কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে ডেঙ্গু জ্বর হয়েই যায়। তাহলে ও চিন্তার কোন কারণ নেই। আমার রিসার্সকৃত ডেঙ্গু জ্বরের মহৌষধ প্রয়োগের ফলে রোগী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, ঐ অবস্থা হতেই রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটবে। রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে। ডেঙ্গুু জ্বর হলে রোগীর চষধঃবষবঃব দ্রুত কমতে থাকে, মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও বমি, অরুচি, ক্ষুধামন্দা, খেতে না পারা ইত্যাদি উপস্বর্গগুলো দেখা দেয়। তাহা আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে খুব তাড়াতাড়ি দুরীভুত হয় এবং রোগী দ্রুতই সুস্থ্যতা লাভ করে। ডেঙ্গু রোগীর বিপদজনক অবস্থা হলো হেমোরোজিক অবস্থা। এই অবস্থায় রোগীর চোখ মুখ লাল, থমথমে ভাব, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অনেক সময় বমির সাথে রক্ত আসা, ইন্টারনাল রক্তক্ষরন। এই অবস্থায়ও যদি সঠিক ভাবে আমার এই ঔষধ প্রয়োগ করা যায়, তাহলেও সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় (রহমতে) রোগী সুস্থ্য হয়ে উঠে। আমার এই সুদীর্ঘ পরিশ্রম ও গবেষণার ফসল যদি আমি লোকহিতার্থে জনগনের কল্যাণে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলেই আমার জীবন স্বার্থক বলে মনে করব। ইতি মধ্যেই আমি মানিকগঞ্জ শহরে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী চিকিৎসা করে প্রায় ৯৯% সফল হয়েছি। তাই আমার এই আবিস্কার দ্বারা সমগ্র দেশবাসী তথা সমগ্র বিশ্ববাসীর সেবা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি যে, আমার এই আবিস্কারের সফলতা প্রমাণের জন্য আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুযোগ দেওয়া হোক। ডেঙ্গু রোগী যেখানে বেশী ভর্তি আছে সেই রকম বড় বড় কয়েকটি মেডিকেলে আমার ঔষধ প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়ে ফলাফল যাচাই করা হোক। রোগী হসপিটালে ভর্তি থাকবে। হসপিটালের কেয়ারেই থাকবে, হসপিটালের যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাই দিবে, তাতেও সমস্যা নেই। ঐ চিকিৎসার সাথে শুধু মাত্র আমার ঔষধ প্রয়োগ করা হবে এবং বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেখানে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীকে শুধু মাত্র প্যারাসিটামল ব্যতিত কোন প্রকার অহঃরনরড়ঃরপ বা অংঢ়রৎরহ জাতীয় কোন ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে না। আর এই কারণেই, রোগী খারাপের দিকে গেলেও তাকে বাঁচানোর জন্য পর্যাপ্ত কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করা সম্ভব হয় না। সেখানে আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে রোগী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, সেই অবস্থা হতেই আরোগ্য লাভ করবে। এটাতো হবে অত্যাশ্চার্য্য ভাবে রোগীর নতুন জীবন ফিরে পাওয়া। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশের সমস্ত ডাক্তারবৃন্দ এবং সমগ্র দেশবাসির নিকট আমার আকুল আবেদন আপনারা সকলেই আমার চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োগ করে পর্যবেক্ষণ করে, ফলাফল যাচাই করা হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নিকট আমার এই আবেদন আপনারা আমার এই চিকিৎসার সফলতা প্রমাণ করার লক্ষ্যে আপনাদের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বড় বড় হসপিটালে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আমাকে সুযোগ দান করা হোক, সফলতার প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। যেখানে কয়েক হাজার ডেঙ্গু আক্রান্তরোগী রোগ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। অনেক রোগী মারাও যাচ্ছে। সেখানে এত ভাল একটা চিকিৎসা পদ্ধতি মানব কল্যাণে গ্রহণ করা হবে একটি অতি মহৎ কাজ। মানুষ হিসাবে অপর একজন মানুষের কল্যাণ কামনাই তো মানুষের মহত্ব্যের পরিচয়। এছাড়া অধিক মশক কবলিত অঞ্চল চিহ্নিত করে আমার ডেঙ্গু প্রতিরোধক ঔষধ প্রয়োগ করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হোক। যেখানে পূর্বে অধিক পরিমানে মশক বাহিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হইত, আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে সেখানে আল্লাহর রহমতে উল্লেখযোগ্য হারে মশক বাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে। ইহা আমার বহুবার পরিক্ষীত। তাই আমার এই আবিষ্কারকে তুচ্ছ না করে, যথোপযুক্তভাবে প্রয়োগ করে ফলাফল যাচাই করে মানব কল্যানে ব্যাপকভাবে প্রচার এবং ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাই কারো সাথে বিরোধ নয়, যদি মানুষের কল্যাণ কামনাই মানব ধর্ম হয় তাহলে অত্যন্ত ভাল পার্শ্ব প্রতিক্রীয়াহীন সফল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রমাণ করে গ্রহণ করলে অবশ্যই সেটা মহৎ কর্ম হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে আমি মহান সৃষ্টিকর্তার উপর পূর্নআস্থা ও বিশ্বাস রেখে আশ্বস্থ্য করতে চাই যে সমগ্র বাংলাদেশ হতে ডেঙ্গু নির্মূলের জন্য আমার এই আবিষ্কার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইনশাল্লাহ। বিনীত নিবেদক (ডাঃ পিকে হালদার) হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত ৭৬, শহীদ রফিক সড়ক, মানিকগঞ্জ। মোবাইল- ০১৭১৮৬২০৫৫০, ০১৬৮৬৭৮৫৪৫৫ ঊসধরষ- ফৎঢ়শযধষফবৎ২০১১@মসধরষ.পড়স
ডেঙ্গু ও নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিতে সর্বোত্তম ব্যবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী‘র বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণরোগ প্রতিরোধ
                                  
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী, সুপ্রিয় দেশবাসী এবং সুধীবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম। আজ আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সময়োপযোগী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন একটি অত্যাশ্চার্য্য আবিস্কার নিয়ে। আর তা হলো ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধক এবং ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে। ইদানিং ডেঙ্গুর প্রকোপে যখন সারাদেশবাসী আতংকগ্রস্থ, ঠিক এই মুহূর্তে সুদীর্ঘ ২০ বছরের গবেষণা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ এবং বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মহান সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় আমি এই সফলতায় উত্তীর্ণ হয়েছি যে, হোমিওপ্যাথি শাস্ত্র অনুযায়ী সিম্পটমিক (ঝুসঢ়ঃড়সরপ) বিশেষ কিছু মেডিসিন প্রয়োগের ফলে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই পূর্ব হতেই যদি আমার গবেষণা লদ্ধ মেডিসিন প্রয়োগ করা যায় তাহলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার কোন ঝুঁকি থাকেনা। আর পূর্ব হইতে যদি কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে ডেঙ্গু জ্বর হয়েই যায়। তাহলে ও চিন্তার কোন কারণ নেই। আমার রিসার্সকৃত ডেঙ্গু জ্বরের মহৌষধ প্রয়োগের ফলে রোগী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, ঐ অবস্থা হতেই রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটবে। রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে। ডেঙ্গুু জ্বর হলে রোগীর চষধঃবষবঃব দ্রুত কমতে থাকে, মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও বমি, অরুচি, ক্ষুধামন্দা, খেতে না পারা ইত্যাদি উপস্বর্গগুলো দেখা দেয়। তাহা আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে খুব তাড়াতাড়ি দুরীভুত হয় এবং রোগী দ্রুতই সুস্থ্যতা লাভ করে। ডেঙ্গু রোগীর বিপদজনক অবস্থা হলো হেমোরোজিক অবস্থা। এই অবস্থায় রোগীর চোখ মুখ লাল, থমথমে ভাব, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অনেক সময় বমির সাথে রক্ত আসা, ইন্টারনাল রক্তক্ষরন। এই অবস্থায়ও যদি সঠিক ভাবে আমার এই ঔষধ প্রয়োগ করা যায়, তাহলেও সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় (রহমতে) রোগী সুস্থ্য হয়ে উঠে। আমার এই সুদীর্ঘ পরিশ্রম ও গবেষণার ফসল যদি আমি লোকহিতার্থে জনগনের কল্যাণে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলেই আমার জীবন স্বার্থক বলে মনে করব। ইতি মধ্যেই আমি মানিকগঞ্জ শহরে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী চিকিৎসা করে প্রায় ৯৯% সফল হয়েছি। তাই আমার এই আবিস্কার দ্বারা সমগ্র দেশবাসী তথা সমগ্র বিশ্ববাসীর সেবা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি যে, আমার এই আবিস্কারের সফলতা প্রমাণের জন্য আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুযোগ দেওয়া হোক। ডেঙ্গু রোগী যেখানে বেশী ভর্তি আছে সেই রকম বড় বড় কয়েকটি মেডিকেলে আমার ঔষধ প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়ে ফলাফল যাচাই করা হোক। রোগী হসপিটালে ভর্তি থাকবে। হসপিটালের কেয়ারেই থাকবে, হসপিটালের যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাই দিবে, তাতেও সমস্যা নেই। ঐ চিকিৎসার সাথে শুধু মাত্র আমার ঔষধ প্রয়োগ করা হবে এবং বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেখানে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীকে শুধু মাত্র প্যারাসিটামল ব্যতিত কোন প্রকার অহঃরনরড়ঃরপ বা অংঢ়রৎরহ জাতীয় কোন ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে না। আর এই কারণেই, রোগী খারাপের দিকে গেলেও তাকে বাঁচানোর জন্য পর্যাপ্ত কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করা সম্ভব হয় না। সেখানে আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে রোগী যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, সেই অবস্থা হতেই আরোগ্য লাভ করবে। এটাতো হবে অত্যাশ্চার্য্য ভাবে রোগীর নতুন জীবন ফিরে পাওয়া। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশের সমস্ত ডাক্তারবৃন্দ এবং সমগ্র দেশবাসির নিকট আমার আকুল আবেদন আপনারা সকলেই আমার চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োগ করে পর্যবেক্ষণ করে, ফলাফল যাচাই করা হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নিকট আমার এই আবেদন আপনারা আমার এই চিকিৎসার সফলতা প্রমাণ করার লক্ষ্যে আপনাদের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বড় বড় হসপিটালে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আমাকে সুযোগ দান করা হোক, সফলতার প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। যেখানে কয়েক হাজার ডেঙ্গু আক্রান্তরোগী রোগ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। অনেক রোগী মারাও যাচ্ছে। সেখানে এত ভাল একটা চিকিৎসা পদ্ধতি মানব কল্যাণে গ্রহণ করা হবে একটি অতি মহৎ কাজ। মানুষ হিসাবে অপর একজন মানুষের কল্যাণ কামনাই তো মানুষের মহত্ব্যের পরিচয়। এছাড়া অধিক মশক কবলিত অঞ্চল চিহ্নিত করে আমার ডেঙ্গু প্রতিরোধক ঔষধ প্রয়োগ করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হোক। যেখানে পূর্বে অধিক পরিমানে মশক বাহিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হইত, আমার এই ঔষধ প্রয়োগের ফলে সেখানে আল্লাহর রহমতে উল্লেখযোগ্য হারে মশক বাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে। ইহা আমার বহুবার পরিক্ষীত। তাই আমার এই আবিষ্কারকে তুচ্ছ না করে, যথোপযুক্তভাবে প্রয়োগ করে ফলাফল যাচাই করে মানব কল্যানে ব্যাপকভাবে প্রচার এবং ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাই কারো সাথে বিরোধ নয়, যদি মানুষের কল্যাণ কামনাই মানব ধর্ম হয় তাহলে অত্যন্ত ভাল পার্শ্ব প্রতিক্রীয়াহীন সফল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রমাণ করে গ্রহণ করলে অবশ্যই সেটা মহৎ কর্ম হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে আমি মহান সৃষ্টিকর্তার উপর পূর্নআস্থা ও বিশ্বাস রেখে আশ্বস্থ্য করতে চাই যে সমগ্র বাংলাদেশ হতে ডেঙ্গু নির্মূলের জন্য আমার এই আবিষ্কার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইনশাল্লাহ। বিনীত নিবেদক (ডাঃ পিকে হালদার) হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত ৭৬, শহীদ রফিক সড়ক, মানিকগঞ্জ। মোবাইল- ০১৭১৮৬২০৫৫০, ০১৬৮৬৭৮৫৪৫৫ ঊসধরষ- ফৎঢ়শযধষফবৎ২০১১@মসধরষ.পড়স
চলার পথে চাই ক্রটিমুক্ত নিরাপদ বাহন
                                  

স্মৃতিময় ভট্টাচার্য্য

রাজধানীর অধিকাংশ অফিসই ছুটি হয়ে গেছে। বাসস্ট্যান্ডে হাজারো জনতার ঢল। এদিকে গণপরিবহণে উপচেপড়া ভীড় তার উপর যানবাহনের সøথ গতিতে রাজপথ যেন বন্ধ হয়ে আছে। কীভাবে বাসস্থানে পৌঁছাবে এ নিয়ে ব্যস্ত সকলই। অনেকে পদব্রজে এগোতে থাকেন। সেটারও কী উপায় আছে? ফুটপাতের অধিকাংশই থাকে ভাসমান দোকান, গাড়ির গ্যারেজ এবং নার্সারির গাছ দ্বারা দখলকৃত। বাকি যেটুকু থাকে তাতে ঠেলাঠেলি করে হাঁটতে গিয়েও দেখা যায় বাইসাইকেল, মটরসাইকেল, এমন কী সিএন্ডজি ও রিক্সার সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে হয়। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চিন্তা করলাম কি করা যায়। সামনে এসে একটি সাইকেল থামল। স্যার কোথায় যাবেন? পরিচয় দিল পাঠাও ড্রাইভার। আমি সায় দিলাম না। পাশ থেকে একজন যাত্রী বলল ভাই ফার্মগেইট যাবেন? দর কষাকষির পর ১৬০ টাকায় ভাড়া ঠিক করে যানজট এড়ানোর জন্য উল্টোপথে চলতে শুরু করল। মোবাইলে টিপ দিয়ে দেখলাম ভাড়া ৫৫ টাকা। বেশি নিলে ৭০ বা ৮০ টাকা নিতে পারতো। কিন্তু সেখানে ১৬০ টাকা?
জনবহুল এই ব্যস্ত শহরে মানুষের দুর্ভোগের যেন অন্ত নেই। এই অসুবিধার সুযোগে পাঠাও, উবার, সহজ আরও বিভিন্ন মুঠোফোন অ্যাপভিত্তিক সার্ভিস হয়েছে। যাতে যাত্রীরা মুঠোফোনের মাধ্যমে অবস্থান জেনে এসব যানবাহন ডেকে সহজে নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। ফলে বাহনগুলো দিনে দিনে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে সাধারন মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে ‘পাঠাও’ নামে চালু হয় অ্যাপভিত্তিক সার্ভিস। এই সেবা প্রতিষ্ঠানটি শুরুর দিকে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে বলে তাদের রাইডার সংখ্যাও উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। পাঠাও এর মাধ্যমে অনেক তরুণ তাদের কর্মসংস্থান করতে পেরেছে। কিন্তু এর সাথে যোগ হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা। যাচাই বাচাই এর ব্যবস্থা ক্রটি থাকার কারণে এগুলো হচ্ছে। যেমন যাত্রীদের সাথে অসংগলগ্ন আচরণ, গন্তব্যের আগেই রাইড শেষ করায় প্রবণতা, দাম দর করে যাত্রী উঠানো, ফুটপাত দিয়ে এবং উল্টোপথে বাইক চালানো, মহিলা যাত্রী পেছনে বসিয়ে হার্ড ব্রেক করা এবং নম্বর সংগ্রহপূর্বক কল, এসএমএস, ফেইসবুক কল রিকোয়েস্ট পাঠানো ইত্যাদি সহযোগিতার মনেভাব নিয়ে বেপরোয়া বাইক চালানো। একজন রাইডারের অ্যাপ ব্যবহার করে অন্য রাইডার এর ভিন্ন আনফিট বাইক চালানো, অদক্ষ মাদকাসক্ত, অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাইক রাইডার নিয়োগ হওয়ায় যাত্রী জীবন দিনদিন ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে ঘন ঘন দুর্ঘটনার। যাত্রী কমিউনিটিতে এসব পাঠাও রাইডারের এমন হাজারো অসুবিধার কথা শোনা যায়। এসব রাইডারের ঘন ঘন দুর্ঘটনায় পড়ার নিরাপত্তাহীন কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা পাঠাও কর্তৃক বিতরণ করা হেলমেটকে দায়ী করেছেন। যার সুরক্ষা ব্যবস্থা খুবই নিম্নমানের। অন্যদিকে চালকদের নিবন্ধন পদ্ধতি এবং চালক নির্বাচন অত্যন্ত ক্রটিপূর্ণ। শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স ফটোকপি এবং এনআইডির ফটোকপি থাকলেই পাঠাও এর অ্যাকটিভ রাইডার হওয়া যায়। কোন ধরনের শারীরিক পরীক্ষা বা আসক্তির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কোন প্রচেষ্টা নিয়োগ পদ্ধতিতে নেই।
জানা যায় পাঠাও প্রতিষ্ঠানটি ১০ হাজার নিম্নমানের হেলমেট বিতরণ করেছে যার মূল্য ৩৫০ টাকা মাত্র। এগুলো ব্যবহারে যাত্রীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে পাঠাও এর একজন বিপণন কর্মকর্তার মন্তব্য হচ্ছে, যাত্রীদেরকে ব্যবহারে অভ্যস্ত করার জনই নাকি এসব হেলমেট আকৃতির ক্যাপগুলো বিতরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন অনেক দামী হেলমেট ব্যবহারেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
খবরে প্রকাশ হেলমেটের মান নিয়ে বিএসটিআইএ’র একজন কর্মকর্তা জানান হেলমেট বাংলাদেশে তৈরি হয় না, তবে আমদানীকৃত হেলমেটের বাধ্যতামূলক মান নির্ধারণের জন্য তা আমদানী নীতিতে অর্ন্তভ‚ক্ত করা হবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে পাঠাও এর চালক এক মহিলা যাত্রিকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনা থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা মহিলাকে রক্ষা করেন। এমন অনেক পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে যা অজানাই থেকে যায়।
তবে আশার বাণী হলো এ ব্যপারে স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এসেছে স্কাউট এবং গার্লস গাইডের ছাত্র-ছাত্রীরা। তাছাড়া ইদানিং আরও অনেক সংগঠনের নাম উল্লেখ করা যায়। ‘সিটিজেন অব সেফ ঢাকা’ নামক একটি সংগঠনকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা যায়। তারাও সেইফ ঢাকা- সেইফ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে। পুলিশের পাশাপাশি এসব সংগঠন কাজ করলেও সফলতা পেতে প্রয়োজন জনসচেতনতা। রাইড ব্যবহারের পূর্বে যাচাই বাচাই করা যেমন বাঞ্চনীয়, তেমনি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে উল্টোপথে চলতেও বাধা দান করতে হবে। অন্যদিকে কোম্পানিগুলো কেবল তাদের ব্যবসার প্রচার, প্রসার নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিয়োগ ব্যবস্থা, যাত্রি নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হেলমেট এবং তাদের রেজিস্ট্রেশন করা গাড়ির ফিটনেস এর দিকে সতর্কতামূলক দৃষ্টি নেয়ার প্রয়োজন। নয়তো দিনদিন দুর্ঘটনা বাড়বেই। গত কয় মাসে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এর ভয়াবহতা দেখা যায়। জানা যায় গত তিন মাসে মামলা হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার যার আর্থিক দন্ড সাড়ে চার কোটি টাকারও বেশি। শুধু চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১৮ হাজার। ফিটনেসবিহীন ডাম্পিং করা হয়েছে ৮ হাজার ৭৮২টি যানবাহন।
সম্প্রতি একটি দৈনিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য পাঠাও এর বিরুদ্ধে নোটিশসহ বিভিন্ন অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে মিডিয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে। রেডিও, টেলিভিশন এবং পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণকে কিছুটা হলেও সচেতন করে তোলা যায়। তাতে রাইডার, জনগণ এবং কর্তৃপক্ষ সকলই উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। চলার পথে এই জটনির্ভর জনজীবনের প্রধান চাহিদাই হলো নিরাপদ এবং ক্রটিমুক্ত যানবাহন। আপনার আমার সকলের সহযোগিতায় এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হোক এটাই আগামী দিনের প্রত্যাশা।

 

নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ
                                  

দলীয় ও জোটের প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়নের পর নির্বাচনের মূল স্রোত বইতে শুরু করেছে। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ তালিকা পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। যাঁরা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা আনন্দের সাগরে ভাসছে। অনেক নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন পেতে যাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মনোনয়ন পাননি এমন অনেক নেতা অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে সব নির্বাচনই উৎসবমুখর পরিবেশে হয়ে থাকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও শঙ্কাহীন ও উৎসবমুখর হবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। কিন্তু সব রাজনৈতিক দলেই উপদল আছে। রাজনৈতিক নেতাদের নিজস্ব গ্রুপ ও কর্মী-সমর্থক বাহিনী রয়েছে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রার্থীরা পূর্ণ উদ্যমে মাঠে নামবেন। কর্মী-সমর্থকরা সব ভুলে প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করবে। কোথাও কোথাও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটবে। উত্তেজনা ছড়াবে ভোটের মাঠে। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে ভোটের ফল প্রকাশের পর পর্যন্ত এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকবে। কিন্তু পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এখন থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা শুরু হবে। এলাকায় মাইকে প্রচার চালানো হবে। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী অফিস হবে। হাট-বাজারে বিলি করা হবে প্রচারপত্র। সব মিলিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে যাবে ভোটের আমেজ। নির্বাচনমুখী সব কর্মকাণ্ড উৎসবমুখর পরিবেশেই হোক—এটাই সবার চাওয়া। কোনো অবস্থায়ই যেন প্রার্থীদের একপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের সংঘাত-সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও না ঘটে।

নির্বাচনে পক্ষ-প্রতিপক্ষ থাকবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে কোথাও কোথাও। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। কর্মী-সমর্থকরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাবে, তাতে কোনো অবস্থায়ই বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। এখন থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাই সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় ভোটের আগে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এলাকায় ফিরতে শুরু করে। এবারও যে ব্যতিক্রম ঘটবে, তা নয়। পেশিশক্তি দমনের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্টেটদের ব্রিফ করার সময় এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। কোনো ‘বিভ্রান্তিকর বা বিব্রতকর’ পরিস্থিতির মধ্যে পড়লে ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবেলা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আমরা আশা করব, নির্বাচনের আগে ও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। সংশ্লিষ্ট সবাই কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে। শঙ্কাহীন, উৎসবমুখর পরিবেশে হোক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮
                                  

উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদপত্রকে বিকল্প সংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংসদে রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়। সংবাদপত্রেও সরকারের কাজকর্মের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা হয়। উন্নত দেশগুলোতে এর জন্য সংবাদমাধ্যমকে নানাভাবে সহযোগিতা করা হয়। এর উল্টোটা হয় তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে। ক্ষমতাসীনরা বরাবর সেখানে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধেরই সুযোগ খুঁজতে থাকে। বাংলাদেশও যেন তার ব্যতিক্রম নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ নামে একটি আইন পাস করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে। অথচ এই আইনের ৩২ ধারাসহ অন্তত আটটি ধারা সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোসহ সংশ্লিষ্ট মহলগুলো প্রবল আপত্তি জানিয়ে আসছে। আইনটি আগেই মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। গত সোমবার সেই ধারাগুলো প্রায় অপরিবর্তিত রেখেই সংসদীয় কমিটি সংসদে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই আইন বাস্তবায়িত হলে এ দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার আর কোনো সুযোগই থাকবে না।

সম্পাদক পরিষদ প্রস্তাবিত আইনের আটটি (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩) ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি আপত্তি ছিল ৩২ ধারা নিয়ে। সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে ‘ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তি’ শব্দটি বাদ দিয়ে তার সঙ্গে ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই মোতাবেক ৩২(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতাভুক্ত অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করিতে সহায়তা করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ আইনের ৩২(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি উপধারা-১-এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ সংঘটন করেন, তাহা হইলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ পাশ্চাত্যের ১০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরাও ৩২ ধারাসহ এই আইনের চারটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি আইনের ৯টি ধারা সম্পর্কে তাদের আপত্তি জানিয়েছিল। সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে এসব আপত্তি বস্তুত কোনো গুরুত্বই পায়নি। সংবাদপত্র-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এরপর কোনো সাংবাদিকের পক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠানের খবর সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সরকারি দপ্তরের প্রায় সব নথিই গোপনীয় এবং সেগুলোর কপি সংগ্রহ করা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুযায়ী অপরাধ বলে গণ্য হবে। তাহলে কি এ দেশে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রয়োজনই নেই—এমন প্রশ্ন অনেকেরই।

আমরা আশা করি, আইনটি সংসদে পাস হওয়ার আগে সংবাদপত্র-সংশ্লিষ্টদের আপত্তিগুলো আবারও পর্যালোচনা করা হবে এবং এমন কোনো আইন পাস করা হবে না, যা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
                                  

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম মতবিনিময় সভার মতো দ্বিতীয় সভায়ও তিনি নীতিনির্ধারণী কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। আজকের দিনের রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনা করে বেশ কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

দেশে একসময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্মানের চোখে দেখা হতো। রাজনীতি পরিচালিত হতো গণমানুষের কল্যাণ চিন্তা করে। রাজনৈতিক দলগুলো যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করত, তাতে সাধারণ জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত হতো। এসব কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়। কিন্তু আজকের দিনে সেই অবস্থা আর লক্ষ করা যায় না। এখন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি যেন অনেকটাই চাপিয়ে দেওয়া। দলের পক্ষ থেকে জনস্বার্থের কথা বলা হলেও সেখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায় না। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব বিষয় উল্লেখ করেছেন। আগের দিনে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বকে আলাদা চোখে দেখা হতো। তার কারণ হচ্ছে, যাঁরা রাজনীতি করতেন তাঁরা সবাই ছিলেন বিশেষ আদর্শের অনুসারী। জনকল্যাণই ছিল তাঁদের ব্রত। কিন্তু আদর্শের রাজনীতি দল ও নেতাকর্মীরা যেন বিস্মৃত হয়েছেন। আজকের দিনে তাই দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলে বিপরীত আদর্শের লোকজনের ভিড়। অনেকেই ক্ষমতার মোহে ক্ষমতাসীন দলে এসে যোগ দেয়। তাতে বড় ধরনের ক্ষতিও হয়। আদর্শের রাজনীতির প্রতি অনুগত নেতাকর্মীদের অবজ্ঞা করা হয়। সাধারণ মানুষের কাছেও রাজনৈতিক দল আস্থা হারায়। বিপরীত মতের লোকজন দলে ভিড়ে দলকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সাধারণত এ ধরনের এজেন্ডা নিয়েও রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে। ক্ষমতাসীন দলের উন্নয়নও তখন সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। দলের মধ্যে দুর্নীতি ঢুকে পড়ে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পর পর দুই পর্বে সরকার গঠনের পর দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তার অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে অনুপ্রবেশকারীদের কারণে। সরকার জঙ্গিবাদ দমনে সফল হয়েছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের কাছে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সরকারের উন্নয়নের সুফল পেতে শুরু করেছে দেশের সাধারণ মানুষ। কিন্তু কিছু সুবিধাবাদী মানুষের কারণে দল সম্পর্কে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বকে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে। শিকড়ে ফিরতে না পারলে একসময়ের জনসম্পৃক্ত দলও যে জনভিত্তি হারায়, বাংলাদেশে তো বটেই, ভারতীয় উপমহাদেশসহ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার অনেক উদাহরণ আছে। আর সে কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে যেতে বলেছেন শেখ হাসিনা। আমরা আশা করি, তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম
                                  

এবারও রোজার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলো না। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম কোনো কারণ ছাড়াই ঊর্ধ্বমুখী। সরকার কিংবা ব্যবসায়ীদের আশ্বাস কোনো কাজে লাগেনি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সব পণ্যের মজুদ চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি থাকায় মূল্যবৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাজারে সব জিনিসের দামই বেড়েছে। রোজার সময় চিনির ব্যবহার বেড়ে যায়। বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। অথচ আমদানি ক্ষেত্রে গত ডিসেম্বর থেকে চিনির দাম টনপ্রতি ৫০ ডলার কমেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঢাকায় পেঁয়াজের পাইকারি আড়তে অভিযান চালিয়ে বস্তার গায়ে দাম ও পরিমাণ লেখার নির্দেশনা দিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা এখনো এ নির্দেশনা মানছেন না। কথা ছিল বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিমসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও জাল-জালিয়াতি নিয়ে নজর রাখবে। বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও নেই। অনিবার্য প্রভাব পড়েছে বাজারে। নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ইচ্ছামতো জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন খরচ কিংবা আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ওঠানামা নয়, বাংলাদেশের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে বাজার সিন্ডিকেটের গোপন ইশারায়। ক্ষেত্র বিশেষে মনে করা যেতে পারে, এই সিন্ডিকেটের কাছে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও অসহায়। প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে পণ্যের দাম লেখা আছে কি না, উৎপাদন ও মেয়াদ ঠিকঠাক আছে কি না—এসব নিয়ে মোবাইল কোর্ট সর্বশেষ কবে পরিচালিত হয়েছে? সাধারণ ভোগ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো, পণ্য তৈরির পরিবেশসহ নানা বিষয়ে রোজার মাসে কোনো অভিযান বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কোনো সিদ্ধান্ত কি গত বুধবার পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিয়েছে? ওদিকে আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি জানিয়েছে, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশেরও বেশি সরাসরি পানের জন্য নিরাপদ নয়। ওই দুধ বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া এবং পাঁচটি জেলার ১৫টি হিমাগার থেকে সংগৃহীত নমুনায় মলবাহিত কলিফর্ম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশের নমুনাই কোলাই দ্বারা উচ্চমাত্রায় দূষিত। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, দুগ্ধ খামার থেকে শুরু করে বিক্রির জন্য পাঠানো প্রতিটি পর্যায়ে দুধ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত।

আর এসব ঘটনা ঘটছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি না থাকার কারণেই। প্রায় প্রতিটি পণ্যে ভেজাল দেওয়া যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। যেহেতু অনৈতিকভাবে দাম বাড়ালে কিংবা ভেজাল দেওয়া হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো খবরদারি থাকে না, শাস্তি হয় না। কাজেই ব্যবসায়ীরাও এখন যেন মওকা পেয়ে গেছে। তবে রোজার মাসে বাজারে নজরদারি না বাড়ালে ভেতরে ভেতরে জন-অসন্তোষ বাড়বে, যার ফল ভালো হবে না। সময় থাকতে বাজারে নজর দিন।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান
                                  

জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পর্ষদ হিসেবে বিবেচিত নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও ১০ অস্থায়ী সদস্য দেশের প্রতিনিধিসহ ৪০ সদস্যের প্রতিনিধিদল গত শনিবার ঢাকায় এসে রবিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলটি গত সোমবার ঢাকা ত্যাগ করার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে। সাক্ষাত্কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাশিয়া, চীন, জাপান ও ভারতের মতো দেশগুলো জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো চাপ সৃষ্টির আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নতুন করে দেখা দেয় গত বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে এসে। নতুন করে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই চ্যালেঞ্জ অদূর ভবিষ্যতে আরো কঠিন রূপ নিতে পারে। দেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবপাচারকারীদের তত্পরতা বেড়েছে। অবৈধ পথে বা বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বিদেশে পাড়িও জমিয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ এরই মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোহিঙ্গার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু মিয়ানমারের নানা টালবাহানায় প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অকথ্য নির্যাতন শুরুর পর থেকেই এ বিষয়ে মিথ্যাচার করছে দেশটি। অথচ সেখানে জাতিগত নিধন হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে তাঁদের মতামত দিয়েছেন। রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আধুনিক বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি দেশ কী করে এমন সভ্যতাবিরোধী কাজ করতে পারে, এ প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিরল নজির স্থাপন করেছে। কিন্তু এত মানুষের চাপ নেওয়া বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। উপরন্তু রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়শিবিরগুলোর পরিবেশও নষ্ট হবে। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা সংকট নতুন মোড় নিতে পারে। এ সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ বরাবর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ভারত, চীন, রাশিয়া, জাপানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় এ সমস্যার সমাধান সুদূরপরাহত। বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের সহায়তাও চেয়েছে। জাতিসংঘও এ বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা যে পরিবেশ-পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে গেলেন, তাঁদের অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সুন্দর সমাধান হতে পারে।

আদর্শহীনতার অনুপ্রবেশ
                                  

আদর্শ ও মূল্যবোধ ছাড়া রাজনীতি হয় না। একেক দলের আদর্শিক ভিত্তি একেক রকম। সেসব নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু আদর্শহীন রাজনীতি ভ্রষ্টাচার মাত্র। এ ভূখণ্ডে রাজনীতির নামে ভ্রষ্টাচারের সূচনা পাকিস্তানের জন্মের সঙ্গে। সামরিক শাসনের মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়। আইয়ুব-ইয়াহিয়ার ভ্রষ্ট রাজনীতি এ দেশের মানুষ মোকাবেলা করেছে মূল্যবোধের ও আদর্শের রাজনীতির মাধ্যমে। সে লড়াইয়ে আওয়ামী লীগও ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে ভ্রষ্টাচারী রাজনীতি আর থাকবে না, এমন আশাই করা হয়েছিল। এমন আশা রাজনীতিকরা দিয়েছিলেনও। সেই আশা পূরণ হয়েছে কি? আওয়ামী লীগ দলগতভাবে আদর্শহীন না হলেও স্বাধীনতার পর দলটিতে আদর্শহীন, সুবিধাবাদী লোকের ভিড় জমে। পঁচাত্তরের পর তারা দ্রুত সটকে পড়ে। সামরিক শাসকরা তাদের বগলদাবা করে আরো পুষ্ট করে তোলে। স্বাধীনতাবিরোধী এবং আদর্শচ্যুত বামপন্থীরাও তাদের পকেট পার্টিতে ভেড়ে। এসব দলের আদর্শ ছিল না, এখনো নেই। তাদের ছিল এবং আছে কিছু ‘সুবিধাজনক’ কর্মসূচি।

একসময় যারা আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করত, আওয়ামীবিরোধী রাজনীতি করত, সেই বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী স্বার্থ হাসিলের জন্য যোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগে। অনেকে সরাসরি বিএনপি বা জামায়াত থেকে, অনেকে জামায়াত থেকে বিএনপি হয়ে আওয়ামী লীগে ভিড়েছে। তাদের অনেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে পদও বাগিয়ে নিয়েছে পুরনো, ত্যাগী বা আদর্শবাদী আওয়ামী লীগারদের হটিয়ে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী লোকগুলো আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাতারাতি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা তারাই বেশি বলে।

বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা ঘটেছে দুই ধাপে। প্রথমে ২০০৯ সালে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। দ্বিতীয় ধাপে ২০১৪ সালে, চারদলীয় জোটের সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর। আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা ঘটেছে ৮৩টি। ৬২টি ঘটনায় একই সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা এবং ২১টি ঘটনায় শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরা যোগ দেয়। যোগদানের ৬০টি ঘটনাই ঘটেছে ২০১৪ সালের পর। বিএনপি থেকে ২৫ হাজার নেতাকর্মী ঢুকেছে আওয়ামী লীগে।

আওয়ামী লীগের একটি আদর্শ রয়েছে, তারা মূল্যবোধচালিত দল। সভানেত্রী নিজে বলেছেন, জামায়াত-বিএনপির লোকদের যেন দলে ঢুকতে দেওয়া না হয়। দলের শীর্ষ নেতাদের মুখেও এমন কথা শোনা যায়। তাহলে আদর্শহীনতার এত বড় চালান কী করে ঢুকল? এ প্রবণতা দলের জন্য তো নয়ই, দেশের জন্যও মঙ্গলজনক নয়। বর্ষীয়ান আদর্শবাদী নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দল বলে যাঁরা আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখেন, তাঁদের জন্যও বিষয়টি হতাশাজনক। আওয়ামী লীগ কি আদর্শবাদী পরিচয় ধরে রাখতে পারবে?

কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প
                                  

কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চাষাবাদ তো ব্যাহত হয়ই, মানুষের ঘরদোরেও পানি উঠে যায়। সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলের এই জলাবদ্ধতা নিয়ে পত্রপত্রিকায়ও বহু লেখালেখি হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা দূর করতে অবশেষে ২০১১ সালে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু সাত বছরেও সেই কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এখন সেখানে দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। একটি ক্ষুদ্র, অথচ শক্তিশালী পক্ষ তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার অজুহাতে প্রকল্পের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে কপোতাক্ষপারের কয়েকটি উপজেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাহত হয়ে পড়েছে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, কপোতাক্ষ খননের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে মূল নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ (ক্রসড্যাম) দিয়ে জোয়ারের পলিযুক্ত পানি টিআরএমএম বিলে প্রবেশ করানো হয়। বর্ষায় বাঁধ খুলে দিয়ে জনপদের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। যেটুকু কাজ হয়েছে তার ভিত্তিতেই এলাকার মানুষ গত বছর যথেষ্ট উপকৃত হয়েছে এবং জলাবদ্ধতার হাত থেকে একরকম মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু গত বর্ষায় ড্যামটি অপসারণ করা হলেও বর্ষার পর তা আর পুনঃস্থাপন করা হয়নি। ফলে পলি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ আছে, চার শতাধিক নৌকার মালিক ও জেলেরা অবাধে চলাচলের জন্য ড্যাম পুনঃস্থাপনে বাধা দিচ্ছে। একটি প্রকল্প নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করেই তা নেওয়া হয়। নিশ্চয়ই কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পেও তা করা হয়েছে। এখন এই প্রকল্পের কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে কেন? আমরা আশা করি, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক গঠন, চাষাবাদের ধরন—সব কিছুই নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই উক্তির মধ্যেও বিন্দুমাত্র অতিরঞ্জন নেই। অথচ প্রতিনিয়ত নদীগুলো মরে যাচ্ছে। বহু নদী এরই মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই অবস্থা আর এগোতে দেওয়া উচিত নয়। দেশ বাঁচাতে হলে নদী ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বেশি করে নদী খনন প্রকল্প হাতে নিতে হবে। যে উদ্দেশ্যে কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, অতি দ্রুত তা সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী
                                  

একটি রাজনৈতিক দলের ওপর যেমন দেশের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করে, তেমনি আদর্শভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে সুশাসন ও উন্নয়ন হাত ধরাধরি করে চলে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনীতির গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের উন্নতি। রাজনীতিতে পচন ধরলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ব্যর্থ হয়ে যায়। রাজনীতি যখন আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়, তখনই দেশের সুশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক পেরিয়ে আসার পরও দেশের রাজনীতি যেন আদর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল সুনির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে। স্বাধীনতা লাভের পর প্রণীত সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতিফলন ঘটেছিল। একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নির্মাণের অঙ্গীকার থেকে রাষ্ট্রকে সরিয়ে দিয়েছে দুটি সামরিক শাসন। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান ওই সামরিক শাসনকালেই। কিন্তু পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হয়েছিল। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। গত ৯ বছরে দেশের অর্থনীতি অনেক অগ্রসর হয়েছে। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প দেশের অর্থায়নে দৃশ্যমান হচ্ছে। দেশে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সাজা হয়েছে। সবচেয়ে বড় অর্জন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু দেশের রাজনীতি, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কি আদর্শিক জায়গায় উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছে?

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এখানেই আওয়ামী লীগের বড় তফাত। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ আওয়ামী লীগ কতটা ধরে রাখতে পেরেছে, এমন প্রশ্ন এখন উচ্চারিত হয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে। আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হওয়ার পরও এই দলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটে কী করে? কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘জামায়াত-শিবির থেকে আওয়ামী লীগে পদধারী’ শীর্ষক খবরটি রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো, যেখানে এলাকাভিত্তিক তালিকা রয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের। জামায়াত-শিবির যে এ দেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, এ কথা কে না জানে? সেই দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা ঘটে কী করে? এমনকি দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, ‘জামায়াত-শিবির ও বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে নয়।’ তার পরও জামায়াত-শিবির থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়নি কেন? দলের জেলা পর্যায়ের নেতা বা স্থানীয় সংসদ সদস্যরা কি ইচ্ছা করলেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন? দলের আদর্শ জলাঞ্জলি দিতেও তাঁদের বাধে না কেন? তাঁরা কি জবাবদিহির ঊর্ধ্বে?

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস করে না, এমন কেউ আওয়ামী লীগের আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না। কেউ যদি জামায়াত-শিবির থেকে এসে আওয়ামী লীগের ঝাণ্ডা হাতে নেয়, তাহলে সন্দেহের অবকাশ থেকে যায়। ভেতরে থেকে তারা যে আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আদর্শবিরোধী চক্রান্ত প্রতিরোধ করতে হবে।


   Page 1 of 3
     সম্পাদকীয়
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এর ৯২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু হত্যা
.............................................................................................
গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি
.............................................................................................
গণপরিবহন বন্ধে শ্রমিকদের দুর্ভোগ
.............................................................................................
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার যৌক্তিক অযৌক্তিক ও কাল্পনিক সমাচার
.............................................................................................
ডেঙ্গু ও নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিতে সর্বোত্তম ব্যবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী‘র বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণরোগ প্রতিরোধ
.............................................................................................
ডেঙ্গু ও নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিতে সর্বোত্তম ব্যবস্থা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী‘র বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণরোগ প্রতিরোধ
.............................................................................................
চলার পথে চাই ক্রটিমুক্ত নিরাপদ বাহন
.............................................................................................
নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
.............................................................................................
বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম
.............................................................................................
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান
.............................................................................................
আদর্শহীনতার অনুপ্রবেশ
.............................................................................................
কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প
.............................................................................................
আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী
.............................................................................................
ফুটবলে মেয়েদের জয় এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে
.............................................................................................
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
.............................................................................................
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি
.............................................................................................
বিপথে যাচ্ছে উঠতি বয়সীরা
.............................................................................................
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ
.............................................................................................
মশার ভয়াবহ উৎপাত
.............................................................................................
শিশুদের খেলার মাঠ কোথায়
.............................................................................................
বঞ্চিত হচ্ছে মেধাবীরা
.............................................................................................
বিনা বেতনে চাকরি
.............................................................................................
প্রশ্ন ফাঁস রোধে নতুন ব্যবস্থা
.............................................................................................
প্রবাসে প্রতারণার শিকার
.............................................................................................
প্যারাডাইস পেপারসের তথ্য
.............................................................................................
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে সংকট
.............................................................................................
সুইস প্রেসিডেন্টের সফর
.............................................................................................
শিক্ষাঙ্গনে মাদকের বিস্তার
.............................................................................................
জারেও অনিরাপদ পানি
.............................................................................................
গুঁড়া দুধে অতিমাত্রায় সিসা
.............................................................................................
বিকাশে অর্থপাচার
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান
.............................................................................................
শুরু হচ্ছে নির্বাচনের বছর
.............................................................................................
নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ
.............................................................................................
শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য
.............................................................................................
ভিত্তি পেল পরমাণু চুল্লি
.............................................................................................
বিএনপিও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উদ্‌যাপন করুক!
.............................................................................................
কাগমারীর অর্জন ও মওলানা ভাসানী
.............................................................................................
পিলখানা হত্যা মামলার রায়
.............................................................................................
ধর্ষক নাঈমের সঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে মডেল
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো : মাহবুবুর রহমান ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মো: হাবিবুর রহমান । সম্পাদক কর্তৃক বিএস প্রিন্টিং প্রেস ৫২/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সুত্রাপুর ঢাকা খেকে মুদ্রিত
ও ৬০/ই/১ পুরানা পল্টন (৭ম তলা) থেকে প্রকাশিত বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১,৫১/ এ রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (৪র্থ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০।
ফোনঃ-০২-৯৫৫০৮৭২ , ০১৭১১১৩৬২২৬

Web: www.bhorersomoy.com E-mail : dbsomoy2010@gmail.com
   All Right Reserved By www.bhorersomoy.com    
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale